Muslim99Muslim99
← Tafsir library

7. Al-A'raaf

The Heights · Meccan · 206 ayahs

سُورَةُ الأَعۡرَافِ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 131–140 of 206

131

فَإِذَا جَآءَتْهُمُ ٱلْحَسَنَةُ قَالُوا۟ لَنَا هَٰذِهِۦ ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۭ يَطَّيَّرُوا۟ بِمُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ ۗ أَلَآ إِنَّمَا طَٰٓئِرُهُمْ عِندَ ٱللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

অতঃপর যখন শুভদিন ফিরে আসে, তখন তারা বলতে আরম্ভ করে যে, এটাই আমাদের জন্য উপযোগী। আর যদি অকল্যাণ এসে উপস্থিত হয় তবে তাতে মূসার এবং তাঁর সঙ্গীদের অলক্ষণ বলে অভিহিত করে। শুনে রাখ তাদের অলক্ষণ যে, আল্লাহরই এলেমে রয়েছে, অথচ এরা জানে না।

যখন তাদের কোন কল্যাণ হত, তারা বলত, ‘এতো আমাদের প্রাপ্য।’ আর যখন কোন অকল্যাণ হত, তখন তা মূসা ও তার সঙ্গীদেরকে অশুভ কারণরূপে মনে করত।[১] শোন! তাদের অশুভ আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণাধীন,[২] কিন্তু তাদের অধিকাংশ তা জানে না।

[১] حَسَنة (কল্যাণ) অর্থ ফল-ফসলের প্রাচুর্য। আর سَيّئَة এর বিপরীত (অকল্যাণ) অনাবৃষ্টি ও উৎপাদন কম হওয়া। কল্যাণের সকল অংশকে নিজেদের চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফল মনে করত। আর অকল্যাণ তথা অনাবৃষ্টি ও ফসল না হওয়ার সকল দোষ মূসা (আঃ) ও তাঁর উপর ঈমান আনয়নকারীদের উপর চাপিয়ে দিয়ে বলত যে, 'তোমাদের অশুভ আগমনের এই কুফল আমাদের দেশে পড়েছে।'

[২] طائر এর অর্থ (উড়ন্ত) অর্থাৎ পাখি। যেহেতু পাখির ডানে বামে উড়ে যাওয়াকে মানুষ শুভ-অশুভ মনে করত। সেই জন্য এই শব্দ সাধারণ শুভাশুভ লক্ষণের অর্থে ব্যবহার হতে লাগে। আর এখানেও এই অর্থেই ব্যবহার হয়েছে। আল্লাহ বলেন, কল্যাণ-অকল্যাণ; যা বৃষ্টি-অনাবৃষ্টির কারণে তাদের জীবনে আসে তা সবই আল্লাহর পক্ষ হতে, মূসা (আঃ) ও তাঁর উপর ঈমান আনয়নকারীরা তার কারণ নয়। طَائِرُهُم عِندَ الله (তাদের অশুভ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন)এর অর্থ হল, তাদের অশুভ আল্লার জ্ঞানায়ত্ত। আর তা হল তাদের কুফরী ও অস্বীকার; না অন্য কিছু। অথবা তাদের অশুভ আল্লাহর পক্ষ হতে, আর তার কারণ তাদের কুফরী।

Al-A'raaf 7:131Listen in Qur'an →
132

وَقَالُوا۟ مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِۦ مِنْ ءَايَةٍۢ لِّتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ

তারা আরও বলতে লাগল, আমাদের উপর জাদু করার জন্য তুমি যে নিদর্শনই নিয়ে আস না কেন আমরা কিন্তু তোমার উপর ঈমান আনছি না।

তারা বলল, ‘আমাদেরকে যাদু করার জন্য তুমি যে কোন নিদর্শন আমাদের নিকট উপস্থিত কর না কেন, আমরা তোমাতে বিশ্বাস করব না।’ [১]

[১] এটি তাদের কুফরী ও অস্বীকারের বহিঃপ্রকাশ, যাতে তারা ডুবে ছিল। মু'জিযা ও আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে এখনো পর্যন্ত তারা যাদুকরের কাজ বলেই মনে করত।

