Muslim99Muslim99
← Tafsir library

9. At-Tawba

The Repentance · Medinan · 129 ayahs

سُورَةُ التَّوۡبَةِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 21–30 of 129

21

يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُم بِرَحْمَةٍۢ مِّنْهُ وَرِضْوَٰنٍۢ وَجَنَّٰتٍۢ لَّهُمْ فِيهَا نَعِيمٌۭ مُّقِيمٌ

তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাদের পরওয়ারদেগার স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, সেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি।

২১. তাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি নাযিলের আনন্দময় সুসংবাদ দিবেন। তিনি আর কখনো তাদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন না। তেমনিভাবে তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ দিবেন। যাতে রয়েছে চিরস্থায়ী নিয়ামত যা কখনো শেষ হবে না।

22

خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥٓ أَجْرٌ عَظِيمٌۭ

তথায় তারা থাকবে চিরদিন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে আছে মহাপুরস্কার।

২২. তারা সে জান্নাতে অনন্ত কাল থাকবে। যা হবে দুনিয়াতে করা তাদের নেক আমলের প্রতিদান স্বরূপ। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার নিকট নিষ্ঠার সাথে তাঁর আদেশ-নিষেধ মানা ব্যক্তির জন্য মহা প্রতিদান রয়েছে।

23

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوٓا۟ ءَابَآءَكُمْ وَإِخْوَٰنَكُمْ أَوْلِيَآءَ إِنِ ٱسْتَحَبُّوا۟ ٱلْكُفْرَ عَلَى ٱلْإِيمَٰنِ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী।

২৩. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের আনীত বিধানের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা নিজেদের বংশের অমুসলিম পিতা, ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়কে এমন অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাবে না যে, তোমরা তাদের নিকট মু’মিনদের গোপন কথা বলবে এবং সে ব্যাপারে তাদের পরামর্শ চাইবে যদি তারা কুফরিকে এক আল্লাহর ঈমানের উপর প্রাধান্য দেয়। যারা ওদেরকে কুফরির উপর অবিচল থাকার পরও বন্ধু বানিয়ে নিবে এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করবে তারা বস্তুতঃ আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করলো এবং সে গুনাহের কারণে নিজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছিয়ে নিজের উপরই যুলুম করলো।

24

قُلْ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَٰنُكُمْ وَأَزْوَٰجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَٰلٌ ٱقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَٰرَةٌۭ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَٰكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍۢ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦ ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَٰسِقِينَ

বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।

২৪. হে রাসূল! আপনি মু’মিনদেরকে বলে দিন: যদি তোমাদের বাপ-দাদা, সন্তানাদি, ভাই-বেরাদর, স্ত্রীগণ, আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের কামাই করা সম্পদ, যে ব্যবসায়ের তোমরা কাটতির আশা ও মন্দার আশঙ্কা করছো, যে ঘরে তোমরা অবস্থান করা পছন্দ করছো সেগুলো যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশি পছন্দীয় হয় তাহলে তোমরা আল্লাহর প্রেরিতব্য শাস্তি ও আযাবের অপেক্ষা করো। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়া লোকদেরকে তাঁর পছন্দসই আমল করার তাওফীক দেন না।

25

لَقَدْ نَصَرَكُمُ ٱللَّهُ فِى مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍۢ ۙ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ ۙ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْـًۭٔا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ ٱلْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُم مُّدْبِرِينَ

আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক ক্ষেত্রে এবং হোনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যধিক্য তোমাদের প্রফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্তেও তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। অতঃপর পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।

২৫. হে মু’মিনরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা বহু যুদ্ধে তোমাদের সংখ্যা ও সরঞ্জাম কম থাকা সত্তে¡ও মুশরিক শত্রæদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন। যখন তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে দুনিয়ার উপকরণগুলো গ্রহণ করেছো। অন্যদিকে তোমরা কখনো সংখ্যাধিক্যের অহঙ্কার বোধ করোনি। বস্তুতঃ সংখ্যাধিক্য কখনো তাদের উপর তোমাদের বিজয়ের কারণই ছিলো না। তাই হুনাইন যুদ্ধের দিন যখন তোমরা সংখ্যাধিক্যের অহঙ্কার করে বললে: আজ আমাদেরকে সংখ্যায় স্বল্পতাজনিত পরাজয় বরণ করতে হবে না। তখন তোমাদের গর্ব করা সেই সংখ্যাধিক্য তোমাদের কোন উপকারে আসেনি। বরং তোমাদের শত্রæরাই তোমাদের উপর জয়ী হয়েছে এবং পৃথিবী এতো প্রশস্ত হওয়া সত্তে¡ও তোমাদের জন্য তা সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে তোমরা পরাজিত অবস্থায় শত্রæর প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন পূর্বক সেখান থেকে পালিয়ে গেলে।

