أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْـًۭٔا وَهُمْ يُخْلَقُونَ
তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
তারা কি এমন বস্তুকে অংশী-স্থাপন করে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না? বরং ওরা নিজেরাই সৃষ্ট।
سُورَةُ الأَعۡرَافِ
Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation
Ayahs 191–200 of 206
أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْـًۭٔا وَهُمْ يُخْلَقُونَ
তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
তারা কি এমন বস্তুকে অংশী-স্থাপন করে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না? বরং ওরা নিজেরাই সৃষ্ট।
وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًۭا وَلَآ أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ
আর তারা, না তাদের সাহায্য করতে পারে, না নিজের সাহায্য করতে পারে।
ওরা তাদের কোন প্রকার সাহায্য করতে পারে না এবং ওদের নিজেদেরও নয়।
وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى ٱلْهُدَىٰ لَا يَتَّبِعُوكُمْ ۚ سَوَآءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنتُمْ صَٰمِتُونَ
আর তোমরা যদি তাদেরকে আহবান কর সুপথের দিকে, তবে তারা তোমাদের আহবান অনুযায়ী চলবে না। তাদেরকে আহবান জানানো কিংবা নীরব থাকা উভয়টিই তোমাদের জন্য সমান।
তোমরা তাদেরকে সৎপথের দিকে আহবান করলে ওরা তোমাদের অনুসরণ করবে না।[১] তোমরা ওদেরকে আহবান কর অথবা চুপ করে থাক, তোমাদের পক্ষে উভয়ই সমান।
[১] অর্থাৎ, তোমাদের কথামত তারা কাজ করবে না। এর দ্বিতীয় অর্থ এও হতে পারে যে, তোমরা তাদের নিকট হতে পথনির্দেশ ও হিদায়াত চাও, তাহলে না তারা তোমাদের কথা মানবে, আর না কোন উত্তর দেবে। (ফাতহুল কাদীর)
إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ ۖ فَٱدْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا۟ لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতই বান্দা। অতএব, তোমরা যাদেরকে ডাক, তখন তাদের পক্ষেও তো তোমাদের সে ডাক কবুল করা উচিত যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক?
নিশ্চয়ই আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদেরকে আহবান কর, তারা তো তোমাদেরই মত দাস।[১] তোমরা তাদেরকে আহবান কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক্।
[১] অর্থাৎ, যখন তারা জীবিত ছিল। আর এখন (ওদের মৃত্যুর পর) তোমরা তাদের তুলনায় বেশি 'কামেল' (সাবলম্বী)। কারণ, তারা দেখতে পায় না, তোমরা দেখতে পাও। তারা শুনতে পায় না, তোমরা শুনতে পাও। তারা কারো কথা বুঝতে পারে না, আর তোমরা বুঝতে পার। তারা উত্তর দিতে সক্ষম নয়, তোমরা উত্তরদানে সক্ষম। এখান হতে প্রমাণিত যে, মুশরিকরা যাদের মূর্তি তৈরী করে ইবাদত করত, তারাও আল্লাহর বান্দা মানুষই ছিল। যেমন নূহ (আঃ)-এর পাঁচ মূর্তি সম্পৃক্ত ঘটনায় সহীহ বুখারীতে এ কথা স্পষ্ট যে, তাঁরা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা ছিলেন।
أَلَهُمْ أَرْجُلٌۭ يَمْشُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ أَيْدٍۢ يَبْطِشُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌۭ يُبْصِرُونَ بِهَآ ۖ أَمْ لَهُمْ ءَاذَانٌۭ يَسْمَعُونَ بِهَا ۗ قُلِ ٱدْعُوا۟ شُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ
তাদের কি পা আছে, যদ্বারা তারা চলাফেরা করে, কিংবা তাদের কি হাত আছে, যদ্বারা তারা ধরে। অথবা তাদের কি চোখ আছে যদ্বারা তারা দেখতে পায় কিংবা তাদের কি কান আছে যদ্বারা শুনতে পায়? বলে দাও, তোমরা ডাক তোমাদের অংশীদারদিগকে, অতঃপর আমার অমঙ্গল কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না।
তাদের কি চলার পা আছে? তাদের কি ধরার হাত আছে? তাদের কি দেখার চোখ আছে? কিংবা তাদের কি শোনার কান আছে?[১] বল, ‘তোমরা তোমাদের ঐ অংশীদেরকে ডাক, অতঃপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিয়ো না। [২]
[১] অর্থাৎ, তাদের নিকট এখন এসবের কিছুই নেই। মুত্যুর সাথে সাথেই দেখা, শোনা, ধরা ও চলার শক্তি শেষ হয়ে গেছে। এখন তাদের দিকে সম্পৃক্ত কাঠ বা পাথর নির্মিত মূর্তি অথবা গম্বুজ, আস্তানা ও খানকা রয়েছে; যা তাদের কবরের উপর বানানো হয়েছে। আর এভাবেই বিনা পুঁজির (মৃত বুযুর্গের) ব্যবসা রমরমা হয়ে আছে। কবি বলেন, 'আগার চে পীর হ্যায় আদম, জওয়াঁ হ্যাঁয় লাত অ মানাত।' অর্থাৎ, আদম যদিও বুড়িয়ে গেছেন, যুবক আছে লাত ও মানাত!
