১৩২-১৩৫ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে মহা মহিমান্বিত আল্লাহ ফিরাউন সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ ও বিরোধিতার সংবাদ দিচ্ছেন যে, কিভাবে তারা হক থেকে সরে গিয়ে একগুয়েমী ভাব দেখিয়েছিল এবং বাতিলের উপর থেকে হঠকারিতা করেছিল। তারা এ কথাও বলেছিল, “যদি মূসা (আঃ) এমন নিদর্শনও প্রদর্শন করেন যার মাধ্যমে তিনি আমাদের উপর যাদু করে দেন তবুও আমরা ঈমান আনবো না । না আমরা তাঁর কোন দলীল কবুল করবো, না তাঁর উপর ঈমান আনয়ন করবো, না তাঁর মু'জিযার উপর ঈমান আনবো।”তাই আল্লাহ পাক বলেনঃ “আমি তাদের উপর তুফান পাঠালাম।' (আরবী)-এর অর্থের ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এটা হচ্ছে অধিক বৃষ্টিপাত যা ডুবিয়ে দেয় বা ক্ষেত ও বাগানের ক্ষতি সাধন করে। (এটা যহহাক ইবনে মাযাহিমও (রঃ) বলেছেন। এটাই বেশী প্রকাশমান) তিনি এর দ্বারা সাধারণ মহামারীও বুঝিয়েছেন। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তুফান হচ্ছে প্লাবন ও প্লেগ। হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তুফান অর্থ হচ্ছে মৃত্যু। অন্য একটি বর্ণনায় আছে যে, ওটা হচ্ছে। আল্লাহর আকস্মিক ও আসমানী শাস্তি! যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ওদের নিদ্রিত অবস্থায় সে উদ্যানে তোমার প্রভুর বিপর্যয় হানা দিলো।” (৬৮:১৯) (আরবী) -এর অর্থ হচ্ছে ফড়িং, যা একটা প্রসিদ্ধ পাখি, যা খাওয়া হালাল। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ “আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে সাতটি যুদ্ধে শরীক ছিলাম। প্রত্যেক যুদ্ধেই আমরা ফড়িং খাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।” ইমাম শাফিঈ (রঃ), ইমাম আহমাদ (রাঃ) এবং ইমাম ইবনে মাজাহ (রঃ) হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “আমাদের জন্যে দু’টো মৃত ও দু’টো রক্ত হালাল করা হয়েছে। (মৃত দু’টো হচ্ছে) মাছ ও ফড়িং, আর (রক্ত দু'টো হচ্ছে) কলিজা ও প্লীহা।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “অধিকাংশ প্রাণী যেগুলো প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সেনাবাহিনী, সেগুলোকে আমি নিজে খাই না বটে, কিন্তু অন্যদের জন্যে হারাম বলি না, বরং ওগুলো হালাল।” রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর না খাওয়ার কারণ ছিল এই যে, ওতে তাঁর রুচি হতো না। যেমন গোসাপ। ওটা খেতে তার নিজের রুচি হতো না। কিন্তু অন্যদেরকে তিনি ওটা খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) ফড়িং, গোসাপ এবং কোন প্রাণীর মূত্রস্থলী খেতেন না। কিন্তু ওগুলোকে হারামও বলতেন না। তাঁর ফড়িং খাওয়া থেকে বিরত থাকার কারণ ছিল এই যে, এটা আল্লাহর একটি আযাব । ফড়িং যে ফসলের জমির উপর দিয়ে গমন করে সেই জমির ফসল সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। মূত্রস্থলী থেকে বিরত থাকার কারণ এই যে, ওটা প্রস্রাবের নিকটবর্তী অংশ। আর গোসাপ না খাওয়ার কারণ এই যে, ওটা হচ্ছে এমন একটি জাতি যা সুন্দর আকৃতি থেকে কদাকৃতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। অতঃপর হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “এই বর্ণনাটিও দুর্বল বটে, তবে গোসাপ খাওয়া থেকে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বিরত থাকার কারণের প্রতি আলোকপাতের উদ্দেশ্যেই আমি এটা নকল করেছি।” আমীরুল মু'মিনীন হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ফড়িং খেতেন। তাঁকে ফড়িং খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমি দু'একটি ফড়িং পেলে অত্যন্ত মজা করে খেয়ে থাকি।” হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পত্নীগণ থালা ভর্তি ফড়িং তাঁর কাছে উপঢৌকন স্বরূপ প্রেরণ করতেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ইমরানের কন্যা মারইয়াম (আঃ) আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করেছিলেন, “হে আল্লাহ! আমাকে এমন মাংস খেতে দিন যাতে রক্ত নেই।” তখন আল্লাহ তাআলা তাকে ফড়িং খেতে দেন। তখন মারইয়াম (আঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহ! লালন পালন ছাড়াই তাকে জীবন দান করুন এবং শব্দ ও শোরগোল ছাড়াই ওদের এককে অপরের পিছনে রেখে দিন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন-“ফড়িংকে মেরো না। এগুলো হচ্ছে আল্লাহ …