Al-A'raaf 7:132Listen in Qur'an →
133

فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ ٱلطُّوفَانَ وَٱلْجَرَادَ وَٱلْقُمَّلَ وَٱلضَّفَادِعَ وَٱلدَّمَ ءَايَٰتٍۢ مُّفَصَّلَٰتٍۢ فَٱسْتَكْبَرُوا۟ وَكَانُوا۟ قَوْمًۭا مُّجْرِمِينَ

সুতরাং আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন একের পর এক। তারপরেও তারা গর্ব করতে থাকল। বস্তুতঃ তারা ছিল অপরাধপ্রবণ।

অতঃপর আমি তাদেরকে প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি; এগুলি ছিল স্পষ্ট নিদর্শন।[১] কিন্তু তারা দাম্ভিকই রয়ে গেল, আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।

[১] طوفان (তুফান) বলতে বন্যা, প্লাবন, প্রচুর বৃষ্টিপাত, যাতে প্রতিটি জিনিস ডুবে যায়। অথবা অধিক মৃত্যু বোঝানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি ঘরে মাতম শুরু হয়। جراد পঙ্গপালকে বলে। ফসলের উপর পঙ্গপালের আক্রমণ ও অনিষ্টকারিতা সর্বজন-বিদিত। এই সমস্ত পঙ্গপাল তাদের ফসল ও ফলাদি খেয়ে শেষ করে ফেলত। قُمَّل উকুন যা মানুষের দেহ, পোশাক বা চুলে পাওয়া যায়। অথবা ঘুণ পোকা যা শস্যের অধিক অংশ খেয়ে নষ্ট করে দেয়। উকুনকে মানুষ ঘৃণা করে। আর বেশি পরিমাণে হলে মানুষ পেরেশান হয়ে যায়। আবার তা যদি শাস্তি স্বরূপ হয়, তাহলে তার কষ্ট অনুমেয়। অনুরূপ ঘুণ পোকা মানুষের রুযী ও আর্থিক পরিকাঠামো ভেঙ্গে ফেলার জন্য যথেষ্ট। ضفادع ضفدعة এর বহুবচন। যার অর্থ ব্যাঙ। যা পানিতে খাল ও ডোবায় জন্মায়। এই সমস্ত ব্যাঙ তাদের খাবারে, বিছানায়, গুদামজাত শস্যে এসে উপস্থিত হত; মোটকথা চারিদিকে শুধু ব্যাঙ আর ব্যাঙই নজরে আসত। যার কারণে তাদের খাওয়া, পান করা, শোয়া, আরাম করা সব হারাম হয়ে গিয়েছিল। دَم (রক্ত) এর অর্থ পানি রক্তে পরিণত হওয়া। ফলে তাদের পানি পান করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। কেউ কেউ রক্ত বলতে নাক দিয়ে ঝরা রক্ত বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রত্যেক ব্যক্তির নাক দিয়ে রক্ত ঝরার রোগ শুরু হয়। آيات مفصلات এগুলি স্পষ্ট ও আলাদা আলাদা মু'জিযা ছিল; যা সময়ের ব্যবধানে তাদের উপর এসেছিল।

Al-A'raaf 7:133Listen in Qur'an →
134

وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيْهِمُ ٱلرِّجْزُ قَالُوا۟ يَٰمُوسَى ٱدْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِندَكَ ۖ لَئِن كَشَفْتَ عَنَّا ٱلرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ

আর তাদের উপর যখন কোন আযাব পড়ে তখন বলে, হে মূসা আমাদের জন্য তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট সে বিষয়ে দোয়া কর যা তিনি তোমার সাথে ওয়াদা করে রেখেছেন। যদি তুমি আমাদের উপর থেকে এ আযাব সরিয়ে দাও, তবে অবশ্যই আমরা ঈমান আনব তোমার উপর এবং তোমার সাথে বনী-ইসরাঈলদেরকে যেতে দেব।

