Muslim99Muslim99
← Tafsir library

4. An-Nisaa

The Women · Medinan · 176 ayahs

سُورَةُ النِّسَاءِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 91–100 of 176

91

سَتَجِدُونَ ءَاخَرِينَ يُرِيدُونَ أَن يَأْمَنُوكُمْ وَيَأْمَنُوا۟ قَوْمَهُمْ كُلَّ مَا رُدُّوٓا۟ إِلَى ٱلْفِتْنَةِ أُرْكِسُوا۟ فِيهَا ۚ فَإِن لَّمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُوٓا۟ إِلَيْكُمُ ٱلسَّلَمَ وَيَكُفُّوٓا۟ أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَٱقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ ۚ وَأُو۟لَٰٓئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَٰنًۭا مُّبِينًۭا

এখন তুমি আরও এক সম্প্রদায়কে পাবে। তারা তোমাদের কাছেও স্বজাতির কাছেও এবং নির্বিঘ্ন হয়ে থাকতে চায়। যখন তাদেরকে ফ্যাসাদের প্রতি মনোনিবেশ করানো হয়, তখন তারা তাতে নিপতিত হয়, অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয়, তোমাদের সাথে সন্ধি না রাখে এবং স্বীয় হস্তসমূহকে বিরত না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে প্রকাশ্য যুক্তি-প্রমাণ দান করেছি।

৯১. হে মু’মিনরা! তোমরা অচিরেই মুনাফিকদের আরেকটি দল পাবে যারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তোমাদের সামনে ঈমান প্রকাশ করবে। আর কাফির সম্প্রদায়ের সামনে এসে তাদের আস্থাশীল হতে কুফরি প্রকাশ করে। তাদেরকে আল্লাহর সাথে কুফরি ও শিরক করতে ডাকা হলে তারা কঠিনভাবে তাতে পতিত হয়। এরা তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে সমঝোতার ভাব নিয়ে তোমাদের সামনে নত না হলে উপরন্তু তোমাদের থেকে তাদের হাত গুটিয়ে না রাখলে তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও ধরে হত্যা করো। যাদের বৈশিষ্ট্য এমন তাদের গাদ্দারি ও ষড়যন্ত্রের দরুন তাদেরকে ধরা ও হত্যা করার ব্যাপারে আমি তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ রেখেছি।

92

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَن يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلَّا خَطَـًۭٔا ۚ وَمَن قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَـًۭٔا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍۢ مُّؤْمِنَةٍۢ وَدِيَةٌۭ مُّسَلَّمَةٌ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦٓ إِلَّآ أَن يَصَّدَّقُوا۟ ۚ فَإِن كَانَ مِن قَوْمٍ عَدُوٍّۢ لَّكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌۭ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍۢ مُّؤْمِنَةٍۢ ۖ وَإِن كَانَ مِن قَوْمٍۭ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِّيثَٰقٌۭ فَدِيَةٌۭ مُّسَلَّمَةٌ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍۢ مُّؤْمِنَةٍۢ ۖ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ تَوْبَةًۭ مِّنَ ٱللَّهِ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًۭا

মুসলমানের কাজ নয় যে, মুসলমানকে হত্যা করে; কিন্তু ভুলক্রমে। যে ব্যক্তি মুসলমানকে ভূলক্রমে হত্যা করে, সে একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং রক্ত বিনিময় সমর্পন করবে তার স্বজনদেরকে; কিন্তু যদি তারা ক্ষমা করে দেয়। অতঃপর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং যদি সে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে রক্ত বিনিময় সমর্পণ করবে তার স্বজনদেরকে এবং একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে। অতঃপর যে ব্যক্তি না পায়, সে আল্লাহর কাছ থেকে গোনাহ মাফ করানোর জন্যে উপর্যুপুরি দুই মাস রোযা রাখবে। আল্লাহ, মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

