Muslim99Muslim99
← Tafsir library

7. Al-A'raaf

The Heights · Meccan · 206 ayahs

سُورَةُ الأَعۡرَافِ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 101–110 of 206

101

تِلْكَ ٱلْقُرَىٰ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنۢبَآئِهَا ۚ وَلَقَدْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِٱلْبَيِّنَٰتِ فَمَا كَانُوا۟ لِيُؤْمِنُوا۟ بِمَا كَذَّبُوا۟ مِن قَبْلُ ۚ كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلْكَٰفِرِينَ

এগুলো হল সে সব জনপদ যার কিছু বিবরণ আমি আপনাকে অবহিত করছি। আর নিশ্চিতই ওদের কাছে পৌছেছিলেন রসূল নিদর্শন সহকারে। অতঃপর কস্মিনকালও এরা ঈমান আনবার ছিল না, তারপরে যা তার ইতিপূর্বে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন করেছে। এভাবেই আল্লাহ কাফেরদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন।

এই জনপদের কিছু বৃত্তান্ত আমি তোমার নিকট বিবৃত করছিঃ তাদের রসূলগণ তো তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছিল;[১] কিন্তু যা তারা পূর্বে মিথ্যা মনে করেছিল, তাতে তারা আর বিশ্বাস করবার ছিল না।[২] এভাবে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের হৃদয়ে সীল মেরে দেন।

[১] যেমন পূর্বে কিছু নবীদের কথা উল্লেখ হয়েছে। بينات বলতে দলীল-প্রমাণ এবং মু'জিযা উভয়কেই বুঝানো হয়েছে। উদ্দেশ্য এই যে, রসূলগণ দ্বারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমি দলীল পূর্ণ না করি, ততক্ষণ পর্যন্ত আযাব অবতীর্ণ করি না।{وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} অর্থাৎ, আমি রসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকেই শাস্তি দিই না। (সূরা বনী ইস্রাইল ১৭:১৫ আয়াত)[২] এর একটি অর্থ এই যে, অঙ্গীকারের দিন যেদিন তাদের কাছে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল, সেদিন আল্লাহর ইলমে তারা ঈমান আনয়নকারী ছিল না। সেই কারণে যখন তাদের নিকট রসূল এলেন তখন আল্লাহর ইলম মুতাবিক তারা ঈমান আনেনি। কারণ তাদের ভাগ্যে ঈমান ছিলই না; যা মহান আল্লাহ নিজ ইলম মোতাবিক লিখে রেখেছিলেন। যেটাকে হাদীসে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছেঃ (كل ميسر لما خلق له) 'প্রত্যেকের জন্য তাই সহজ করে দেওয়া হয়, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (সহীহ বুখারী,তাফসীর সূরা লাইল) দ্বিতীয় অর্থ এই যে, যখন নবী-রসূল তাদের নিকট এলেন, তখন তারা এই কারণে ঈমান আনল না যে, যেহেতু তারা পূর্বেই সত্যের অবমাননা করেছিল, অতএব শুরুতেই যে জিনিসকে তারা মিথ্যাজ্ঞান করেছিল, তার পাপই তাদের ঈমান গ্রহণ না করার কারণ হয়ে দাঁড়াল এবং ঈমান আনার শক্তিই তাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হল। এ কথাকে পরবর্তী শব্দসমূহে 'সীল বা মোহর মেরে দেন' বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। যেমন তিনি অন্যত্র বলেছেন, "তাদের নিকট নিদর্শনাবলী এলেও তারা যে বিশ্বাস করবে না, তা কিভাবে তোমাদেরকে বুঝানো যাবে? তারা যেমন প্রথমবারে ওতে বিশ্বাস করেনি, তেমনি আমিও তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে ফিরিয়ে দেব।" (সূরা আনআম ৬:১০৯-১১০)

Al-A'raaf 7:101Listen in Qur'an →
102

وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِم مِّنْ عَهْدٍۢ ۖ وَإِن وَجَدْنَآ أَكْثَرَهُمْ لَفَٰسِقِينَ

আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে পাইনি; বরং তাদের অধিকাংশকে পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী।

আমি তাদের অধিকাংশকে প্রতিশ্রুতি পালনকারীরূপে পাইনি,[১] বরং তাদের অধিকাংশকে সত্যত্যাগী রূপেই পেয়েছি।

[১] এখান থেকে কেউ কেউ 'রূহ' বা আত্মা-জগতে যে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল, তা বুঝিয়েছেন। আবার কেউ বলেন, আযাব বা শাস্তি দূর করার জন্য নবীদের সঙ্গে তারা যে অঙ্গীকার করত, তা বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ সাধারণ অঙ্গীকার অর্থ নিয়েছেন; যা তারা এক অপরের সঙ্গে করত। এই অঙ্গীকার ভঙ্গ যে ধরণের হোক, তা ফিসক (পাপাচার) বলে গণ্য।

Al-A'raaf 7:102Listen in Qur'an →
103

ثُمَّ بَعَثْنَا مِنۢ بَعْدِهِم مُّوسَىٰ بِـَٔايَٰتِنَآ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِۦ فَظَلَمُوا۟ بِهَا ۖ فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُفْسِدِينَ

অতঃপর আমি তাদের পরে মূসাকে পাঠিয়েছি নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার সভাসদদের নিকট। বস্তুতঃ ওরা তাঁর মোকাবেলায় কুফরী করেছে। সুতরাং চেয়ে দেখ, কি পরিণতি হয়েছে অনাচারীদের।