26

ثُمَّ أَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَعَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودًۭا لَّمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ۚ وَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلْكَٰفِرِينَ

তারপর আল্লাহ নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ করেন এমন সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর শাস্তি প্রদান করেন কাফেরদের এবং এটি হল কাফেরদের কর্মফল।

২৬. তবে শত্রæ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেছেন। ফলে তারা যুদ্ধের প্রতি আবারো অবিচল হয়ে উঠে। উপরন্তু তিনি এমন এক দল ফিরিশতা পাঠালেন যাঁদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি কাফিরদেরকে হত্যা, বন্দী, সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া ও সন্তানদেরকে আটক করার মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছেন। তাদেরকে দেয়া এ প্রতিদান মূলতঃ সর্বকালের রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপকারী এবং তাঁদের আনীত বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া কাফিরদেরই প্রতিদান।

27

ثُمَّ يَتُوبُ ٱللَّهُ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ

এরপর আল্লাহ যাদের প্রতি ইচ্ছা তওবার তওফীক দেবেন, আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

২৭. উক্ত শাস্তির পর যে ব্যক্তি তার কুফরি ও ভ্রষ্টতা থেকে তাওবা করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবা কবুল ও মঞ্জুর করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দার প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়। কারণ, তিনি তাদের গুনাহ এবং কুফরির পরও তাদের তাওবা কবুল করছেন।

28

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِنَّمَا ٱلْمُشْرِكُونَ نَجَسٌۭ فَلَا يَقْرَبُوا۟ ٱلْمَسْجِدَ ٱلْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةًۭ فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦٓ إِن شَآءَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ

হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

২৮. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী এবং তাঁর শরীয়তের অনুসারী হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মুশরিকরা হলো নাপাক। কারণ, তাদের মধ্যে রয়েছে কুফরি, যুলুম, সমূহ নিকৃষ্ট চরিত্র ও প্রচুর বদ অভ্যাস। তাই তারা যেন এ বছর তথা নবম হিজরীর পর হজ্জ বা উমরাহরত অবস্থায় হলেও হারামে মাক্কী তথা মসজিদে হারামে প্রবেশ না করে। তোমরা যদি তারা যে খাদ্য ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা আমদানী করে তা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করো তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা চাইলে তিনি নিজ অনুগ্রহে অচিরেই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানেন। তিনি তোমাদের জন্য যে পরিকল্পনা করছেন তাতে তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

29

قَٰتِلُوا۟ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ ٱلْحَقِّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ حَتَّىٰ يُعْطُوا۟ ٱلْجِزْيَةَ عَن يَدٍۢ وَهُمْ صَٰغِرُونَ

তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

২৯. হে মু’মিনগণ! তোমরা সেই কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করো যারা আল্লাহ তা‘আলাকে শরীক বিহীন উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করে না এবং কিয়ামতের প্রতি ঈমান আনে না। তারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল তাদের উপর যে মৃত পশু, শূকরের গোস্ত, মদ ও সুদ হারাম করে দিয়েছেন তা থেকে বিরত থাকে না। তারা আল্লাহর দেয়া শরীয়তের প্রতি অনুগতও হয় না। চাই তারা ইহুদি হোক অথবা খ্রিস্টান। যতক্ষণ না তারা চাপের মুখে লাঞ্ছিতাবস্থায় নিজেদের হাতে জিযিয়া কর আদায় করে ততক্ষণ যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।

30

وَقَالَتِ ٱلْيَهُودُ عُزَيْرٌ ٱبْنُ ٱللَّهِ وَقَالَتِ ٱلنَّصَٰرَى ٱلْمَسِيحُ ٱبْنُ ٱللَّهِ ۖ ذَٰلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَٰهِهِمْ ۖ يُضَٰهِـُٔونَ قَوْلَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن قَبْلُ ۚ قَٰتَلَهُمُ ٱللَّهُ ۚ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ

ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।

৩০. বস্তুতঃ ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয়ই মুশরিক। ইহুদিরা তখনই আল্লাহর সাথে শিরক করলো যখন তারা দাবি করলো যে, নিশ্চয়ই উযাইর আল্লাহর ছেলে। আর খ্রিস্টানরাও তাঁর সাথে শিরক করলো যখন তারা দাবি করলো যে, নিশ্চয়ই ‘ঈসা মাসীহ আল্লাহর ছেলে। যে কথা বলে তারা মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে তা মূলতঃ দলীল বিহীন তাদের একান্তই মুখের কথা। বস্তুতঃ তাদের এ কথা তাদের পূর্বেকার সেই মুশরিকদের কথার ন্যায় যারা বলেছিলো: নিশ্চয়ই ফিরিশতারা আল্লাহর কন্যা। আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ অপবাদ থেকে মহাপবিত্র। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধ্বংস করুন। কীভাবে তারা সুস্পষ্ট সত্য থেকে বাতিলের দিকে সরে যাচ্ছে?!

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.