৯২. কোন মু’মিনের জন্য উচিত নয় যে, অন্য মু’মিনকে হত্যা করা। তবে ভুলবশত হলে তা ভিন্ন কথা। কোন মু’মিনকে ভুলবশত হত্যা করলে তার কাফফারা হলো একজন মু’মিন গোলাম স্বাধীন করা। উপরন্তু হত্যাকারীর ওয়ারিশ আত্মীয়-স্বজনকে নিহতের ওয়ারিশদের হাতে তার মুক্তিপণ হস্তান্তর করতে হবে। তবে তারা তা ক্ষমা করলে তা আর দিতে হবে না। নিহত ব্যক্তি তোমাদের সাথে যুদ্ধরত সম্প্রদায়ের কোন মু’মিন সদস্য হলে হত্যাকারীকে অবশ্যই একজন মু’মিন গোলাম স্বাধীন করতে হবে এবং তার কোন মুক্তিপণ দিতে হবে না। আর নিহত ব্যক্তি মু’মিন না হলে এবং তোমাদের চুক্তিকৃত সম্প্রদায়ের হলে যেমন: আহলুয-যিম্মাহ তখন হত্যাকারীর ওয়ারিশ আত্মীয়-স্বজনকে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশদের হাতে তার মুক্তিপণ হস্তান্তর করতে হবে। আর হত্যাকারীকে তার কাফফারা হিসেবে একজন মু’মিন গোলাম স্বাধীন করতে হবে। স্বাধীন করার গোলাম পাওয়া না গেলে অথবা তার মূল্য পরিশোধে অক্ষম হলে সে অবিচ্ছিন্নভাবে দু’ মাস রোযা রাখবে। এ দু’ মাসের মাঝে সে কোন রোযা বাদ দিতে পারবে না। যাতে আল্লাহ তা‘আলা তার কৃতকর্মের তাওবা গ্রহণ করতে পারেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের আমল ও নিয়্যাত সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়।

93

وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًۭا مُّتَعَمِّدًۭا فَجَزَآؤُهُۥ جَهَنَّمُ خَٰلِدًۭا فِيهَا وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُۥ وَأَعَدَّ لَهُۥ عَذَابًا عَظِيمًۭا

যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।

৯৩. অবৈধভাবে স্বেচ্ছায় মু’মিন হত্যাকারীর প্রতিদান হবে জাহান্নাম। তাতে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তার উপর রাগান্বিত হবেন এবং তাকে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করবেন। উপরন্তু তিনি এ জাতীয় মহা পাপে লিপ্ত হওয়ার দরুন তার জন্য মহা শাস্তির ব্যবস্থাও রেখেছেন।

94

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا ضَرَبْتُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَتَبَيَّنُوا۟ وَلَا تَقُولُوا۟ لِمَنْ أَلْقَىٰٓ إِلَيْكُمُ ٱلسَّلَٰمَ لَسْتَ مُؤْمِنًۭا تَبْتَغُونَ عَرَضَ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فَعِندَ ٱللَّهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌۭ ۚ كَذَٰلِكَ كُنتُم مِّن قَبْلُ فَمَنَّ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًۭا

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর কর, তখন যাচাই করে নিও এবং যে, তোমাদেরকে সালাম করে তাকে বলো না যে, তুমি মুসলমান নও। তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অন্বেষণ কর, বস্তুতঃ আল্লাহর কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। তোমরা ও তো এমনি ছিলে ইতিপূর্বে; অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব, এখন অনুসন্ধান করে নিও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খবর রাখেন।

