Muslim99Muslim99
← Tafsir library

4. An-Nisaa

The Women · Medinan · 176 ayahs

سُورَةُ النِّسَاءِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 51–60 of 176

51

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ نَصِيبًۭا مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ يُؤْمِنُونَ بِٱلْجِبْتِ وَٱلطَّٰغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ هَٰٓؤُلَآءِ أَهْدَىٰ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ سَبِيلًا

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও শয়তানকে এবং কাফেরদেরকে বলে যে, এরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে।

৫১. হে রাসূল! আপনি কি অবগত নন এবং ইহুদিদের অবস্থা দেখে আশ্চর্য হন না যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কিছুটা জ্ঞান দিয়েছেন। অথচ তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের বানানো মা’বূদগুলোর উপর ঈমান আনে ও মুশরিকদের সাথে তাল মিলিয়ে বলে: নিশ্চয়ই তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথীদের চাইতেও বেশি সঠিক পথপ্রাপ্ত?!

52

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَعَنَهُمُ ٱللَّهُ ۖ وَمَن يَلْعَنِ ٱللَّهُ فَلَن تَجِدَ لَهُۥ نَصِيرًا

এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের উপর লা’নত করেছেন আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং। বস্তুতঃ আল্লাহ যার উপর লা’নত করেন তুমি তার কোন সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না।

৫২. যারা এ নিকৃষ্ট বিশ্বাসে বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত করেন। আর আল্লাহ যাকে বিতাড়িত করেন আপনি তার কোন সাহায্যকারী অভিভাবক কখনোই খুঁজে পাবেন না।

53

أَمْ لَهُمْ نَصِيبٌۭ مِّنَ ٱلْمُلْكِ فَإِذًۭا لَّا يُؤْتُونَ ٱلنَّاسَ نَقِيرًا

তাদের কাছে কি রাজ্যের কোন অংশ আছে? তাহলে যে এরা কাউকেও একটি তিল পরিমাণও দেবে না।

৫৩. মালিকানায় তাদের কোন অংশীদারিত্ব নেই। যদি তারা এমন কিছুর মালিক হতো তাহলে তারা কাউকেই কোন কিছু দিতো না। যদিও তা খেজুরের দানার পিঠের বিন্দু সমপরিমাণ হোক না কেন।

54

أَمْ يَحْسُدُونَ ٱلنَّاسَ عَلَىٰ مَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ ۖ فَقَدْ ءَاتَيْنَآ ءَالَ إِبْرَٰهِيمَ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَءَاتَيْنَٰهُم مُّلْكًا عَظِيمًۭا

নাকি যাকিছু আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন সে বিষয়ের জন্য মানুষকে হিংসা করে। অবশ্যই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদেরকে কিতাব ও হেকমত দান করেছিলাম আর তাদেরকে দান করেছিলাম বিশাল রাজ্য।

৫৪. বরং তারা আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাথীদেরকে যে নবুওয়াত, ঈমান ও জমিনের মাঝে কর্তৃত্ব দিয়েছেন তার উপর হিংসা করে। তারা কেন ওদের সাথে হিংসা করে; অথচ আমি ইতোপূর্বে ইব্রাহীমের সন্তানদেরকে নাযিলকৃত কিতাব ও কিতাব ছাড়া যা তাদেরকে ওহী করেছি তা দিয়েছি। আর তাদেরকে দিয়েছি মানুষের উপর এক বিস্তৃত ক্ষমতা?!