[২] অর্থাৎ, যদি তোমরা তোমাদের দাবীতে সত্য হও যে, তারা তোমাদের সহযোগী সাহায্যকারী, তাহলে তাদেরকে বল, তারা আমার বিরুদ্ধে কোন চক্রান্ত করুক।
إِنَّ وَلِۦِّىَ ٱللَّهُ ٱلَّذِى نَزَّلَ ٱلْكِتَٰبَ ۖ وَهُوَ يَتَوَلَّى ٱلصَّٰلِحِينَ
আমার সহায় তো হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। বস্তুত; তিনিই সাহায্য করেন সৎকর্মশীল বান্দাদের।
নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক আল্লাহ যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনিই সৎকর্মপরায়ণদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন।’
وَٱلَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِۦ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَآ أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ
আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক তারা না তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে, না নিজেদের আত্নরক্ষা করতে পারবে।
এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদেরকে আহবান কর, তারা তোমাদের কোন প্রকার সাহায্য করতে পারে না এবং ওদের নিজেদেরও নয়। [১]
[১] যে নিজের প্রয়োজনে নিজেকে সাহায্য করতে পারে না, সে অপরের সাহায্য করবে কিভাবে? কবি বলেন, جو خود محتاج هوئےدوسرے كا بهلا اسسے مدد كا مانگنا كيا অর্থাৎ, যে অপরের মুখাপেক্ষী, তার কাছে সাহায্য ভিক্ষা কি শোভনীয়?
وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى ٱلْهُدَىٰ لَا يَسْمَعُوا۟ ۖ وَتَرَىٰهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ
আর তুমি যদি তাদেরকে সুপথে আহবান কর, তবে তারা তা কিছুই শুনবে না। আর তুমি তো তাদের দেখছই, তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।
যদি তাদেরকে সৎপথের দিকে আহবান কর, তবে তারা শ্রবণ করবে না[১] এবং তুমি দেখতে পাবে যে, তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা দেখে না।
[১] এর মর্মার্থ ১৯৩নং আয়াতের অনুরূপ।
خُذِ ٱلْعَفْوَ وَأْمُرْ بِٱلْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ ٱلْجَٰهِلِينَ
আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক।
তুমি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন কর,[১] সৎকাজের নির্দেশ দাও[২] এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল। [৩]
[১] خُذ العَفو উলামাদের মধ্যে কেউ কেউ এর অর্থ এই বলেছেন যে, خُذ مَا عَفَا لَكَ مِن أَموَالِهِم، أي: مَا فَضَل অর্থাৎ, তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাল তাদের নিকট হতে গ্রহণ কর। এটি যাকাত ফরয হওয়ার পূর্বেকার আদেশ। (ফাতহুল বারী) কিন্তু অন্যান্য মুফাসসিরগণ এর থেকে চারিত্রিক নির্দেশনা অর্থাৎ, ক্ষমা করার অর্থ নিয়েছেন। ইমাম জারীর ও ইমাম বুখারী (রঃ) প্রভৃতি এ অর্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। সুতরাং ইমাম বুখারী উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় উমার (রাঃ)-এর একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন। আর তা হল এই যে, একদা উয়াইনাহ বিন হিসন্ উমার (রাঃ)-এর খিদমতে হাযির হন ও সমালোচনা করতে শুরু করেন যে, আপনি না আমাদের পূর্ণ প্রাপ্য দেন, আর না আমাদের মাঝে ইনসাফ করেন! যার কারণে উমার (রাঃ) রাগান্বিত হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি দেখে উমারের পরামর্শদাতা হুর বিন কায়েস (রাঃ) (উয়াইনার ভাতিজা) বললেন, মহান আল্লাহ নিজ নবী (সাঃ)-কে আদেশ করেন, {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} অর্থাৎ, 'ক্ষমা কর, সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল। আর ইনি একজন মূর্খ মানুষ। সুতরাং উমার (রাঃ) তাকে ক্ষমা করে দেন। বলাই বাহুল্য যে, উমার (রাঃ) কুরআনের আদেশের সামনে আত্মসমর্পণকারী ছিলেন। (বুখারীঃ সূরা আ'রাফের তাফসীর) এর সমর্থন ঐ হাদীসসমূহ দ্বারাও হয়, যাতে অত্যাচারের মোকাবেলায় ক্ষমা প্রদর্শন, সম্পর্ক ছিন্ন করার মোকাবেলায় সুসম্পর্ক বজায় ও অন্যায়ের মোকাবেলায় সদাচরণ প্রয়োগ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
[২] عرف অর্থাৎ معووف অর্থাৎ, সৎকর্ম।
[৩] অর্থাৎ, সৎকার্যের আদেশ দিয়ে হুজ্জত কায়েম করার পরও যদি সে না মানে, তাহলে তাদেরকে এড়িয়ে চল এবং তাদের ঝগড়া ও মূর্খতার উত্তর দিও না।
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ ٱلشَّيْطَٰنِ نَزْغٌۭ فَٱسْتَعِذْ بِٱللَّهِ ۚ إِنَّهُۥ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
আর যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর,[১] নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
[১] এমতাবস্থায় যদি শয়তান তোমাকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর।
Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.