Muslim99Muslim99
← Tafsir library

7. Al-A'raaf

The Heights · Meccan · 206 ayahs

سُورَةُ الأَعۡرَافِ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 41–50 of 206

41

لَهُم مِّن جَهَنَّمَ مِهَادٌۭ وَمِن فَوْقِهِمْ غَوَاشٍۢ ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلظَّٰلِمِينَ

তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি।

তাদের শয্যা হবে দোযখের (আগুনের) এবং তাদের উপরের আচ্ছাদনও (হবে তারই)।[১] এভাবে আমি অত্যাচারীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।

[১] غَوَاشٌ হল, غَاشِيَةٌ এর বহুবচন। যে জিনিস ঢেকে নেয়। অর্থাৎ, আগুনই হবে তাদের ঢাকা বা ওড়না। উপর থেকেও আগুন তাদেরকে ঢেকে অর্থাৎ ঘিরে রাখবে।

Al-A'raaf 7:41Listen in Qur'an →
42

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে।

আমি কাউকেও তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না।[১] যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তারাই হবে জান্নাতবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

[১] এটা পূর্বাপরের সাথে সম্পর্কহীন বাক্য। এ বাক্যের উদ্দেশ্য হল, এ কথা জানিয়ে দেওয়া যে, ঈমান এবং নেক আমল কোন এমন জিনিস নয়, যা মানুষের শক্তির ঊর্ধ্বে এবং মানুষ তা অর্জন করার সামর্থ্য রাখে না। বরং প্রতিটি মানুষ অতি সহজে ঈমান ও আমলের পথ অবলম্বন করতে পারে এবং তার দাবীসমূহ পূরণ করতে পারে।

Al-A'raaf 7:42Listen in Qur'an →
43

وَنَزَعْنَا مَا فِى صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهِمُ ٱلْأَنْهَٰرُ ۖ وَقَالُوا۟ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى هَدَىٰنَا لِهَٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِىَ لَوْلَآ أَنْ هَدَىٰنَا ٱللَّهُ ۖ لَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِٱلْحَقِّ ۖ وَنُودُوٓا۟ أَن تِلْكُمُ ٱلْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।

আর আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেব,[১] তাদের নিম্নদেশে প্রবাহিত হবে নদীমালা এবং তারা বলবে, ‘যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই; যিনি আমাদেরকে এর পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে পথ না দেখালে, আমরা কখনও পথ পেতাম না।[২] নিশ্চয় আমাদের প্রতিপালকের রসূলগণ সত্য (বাণী) এনেছিলেন।’ আর তাদেরকে আহবান করে বলা হবে যে, ‘তোমরা যা করতে তারই প্রতিদানে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।’ [৩]

[১] غِلٌّ এমন হিংসা-বিদ্বেষকে বলা হয়, যা অন্তঃকরণে গোপন থাকে। মহান আল্লাহ জান্নাতীদের উপর এই অনুগ্রহও করবেন যে, তাদের অন্তরে একে অপরের প্রতি যে বিদ্বেষ ও শত্রুতার মনোভাব (দুনিয়ায় ছিল), তাও তিনি দূর করে দেবেন। অতঃপর তাদের অন্তর একে অপরের জন্য আয়নার মত পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারো বিরুদ্ধে অন্তরে কোন মলিনতা বা শত্রুতা থাকবে না। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, জান্নাতবাসীদের স্তর ও মর্যাদায় পারস্পরিক যে তফাৎ থাকবে, তা নিয়ে তারা একে অপরের প্রতি কোন হিংসা পোষণ করবে না। প্রথম অর্থের সমর্থন একটি হাদীস থেকেও হয়। যাতে বলা হয়েছে যে, জান্নাতীদেরকে জান্নাত এবং জাহান্নামের মাঝে একটি পুলের উপর থামিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের আপোসের যে যুলুম-অত্যাচার থাকবে একে অপরকে তার প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। পরিশেষে যখন তারা একেবারে পাক-পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে। (বুখারী, মাযালিম অধ্যায়) সাহাবাগণের মাঝে পারস্পরিক কিছু মনোমালিন্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। এ ব্যাপারে আলী (রাঃ) বলেছেন, 'আমি আশা করি যে, আমি, উসমান, ত্বালহা ও যুবায়ের رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ সেই লোকদের দলভুক্ত, যাঁদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ} (ইবনে কাসীর)

