Muslim99Muslim99
← Tafsir library

7. Al-A'raaf

The Heights · Meccan · 206 ayahs

سُورَةُ الأَعۡرَافِ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 81–90 of 206

81

إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ ٱلرِّجَالَ شَهْوَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنِّسَآءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌۭ مُّسْرِفُونَ

তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।

তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে[১] পুরুষের নিকট গমন কর,[২] তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’ [৩]

[১] যারা হল কাম-চরিতার্থ করার প্রকৃত স্থান এবং যৌনতৃপ্তি লাভের আসল জায়গা। এতে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তাদের প্রকৃতির বিকৃতি ঘটেছিল। অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পুরুষদের যৌনক্ষুধা নিবৃত্ত করার জন্য নারীদের লজ্জাস্থানকে তার প্রকৃত স্থান হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু এই যালিমরা সীমা অতিক্রম করে পুরুষদের পায়খানার দ্বারকে এই কাজের জন্য ব্যবহার করতে আরম্ভ করে দেয়।

[২] অর্থাৎ, পুরুষদের কাছে তোমরা কাম-চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এই অশ্লীল কাজের জন্যই যাও। এ ছাড়া তোমাদের আর এমন কোন উদ্দেশ্য থাকে না, যা বিবেক-বুদ্ধির অনুকূল হয়। এ দিক দিয়ে তারা একেবারে পশুদের মত ছিল, যারা কেবল কাম-চরিতার্থ করার জন্য একে অপরের উপর চড়ে।

[৩] কিন্তু বর্তমানে এই শুদ্ধ প্রকৃতি থেকে বিচ্যুতিকে এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনকেই পাশ্চাত্যের তথাকথিত 'সভ্য' জাতিরা 'স্বাধীনতা' বলে গ্রহণ করেছে। আর এটাই এখন মানুষের 'মৌলিক অধিকার' রূপে বিবেচিত হয়েছে। অতএব এ থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। তাই সেখানে এখন সমলিঙ্গী ব্যভিচারকে আইন-সংগত বলে সবীকৃতি দেওয়া হয়েছে! এটা এখন কোন অপরাধই নয়। فَإِنَّا للهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ।

Al-A'raaf 7:81Listen in Qur'an →
82

وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِۦٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓا۟ أَخْرِجُوهُم مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌۭ يَتَطَهَّرُونَ

তাঁর সম্প্রদায় এ ছাড়া কোন উত্তর দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে শহর থেকে। এরা খুব সাধু থাকতে চায়।

উত্তরে তার সম্প্রদায় শুধু বলল, ‘এদের (লূত্ব এবং তার সঙ্গীদের)কে জনপদ হতে বহিষ্কৃত কর। এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র থাকতে চায়।’[১]

[১] এটা হল লূত্ব (আঃ)-কে গ্রাম থেকে বের করার কারণ। থাকল তাদের তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা দেওয়ার ব্যাপার, হয়তো এটা প্রকৃতই এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এ লোক এই অন্যায় থেকে বেঁচে থাকতে চান। কাজেই উত্তম হল, তিনি আমাদের সাথে আমাদের গ্রামে যেন না থাকেন। অথবা ঠাট্টা ও উপহাস ছলে তারা এ রকম বলেছিল।

Al-A'raaf 7:82Listen in Qur'an →
83

فَأَنجَيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ إِلَّا ٱمْرَأَتَهُۥ كَانَتْ مِنَ ٱلْغَٰبِرِينَ

অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই রয়ে গেল, যারা রয়ে গিয়েছিল। আমি তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম।

অতঃপর তার স্ত্রী ব্যতীত তাকে ও তার পরিজনবর্গকে রক্ষা করেছিলাম। তার স্ত্রী ছিল ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূত। [১]

[১] من الغابرين "অবশিষ্টদের অন্তর্ভূত।" অর্থাৎ, সে তাদের সাথেই রয়ে গিয়েছিল, যাদের উপর আল্লাহর আযাব এসেছিল। কেননা, সে মুসলিমা ছিল না এবং তার সহযোগিতা ও সহমর্মিতা ছিল অপরাধীদের সাথে। কেউ কেউ এর তরজমা করেছেন, "ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূত।" তবে এটা হল পরিণামগত অর্থ, আসল অর্থ প্রথমটাই।

