Muslim99Muslim99
← Tafsir library

7. Al-A'raaf

The Heights · Meccan · 206 ayahs

سُورَةُ الأَعۡرَافِ

Reading Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication)

Ayahs 111–120 of 206

111

قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ

তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে বন্দরে লোক পাঠিয়ে দিন লোকদের সমবেত করার জন্য।

১১১-১১২ নং আয়াতের তাফসীর: সভাষদরা ফিরাউনকে পরামর্শ দিলো যে, মূসা (আঃ) এবং তাঁর ভাই হারূন (আঃ)-কে বন্দী রাখা হাক এবং রাজ্যের সমস্ত শহরে লোক পাঠিয়ে প্রসিদ্ধ যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হাক। সেই যুগে যাদুর খুবই প্রচলন ছিল। সবারই এটা ধারণা হয়ে গেল যে, মূসা (আঃ)-এর এই মুজিযা ছিল যাদু ও প্রতারণা। সুতরাং সে (ফিরাউন) এ বিষয়ে মূসা (আঃ)-এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে সমস্ত যাদুকরকে একত্রিত করলো। যেমন আল্লাহ পাক ফিরাউনের কথা নকল করে বলেনঃ “হে মূসা (আঃ)! তুমি তোমার যাদুবলে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার ইচ্ছা করছে। আমরাও তোমারই মত যাদু দ্বারা তোমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। সুতরাং এখন যাদু পরীক্ষার একটা দিন ধার্য কর। তুমিও এর বাইরে যাবে না, আমরাও না।” তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ “ঈদের দিন সকালে সমস্ত লোককে একত্রিত করা হাক।” তখন ফিরাউন প্রতারণামূলক তদবীর শুরু করে দিলো। শেষ পর্যন্ত সেই নির্ধারিত দিন এসে পড়লো। তাই আল্লাহ পাক নিম্নে ইরশাদ করছেন-

Al-A'raaf 7:111Listen in Qur'an →
112

يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَٰحِرٍ عَلِيمٍۢ

যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে।

১১১-১১২ নং আয়াতের তাফসীর: সভাষদরা ফিরাউনকে পরামর্শ দিলো যে, মূসা (আঃ) এবং তাঁর ভাই হারূন (আঃ)-কে বন্দী রাখা হাক এবং রাজ্যের সমস্ত শহরে লোক পাঠিয়ে প্রসিদ্ধ যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হাক। সেই যুগে যাদুর খুবই প্রচলন ছিল। সবারই এটা ধারণা হয়ে গেল যে, মূসা (আঃ)-এর এই মুজিযা ছিল যাদু ও প্রতারণা। সুতরাং সে (ফিরাউন) এ বিষয়ে মূসা (আঃ)-এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে সমস্ত যাদুকরকে একত্রিত করলো। যেমন আল্লাহ পাক ফিরাউনের কথা নকল করে বলেনঃ “হে মূসা (আঃ)! তুমি তোমার যাদুবলে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার ইচ্ছা করছে। আমরাও তোমারই মত যাদু দ্বারা তোমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। সুতরাং এখন যাদু পরীক্ষার একটা দিন ধার্য কর। তুমিও এর বাইরে যাবে না, আমরাও না।” তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ “ঈদের দিন সকালে সমস্ত লোককে একত্রিত করা হাক।” তখন ফিরাউন প্রতারণামূলক তদবীর শুরু করে দিলো। শেষ পর্যন্ত সেই নির্ধারিত দিন এসে পড়লো। তাই আল্লাহ পাক নিম্নে ইরশাদ করছেন-

Al-A'raaf 7:112Listen in Qur'an →
113

وَجَآءَ ٱلسَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوٓا۟ إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَٰلِبِينَ

বস্তুতঃ যাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, আমাদের জন্যে কি কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি?

