Muslim99Muslim99
← Tafsir library

4. An-Nisaa

The Women · Medinan · 176 ayahs

سُورَةُ النِّسَاءِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 61–70 of 176

61

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا۟ إِلَىٰ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَإِلَى ٱلرَّسُولِ رَأَيْتَ ٱلْمُنَٰفِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًۭا

আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসো-যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে।

৬১. যখন এ মুনাফিকদেরকে বলা হয়, তোমরা আল্লাহ তাঁর কিতাবে যে বিধান নাযিল করেছেন তার দিকে ও রাসূলের দিকে চলে এসো। যাতে তিনি তোমাদের মাঝে তোমাদের বিবাদের ফায়সালা করে দিতে পারেন। তখন হে রাসূল! আপনি তাদেরকে দেখবেন, তারা আপনার থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্যের নিকট ফায়সালার জন্য যায়।

62

فَكَيْفَ إِذَآ أَصَٰبَتْهُم مُّصِيبَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَآءُوكَ يَحْلِفُونَ بِٱللَّهِ إِنْ أَرَدْنَآ إِلَّآ إِحْسَٰنًۭا وَتَوْفِيقًا

এমতাবস্থায় যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন বিপদ আরোপিত হয়, তবে তাতে কি হল! অতঃপর তারা আপনার কাছে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে ফিরে আসবে যে, মঙ্গল ও সম্প্রীতি ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।

৬২. মুনাফিকদের অবস্থা কী হবে যখন পাপসমূহে লিপ্ত হওয়ার দরুন তাদের উপর বিপদসমূহ নেমে আসবে অতঃপর হে রাসূল! তারা আপনার নিকট এসে ওজর পেশ করে আল্লাহর উপর এ কসম খায় যে, আমরা আপনি ছাড়া অন্যের নিকট বিচার-ফায়সালা চাওয়ার মাধ্যমে কেবল দ্ব›দ্বকারী দু’ পক্ষের মাঝে সমঝোতা ও দয়া ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছিলাম?! অথচ তারা এ ব্যাপারে মিথ্যুক। কারণ, দয়া শুধু আল্লাহর বান্দাদের উপর তাঁর শরীয়ত বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত।

63

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ يَعْلَمُ ٱللَّهُ مَا فِى قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِىٓ أَنفُسِهِمْ قَوْلًۢا بَلِيغًۭا

এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও আল্লাহ তা’আলা অবগত। অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন এবং ওদেরকে সদুপদেশ দিয়ে এমন কোন কথা বলুন যা তাদের জন্য কল্যাণকর।

৬৩. এদের অন্তরগুলোতে যে মুনাফিকী ও নিকৃষ্ট ইচ্ছা লুক্কায়িত আছে আল্লাহ তা‘আলা তা ভালোই জানেন। তাই আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন এবং তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন হে রাসূল! আর আশা ও ভয় দেখিয়ে তাদেরকে আল্লাহর বিধানটুকু সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। আর তাদের অন্তরে প্রবেশ করে মতো তাদের সাথে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী বাক্য বলুন।

64

وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ جَآءُوكَ فَٱسْتَغْفَرُوا۟ ٱللَّهَ وَٱسْتَغْفَرَ لَهُمُ ٱلرَّسُولُ لَوَجَدُوا۟ ٱللَّهَ تَوَّابًۭا رَّحِيمًۭا

বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।

৬৪. আমি যে রাসূলই পাঠিয়ে থাকি না কেন তাকে এ জন্যই পাঠিয়েছি যেন আল্লাহর ইচ্ছা ও তাকদীরের ভিত্তিতে তাঁর আদেশ মান্য করা হয়। তারা যখন গুনাহে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের উপর অত্যাচার করে বসেছে তখন যদি তারা হে রাসূল! আপনার নিকট এসে আপনার জীবদ্দশায় গুনাহের কথা স্বীকার করে লজ্জিত ও তাওবারত অবস্থায় আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং আপনিও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন তাহলে তারা অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলাকে তাওবা গ্রহণকারী ও দয়ালু হিসাবে পেতো।

65

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا۟ فِىٓ أَنفُسِهِمْ حَرَجًۭا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا۟ تَسْلِيمًۭا

অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।

৬৫. ব্যাপারটি তেমন নয় যা এ মুনাফিকরা ধারণা করেছে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সত্তার কসম খেয়ে বলেন, নিশ্চয়ই তারা সত্যিকার বিশ্বাসী হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের সকল মতপার্থক্যের বিষয়ে রাসূলের জীবদ্দশায় তাঁর নিকট এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শরীয়তের নিকট ফায়সালা কামনা করে। এরপর তারা রাসূলের ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকে। উপরন্তু তাদের অন্তরে এ ব্যাপারে কোন সংশয় ও সঙ্কীর্ণতা না থাকে এবং তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আনুগত্যের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে তার সামনে আত্মসমর্পণ করে।