Al-A'raaf 7:83Listen in Qur'an →
84

وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًۭا ۖ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُجْرِمِينَ

অতএব, দেখ গোনাহগারদের পরিণতি কেমন হয়েছে।

তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম,[১] সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কী হয়েছিল, তা লক্ষ্য কর। [২]

[১] অথবা তাদের উপর এক প্রকার বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। এই বিশেষ ধরনের মুষলধারে বৃষ্টি কি ছিল? পাথরের বৃষ্টি। যেমন, অন্যত্র বলেন, {وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ} অর্থাৎ, তার উপর ক্রমাগত ঝামা পাথর বর্ষণ করলাম। (সূরা হূদ ১১:৮২) এর আগে বলেছেন, {جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا} অর্থাৎ, আমি উক্ত জনপদের উপরি ভাগকে নীচে করে দিলাম।[২] অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ! দেখ, যারা প্রকাশ্যে আল্লাহর অবাধ্যতা করে এবং নবীদেরকে মিথ্যাজ্ঞান করে তাদের পরিণাম কি হয়?

Al-A'raaf 7:84Listen in Qur'an →
85

وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًۭا ۗ قَالَ يَٰقَوْمِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُۥ ۖ قَدْ جَآءَتْكُم بَيِّنَةٌۭ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ فَأَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَٱلْمِيزَانَ وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَٰحِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌۭ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসে গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন কর এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যদি কম দিয়ো না এবং ভুপৃষ্টের সংস্কার সাধন করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। এই হল তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।

মাদয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভ্রাতা শুআইবকে পাঠিয়েছিলাম।[১] সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা (কেবল) আল্লাহর উপাসনা কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন (সত্যিকার) উপাস্য নেই। অবশ্যই তোমাদের প্রতিপালক হতে তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। সুতরাং তোমরা মাপ ও ওজন সঠিকভাবে দাও; লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না[২] এবং পৃথিবীতে শান্তি-স্থাপনের পর বিপর্যয় ঘটিও না। তোমরা বিশ্বাসী হলে তোমাদের জন্য এটিই কল্যাণকর।

[১] 'মাদয়ান' ইবরাহীম (আঃ)-এর পুত্র অথবা পৌত্রের নাম ছিল। অতঃপর তাদের থেকেই গঠিত এই গোত্রের নাম 'মাদয়ান' এবং যে গ্রামে তারা বসবাস করত তারও নাম হয়ে যায় 'মাদয়ান'। এইভাবে গোত্র ও গ্রাম উভয় ক্ষেত্রেই এটা (মাদয়ান) ব্যবহার হয়। এ গ্রামটা হিজাযের পথে 'মাআন'এর সন্নিকটে অবস্থিত। এটাকেই কুরআনের অন্যত্র أَصْحَابُ الأَيْكَةِ (বনের অধিবাসী) বলা হয়েছে। এদের নিকট শুআইব (আঃ)-কে নবী বানিয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল।(সূরা শুআরার ২৬:১৭৬ নং আয়াতের টীকা দ্রষ্টব্য)জ্ঞাতব্যঃ প্রত্যেক নবীকে তার সম্প্রদায়ের ভাই বলা হয়েছে। যার অর্থ, সেই জাতির এবং গোত্রের তিনি একজন। আবার এটাকেই কোন কোন স্থানে رَسُوْلًا مِنْهُمْ অথবা مِنْ أَنْفُسِهِمْ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ সবের অর্থ ও উদ্দেশ্য হল, রসূল ও নবী মানুষের মধ্যেকারই একজন মানুষ হন, যাঁকে আল্লাহ তাআলা মানুষের হিদায়াতের জন্য নির্বাচন করেন এবং অহীর মাধ্যমে তাঁর উপর স্বীয় কিতাব ও যাবতীয় বিধি-বিধান অবতীর্ণ করেন।[২] তাওহীদের দাওয়াত দেওয়ার পর এই জাতির মধ্যে ওজনে কম দেওয়ার যে বড় কুঅভ্যাস ছিল, তা থেকে তাদেরকে নিষেধ প্রদান করা হয়েছে এবং মাপ ও ওজন পূর্ণ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ত্রুটিও বড় বিপজ্জনক আচরণ ছিল; যার ফলে এই জাতির নৈতিক অবক্ষয় ও অবনতির কথা প্রমাণ হয়। মূল্য পুরো নেওয়া হবে, কিন্তু জিনিস কম দেওয়া হবে, এটা তো জঘন্যতম খিয়ানত। এই কারণেই সূরা মুত্বাফফিফীনে এমন লোকদেরকে ধ্বংসের খবর দেওয়া হয়েছে।