৯৪. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য বের হলে বিপক্ষদের ব্যাপারে সর্বপ্রথম নিশ্চিত হবে। ইসলামকে বুঝায় এমন কিছু ব্যক্ত করলে বলো না, তুমি মু’মিন নও। তুমি তো ইসলামকে প্রকাশ করছো তোমার জবিন ও সম্পদহারা হওয়ার ভয়ে। এরপর গনীমতস্বরূপ সামান্যটুকু দুনিয়ার সম্পদ গ্রহণের জন্য তোমরা তাকে হত্যা করলে। অথচ আল্লাহর নিকট এরচেয়ে উত্তম অনেক গনীমতের সম্পদ রয়েছে। তোমরা তো ইতোপূর্বে এর মতোই ছিলে যে তার ঈমানকে তার সম্প্রদায় থেকে লুকিয়ে রাখে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে দয়া করে মুসলিম বানিয়ে তোমাদের জীবনগুলো হিফাযত করেছেন। তাই তোমরা তাদের ব্যাপারে নিশ্চিত হও। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের আমলের কোন কিছুই গোপন নয়। তা যতোই সূ² হোক না কেন। তাই তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এর প্রতিদান দিবেন।

95

لَّا يَسْتَوِى ٱلْقَٰعِدُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُو۟لِى ٱلضَّرَرِ وَٱلْمُجَٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۚ فَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلْمُجَٰهِدِينَ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ عَلَى ٱلْقَٰعِدِينَ دَرَجَةًۭ ۚ وَكُلًّۭا وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلْحُسْنَىٰ ۚ وَفَضَّلَ ٱللَّهُ ٱلْمُجَٰهِدِينَ عَلَى ٱلْقَٰعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًۭا

গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

৯৫. সমস্যাগ্রস্ত তথা রোগী ও অন্ধ ব্যতীত আল্লাহর পথে জিহাদ না করে বসে থাকা মু’মিন এবং আল্লাহর পথে নিজ সম্পদ ও জীবন বিলিয়ে জিহাদকারীগণ কখনো সমান নয়। আল্লাহ তা‘আলা এ ধরনের জিহাদকারীদেরকে জিহাদ না করে বসে থাকা ব্যক্তিদের উপর মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তবুও মুজাহিদ এবং কোন ওজরের কারণে জিহাদ না করে বসে থাকা ব্যক্তি তথা তাদের উভয়ের জন্য যথোপযুক্ত প্রতিদান রয়েছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা মুজাহিদদেরকে বসে থাকা ব্যক্তিদের উপর তাঁর পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দেয়ার মাধ্যমে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

96

دَرَجَٰتٍۢ مِّنْهُ وَمَغْفِرَةًۭ وَرَحْمَةًۭ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًا

এগুলো তাঁর পক্ষ থেকে পদমর্যাদা, ক্ষমা ও করুণা; আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।

৯৬. এ প্রতিদান হলো একের উপর অন্যটি থাকা অনেকগুলো মর্যাদার স্তর। এর পাশাপাশি তাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করা ও তাদেরকে দয়া করা। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু।

97

إِنَّ ٱلَّذِينَ تَوَفَّىٰهُمُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ ظَالِمِىٓ أَنفُسِهِمْ قَالُوا۟ فِيمَ كُنتُمْ ۖ قَالُوا۟ كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِى ٱلْأَرْضِ ۚ قَالُوٓا۟ أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةًۭ فَتُهَاجِرُوا۟ فِيهَا ۚ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَسَآءَتْ مَصِيرًا

যারা নিজের অনিষ্ট করে, ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করে বলে, তোমরা কি অবস্থায় ছিলে? তারা বলেঃ এ ভূখন্ডে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলেঃ আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা দেশত্যাগ করে সেখানে চলে যেতে? অতএব, এদের বাসস্থান হল জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত মন্দ স্থান।

৯৭. কুফরির এলাকা থেকে ইসলামের এলাকার দিকে হিজরত না করে নিজেদের উপর যুলুম কারীদেরকে ফিরিশতারা মৃত্যু দিয়েছে। ফিরিশতারা তাদের জান কবজের সময় তিরস্কার করে বলবে: তোমরা কোন্ অবস্থায় ছিলে? মুশরিকদের মাঝে তোমাদেরকে ভিন্ন করে চিনার ব্যাপার কী ছিলো? তখন তারা কৈফিয়তের সুরে বলবে: মূলতঃ আমরা দুর্বল ছিলাম। আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করার কোন শক্তি ও সামর্থ্য আমাদের ছিলো না। তখন ফিরিশতারা তাদেরকে তিরস্কার করে বলবে: আল্লাহর শহরগুলো কি প্রশস্ত ছিলো না যেগুলোর দিকে তোমরা বের হয়ে যেতে পারতে নিজেদের ধর্ম ও জীবনকে লাঞ্ছনা ও পরাধীনতা থেকে রক্ষা করতে? বস্তুতঃ হিজরত না করাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম যেখানে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। যা তাদের জন্য একটি নিকৃষ্ট গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তনস্থল।