66

وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ ٱقْتُلُوٓا۟ أَنفُسَكُمْ أَوِ ٱخْرُجُوا۟ مِن دِيَٰرِكُم مَّا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌۭ مِّنْهُمْ ۖ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا۟ مَا يُوعَظُونَ بِهِۦ لَكَانَ خَيْرًۭا لَّهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًۭا

আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে।

৬৬-৬৮. যদি আমি তাদের উপর একে অপরকে হত্যা করা অথবা তাদের ঘরসমূহ থেকে বের হওয়া ফরয করে দিতাম তাদের কিছু সংখ্যক ছাড়া কেউই আমার আদেশ মানতো না। তাই তারা যেন এ ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, তিনি তাদের উপর কঠিন কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। যদি তারা আল্লাহর আনুগত্যের উপদেশ মাফিক কাজ করতো তাহলে তা বিরুদ্ধাচরণের চেয়ে অনেক উত্তম ও তাদের ঈমান আরো পরিপক্ক হতো। আর আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দিতাম এবং তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দেয় এমন পথে চলার তাওফীক দিতাম।

67

وَإِذًۭا لَّءَاتَيْنَٰهُم مِّن لَّدُنَّآ أَجْرًا عَظِيمًۭا

আর তখন অবশ্যই আমি তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে মহান সওয়াব দেব।

৬৬-৬৮. যদি আমি তাদের উপর একে অপরকে হত্যা করা অথবা তাদের ঘরসমূহ থেকে বের হওয়া ফরয করে দিতাম তাদের কিছু সংখ্যক ছাড়া কেউই আমার আদেশ মানতো না। তাই তারা যেন এ ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, তিনি তাদের উপর কঠিন কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। যদি তারা আল্লাহর আনুগত্যের উপদেশ মাফিক কাজ করতো তাহলে তা বিরুদ্ধাচরণের চেয়ে অনেক উত্তম ও তাদের ঈমান আরো পরিপক্ক হতো। আর আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দিতাম এবং তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দেয় এমন পথে চলার তাওফীক দিতাম।

68

وَلَهَدَيْنَٰهُمْ صِرَٰطًۭا مُّسْتَقِيمًۭا

আর তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করব।

৬৬-৬৮. যদি আমি তাদের উপর একে অপরকে হত্যা করা অথবা তাদের ঘরসমূহ থেকে বের হওয়া ফরয করে দিতাম তাদের কিছু সংখ্যক ছাড়া কেউই আমার আদেশ মানতো না। তাই তারা যেন এ ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা করে যে, তিনি তাদের উপর কঠিন কোন কিছু চাপিয়ে দেননি। যদি তারা আল্লাহর আনুগত্যের উপদেশ মাফিক কাজ করতো তাহলে তা বিরুদ্ধাচরণের চেয়ে অনেক উত্তম ও তাদের ঈমান আরো পরিপক্ক হতো। আর আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান দিতাম এবং তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর জান্নাতের দিকে পৌঁছিয়ে দেয় এমন পথে চলার তাওফীক দিতাম।

69

وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّۦنَ وَٱلصِّدِّيقِينَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَٱلصَّٰلِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُو۟لَٰٓئِكَ رَفِيقًۭا

আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।

৬৯. যে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে সে ওদের সাথে থাকবে যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে প্রবেশের নিয়ামত দিয়েছেন। তাঁরা হলেন আম্বিয়ায়ে কিরাম, সিদ্দীকীন যাদের বিশ্বাস রাসূলদের আনীত বিধি-বিধানের উপর পরিপূর্ণতা লাভ করেছে এবং তারা তার উপর আমল করেছে, শহীদগণ যাদেরকে আল্লাহর পথে হত্যা করা হয়েছে এবং নেককারগণ যাদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য পরিশুদ্ধ তাই তাদের আমলগুলোও পরিশুদ্ধ। কতো চমৎকারই না জান্নাতের এ সাথীরা।

70

ذَٰلِكَ ٱلْفَضْلُ مِنَ ٱللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ عَلِيمًۭا

এটা হল আল্লাহ-প্রদত্ত মহত্ত্ব। আর আল্লাহ যথেষ্ট পরিজ্ঞাত।

৭০. উক্ত সাওয়াবটুকু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের উপর এক ধরনের বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লাহ তা‘আলা তাদের অবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞানী এবং অচিরেই তিনি প্রত্যেককে তার আমলের প্রতিদান দিবেন।

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.