الٓمٓصٓ
আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ।
আলিফ লা-ম মী-ম স্বা-দ।
سُورَةُ الأَعۡرَافِ
Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation
Ayahs 1–10 of 206
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
الٓمٓصٓ
আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ।
আলিফ লা-ম মী-ম স্বা-দ।
كِتَٰبٌ أُنزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُن فِى صَدْرِكَ حَرَجٌۭ مِّنْهُ لِتُنذِرَ بِهِۦ وَذِكْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ
এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ।
তোমার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে; সুতরাং তোমার মনে যেন এর সম্পর্কে কোন প্রকার সংকীর্ণতা না থাকে।[১] যাতে তুমি এর দ্বারা সতর্ক কর এবং বিশ্বাসীদের জন্য এটি উপদেশ।
[১] অর্থাৎ, এর প্রচারের ব্যাপারে তোমার অন্তরে এই মনে করে যেন সংকীর্ণতা সৃষ্টি না হয় যে, হয়তো কাফেররা আমাকে মিথ্যাবাদী ভাববে, আমাকে কষ্ট দেবে। কারণ, মহান আল্লাহই হলেন তোমার রক্ষাকর্তা ও সাহায্যকারী। অথবা حَرَج অর্থ, সন্দেহ। অর্থাৎ, এটা যে আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ করা হয়েছে -এ ব্যাপারে যেন তুমি তোমার অন্তরে সন্দেহ অনুভব না কর। এখানে 'নিষেধ-সূচক' বাক্য দিয়ে নবীকে সম্বোধন করা হলেও প্রকৃতার্থে সম্বোধন করা হয়েছে উম্মতকে। অর্থাৎ, তারা যেন সন্দেহ না করে।
ٱتَّبِعُوا۟ مَآ أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا۟ مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ ۗ قَلِيلًۭا مَّا تَذَكَّرُونَ
তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না।
তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ কর[১] এবং তাঁকে ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।
[১] যা আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ করা হয়েছে অর্থাৎ, কুরআন এবং যা রসূল (সাঃ) বলেছেন অর্থাৎ, হাদীস। কেননা, তিনি (সাঃ) বলেছেন, "আমাকে কুরআন এবং তারই মত তার সাথে (আরো একটি জিনিস) দেওয়া হয়েছে।" এই উভয়েরই অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক। এ ছাড়া আর কারো অনুসরণ করা চলবে না, বরং তা অস্বীকার করা জরুরী। যেমন, পরবর্তী অংশে বলেন, "আর তাঁকে বাদ দিয়ে (মনগড়া) অভিভাবকদের অনুসরণ করো না।" যেমন, জাহেলী যুগে সর্দার, জ্যোতিষী ও গণকদের কথার বড়ই গুরুত্ব দেওয়া হত, এমন কি হালাল ও হারাম করার ব্যাপারেও তাদেরকেই দলীল মানা হত।
وَكَم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَٰهَا فَجَآءَهَا بَأْسُنَا بَيَٰتًا أَوْ هُمْ قَآئِلُونَ
আর তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। অনেক জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমার আযাব রাত্রি বেলায় পৌছেছে অথবা দ্বিপ্রহরে বিশ্রামরত অবস্থায়।
কত জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি! আমার শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল রাত্রিতে অথবা দ্বিপ্রহরে যখন তারা বিশ্রামরত ছিল। [১]
[১] قَائِلُوْنَ শব্দটি قَيْلُوْلَةٌ থেকে গঠিত। দুপুরের সময় বিশ্রাম করাকে বলা হয়। অর্থ হল, আমার আযাব হঠাৎ করে এমন সময় এল, যখন তারা বিশ্রামের জন্য বিছানায় বেখবর অবস্থায় তৃপ্তিকর নিদ্রায় বিভোর ছিল।
فَمَا كَانَ دَعْوَىٰهُمْ إِذْ جَآءَهُم بَأْسُنَآ إِلَّآ أَن قَالُوٓا۟ إِنَّا كُنَّا ظَٰلِمِينَ
অনন্তর যখন তাদের কাছে আমার আযাব উপস্থিত হয়, তখন তাদের কথা এই ছিল যে, তারা বললঃ নিশ্চয় আমরা অত্যাচারী ছিলাম।
যখন আমার শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল, তখন তাদের কথা শুধু এটিই ছিল যে, নিশ্চয় আমরা সীমালংঘন করেছি। [১]
[১] কিন্তু আযাব এসে যাওয়ার পর এই ধরনের স্বীকারোক্তির কোনই লাভ নেই। যেমন, পূর্বেও এ কথা উল্লিখিত হয়েছে।{فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا} অর্থাৎ, যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের ঈমান কোন উপকারে আসল না। (সূরা মু'মিন ৪০:৮৫)
فَلَنَسْـَٔلَنَّ ٱلَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْـَٔلَنَّ ٱلْمُرْسَلِينَ
অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব রসূলগণকে।
