Muslim99Muslim99
← Tafsir library

9. At-Tawba

The Repentance · Medinan · 129 ayahs

سُورَةُ التَّوۡبَةِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 111–120 of 129

111

۞ إِنَّ ٱللَّهَ ٱشْتَرَىٰ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَٰلَهُم بِأَنَّ لَهُمُ ٱلْجَنَّةَ ۚ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّۭا فِى ٱلتَّوْرَىٰةِ وَٱلْإِنجِيلِ وَٱلْقُرْءَانِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِۦ مِنَ ٱللَّهِ ۚ فَٱسْتَبْشِرُوا۟ بِبَيْعِكُمُ ٱلَّذِى بَايَعْتُم بِهِۦ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ

আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।

১১১. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা দয়া করে মু’মিনদের থেকে বেশি দাম তথা জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জীবন ক্রয় করেছেন। ফলে তারা আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার জন্য কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করবে। তাতে তারা কাফিরদেরকে হত্যা করবে এবং কাফিররাও তাদেরকে হত্যা করবে। আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে দেয়া তাওরাতে, ঈসা (আলাইহিস-সালাম) কে দেয়া ইঞ্জীলে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে দেয়া কুর‘আনে এ ব্যাপারে সত্য ওয়াদা করেছেন। আল্লাহর চেয়ে বেশি অঙ্গীকার পূর্ণকারী আর কেউ নেই। তাই হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর সাথে যে ক্রয়-বিক্রির চুক্তি করেছো সেই চুক্তি নিয়ে খুশি ও আনন্দিত হও। কারণ, তাতে তোমরা বিপুল লাভ করেছো। আর এ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সত্যিই মহা সফলতা।

At-Tawba 9:111Listen in Qur'an →
112

ٱلتَّٰٓئِبُونَ ٱلْعَٰبِدُونَ ٱلْحَٰمِدُونَ ٱلسَّٰٓئِحُونَ ٱلرَّٰكِعُونَ ٱلسَّٰجِدُونَ ٱلْءَامِرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَٱلنَّاهُونَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَٱلْحَٰفِظُونَ لِحُدُودِ ٱللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ

তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে।

১১২. এ জাতীয় প্রতিদান অর্জনকারীরা আল্লাহর অপছন্দনীয় ও রাগের বস্তু থেকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তুষ্টির বস্তুর ফিরে আসে। যারা আল্লাহর ভয়ে ও তাঁর সামনে অতিশয় বিনয়ী হয়ে সত্যিকারার্থেই তাঁর আনুগত্য করে এবং সর্বাবস্থায় তাঁদের প্রতিপালকের প্রশংসা করে। যারা রোযাদার, নামাযী, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ এবং নিষেধ মান্যকারী উপরন্তু তাঁর আদেশ ও নিষেধের হিফাযতকারী। হে রাসূল! আপনি এ বৈশিষ্ট্যাবলীর অধিকারী মু’মিনদেরকে এমন বস্তুর সংবাদ দিন যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদেরকে আনন্দিত করবে।

At-Tawba 9:112Listen in Qur'an →
113

مَا كَانَ لِلنَّبِىِّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَن يَسْتَغْفِرُوا۟ لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوٓا۟ أُو۟لِى قُرْبَىٰ مِنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَٰبُ ٱلْجَحِيمِ

নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।

১১৩. নবী ও মু’মিনদের উচিত হবে না আল্লাহর নিকট মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। যদিও তারা এদের আত্মীয় হোক না কেন। অথচ তাদের ব্যাপারে এ কথা একেবারেই সুস্পষ্ট যে, তারা জাহান্নামী। কারণ, তারা শিরকের উপর মৃত্যু বরণ করেছে।

At-Tawba 9:113Listen in Qur'an →
114

وَمَا كَانَ ٱسْتِغْفَارُ إِبْرَٰهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍۢ وَعَدَهَآ إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥٓ أَنَّهُۥ عَدُوٌّۭ لِّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ ۚ إِنَّ إِبْرَٰهِيمَ لَأَوَّٰهٌ حَلِيمٌۭ

আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।

১১৪. তবে ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারটি তার সাথে করা একটি ওয়াদার কারণে হয়েছে। তিনি তাঁর পিতার ইসলাম গ্রহণের আশায় তার সাথে এ ওয়াদা করেছিলেন যে, তিনি অবশ্যই তার জন্য দু‘আ করবেন। তবে যখন ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) এর নিকট এ কথা সুস্পষ্ট হলো যে, তাঁর পিতা নিশ্চয়ই আল্লাহর শত্রæ যেহেতু কোন উপদেশই তার কোন লাভে আসছে না অথবা তিনি ওহীর মাধ্যমে এ কথা জেনেছেন যে, তাঁর পিতা কাফির অবস্থায় মারা যাবে তখন তিনি তাঁর পিতার জন্য ইস্তিগফার করা থেকে অবসর নিলেন। বস্তুতঃ তাঁর পিতার জন্য ইস্তিগফারের ব্যাপারটি ছিলো তাঁরই গবেষণালব্ধ। তা ওহীর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোন বিধানের বিরোধিতা নয়। বস্তুতঃ ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) ছিলেন আল্লাহর প্রতি বেশি অনুরাগী এবং তাঁর যালিম সম্প্রদায়ের প্রতি বেশি ক্ষমাশীল।

At-Tawba 9:114Listen in Qur'an →
115

وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًۢا بَعْدَ إِذْ هَدَىٰهُمْ حَتَّىٰ يُبَيِّنَ لَهُم مَّا يَتَّقُونَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ

আর আল্লাহ কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।

১১৫. আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতিকে হিদায়েতের তাওফীক দেয়ার পর তিনি তাদের জন্য বর্জন করা আবশ্যকীয় হারাম কাজের বর্ণনা না দিয়ে তাদের উপর ভ্রষ্টতার ফায়সালা করেন না। তার পরও তারা তাতে লিপ্ত হলে তিনি তাদের উপর ভ্রষ্টতার ফায়সালা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুই জানেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়। ইতিপূর্বে না জানা অনেক বিষয়ই তিনি তোমাদেরকে শিখিয়েছেন।

At-Tawba 9:115Listen in Qur'an →
116

إِنَّ ٱللَّهَ لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ ۖ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ ۚ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّۢ وَلَا نَصِيرٍۢ

নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।

১১৬. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও জমিনের মালিক। সেগুলোতে তাঁর কোন শরীক নেই। সেগুলোর কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়। যাকে তিনি জীবন দিতে চান তাকে জীবন। আর যাকে মৃত্যু দিতে চান তাকে মৃত্যু দিয়ে থাকেন। হে মানুষ! তোমাদের জন্য আল্লাহ ছাড়া এমন কোন অভিভাবক নেই যে তোমাদের সমূহ কর্মকাÐের দায়িত্বভার বহন করবে। না তোমাদের জন্য এমন কোন সাহায্যকারী রয়েছে যে তোমাদের বিপদাপদ প্রতিহত করে শত্রæর উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করবে।

At-Tawba 9:116Listen in Qur'an →
117

لَّقَد تَّابَ ٱللَّهُ عَلَى ٱلنَّبِىِّ وَٱلْمُهَٰجِرِينَ وَٱلْأَنصَارِ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُ فِى سَاعَةِ ٱلْعُسْرَةِ مِنۢ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍۢ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّهُۥ بِهِمْ رَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ

আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা কঠিন মহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও করুনাময়।

১১৭. আল্লাহ তা‘আলা নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর তাওবা গ্রহণ করেছেন যখন তিনি মুনাফিকদেরকে তাবুক যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তেমনিভাবে তিনি মুহাজির এবং আনসারীদের তাওবাও কবুল করেছেন যারা যুদ্ধ থেকে পিছপা হয়নি। বরং তারা কঠিন গরম, কম সম্বল ও শত্রæর শক্তিকে তোয়াক্কা না করে তাবুক যুদ্ধে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসরণ করেছে। অথচ তখন পরিস্থিতি এমন ছিলো যে, তাদের এক দলের অন্তর ঘুরে যাওয়ায় যুদ্ধ না করার ইচ্ছাই পোষণ করছিলো। কারণ, তখন তাদের সার্বিক অবস্থা ছিলো খুবই কঠিন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে যুদ্ধে বের হওয়া এবং তার উপর অটল থাকার তাওফীক দিয়েছেন। উপরন্তু তাদের তাওবা কবুল করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত করুণাশীল ও দয়ালু। আর তাঁর দয়ার একটি নমুনা হলো তাদেরকে তাওবার তাওফীক দেয়া ও তা কবুল করা।