১১৩-১১৪ নং আয়াতের তাফসীর: যে যাদুকররা হযরত মূসা (আঃ)-এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে হাযির হয়েছিল তাদের মধ্যে এবং ফিরাউনের মধ্যে যে শর্ত হয়েছিল, আল্লাহ তা'আলা এখানে ওরই সংবাদ দিচ্ছেন। ফিরাউন যাদুকরদের সাথে ওয়াদা করেছিল যে, যদি তারা মূসা (আঃ)-এর উপর জয়যুক্ত হতে পুরস্কার দেয়া হবে এবং তারা যা চাবে তাই পাবে। তাছাড়া তাদেরকে দরবারের নিকটতম ব্যক্তি রূপে গণ্য করা হবে। যখনই সেই যাদুকরগণ ফিরাউনের কাছে ওয়াদা নিয়ে নিলো তখন তারা হযরত মূসা (আঃ)-কে বললোঃ

Al-A'raaf 7:113Listen in Qur'an →
114

قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ

সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে।

১১৩-১১৪ নং আয়াতের তাফসীর: যে যাদুকররা হযরত মূসা (আঃ)-এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যে হাযির হয়েছিল তাদের মধ্যে এবং ফিরাউনের মধ্যে যে শর্ত হয়েছিল, আল্লাহ তা'আলা এখানে ওরই সংবাদ দিচ্ছেন। ফিরাউন যাদুকরদের সাথে ওয়াদা করেছিল যে, যদি তারা মূসা (আঃ)-এর উপর জয়যুক্ত হতে পুরস্কার দেয়া হবে এবং তারা যা চাবে তাই পাবে। তাছাড়া তাদেরকে দরবারের নিকটতম ব্যক্তি রূপে গণ্য করা হবে। যখনই সেই যাদুকরগণ ফিরাউনের কাছে ওয়াদা নিয়ে নিলো তখন তারা হযরত মূসা (আঃ)-কে বললোঃ

Al-A'raaf 7:114Listen in Qur'an →
115

قَالُوا۟ يَٰمُوسَىٰٓ إِمَّآ أَن تُلْقِىَ وَإِمَّآ أَن نَّكُونَ نَحْنُ ٱلْمُلْقِينَ

তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি।

১১৫-১১৬ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে হযরত মূসা (আঃ) ও যাদুকরদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংগ্রাম সম্পর্কীয় কথোপকথনের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। যাদুকররা হযরত মূসা (আঃ)-কে সম্বোধন করে বললোঃ “হে মূসা (আঃ)! তুমিই কি প্রথমে তোমার বিস্ময়কর বস্তু নিক্ষেপ করবে, না আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করবো?” হযরত মূসা (আঃ) উত্তরে বললেনঃ “তোমরাই প্রথমে নিক্ষেপ কর।” এতে মূসা (আঃ)-এর নিপুণতা এই ছিল যে, প্রথমে জনগণ যাদুকরদের কলাকৌশল পর্যবেক্ষণ করবে এবং ঐ ব্যাপারে চিন্তা গবেষণা করবে। যখন তাদের এই প্রতারণামূলক কার্যকলাপের মহড়া শেষ হবে তখন তারা হযরত মূসা (আঃ)-এর সত্য ও বাস্তব কার্যকলাপের দিকে মনোযোগ দেবে যার জন্যে তারা অপেক্ষমান ছিল এবং সেটা তখন স্পষ্টরূপে তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়বে। কেননা, সত্য ও বাস্তব জিনিস অনুসন্ধানের পর তা প্রাপ্ত হলে সেটা অন্তরের উপর বেশী দাগ কেটে থাকে। আর হলোও তাই। এখন আল্লাহ বলেনঃ “যখন যাদুকরগণ তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো মাটিতে নিক্ষেপ করলো তখন তারা যাদুর মাধ্যমে দর্শকদের নযরবন্দী করে দিলো। তারা তখন এমনভাবে দেখতে থাকলো যে, যা কিছু তারা দেখতে আছে তা যেন সবই বাস্তব। অথচ ঐ লাঠিগুলো ও রজ্জ্বগুলো প্রকৃতপক্ষে লাঠি ও রজ্জ্বই ছিল। দর্শকদের শুধুমাত্র এটা ধারণা ও খেয়াল ছিল যে, ঐগুলো সাপ।” তাই ইরশাদ হচ্ছে- “তাদের যাদুর কারণে মনে হচ্ছিল যে, ওগুলো পিল পিল করে চলছে। এ দেখে মূসা (আঃ) আতংকিত হয়। তখন আমি (আল্লাহ) বললাম, ভয় করো না, জয়যুক্ত তুমিই হবে। তোমার লাঠিখানা তুমিও মাটিতে ফেলে দাও। এটা সাপ হয়ে গিয়ে ঐ সাপগুলোকে গিলে ফেলবে। এ যাদু তো প্রতারণা মাত্র। এই যাদুকরগণ কৃতকার্য হতে পারে না।” মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) বলেন যে, পনেরো হাজার যাদুকর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল। প্রত্যেক যাদুকরের সাথেই দড়ি ও লাঠি ছিল। মূসা (আঃ) তার ভাই হারূন (আঃ)-কে নিয়ে লাঠি খাড়া করে বেরিয়ে পড়লেন এবং প্রতিযোগিতার মাঠে হাযির হলেন। ফিরাউন সভাষদবর্গসহ সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিল। যাদুকরগণ সর্বপ্রথম যাদু দ্বারা হযরত মূসা (আঃ)-এর ন্যরবন্দী করে। তারপর ফিরাউন ও জনগণের চোখে ভেলকি লাগিয়ে দেয়। তারপর প্রত্যেক যাদুকর স্বীয় রঞ্জু ও লাঠি নিক্ষেপ করে। ওগুলো সাপ হয়ে যায়। সারা ময়দান সাপে ভরে যায়। একের উপর এক পিল পিল করে চলতে থাকে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, যাদুকরদের সংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজারেও বেশী। সবারই সাথে ছিল লাঠি ও রঞ্জু। সর্ব সাধারণেরও ন্যরবন্দী হয়ে যায়। সুতরাং মাঠের এই দৃশ্য দেখে সবাই ভীত হয়ে পড়ে। ইবনে আবি বাররাহ (রাঃ) বলেন যে, ফিরাউন সত্তর হাজার যাদুকরকে আহ্বান করেছিল। সর হাজার রঞ্জু ও সত্তর হাজার লাঠি সর্পের আকার ধারণ করে পিল পিল করে চলছিল। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা খুব বড় রকমের যাদু দেখিয়েছিল।