যখন তাদের উপর শাস্তি আসত, তখন তারা বলত, ‘হে মূসা! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, তোমার সঙ্গে তার যে অঙ্গীকার রয়েছে সেই অনুযায়ী যদি তুমি আমাদের হতে শাস্তি অপসারিত কর, তবে আমরা অবশ্যই তোমাকে বিশ্বাস করব এবং ইস্রাঈল বংশধরগণকেও তোমার সাথে যেতে দেব।’

Al-A'raaf 7:134Listen in Qur'an →
135

فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ ٱلرِّجْزَ إِلَىٰٓ أَجَلٍ هُم بَٰلِغُوهُ إِذَا هُمْ يَنكُثُونَ

অতঃপর যখন আমি তাদের উপর থেকে আযাব তুলে নিতাম নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত-যেখান পর্যন্ত তাদেরকে পৌছানোর উদ্দেশ্য ছিল, তখন তড়িঘড়ি তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত।

কিন্তু যখনই তাদের উপর হতে এক নির্দিষ্টকালের জন্য শাস্তি অপসারিত করতাম -- যা তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা তখনই তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করত। [১]

[১] অর্থাৎ, যখন একটি আযাব আসত, তখন তাতে পেরেশান হয়ে তা দূর করার জন্য তারা মূসা (আঃ)-এর নিকট আসত। অতঃপর তাঁর দু'আর কারণে তা দূর হয়ে যেত। কিন্তু তারা ঈমান আনার পরিবর্তে কুফরী ও শিরকের উপরই অটল থাকত। আবার দ্বিতীয় আযাব এলে তাই করত। এভাবে সময়ের ব্যবধানে তাদের উপর পাঁচ পাঁচটি আযাব আসে। কিন্তু তাদের অন্তরের ঔদ্ধত্য ও মস্তিষ্কের গর্ব সত্যের পথে পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়। আর এত এত স্পষ্ট প্রমাণাদি দেখার পরও তারা ঈমানের সম্পদ হতে বঞ্চিত থেকে যায়।

Al-A'raaf 7:135Listen in Qur'an →
136

فَٱنتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَٰهُمْ فِى ٱلْيَمِّ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا وَكَانُوا۟ عَنْهَا غَٰفِلِينَ

সুতরাং আমি তাদের কাছে থেকে বদলা নিয়ে নিলাম-বস্তুতঃ তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল আমার নিদর্শনসমূহকে এবং তৎপ্রতি অনীহা প্রদর্শন করেছিল।

সুতরাং আমি তাদের প্রতিশোধ নিলাম এবং তাদেরকে অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত করলাম, কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা মনে করত এবং এ সম্বন্ধে তারা ঔদাস্য প্রকাশ করত। [১]

[১] এত বড় বড় নিদর্শন দেখা সত্ত্বেও তারা ঈমান আনার জন্য ও গাফিলতির ঘুম হতে জাগার জন্য প্রস্তুত হল না। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারা হল। যার বিস্তারিত বর্ণনা কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় এসেছে।

Al-A'raaf 7:136Listen in Qur'an →
137

وَأَوْرَثْنَا ٱلْقَوْمَ ٱلَّذِينَ كَانُوا۟ يُسْتَضْعَفُونَ مَشَٰرِقَ ٱلْأَرْضِ وَمَغَٰرِبَهَا ٱلَّتِى بَٰرَكْنَا فِيهَا ۖ وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ ٱلْحُسْنَىٰ عَلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ بِمَا صَبَرُوا۟ ۖ وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُۥ وَمَا كَانُوا۟ يَعْرِشُونَ

আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকেও আমি উত্তরাধিকার দান করেছি এ ভুখন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের যাতে আমি বরকত সন্নিহিত রেখেছি এবং পরিপূর্ণ হয়ে গেছে তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ বনী-ইসরাঈলদের জন্য তাদের ধৈর্য্যধারণের দরুন। আর ধ্বংস করে দিয়েছে সে সবকিছু যা তৈরী করেছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস করেছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ করেছিল।