At-Tawba 9:117Listen in Qur'an →
118

وَعَلَى ٱلثَّلَٰثَةِ ٱلَّذِينَ خُلِّفُوا۟ حَتَّىٰٓ إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ ٱلْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنفُسُهُمْ وَظَنُّوٓا۟ أَن لَّا مَلْجَأَ مِنَ ٱللَّهِ إِلَّآ إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্বেও তাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠলো; আর তারা বুঝতে পারলো যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই-অতঃপর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দয়াময় করুণাশীল।

১১৮. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তিন জনের তাওবা কবুল করেছেন। তারা হলো, কা’ব ইবনু মালিক, মুরারাহ ইবনুর-রাবী’ এবং হিলাল ইবনু উমাইয়াহ। আল্লাহর রাসূলের সাথে তাবুক যুদ্ধে না যাওয়ার দরুন তাদের তাওবা ও তাওবা কবুল করাকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে উদ্দ্যেশ্য করে তাদেরকে পরিত্যাগ করার আদেশ করেছেন। ফলে তাদেরকে চিন্তা ও বিষণœতা পেয়ে বসে এবং দুনিয়া অতি প্রশস্ত হওয়ার পরও তাদের নিকট তা সঙ্কীর্ণ মনে হয়। এমনকি তারা সমাজচ্যুত হওয়ায় তাদের অন্তরগুলোও সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়। উপরন্তু তারা এ কথা জেনে যায় যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া তাদের কোন আশ্রয়স্থল নেই। যার নিকট তারা আশ্রয় গ্রহণ করবে। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর দয়া করে তাদেরকে তাওবার তাওফীক দেন। এমনকি তাদের তাওবা কবুলও করেন। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুলকারী ও তাদের প্রতি অতি দয়ালু।

At-Tawba 9:118Listen in Qur'an →
119

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَكُونُوا۟ مَعَ ٱلصَّٰدِقِينَ

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।

১১৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী এবং তাঁর শরীয়তের উপর আমলকারী ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করো এবং ঈমান, কথা ও কাজে সত্যবাদীদের সাথেই থাকো। কারণ, সত্য ছাড়া তোমাদের কোন নাজাত নেই।

At-Tawba 9:119Listen in Qur'an →
120

مَا كَانَ لِأَهْلِ ٱلْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُم مِّنَ ٱلْأَعْرَابِ أَن يَتَخَلَّفُوا۟ عَن رَّسُولِ ٱللَّهِ وَلَا يَرْغَبُوا۟ بِأَنفُسِهِمْ عَن نَّفْسِهِۦ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌۭ وَلَا نَصَبٌۭ وَلَا مَخْمَصَةٌۭ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا يَطَـُٔونَ مَوْطِئًۭا يَغِيظُ ٱلْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّۢ نَّيْلًا إِلَّا كُتِبَ لَهُم بِهِۦ عَمَلٌۭ صَٰلِحٌ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ ٱلْمُحْسِنِينَ

মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলের প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।

১২০. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই যুদ্ধের জন্য বের হলে মদীনাবাসী ও তার আশপাশের বেদুঈনদের জন্য তা থেকে পিছপা হওয়ার কোন অধিকার নেই। এমনকি তাদের কোন অধিকার নেই নিজেদের জীবনের ব্যাপারে কার্পণ্য করে সেগুলোকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবন থেকে দূরে হিফাযতে রাখা। বরং তাদের জন্য আবশ্যক রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবনের সামনে তাদের জীবনকে বিলিয়ে দেয়া। আর তা এ জন্য যে, আল্লাহর পথে তাদের কোন পিপাসা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা লাগলে এমনকি কাফিরদেরকে রাগান্বিত করে এমন কোন জায়গায় তারা অবস্থান করলে উপরন্তু তারা শত্রæকে হত্যা বা বন্দী করলে অথবা তাদের থেকে যুদ্ধলব্ধ কোন সম্পদ পেলে কিংবা তাদেরকে পরাজিত করলে এর পরিবর্তে আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য কবুল হওয়া নেক আমলের সাওয়াব লিখে দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না। বরং তিনি তাদেরকে তা পুরোপুরি দিয়ে দেন। উপরন্তু তা থেকে আরো বাড়িয়ে দেন।

At-Tawba 9:120Listen in Qur'an →

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.