[২] অর্থাৎ, এই হিদায়াত বা পথপ্রদর্শন যার কারণে আমরা ঈমান ও নেক আমলের জীবন লাভে ধন্য হয়েছি এবং যা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হয়ে সম্মানিত হয়েছি, তা কেবল আল্লাহর বিশেষ দয়া এবং তাঁর অনুগ্রহ। আল্লাহর দয়া ও তাঁর অনুগ্রহ না হলে আমরা এ পর্যন্ত পৌঁছতে পারতাম না। এই হাদীসটাও এই অর্থেরই যাতে রসূল (সাঃ) বলেছেন, "এ কথা ভালভাবে জেনে নাও যে, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তিকেই তার আমল জান্নাতে নিয়ে যাবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর দয়া হবে।" সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি? তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আমিও ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর রহমত দিয়ে আমাকে ঢেকে নেবেন।" (বুখারীঃ রিক্বাক অধ্যায়, মুসলিমঃ কিয়ামতের বিবরণ অধ্যায়)

[৩] এখানে এ উক্তি পূর্বোক্ত কথা ও হাদীসের বিপরীত নয়। কারণ, নেক আমল করার তাওফীক লাভও স্বয়ং আল্লাহরই দয়া ও অনুগ্রহ।

Al-A'raaf 7:43Listen in Qur'an →
44

وَنَادَىٰٓ أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ أَصْحَٰبَ ٱلنَّارِ أَن قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّۭا فَهَلْ وَجَدتُّم مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّۭا ۖ قَالُوا۟ نَعَمْ ۚ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌۢ بَيْنَهُمْ أَن لَّعْنَةُ ٱللَّهِ عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ

জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর।

বেহেশ্তবাসীরা দোযখবাসীদেরকে আহবান করে বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা সত্য পেয়েছি। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তোমরা তা সত্য পেয়েছ কি?’[১] ওরা বলবে, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর জনৈক ঘোষণাকারী তাদের নিকট ঘোষণা করবে, ‘অত্যাচারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।

[১] এই কথাটাই নবী করীম (সাঃ) সেই কাফেরদেরকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, যারা বদরের যুদ্ধে মারা গিয়েছিল এবং যাদের লাশগুলো একটি কুঁয়ায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে সম্বোধন করলে উমার (রাঃ) বলেছিলেন, 'আপনি এমন লোকদেরকে সম্বোধন করছেন, যারা ধ্বংস হয়ে গেছে!' তখন নবী করীম (সাঃ) বলেছিলেন, "আল্লাহর শপথ! তাদেরকে আমি যা বলছি, তা তারা তোমাদের থেকেও আরো ভালভাবে শুনছে। তবে তাদের এখন উত্তর দেওয়ার শক্তি নেই।"

(মুসলিম, জান্নাত অধ্যায়)

Al-A'raaf 7:44Listen in Qur'an →
45

ٱلَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًۭا وَهُم بِٱلْءَاخِرَةِ كَٰفِرُونَ

যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল।

যারা আল্লাহর পথে (মানুষকে) বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করত, আর তারা ছিল পরকালে অবিশ্বাসী।’

Al-A'raaf 7:45Listen in Qur'an →
46

وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌۭ ۚ وَعَلَى ٱلْأَعْرَافِ رِجَالٌۭ يَعْرِفُونَ كُلًّۢا بِسِيمَىٰهُمْ ۚ وَنَادَوْا۟ أَصْحَٰبَ ٱلْجَنَّةِ أَن سَلَٰمٌ عَلَيْكُمْ ۚ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ

উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।

(জান্নাতী ও জাহান্নামী অথবা জান্নাত ও জাহান্নাম) উভয়ের মধ্যে পর্দা থাকবে[১] এবং আ’রাফে কিছু লোক থাকবে[২] যারা প্রত্যেককে তার লক্ষণ দ্বারা চিনবে[৩] এবং তারা বেহেশ্তবাসীদেরকে আহবান করে বলবে, ‘তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ তারা তখনও বেহেশ্তে প্রবেশ করেনি, কিন্তু প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা করে। [৪]

[১] 'উভয়ের মধ্যে' বলতে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে অথবা কাফের ও মু'মিনদের মাঝখানে। حِجَابٌ (পর্দা বা আড়াল) বলতে সেই প্রাচীরকে বুঝানো হয়েছে, যার কথা সূরা হাদীদ ৫৭:১৩ নং আয়াতে এসেছে।{فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُورٍ لَهُ بَابٌ} "অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে।" এটাই হল আ'রাফের দেওয়াল।[২] আ'রাফ বেহেশ্ত ও দোযখের মধ্যবর্তী জায়গা। আ'রাফবাসী কারা হবে? এদের নির্দিষ্টীকরণের ব্যাপারে মুফাসসেরদের মাঝে রয়েছে বিরাট মতভেদ। অধিকাংশ মুফাসসেরদের নিকট এরা হবে সেই লোক, যাদের পুণ্য ও পাপ সমান সমান হবে। এদের পুণ্যরাশি জাহান্নামে যাওয়ার পথে এবং পাপরাশি জান্নাতে যাওয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। আর এইভাবে আল্লাহর পক্ষ হতে চূড়ান্ত ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত তারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে আটকে থাকবে।[৩] سِيْمَاءٌ এর অর্থ, নিদর্শন, চিহ্ন। জান্নাতীদের মুখমন্ডল উজ্জ্বল এবং সতেজ হবে। পক্ষান্তরে জাহান্নামীদের চেহারা কালো ও চোখ নীলবর্ণ হবে। এইভাবে তারা উভয় প্রকারের মানুষকে চিনে নেবে।[৪] এখানে يَطْمَعُوْنَ এর অর্থ কেউ কেউ يَعْلَمُوْنَ করেছেন। অর্থাৎ, তারা জানে যে, তাদেরকে অচিরেই জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।