Al-A'raaf 7:85Listen in Qur'an →
86

وَلَا تَقْعُدُوا۟ بِكُلِّ صِرَٰطٍۢ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ مَنْ ءَامَنَ بِهِۦ وَتَبْغُونَهَا عِوَجًۭا ۚ وَٱذْكُرُوٓا۟ إِذْ كُنتُمْ قَلِيلًۭا فَكَثَّرَكُمْ ۖ وَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُفْسِدِينَ

তোমরা পথে ঘাটে এ কারণে বসে থেকো না যে, আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে হুমকি দিবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং লক্ষ্য কর কিরূপ অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের।

আর তোমরা এই উদ্দেশ্যে পথে পথে বসে থেকো না যে, তোমরা বিশ্বাসীগণকে ভীতি প্রদর্শন করবে, আল্লাহর পথে তাদেরকে বাধা দেবে এবং ওতে বক্রতা (দোষ-ত্রুটি) অনুসন্ধান করবে।[১] স্মরণ কর, তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। আর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কিরূপ ছিল, তা লক্ষ্য কর।

[১] আল্লাহর রাস্তা থেকে মানুষকে রোধ করার জন্য তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করা প্রত্যেক যুগের অবাধ্যজনদের কাছে বড় পছন্দনীয় কাজ ছিল। আর এর দৃষ্টান্ত বর্তমানে আধুনিক এবং পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণকারী লোকদের মাঝে দেখা যায়। أَعَاذَنَا اللهُ مِنْهُ। এ ছাড়াও রাস্তায় বসার আরো কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, লোকদের কষ্ট দেওয়ার জন্য বসা। সাধারণতঃ দুষ্ট প্রকৃতিক লোকদের এই অভ্যাস হয়। অথবা শুআইব (আঃ)-এর কাছে যাওয়ার পথগুলোতে বসা। যাতে তাঁর কাছে যারা যায়, তাদেরকে যেতে বাধা দেয় এবং তাঁর ব্যাপারে তাদের মনে খারাপ ধারণা ঢুকিয়ে দেয়; যেমন মক্কার কুরাইশরা করত। কিংবা দ্বীনের পথগুলোতে বসা এবং এ পথের পথিকদের বাধা দেওয়া। এইভাবে লুণ্ঠনের জন্য ঘাঁটিতে বসে থাকা এবং আগমন ও প্রত্যাগমনকারীদের মাল-ধন লুটে নেওয়া। অথবা কারো কারো নিকট কর আদায় করার জন্য তাদের রাস্তায় বসা। ইমাম শাওকানী (রঃ) বলেন, প্রত্যেক অর্থই সঠিক হতে পারে। কেননা, এটাও হতে পারে যে, এ সব কিছুই তারা করত। (ফাতহুল ক্বাদীর)

Al-A'raaf 7:86Listen in Qur'an →
87

وَإِن كَانَ طَآئِفَةٌۭ مِّنكُمْ ءَامَنُوا۟ بِٱلَّذِىٓ أُرْسِلْتُ بِهِۦ وَطَآئِفَةٌۭ لَّمْ يُؤْمِنُوا۟ فَٱصْبِرُوا۟ حَتَّىٰ يَحْكُمَ ٱللَّهُ بَيْنَنَا ۚ وَهُوَ خَيْرُ ٱلْحَٰكِمِينَ

আর যদি তোমাদের একদল ঐ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে ছবর কর যে পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের মধ্যে মীমাংসা না করে দেন। তিনিই শ্রেষ্ট মীমাংসাকারী।

আমি যা দিয়ে (আল্লাহর পক্ষ হতে) প্রেরিত হয়েছি, তাতে যদি তোমাদের একটি দল বিশ্বাস করে এবং একটি দল বিশ্বাস না করে, তাহলে তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেন, আর তিনিই শ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী। [১]