Al-A'raaf 7:115Listen in Qur'an →
116

قَالَ أَلْقُوا۟ ۖ فَلَمَّآ أَلْقَوْا۟ سَحَرُوٓا۟ أَعْيُنَ ٱلنَّاسِ وَٱسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَآءُو بِسِحْرٍ عَظِيمٍۢ

তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলোকে বাধিয়ে দিল, ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাযাদু প্রদর্শন করল।

১১৫-১১৬ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে হযরত মূসা (আঃ) ও যাদুকরদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংগ্রাম সম্পর্কীয় কথোপকথনের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। যাদুকররা হযরত মূসা (আঃ)-কে সম্বোধন করে বললোঃ “হে মূসা (আঃ)! তুমিই কি প্রথমে তোমার বিস্ময়কর বস্তু নিক্ষেপ করবে, না আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করবো?” হযরত মূসা (আঃ) উত্তরে বললেনঃ “তোমরাই প্রথমে নিক্ষেপ কর।” এতে মূসা (আঃ)-এর নিপুণতা এই ছিল যে, প্রথমে জনগণ যাদুকরদের কলাকৌশল পর্যবেক্ষণ করবে এবং ঐ ব্যাপারে চিন্তা গবেষণা করবে। যখন তাদের এই প্রতারণামূলক কার্যকলাপের মহড়া শেষ হবে তখন তারা হযরত মূসা (আঃ)-এর সত্য ও বাস্তব কার্যকলাপের দিকে মনোযোগ দেবে যার জন্যে তারা অপেক্ষমান ছিল এবং সেটা তখন স্পষ্টরূপে তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়বে। কেননা, সত্য ও বাস্তব জিনিস অনুসন্ধানের পর তা প্রাপ্ত হলে সেটা অন্তরের উপর বেশী দাগ কেটে থাকে। আর হলোও তাই। এখন আল্লাহ বলেনঃ “যখন যাদুকরগণ তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো মাটিতে নিক্ষেপ করলো তখন তারা যাদুর মাধ্যমে দর্শকদের নযরবন্দী করে দিলো। তারা তখন এমনভাবে দেখতে থাকলো যে, যা কিছু তারা দেখতে আছে তা যেন সবই বাস্তব। অথচ ঐ লাঠিগুলো ও রজ্জ্বগুলো প্রকৃতপক্ষে লাঠি ও রজ্জ্বই ছিল। দর্শকদের শুধুমাত্র এটা ধারণা ও খেয়াল ছিল যে, ঐগুলো সাপ।” তাই ইরশাদ হচ্ছে- “তাদের যাদুর কারণে মনে হচ্ছিল যে, ওগুলো পিল পিল করে চলছে। এ দেখে মূসা (আঃ) আতংকিত হয়। তখন আমি (আল্লাহ) বললাম, ভয় করো না, জয়যুক্ত তুমিই হবে। তোমার লাঠিখানা তুমিও মাটিতে ফেলে দাও। এটা সাপ হয়ে গিয়ে ঐ সাপগুলোকে গিলে ফেলবে। এ যাদু তো প্রতারণা মাত্র। এই যাদুকরগণ কৃতকার্য হতে পারে না।” মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) বলেন যে, পনেরো হাজার যাদুকর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল। প্রত্যেক যাদুকরের সাথেই দড়ি ও লাঠি ছিল। মূসা (আঃ) তার ভাই হারূন (আঃ)-কে নিয়ে লাঠি খাড়া করে বেরিয়ে পড়লেন এবং প্রতিযোগিতার মাঠে হাযির হলেন। ফিরাউন সভাষদবর্গসহ সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিল। যাদুকরগণ সর্বপ্রথম যাদু দ্বারা হযরত মূসা (আঃ)-এর ন্যরবন্দী করে। তারপর ফিরাউন ও জনগণের চোখে ভেলকি লাগিয়ে দেয়। তারপর প্রত্যেক যাদুকর স্বীয় রঞ্জু ও লাঠি নিক্ষেপ করে। ওগুলো সাপ হয়ে যায়। সারা ময়দান সাপে ভরে যায়। একের উপর এক পিল পিল করে চলতে থাকে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, যাদুকরদের সংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজারেও বেশী। সবারই সাথে ছিল লাঠি ও রঞ্জু। সর্ব সাধারণেরও ন্যরবন্দী হয়ে যায়। সুতরাং মাঠের এই দৃশ্য দেখে সবাই ভীত হয়ে পড়ে। ইবনে আবি বাররাহ (রাঃ) বলেন যে, ফিরাউন সত্তর হাজার যাদুকরকে আহ্বান করেছিল। সর হাজার রঞ্জু ও সত্তর হাজার লাঠি সর্পের আকার ধারণ করে পিল পিল করে চলছিল। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা খুব বড় রকমের যাদু দেখিয়েছিল।