98

إِلَّا ٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلْوِلْدَٰنِ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةًۭ وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًۭا

কিন্তু পুরুষ, নারী ও শিশুদের মধ্যে যারা অসহায়, তারা কোন উপায় করতে পারে না এবং পথও জানে না।

৯৮-৯৯. তবে এ ধমকি থেকে ওরাই নিস্তার পাবে যারা সমস্যাগ্রস্ত দুর্বল শ্রেণী। চাই তারা পুরুষ হোক অথবা মহিলা কিংবা বাচ্চা। যাদের কোন শক্তি ছিলো না নিজেদের উপর থেকে যুলুম ও পরাধীনতা প্রতিহত করার। তারা কোন পথের সন্ধান পায়নি পরাধীনতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। আশা করা যায়, এদেরকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ দয়া ও করুণায় ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা নিজ বান্দাদের মার্জনাকারী এবং তাদের মধ্যকার তাওবাকারীর প্রতি ক্ষমাশীল।

99

فَأُو۟لَٰٓئِكَ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَعْفُوَ عَنْهُمْ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًۭا

অতএব, আশা করা যায়, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।

৯৮-৯৯. তবে এ ধমকি থেকে ওরাই নিস্তার পাবে যারা সমস্যাগ্রস্ত দুর্বল শ্রেণী। চাই তারা পুরুষ হোক অথবা মহিলা কিংবা বাচ্চা। যাদের কোন শক্তি ছিলো না নিজেদের উপর থেকে যুলুম ও পরাধীনতা প্রতিহত করার। তারা কোন পথের সন্ধান পায়নি পরাধীনতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। আশা করা যায়, এদেরকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ দয়া ও করুণায় ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা নিজ বান্দাদের মার্জনাকারী এবং তাদের মধ্যকার তাওবাকারীর প্রতি ক্ষমাশীল।

100

۞ وَمَن يُهَاجِرْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ يَجِدْ فِى ٱلْأَرْضِ مُرَٰغَمًۭا كَثِيرًۭا وَسَعَةًۭ ۚ وَمَن يَخْرُجْ مِنۢ بَيْتِهِۦ مُهَاجِرًا إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ يُدْرِكْهُ ٱلْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُۥ عَلَى ٱللَّهِ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا

যে কেউ আল্লাহর পথে দেশত্যাগ করে, সে এর বিনিময়ে অনেক স্থান ও সচ্ছলতা প্রাপ্ত হবে। যে কেউ নিজ গৃহ থেকে বের হয় আল্লাহ ও রসূলের প্রতি হিজরত করার উদ্দেশে, অতঃপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে তার সওয়াব আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।

১০০. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুফরির এলাকা থেকে ইসলামের এলাকার দিকে হিজরত করলো সে অবশ্যই হিজরতকৃত জমিনে নড়াচড়ার স্থান ও নিজ পরিত্যাগকৃত জমিনের বিপরীত জমিন পাবে। যাতে সে ইজ্জত ও প্রশস্ত রিযিক অর্জন করবে। বস্তুতঃ যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরতের মানসে বের হয় অতঃপর হিজরতের জায়গায় পৌঁছার আগেই তার মৃত্যু এসে যায় তখন তার সাওয়াব আল্লাহর উপর অবধারিত হয়ে যায়। উপরন্তু হিজরতের জায়গায় যে সে পৌছাঁনোটা তার কোন ক্ষতির কারণ হবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দার প্রতি অতি ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু।

An-Nisaa 4:100Listen in Qur'an →

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.