Muslim99Muslim99
← Tafsir library

9. At-Tawba

The Repentance · Medinan · 129 ayahs

سُورَةُ التَّوۡبَةِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 81–90 of 129

81

فَرِحَ ٱلْمُخَلَّفُونَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلَٰفَ رَسُولِ ٱللَّهِ وَكَرِهُوٓا۟ أَن يُجَٰهِدُوا۟ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَقَالُوا۟ لَا تَنفِرُوا۟ فِى ٱلْحَرِّ ۗ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّۭا ۚ لَّوْ كَانُوا۟ يَفْقَهُونَ

পেছনে থেকে যাওয়া লোকেরা আল্লাহর রসূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসে থাকতে পেরে আনন্দ লাভ করেছে; আর জান ও মালের দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করতে অপছন্দ করেছে এবং বলেছে, এই গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না। বলে দাও, উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচন্ডতম। যদি তাদের বিবেচনা শক্তি থাকত।

৮১. তাবুক যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে পড়া মুনাফিকরা আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে না গিয়ে খুবই খুশি। মু’মিনগণ যেভাবে আল্লাহর পথে নিজেদের জান-মাল নিয়ে যুদ্ধ করে সেভাবে মুনাফিকরা যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক। এমনকি তারা নিজেদের অন্য মুনাফিক ভাইদেরকেও নিরুৎসাহিত করতে গিয়ে বলে: তোমরা গরমের মধ্যে সফর করো না। আর তাবুক যুদ্ধ ছিলো গরমের সময়ে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন: জাহান্নামের আগুন যা মুনাফিকদের জন্য অপেক্ষা করছে তা এ গরম থেকে আরো অধিক বেশি গরম। হায়! যদি তারা বুঝতো।

82

فَلْيَضْحَكُوا۟ قَلِيلًۭا وَلْيَبْكُوا۟ كَثِيرًۭا جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ

অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশী কাঁদবে।

৮২. যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে পড়া মুনাফিকরা এ নশ্বর দুনিয়ার জীবনে একটুখানি হেসে নিক। তবে তাদেরকে আখিরাতের স্থায়ী জীবনে বেশি করে কাঁদতে হবে। যা হবে দুনিয়ার জীবনে তাদের অর্জনকৃত কুফরি, গুনাহ ও পাপরাশির প্রতিদান।

83

فَإِن رَّجَعَكَ ٱللَّهُ إِلَىٰ طَآئِفَةٍۢ مِّنْهُمْ فَٱسْتَـْٔذَنُوكَ لِلْخُرُوجِ فَقُل لَّن تَخْرُجُوا۟ مَعِىَ أَبَدًۭا وَلَن تُقَٰتِلُوا۟ مَعِىَ عَدُوًّا ۖ إِنَّكُمْ رَضِيتُم بِٱلْقُعُودِ أَوَّلَ مَرَّةٍۢ فَٱقْعُدُوا۟ مَعَ ٱلْخَٰلِفِينَ

বস্তুতঃ আল্লাহ যদি তোমাকে তাদের মধ্য থেকে কোন শ্রেণীবিশেষের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং অতঃপর তারা তোমার কাছে অভিযানে বেরোবার অনুমতি কামনা করে, তবে তুমি বলো যে, তোমরা কখনো আমার সাথে বেরোবে না এবং আমার পক্ষ হয়ে কোন শত্রুর সাথে যুদ্ধ করবে না, তোমরা তো প্রথমবারে বসে থাকা পছন্দ করেছ, কাজেই পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথেই বসে থাক।