এবং যে সম্প্রদায়কে দুর্বল গণ্য করা হত, তাদেরকে[১] আমি আমার কল্যাণপ্রাপ্ত রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের উত্তরাধিকারী করলাম[২] এবং বনী-ইস্রাইল সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালকের শুভবাণী সত্যে পরিণত হল;[৩] যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল। আর ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের নির্মিত শিল্প এবং যে সব প্রাসাদ তারা নির্মাণ করেছিল, তা ধ্বংস করে দিলাম। [৪]

[১] অর্থাৎ, বানী ইস্রাঈল; যাদেরকে ফিরআউন দাস বানিয়ে রেখেছিল এবং যাদের উপর নানাভাবে যুলুম করত। এই দিক দিয়ে বাস্তবে মিসরে তাদেরকে দুর্বল মনে করা হত। কেন না তারা ছিল পরাভূত ও পরাধীন দাস। কিন্তু আল্লাহ যখন ইচ্ছা করলেন, তখন সেই পরাভূত ও দাস জাতিকে সেই ফিরআউনী রাজ্যের উত্তরাধিকারী বানালেন। যেহেতু তিনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নেন, যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। (সূরা আলে ইমরান ৩:২৬ আয়াত)[২] রাজ্য বা দেশ বলতে শাম দেশের এলাকা ফিলিস্তীনকে বুঝানো হয়েছে। সেখানে মহান আল্লাহ আমালেকাদের পর বানী ইস্রাঈলকে বিজয়ী করেন। মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-এর ইন্তিকালের পর বানী ইস্রাঈলরা শাম দেশে তখন গেলেন, যখন ইউশা' বিন নূন আমালেকাদেরকে পরাজিত করে বানী ইস্রাঈলদের জন্য রাস্তা সহজ করে দিলেন। আর দেশের ঐ অংশকে বরকত ও কল্যাণময় করলেন। অর্থাৎ, শাম (সিরিয়া ও ফিলিস্তীন) এলাকা; যেখানে অধিকাংশ নবীদের বাসস্থান ও সমাধিক্ষেত্র ছিল এবং বাহ্যিক সুন্দর শস্য-শ্যামলতাও আছে। অর্থাৎ বাহির ও ভিতর দুই দিক দিয়েই এই এলাকা ছিল সম্পদশালী। مشارق শব্দটি مشرق এর বহুবচন, অনুরূপ مغارب হল مغرب এর বহুবচন। যদিও পূর্ব-পশ্চিম একটিই হয়। বহুবচন পূর্ব ও পশ্চিমসমূহ থেকে উদ্দিষ্ট, দেশের বরকতময় পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত।[৩] এই শুভবাণী বা প্রতিশ্রুতি তাই, যা ইতিপূর্বে মূসা (আঃ) প্রমুখাৎ ৭:১২৮-১২৯নং আয়াতে দেওয়া হয়েছে। যেমন সূরা ক্বাস্বাসেও বলা হয়েছে, {وَنُرِيدُ أَن نَّمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ، وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَنُرِي فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُم مَّا كَانُوا يَحْذَرُونَ} (সূরা ক্বাস্বাস ২৮:৫-৬ আয়াত) "সে দেশে যাদেরকে হীনবল করা হয়েছিল, আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে, তাদেরকে নেতা ও দেশের উত্তরাধিকারী করতে ইচ্ছা করলাম। ইচ্ছা করলাম দেশে তাদেরকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে এবং ফিরআউন, হামান ও তাদের বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে, যা তাদের নিকট হতে ওরা আশঙ্কা করত।" আর এই সম্মান ও অনুগ্রহ সেই ধৈর্যের বিনিময়ে লাভ করেছিল, যা তারা ফিরআউনের অত্যাচারের মুকাবিলায় প্রদর্শন করেছিল।[৪] 'নির্মিত শিল্প' বলতে কারখানা, ইমারত ও অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি। يعرشون (যা তারা উঁচু করত) বলতে উঁচু উঁচু প্রাসাদও হতে পারে, আবার আঙ্গুর ইত্যাদির বাগানও হতে পারে, যা মাচানের উপর ছড়ানো থাকে। অর্থ এই যে আমি তাদের শহরের বড় বড় প্রাসাদ, তাদের অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ধ্বংস করেছি এবং তাদের বাগানসমূহও।