[১] এটা কুফরীর উপর ধৈর্য ধরার নির্দেশ নয়, বরং তার জন্য ধমক ও কঠিন হুমকি। কারণ, হকপন্থীদেরকে বাতিলপন্থীদের উপর বিজয়ী করাই হয় আল্লাহ তা'য়ালার শেষ ফায়সালা। এটা ঠিক এই ধরনের যেমন অন্যত্র বলেছেন, {فَتَرَبَّصُوا إِنَّا مَعَكُمْ مُتَرَبِّصُونَ}"সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।" (সূরা তাওবাহ ৯:৫২ আয়াত)

Al-A'raaf 7:87Listen in Qur'an →
88

۞ قَالَ ٱلْمَلَأُ ٱلَّذِينَ ٱسْتَكْبَرُوا۟ مِن قَوْمِهِۦ لَنُخْرِجَنَّكَ يَٰشُعَيْبُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَكَ مِن قَرْيَتِنَآ أَوْ لَتَعُودُنَّ فِى مِلَّتِنَا ۚ قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَٰرِهِينَ

তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দাররা বললঃ হে শোয়ায়েব, আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে বিশ্বাস স্থাপনকারীদেরকে শহর থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করবে। শোয়ায়েব বললঃ আমরা অপছন্দ করলেও কি ?

তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক প্রধানগণ বলল, ‘আমাদের ধর্মে তোমাদেরকে ধর্মান্তরিত হতেই হবে।[১] অন্যথা হে শুআইব! তোমাকে ও তোমার সাথে যারা বিশ্বাস করেছে তাদেরকে অবশ্যই আমাদের জনপদ হতে বহিষ্কৃত করব।’ সে বলল, ‘আমরা অনিচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও কি? [২]

[১] ঐ প্রধানগণের দাম্ভিকতা ও আত্মগরিমার কথা আন্দাজ করুন যে, তারা শুধু তওহীদ ও ঈমানের দাওয়াতকে অস্বীকারই করেনি; বরং তার থেকেও সীমা অতিক্রম করে আল্লাহর নবী ও তাঁর উপর ঈমান আনয়নকারীদেরকে হুমকি দিয়ে বলেছিল যে, 'তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্মে ফিরে এস, নচেৎ আমরা তোমাদেরকে এখান থেকে তাড়িয়ে দেব।' ঈমানদারদের পূর্ব ধর্মে ফিরে আসার কথা বুঝে আসার মত। কারণ তারা কুফরী ছেড়ে ঈমান গ্রহণ করেছিল। কিন্তু শুআইব (আঃ)-কেও পূর্ব-পুরুষদের ধর্মে ফিরে আসার দাওয়াত হয়তো এই কারণে যে, তারা তাঁকেও নবুঅত-প্রাপ্তি এবং দাওয়াত ও তবলীগের আগে নিজেদের ধর্মাবলম্বী মনে করত, যদিও সত্য এর বিপরীত। অথবা সংখ্যাধিক্যের দিকে লক্ষ্য করে তাঁকেও নিজেদের মধ্যে শামিল করে নিয়েছে। (এখানে অনেকে ধর্মাদর্শে ফিরে আসার অনুবাদ করেছেন। কিন্তু নবীগণ আদৌ কুফরী ধর্মাদর্শে ছিলেন না। অতএব ফিরে আসার অনুবাদ না করাই উত্তম।) (ফাতহুল ক্বাদীর)

[২] এটি একটি ঊহ্য প্রশ্নের উত্তর। أ (প্রশ্ন) অস্বীকৃতিসূচক। আর و অবস্থা বর্ণনার জন্য। অর্থাৎ, তোমরা কি আমাদেরকে তোমাদের ধর্মে ফিরিয়ে দেবে কিংবা আমাদের নিজ গ্রাম হতে তাড়িয়ে দেবে, যদিও আমরা ঐ ধর্মে ফিরে যেতে বা এই গ্রাম হতে বেরিয়ে যেতে অপছন্দ করি? সার কথা তোমাদের জন্য উচিত নয় যে, তোমরা আমাদেরকে এর মধ্যে কোন একটি করতে বাধ্য করবে।