৮৩. হে নবী! আল্লাহ তা‘আলা যদি আপনাকে মুনাফিকীর উপর অটল এমন কোন মুনাফিক দলের নিকট ফিরিয়ে আনে অতঃপর তারা আপনার সাথে অন্য যুদ্ধে বের হওয়ার অনুমতি চায় তাহলে আপনি তাদেরকে বলে দিন: হে মুনাফিকরা! তোমরা কখনো আমার সাথে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে বের হয়ো না। যা তোমাদের জন্য শাস্তি স্বরূপ এবং আমার সাথে তোমাদের অবস্থানের দরুন যে ফাসাদগুলো বর্তাবে তা থেকে বাঁচার জন্য। তোমরা তো তাবুক যুদ্ধে না গিয়ে এবং তা থেকে পিছিয়ে পড়ে অনেক খুশি। তাই তোমরা পিছিয়ে পড়া অসুস্থ, মহিলা ও বচ্চাদের সাথে অবস্থান করো ও বসে থাকো।

84

وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰٓ أَحَدٍۢ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًۭا وَلَا تَقُمْ عَلَىٰ قَبْرِهِۦٓ ۖ إِنَّهُمْ كَفَرُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَمَاتُوا۟ وَهُمْ فَٰسِقُونَ

আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার উপর কখনও নামায পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং রসূলের প্রতিও। বস্তুতঃ তারা না ফরমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে।

৮৪. হে রাসূল! আপনি কখনো মৃত কোন মুনাফিকের জানাযার নামায পড়বেন না। না তার কবরের নিকট তার মাগফিরাতের দু‘আর জন্য দাঁড়াবেন। কারণ, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করেছে। উপরন্তু তারা আল্লাহর আনুগত্যের বাইরে থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। আর যার অবস্থা এমন হবে তার জন্য কোন নামায নেই এবং দু‘আও নেই।

85

وَلَا تُعْجِبْكَ أَمْوَٰلُهُمْ وَأَوْلَٰدُهُمْ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ أَن يُعَذِّبَهُم بِهَا فِى ٱلدُّنْيَا وَتَزْهَقَ أَنفُسُهُمْ وَهُمْ كَٰفِرُونَ

আর বিস্মিত হয়ো না তাদের ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতির দরুন। আল্লাহ তো এই চান যে, এ সবের কারণে তাদেরকে আযাবের ভেতরে রাখবেন দুনিয়ায় এবং তাদের প্রাণ নির্গত হওয়া পর্যন্ত যেন তারা কাফেরই থাকে।

৮৫. হে রাসূল! এ মুনাফিকদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আপনাকে আশ্চর্যান্বিত না করে। দুনিয়ার জীবনে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এরই মাধ্যমে শাস্তি দিতে চান। মূলতঃ তা হলো তারা এ পথে যে কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করছে এবং এ ক্ষেত্রে তারা যে বিপদাপদের সম্মুখীন হচ্ছে তাই। আর আল্লাহ তা‘আলা এটাও চান যে, কুফরি অবস্থায় যেন তাদের রূহগুলো তাদের শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

86

وَإِذَآ أُنزِلَتْ سُورَةٌ أَنْ ءَامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَجَٰهِدُوا۟ مَعَ رَسُولِهِ ٱسْتَـْٔذَنَكَ أُو۟لُوا۟ ٱلطَّوْلِ مِنْهُمْ وَقَالُوا۟ ذَرْنَا نَكُن مَّعَ ٱلْقَٰعِدِينَ

আর যখন নাযিল হয় কোন সূরা যে, তোমরা ঈমান আন আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের সাথে একাত্ন হয়ে; তখন বিদায় কামনা করে তাদের সামর্থ?476;ান লোকেরা এবং বলে আমাদের অব্যাহতি দিন, যাতে আমরা (নিস্ক্রিয়ভাবে) বসে থাকা লোকদের সাথে থেকে যেতে পারি।

৮৬. যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর এমন কোন সূরা নাযিল করেন যাতে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর পথে জিহাদের আদেশ রয়েছে তখন তাদের মধ্যকার ধনী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিরা আপনার কাছ থেকে সরে যাওয়ার অনুমতি চায় এবং তারা বলে: আপনি আমাদেরকে রেহাই দিন। আমরা দুর্বল ও পক্ষাঘাতগ্রস্তদের সাথে পেছনেই থেকে যাই।