Al-A'raaf 7:116Listen in Qur'an →
117

۞ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ ۖ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ

তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল যাদু বলে।

১১৭-১২২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা এই ভীষণ পরীক্ষাক্ষেত্রে হযরত মূসা (আঃ)-এর নিকট অহী পাঠালেন যা হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য আনয়ন করলো। মূসা (আঃ) তাঁর লাঠিখানা নিক্ষেপ করলেন। ঐ দেখুন! ওটা ঐসব কাল্পনিক সাপকে গিলে ফেললো। ঐ খেয়ালী সাপগুলোর একটিও রক্ষা পেলো না। ঐ যাদুকরগণ জেনে ফেললো যে, এটা যাদু নয়, বরং কোন আসমানী সাহায্য ও আল্লাহ তা'আলারই কাজ। সুতরাং তারা সবাই আল্লাহর সামনে সিজদায় পড়ে গেল এবং বললোঃ “আমরা মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-এর আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম।” হযরত মূসা (আঃ) যখন প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করলেন তখন তিনি লাঠির উপর হাত লাগানো মাত্রই ওটা পুনরায় লাঠি হয়ে গেল। যাদুকররা সিজদায় পড়ে গিয়ে বললোঃ “যদি তিনি নবী না হতেন, বরং যাদুকর হতেন তবে তিনি কখনই আমাদের উপর বিজয় লাভ করতে পারতেন না।” কাসিম ইবনে আবি বুররা (রঃ) বলেন যে, যাদুকরগণ সিজদা থেকে তাদের মাথা উঠাবার পূর্বেই জান্নাত ও জাহান্নাম দেখে নিয়েছিল।