অতঃপর তাদের পর মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের নিকট পাঠাই,[১] কিন্তু তারা তা অস্বীকার করে। সুতরাং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কি হয়েছিল, তা লক্ষ্য কর। [২]

[১] এখান হতে মূসা (আঃ)-এর বর্ণনা শুরু হচ্ছে। যিনি উল্লিখিত নবীদের পর এসেছিলেন এবং যিনি ছিলেন একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নবী। যাঁকে মিসরের ফিরআউন ও তার জাতির নিকট মু'জিযা ও দলীল-প্রমাণ দিয়ে পাঠানো হয়েছিল।

[২] অর্থাৎ, তাদেরকে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। যেমন, পরবর্তীতে (১৩৬ নং আয়াতে) সে কথা আসছে।

Al-A'raaf 7:103Listen in Qur'an →
104

وَقَالَ مُوسَىٰ يَٰفِرْعَوْنُ إِنِّى رَسُولٌۭ مِّن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

আর মূসা বললেন, হে ফেরাউন, আমি বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রসূল।

মূসা বলল, ‘হে ফিরআউন! আমি বিশ্ব প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত (রসূল)।

Al-A'raaf 7:104Listen in Qur'an →
105

حَقِيقٌ عَلَىٰٓ أَن لَّآ أَقُولَ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْحَقَّ ۚ قَدْ جِئْتُكُم بِبَيِّنَةٍۢ مِّن رَّبِّكُمْ فَأَرْسِلْ مَعِىَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ

আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি তোমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলদেরকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।

আমি এর হকদার যে, আমি আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত বলব না। তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে স্পষ্ট প্রমাণ আমি তোমাদের নিকট এনেছি।[১] সুতরাং বনী ইস্রাঈল সম্প্রদায়কে আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও।’ [২]

[১] যা এই কথারই প্রমাণ যে, আমি সত্য সত্যই আল্লাহ-প্রেরিত রসূল। এই মু'জিযা ও বড় প্রমাণের বিস্তারিত আলোচনাও পরবর্তীতে (৭:১১৭ ও ৭:১৩৩ নং আয়াতে) আসছে।[২] বানী ইস্রাঈল যাদের আসল বাসস্থান ছিল শাম এলাকা। ইউসুফ (আঃ)-এর যুগে তারা মিসরে চলে যায় এবং সেখানেই বসবাস শুরু করে। ফিরআউন তাদেরকে দাস বানিয়েছিল এবং তাদের উপর নানাভাবে নির্যাতন করত। যার বিস্তারিত আলোচনা সূরা বাক্বারায় উল্লিখিত হয়েছে এবং পরবর্তীতেও আসবে। ফিরআউন ও তার সভাসদরা যখন মূসা (আঃ)-এর দাওয়াতকে অস্বীকার করল, তখন মূসা (আঃ) ফিরআউনের নিকট দাবী জানালেন যে, বানী ইস্রাঈলকে মুক্ত করে দেওয়া হোক; যাতে তারা তাদের পিতৃপুরুষের বাসস্থানে ফিরে গিয়ে সম্মানের সাথে বাস করতে পারে এবং আল্লাহর ইবাদত করতে পারে।

Al-A'raaf 7:105Listen in Qur'an →
106

قَالَ إِن كُنتَ جِئْتَ بِـَٔايَةٍۢ فَأْتِ بِهَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ

সে বলল, যদি তুমি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক।

ফিরআউন বলল, ‘তুমি যদি কোন নিদর্শন এনে থাক, তবে তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর।’

Al-A'raaf 7:106Listen in Qur'an →
107

فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌۭ مُّبِينٌۭ

তখন তিনি নিক্ষেপ করলেন নিজের লাঠিখানা এবং তাৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল।

অতঃপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল এবং তৎক্ষণাৎ তা এক সাক্ষাৎ অজগরে পরিণত হল।

Al-A'raaf 7:107Listen in Qur'an →
108

وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ

আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল।

এবং সে তার হাত বের করল আর তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হল। [১]

[১] অর্থাৎ, মহান আল্লাহ যে বড় দুটি মু'জিযা তাঁকে দান করেছিলেন, তা নিজ সত্যতার প্রমাণে পেশ করলেন।

Al-A'raaf 7:108Listen in Qur'an →
109

قَالَ ٱلْمَلَأُ مِن قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٌۭ

ফেরাউনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ-যাদুকর।

ফিরআউন সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলল, ‘এতো একজন সুদক্ষ যাদুকর। [১]

[১] মু'জিযা দেখে ঈমান আনার পরিবর্তে ফিরআউনী সম্প্রদায়ের প্রধানেরা তা যাদু বলে আখ্যায়িত করে বলল, 'মূসা তো একজন সুদক্ষ যাদুকর। তার উদ্দেশ্য, এর দ্বারা তোমাদের রাজত্ব শেষ করে দেওয়া।' কারণ মূসা (আঃ)-এর যুগে যাদু ছিল প্রবল এবং তার প্রচলন ছিল সাধারণ। যার ফলে মু'জিযাকেও তারা যাদু ভেবে বসল; যে মু'জিযাতে মানুষের কোন হাত থাকে না, বরং তা একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায় প্রকাশ পায়। তা সত্ত্বেও ফিরআউনের প্রধানেরা মূসা (আঃ)-এর ব্যাপারে ফিরআউনকে পথভ্রষ্ট করার সুযোগ পেয়ে গেল।

Al-A'raaf 7:109Listen in Qur'an →
110

يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُمْ ۖ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ

সে তোমাদিগকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের কি মত?

এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কার করতে চায়, এখন তোমরা কি পরামর্শ দাও?’

Al-A'raaf 7:110Listen in Qur'an →

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.