Al-A'raaf 7:88Listen in Qur'an →
89

قَدِ ٱفْتَرَيْنَا عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِى مِلَّتِكُم بَعْدَ إِذْ نَجَّىٰنَا ٱللَّهُ مِنْهَا ۚ وَمَا يَكُونُ لَنَآ أَن نَّعُودَ فِيهَآ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّنَا ۚ وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَىْءٍ عِلْمًا ۚ عَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلْنَا ۚ رَبَّنَا ٱفْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِٱلْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ ٱلْفَٰتِحِينَ

আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদকারী হয়ে যাব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করি, অথচ তিনি আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আমাদের কাজ নয় এ ধর্মে প্রত্যাবর্তন করা, কিন্তু আমাদের প্রতি পালক আল্লাহ যদি চান। আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। আল্লাহর প্রতিই আমরা ভরসা করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে ছিল যথার্থ ফয়সালা। আপনিই শ্রেষ্টতম ফসলা ফয়সালাকারী।

তোমাদের ধর্মাদর্শ হতে আল্লাহ আমাদেরকে উদ্ধার করার পর যদি আমরা ওতে ধর্মান্তরিত হই, তাহলে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করব।[১] আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা না করলে আর তাতে ধর্মান্তরিত হওয়া আমাদের কাজ নয়।[২] সব কিছুই আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্ত। আমরা আল্লাহর প্রতি নির্ভর করি।[৩] হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে ফায়সালা করে দাও এবং তুমিই শ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী।’ [৪]

[১] যদি আমরা পুনর্বার পূর্ব ধর্মে ফিরে যাই, যার থেকে আল্লাহ আমাদের পরিত্রাণ দিয়েছেন, তাহলে এর অর্থ হবে আমরা ঈমান ও তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করেছিলাম। যার অর্থ হল, আমরা এ রকম করব, তা কখনই সম্ভব নয়।

[২] তারা নিজেদের সংকল্প প্রকাশ করার পর ব্যাপারটি আল্লাহকে সোপর্দ করে দিল। অর্থাৎ, আমরা নিজের ইচ্ছায় কুফরীর দিকে ফিরে যেতে পারি না, তবে আল্লাহ চাইলে তা আলাদা ব্যাপার। কেউ কেউ বলেন, এটি সুচের ছিদ্রে উট প্রবেশ করার মত; যা অসম্ভব।

[৩] তিনি আমাদের ঈমানের উপর দৃঢ় রাখবেন এবং কুফরী ও কাফেরদের মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করবেন। আমাদের উপর নিজ অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করবেন এবং নিজ আযাব হতে রক্ষা করবেন।

[৪] আর আল্লাহ যখন ফায়সালা করে ফেলেন, তখন এমনই হয় যে ঈমানদারদের পরিত্রাণ দিয়ে মিথ্যাজ্ঞানকারী ও অহংকারীদেরকে ধ্বংস করে দেন। এটি ছিল যেন আল্লাহর আযাব অবতীর্ণ হওয়ার দাবী।

Al-A'raaf 7:89Listen in Qur'an →
90

وَقَالَ ٱلْمَلَأُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن قَوْمِهِۦ لَئِنِ ٱتَّبَعْتُمْ شُعَيْبًا إِنَّكُمْ إِذًۭا لَّخَٰسِرُونَ

তার সম্প্রদায়ের কাফের সর্দাররা বললঃ যদি তোমরা শোয়ায়েবের অনুসরণ কর, তবে নিশ্চিতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আর তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী (নেতা)গণ বলল, ‘তোমরা যদি শুআইবকে অনুসরণ কর, তাহলে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ [১]

[১] নিজ পিতৃপুরুষদের ধর্ম ছেড়ে দেওয়া ও মাপে-ওজনে কম-বেশি না করা, এটি ছিল তাদের নিকট ক্ষতিকর জিনিস; যদিও এই দুয়ের মধ্যেই ছিল তাদের লাভ। কিন্তু দুনিয়ার লোকের চোখে নগদ লাভই সব কিছু, যা ওজনে কম-বেশি করার মাধ্যমে তারা পাচ্ছিল, তারা ঈমানদারদের মত আখেরাতের লাভের জন্য তা কেন ছেড়ে দেবে?

Al-A'raaf 7:90Listen in Qur'an →

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.