Al-A'raaf 7:117Listen in Qur'an →
118

فَوَقَعَ ٱلْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল।

১১৭-১২২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা এই ভীষণ পরীক্ষাক্ষেত্রে হযরত মূসা (আঃ)-এর নিকট অহী পাঠালেন যা হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য আনয়ন করলো। মূসা (আঃ) তাঁর লাঠিখানা নিক্ষেপ করলেন। ঐ দেখুন! ওটা ঐসব কাল্পনিক সাপকে গিলে ফেললো। ঐ খেয়ালী সাপগুলোর একটিও রক্ষা পেলো না। ঐ যাদুকরগণ জেনে ফেললো যে, এটা যাদু নয়, বরং কোন আসমানী সাহায্য ও আল্লাহ তা'আলারই কাজ। সুতরাং তারা সবাই আল্লাহর সামনে সিজদায় পড়ে গেল এবং বললোঃ “আমরা মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-এর আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম।” হযরত মূসা (আঃ) যখন প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করলেন তখন তিনি লাঠির উপর হাত লাগানো মাত্রই ওটা পুনরায় লাঠি হয়ে গেল। যাদুকররা সিজদায় পড়ে গিয়ে বললোঃ “যদি তিনি নবী না হতেন, বরং যাদুকর হতেন তবে তিনি কখনই আমাদের উপর বিজয় লাভ করতে পারতেন না।” কাসিম ইবনে আবি বুররা (রঃ) বলেন যে, যাদুকরগণ সিজদা থেকে তাদের মাথা উঠাবার পূর্বেই জান্নাত ও জাহান্নাম দেখে নিয়েছিল।

Al-A'raaf 7:118Listen in Qur'an →
119

فَغُلِبُوا۟ هُنَالِكَ وَٱنقَلَبُوا۟ صَٰغِرِينَ

সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল।

১১৭-১২২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা এই ভীষণ পরীক্ষাক্ষেত্রে হযরত মূসা (আঃ)-এর নিকট অহী পাঠালেন যা হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য আনয়ন করলো। মূসা (আঃ) তাঁর লাঠিখানা নিক্ষেপ করলেন। ঐ দেখুন! ওটা ঐসব কাল্পনিক সাপকে গিলে ফেললো। ঐ খেয়ালী সাপগুলোর একটিও রক্ষা পেলো না। ঐ যাদুকরগণ জেনে ফেললো যে, এটা যাদু নয়, বরং কোন আসমানী সাহায্য ও আল্লাহ তা'আলারই কাজ। সুতরাং তারা সবাই আল্লাহর সামনে সিজদায় পড়ে গেল এবং বললোঃ “আমরা মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-এর আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম।” হযরত মূসা (আঃ) যখন প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করলেন তখন তিনি লাঠির উপর হাত লাগানো মাত্রই ওটা পুনরায় লাঠি হয়ে গেল। যাদুকররা সিজদায় পড়ে গিয়ে বললোঃ “যদি তিনি নবী না হতেন, বরং যাদুকর হতেন তবে তিনি কখনই আমাদের উপর বিজয় লাভ করতে পারতেন না।” কাসিম ইবনে আবি বুররা (রঃ) বলেন যে, যাদুকরগণ সিজদা থেকে তাদের মাথা উঠাবার পূর্বেই জান্নাত ও জাহান্নাম দেখে নিয়েছিল।

Al-A'raaf 7:119Listen in Qur'an →
120

وَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ

এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল।

১১৭-১২২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা এই ভীষণ পরীক্ষাক্ষেত্রে হযরত মূসা (আঃ)-এর নিকট অহী পাঠালেন যা হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য আনয়ন করলো। মূসা (আঃ) তাঁর লাঠিখানা নিক্ষেপ করলেন। ঐ দেখুন! ওটা ঐসব কাল্পনিক সাপকে গিলে ফেললো। ঐ খেয়ালী সাপগুলোর একটিও রক্ষা পেলো না। ঐ যাদুকরগণ জেনে ফেললো যে, এটা যাদু নয়, বরং কোন আসমানী সাহায্য ও আল্লাহ তা'আলারই কাজ। সুতরাং তারা সবাই আল্লাহর সামনে সিজদায় পড়ে গেল এবং বললোঃ “আমরা মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-এর আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম।” হযরত মূসা (আঃ) যখন প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করলেন তখন তিনি লাঠির উপর হাত লাগানো মাত্রই ওটা পুনরায় লাঠি হয়ে গেল। যাদুকররা সিজদায় পড়ে গিয়ে বললোঃ “যদি তিনি নবী না হতেন, বরং যাদুকর হতেন তবে তিনি কখনই আমাদের উপর বিজয় লাভ করতে পারতেন না।” কাসিম ইবনে আবি বুররা (রঃ) বলেন যে, যাদুকরগণ সিজদা থেকে তাদের মাথা উঠাবার পূর্বেই জান্নাত ও জাহান্নাম দেখে নিয়েছিল।

Al-A'raaf 7:120Listen in Qur'an →

Commentary: Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication). Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.