Al-A'raaf 7:137Listen in Qur'an →
138

وَجَٰوَزْنَا بِبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱلْبَحْرَ فَأَتَوْا۟ عَلَىٰ قَوْمٍۢ يَعْكُفُونَ عَلَىٰٓ أَصْنَامٍۢ لَّهُمْ ۚ قَالُوا۟ يَٰمُوسَى ٱجْعَل لَّنَآ إِلَٰهًۭا كَمَا لَهُمْ ءَالِهَةٌۭ ۚ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌۭ تَجْهَلُونَ

বস্তুতঃ আমি সাগর পার করে দিয়েছি বনী-ইসরাঈলদিগকে। তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌছাল, যারা স্বহস্তনির্মিত মূর্তিপুজায় নিয়োজিত ছিল। তারা বলতে লাগল, হে মূসা; আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা রয়েছে।

আর বনী-ইস্রাঈলকে আমি সমুদ্র পার করিয়ে দিলাম, অতঃপর তারা প্রতিমা পূজায় রত এক জাতির সংস্পর্শে এল। তারা বলল, ‘হে মূসা! ওদের যেমন বহু দেবতা রয়েছে, তেমনি আমাদের জন্যও একটি দেবতা বানিয়ে দিন। সে বলল, তোমরা তো এক মূর্খ জাতি।’ [১]

[১] এর থেকে বড় মূর্খতা ও বোকামি আর কি হতে পারে যে, যে মহান আল্লাহ ফিরআউনের মত বড় শত্রুর হাত হতে তাদেরকে শুধু পরিত্রাণ দেননি; বরং তাদেরই চোখের সামনে তাকে তার সৈন্য সামন্তসহ ডুবিয়ে মারলেন এবং তাদেরকে অলৌকিকভাবে সমূদ্র পার করিয়ে দিলেন, সেই আল্লাহকেই তারা সমুদ্র পার হয়েই ভুলে গিয়ে নিজ হাতে গড়া পাথরের মূর্তির খোঁজ শুরু করে। বলা হয় যে, তাদের ঐ মূর্তিগুলো গাভীর আকারে পাথরের তৈরী ছিল।

Al-A'raaf 7:138Listen in Qur'an →
139

إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ مُتَبَّرٌۭ مَّا هُمْ فِيهِ وَبَٰطِلٌۭ مَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

এরা যে, কাজে নিয়োজিত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তারা করেছে তা যে ভুল!

এসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে, তা তো ধ্বংস করা হবে এবং তারা যা করছে, তাও অমূলক।[১]

[১] অর্থাৎ, এই সব মূর্তিপূজারী যাদের অবস্থা তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলেছে, তাদের ভাগ্যই হল ধ্বংস হওয়া ও তাদের এই কর্ম বাতিল ও ক্ষতিকর।

Al-A'raaf 7:139Listen in Qur'an →
140

قَالَ أَغَيْرَ ٱللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَٰهًۭا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ

তিনি বললেন, তাহলে কি আল্লাহকে ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদিগকে সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

সে আরো বলল, ‘আমি কী আল্লাহকে ছেড়ে তোমাদের জন্য অন্য উপাস্য খুঁজব, অথচ তিনি তোমাদেরকে বিশ্ব জগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন?’ [১]

[১] যে মহান আল্লাহ তোমাদের উপর এত অনুগ্রহ করেছেন যে, সারা বিশ্বে তোমাদেরকে সম্মানিত করেছেন, তাঁকে ছেড়ে তোমাদের জন্য পাথর বা কাঠের তৈরী মূর্তি খুঁজে দেব? অর্থাৎ, এই অকৃতজ্ঞতা ও নিমকহারামির কাজ কেমন করে করতে পারি? পরবর্তী আয়াতে আল্লাহর আরো কিছু অনুগ্রহের কথা বর্ণনা হচ্ছে।

Al-A'raaf 7:140Listen in Qur'an →

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.