87

رَضُوا۟ بِأَن يَكُونُوا۟ مَعَ ٱلْخَوَالِفِ وَطُبِعَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ

তারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থেকে যেতে পেরে আনন্দিত হয়েছে এবং মোহর এঁটে দেয়া হয়েছে তাদের অন্তরসমূহের উপর। বস্তুতঃ তারা বোঝে না।

৮৭. এ মুনাফিকরা যখন দুর্বল ও অক্ষমদের সাথে পেছনে থাকতে সন্তুষ্ট তখন তারা নিজেদের লাঞ্ছনা এবং অবমাননা নিয়েও সন্তুষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা তাদের কুফরি ও মুনাফিকীর দরুন তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। তাই তারা নিজেদের প্রকৃত লাভের বিষয়গুলোও জানে না।

88

لَٰكِنِ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ جَٰهَدُوا۟ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۚ وَأُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلْخَيْرَٰتُ ۖ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ

কিন্তু রসূল এবং সেসব লোক যারা ঈমান এনেছে, তাঁর সাথে তারা যুদ্ধ করেছে নিজেদের জান ও মালের দ্বারা। তাদেরই জন্য নির্ধারিত রয়েছে কল্যাণসমূহ এবং তারাই মুক্তির লক্ষ্যে উপনীত হয়েছে।

৮৮. তবে রাসূল ও তাঁর সাথী মু’মিনরা ওদের ন্যায় আল্লাহর পথে জিহাদ করা থেকে পিছপা হয়নি। তারা নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। ফলে আল্লাহর নিকট তাদের প্রতিদান স্বরূপ ছিলো দুনিয়ার লাভ হাসিল তথা বিজয় ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং আখিরাতের লাভ হাসিল তথা জান্নাতে প্রবেশ করা উপরন্তু তাদের কাক্সিক্ষত উদ্দেশ্য হাসিল ও আশঙ্কা থেকে মুক্তি।

89

أَعَدَّ ٱللَّهُ لَهُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ

আল্লাহ তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে প্রস্রবণ। তারা তাতে বাস করবে অনন্তকাল। এটাই হল বিরাট কৃতকার্যতা।

৮৯. আরো আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য এমন জান্নাত তৈরি রেখেছেন যার অট্টালিকাসমূহের তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। কখনো তারা ধ্বংস হবে না। এ প্রতিদান মূলতঃ সর্বোচ্চ সফলতা যার নিকটবর্তী আর কোন সফলতা নেই।

90

وَجَآءَ ٱلْمُعَذِّرُونَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ لِيُؤْذَنَ لَهُمْ وَقَعَدَ ٱلَّذِينَ كَذَبُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ ۚ سَيُصِيبُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ

আর ছলনাকারী বেদুঈন লোকেরা এলো, যাতে তাদের অব্যাহতি লাভ হতে পারে এবং নিবৃত্ত থাকতে পারে তাদেরই যারা আল্লাহ ও রসূলের সাথে মিথ্যা বলে ছিল। এবার তাদের উপর শীগ্রই আসবে বেদনাদায়ক আযাব যারা কাফের।

৯০. এদিকে মদীনা ও তার আশপাশের বেদুঈনদের একটি গোষ্ঠী আল্লাহর রাসূলের নিকট এসে নিজেদের ওজর-আপত্তি জানিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ না করার অনুমতি চেয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি দলও যুদ্ধে যায়নি। তবে তারা যুদ্ধে না যাওয়ার জন্য কোন ওজর-আপত্তি পেশ করেনি। কারণ, তারা নবী এবং আল্লাহর ওয়াদাকে বিশ্বাস করতো না। এরা অচিরেই তাদের কুফরির দরুন অতি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পাবে।

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.