অতঃপর যাদের নিকট রসূল প্রেরণ করা হয়েছিল, তাদেরকে আমি অবশ্যই জিজ্ঞাসা করব এবং অবশ্যই জিজ্ঞাসা করব রসূলগণকেও। [১]
[১] প্রত্যেক উম্মতকেই জিজ্ঞাসা করা হবে যে, 'তোমাদের কাছে কি আমার পয়গম্বর এসেছিল? তারা কি তোমাদের কাছে আমার বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল?' সেখানে তারা উত্তর দেবে, 'হ্যাঁ, হে আল্লাহ! পয়গম্বর অবশ্যই আমাদের কাছে এসেছিলেন, কিন্তু আমরাই ছিলাম হতভাগ্য যে, তাঁদের কোন পরোয়া করিনি।' আর নবীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, 'তোমরা আমার বার্তা উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলে কি না? তারা এর মোকাবেলায় কি আচরণ প্রদর্শন করেছিল?' নবীরা এ প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এর বিশ্লেষণ কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান রয়েছে।
فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِم بِعِلْمٍۢ ۖ وَمَا كُنَّا غَآئِبِينَ
অতঃপর আমি স্বজ্ঞানে তাদের কাছে অবস্থা বর্ণনা করব। বস্তুতঃ আমি অনুপস্থিত তো ছিলাম না।
তারপর অবশ্যই আমি তাদের নিকট সজ্ঞানে তাদের কার্যাবলী বিবৃত করব।[১] আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না।
[১] যেহেতু আমি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য প্রত্যেক বিষয়ের খবর রাখি, তাই (উম্মত ও পয়গম্বর) উভয়ের সামনেই সমস্ত ব্যাপার বিবৃত করব এবং তারা যা যা করেছিল, তা সবই তাদের সামনে পেশ করে দেব।
وَٱلْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ ٱلْحَقُّ ۚ فَمَن ثَقُلَتْ مَوَٰزِينُهُۥ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ
আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে।
সেদিন ওজন ঠিকভাবেই করা হবে, যাদের ওজন ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে।
وَمَنْ خَفَّتْ مَوَٰزِينُهُۥ فَأُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَنفُسَهُم بِمَا كَانُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا يَظْلِمُونَ
এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো।
আর যাদের ওজন হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, যেহেতু তারা আমার নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করত। [১]
[১] এই আয়াতসমূহে আমলসমূহ ওজন করার বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। আর এটা হবে কিয়ামতের দিন। কুরআন কারীমের বিভিন্ন স্থানে এবং বহু হাদীসেও এ কথা আলোচিত হয়েছে। যার অর্থ হল, ওজন করার যন্ত্র (দাঁড়িপাল্লা) দ্বারা আমলসমূহ ওজন করা হবে। সুতরাং যার নেকীর পাল্লা ভারী হবে, সে সফলকাম হবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে, সে হবে অসফল। কিন্তু আমলসমূহ তো বিমূর্ত অশরীরী বস্তু যার বাহ্যিক কোন আকার ও ওজন নেই, অতএব তা কিভাবে ওজন করা হবে? এ ব্যাপারে একটি মত হল, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেগুলোকে বাহ্যিক রূপ দান করবেন, অতঃপর সেগুলোর ওজন হবে। দ্বিতীয় মত হল, যে দপ্তর ও খাতাসমূহে আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়, সেগুলোকে ওজন করা হবে। তৃতীয় মত হল, স্বয়ং আমলকারীকে ওজন করা হবে। এই তিনটি মত পোষণকারীদের কাছে স্ব স্ব মতের সমর্থনে অনেক সহীহ হাদীস ও আষার (সাহাবীদের উক্তিসমূহ) বিদ্যমান রয়েছে। এই জন্যই ইমাম ইবনে কাসীর বলেন, তিনটি মতই সঠিক হতে পারে। হতে পারে কখনো আমল, কখনো আমলনামা এবং কখনো আমলকারীকে ওজন করা হবে। (দলীলের জন্য দ্রষ্টব্যঃ তাফসীর ইবনে কাসীর) যাই হোক, দাঁড়িপাল্লা ও আমল ওজন করার ব্যাপারটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এটা অস্বীকার অথবা তার অপব্যাখ্যা করা ভ্রষ্টতা। আর বর্তমানে তো এটাকে অস্বীকার করার মোটেই কোন অবকাশ নেই। কেননা, এখন তো ওজন হয় না, এমন জিনিসও ওজন করা হচ্ছে।
وَلَقَدْ مَكَّنَّٰكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَٰيِشَ ۗ قَلِيلًۭا مَّا تَشْكُرُونَ
আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠাই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
আমি তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং ওতে তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.