Al-A'raaf 7:46Listen in Qur'an →
47

۞ وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَٰرُهُمْ تِلْقَآءَ أَصْحَٰبِ ٱلنَّارِ قَالُوا۟ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ ٱلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ

যখন তাদের দৃষ্টি দোযখীদের উপর পড়বে, তখন বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করো না।

আর যখন তাদের দৃষ্টি দোযখবাসীদের প্রতি ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তখন তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে অত্যাচারীদের সঙ্গী করো না।’

Al-A'raaf 7:47Listen in Qur'an →
48

وَنَادَىٰٓ أَصْحَٰبُ ٱلْأَعْرَافِ رِجَالًۭا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَىٰهُمْ قَالُوا۟ مَآ أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ

আরাফবাসীরা যাদেরকে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে, তাদেরকে ডেকে বলবে তোমাদের দলবল ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোন কাজে আসেনি।

আ’রাফবাসীগণ কিছু লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পেরে তাদেরকে আহবান করে বলবে, ‘তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসল না। [১]

[১] এরা হবে জাহান্নামী, যাদেরকে আ'রাফবাসীগণ তাদের নিদর্শনসমূহ দেখেই চিনে নেবে। তারা নিজেদের দলবল এবং অন্যান্য জিনিসের উপর যে অহংকার প্রদর্শন করত, সে ব্যাপারেই তাদেরকে স্মরণ করানো হবে যে, সে জিনিসগুলো আজ তোমাদের কোন উপকারে এল না।

Al-A'raaf 7:48Listen in Qur'an →
49

أَهَٰٓؤُلَآءِ ٱلَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ ٱللَّهُ بِرَحْمَةٍ ۚ ٱدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَآ أَنتُمْ تَحْزَنُونَ

এরা কি তারাই; যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ কর জান্নাতে। তোমাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না।

(দেখ,) এদেরই সম্বন্ধে কি তোমরা শপথ করে বলতে যে, আল্লাহ এদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না? (এদেরকেই বলা হবে,) তোমরা বেহেশ্তে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না।’[১]

[১] এ থেকে এমন ঈমানদারদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা দুনিয়ায় নিঃস্ব-দরিদ্র এবং নিম্নশ্রেণীর লোক ছিল। উক্ত অহংকারীরা এদেরকে নিয়ে বিদ্রূপ করত ও বলত যে, 'যদি এরা আল্লাহর প্রিয় হত, তাহলে দুনিয়াতে কি এদের এ অবস্থা হত?' অতঃপর আরো অধিক ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে বলত যে, 'কিয়ামতের দিনেও আল্লাহর রহমত আমাদের উপরেই হবে (যেভাবে দুনিয়াতে হচ্ছে); তাদের উপর হবে না।' কেউ কেউ এ কথার বক্তা আ'রাফবাসীদেরকে গণ্য করেছেন। আর কেউ কেউ বলেছেন, যখন আ'রাফবাসীরা জাহান্নামীদেরকে বলবে, "তোমাদের দলবল ও অহংকার তোমাদের কোন উপকারে আসল না।" তখন আল্লাহর পক্ষ হতে জান্নাতীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হবে যে, "এরা হল তারাই, যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, এদের উপর আল্লাহর রহম-দয়া হবে না।" (তাফসীর ইবনে কাসীর)

Al-A'raaf 7:49Listen in Qur'an →
50

وَنَادَىٰٓ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ أَصْحَٰبَ ٱلْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا۟ عَلَيْنَا مِنَ ٱلْمَآءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ ۚ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ

দোযখীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের উপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও। তারা বলবেঃ আল্লাহ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন,

জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে আহবান করে বলবে, ‘আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ জীবিকারূপে তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা হতে কিছু দাও।’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ এ দু’টিকে অবিশ্বাসীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।’ [১]

[১] যেমন, পূর্বেই (৩২নং আয়াতে) উল্লিখিত হয়েছে, কিয়ামতের দিন পানাহারের যাবতীয় নিয়ামত কেবল ঈমানদারদের জন্যই হবে। خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ এখানে ঐ কথাকেই জান্নাতীদের মুখ দিয়ে আরো বেশী পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে।

Al-A'raaf 7:50Listen in Qur'an →

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.