55

فَمِنْهُم مَّنْ ءَامَنَ بِهِۦ وَمِنْهُم مَّن صَدَّ عَنْهُ ۚ وَكَفَىٰ بِجَهَنَّمَ سَعِيرًا

অতঃপর তাদের কেউ তাকে মান্য করেছে আবার কেউ তার কাছ থেকে দূরে সরে রয়েছে। বস্তুতঃ (তাদের জন্য) দোযখের শিখায়িত আগুনই যথেষ্ট।

৫৫. আহলে কিতাবের কেউ কেউ ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) ও তাঁর সন্তনদের মধ্যকার অন্যান্য নবীদের উপর আল্লাহ তা‘আলা যা নাযিল করেছেন তার উপর ঈমান এনেছে। আবার তাদের কেউ কেউ এগুলোর উপর ঈমান আনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর এটিই নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর নাযিলকৃত কিতাবের প্রতি তাদের অবস্থান। বস্তুতঃ আগুনই তাদের মধ্যকার কাফিরের উপযুক্ত শাস্তি।

56

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًۭا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُم بَدَّلْنَٰهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًۭا

এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শন সমুহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী।

৫৬. যারা আমার আয়াতগুলোর সাথে কুফরি করেছে অচিরেই আমি তাদেরকে কিয়ামতের দিন এমন আগুনে প্রবেশ করাবো যা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। যখনই তা তাদের চামড়াগুলোকে জ্বালিয়ে দিবে তখনই আমি তাদেরকে এ চামড়াগুলো ছাড়া অন্য চামড়া দিয়ে বদলিয়ে দেবো। যাতে তাদের শাস্তি লাগাতার চলতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা পরাক্রমশালী। কোন কিছুই তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। তিনি তাঁর পরিচালনা ও ফায়সালায় প্রজ্ঞাময়।

57

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّٰتٍۢ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًۭا ۖ لَّهُمْ فِيهَآ أَزْوَٰجٌۭ مُّطَهَّرَةٌۭ ۖ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّۭا ظَلِيلًا

আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহর সমূহ। সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্ত্রীগণ। তাদেরকে আমি প্রবিষ্ট করব ঘন ছায়া নীড়ে।

৫৭. যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করেছে এবং তাঁদের আনুগত্য বা নেক আমল করেছে আমি অচিরেই তাদেরকে কিয়ামতের দিন এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবো যার অট্টালিকাসমূহের তলদেশ দিয়ে অনেকগুলো নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। এ জান্নাতগুলোতে তাদের জন্য রয়েছে এমন স্ত্রীসমূহ যারা সকল প্রকারের আবর্জনা থেকে পবিত্র। আমি অচিরেই তাদেরকে এমন ছায়ায় প্রবেশ করাবো যা ঘন ও দীর্ঘায়িত যাতে কোন ধরনের উত্তাপ ও শীত নেই।

58

۞ إِنَّ ٱللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا۟ ٱلْأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ ٱلنَّاسِ أَن تَحْكُمُوا۟ بِٱلْعَدْلِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِۦٓ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ سَمِيعًۢا بَصِيرًۭا

নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।

৫৮. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে আদেশ করছেন আমানতগুলো তাদের মালিকদের নিকট পৌঁছিয়ে দিতে। তেমনিভাবে তিনি তোমাদেরকে আদেশ করছেন মানুষের মাঝে ফায়সালা করার সময় তাদের প্রতি ইনসাফ করতে। আর বিচারের ক্ষেত্রে কারো প্রতি দুর্বলতা না দেখাতে ও যুলুম না করতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সর্বাবস্থায় তোমাদেরকে যা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ও যার প্রতি পথ প্রদর্শন করছেন তা খুবই চমৎকার। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কথা শুনছেন ও তোমাদের সকল কর্মকাÐ দেখছেন।

59

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَأُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَٰزَعْتُمْ فِى شَىْءٍۢ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌۭ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।

৫৯. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনরা! তোমরা আদেশ-নিষেধ মান্য করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের উপরস্থ বা দায়িত্বশীলদেরও আনুগত্য করো। যতক্ষণ না তারা কোন পাপের আদেশ করে। অতঃপর কোন ব্যাপারে তোমরা পরস্পর মতভেদ করলে সে ক্ষেত্রে তোমরা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাতের দিকে ফিরে যাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান এনে থাকো। কিতাব ও সুন্নাতের দিকে এ প্রত্যাবর্তন অনেক উত্তম মতপার্থক্য ও নিজেদের মতের ভিত্তিতে কথা বলায় অটল থাকার চাইতে। যা তোমাদের পরিণতির দিক থেকেও সুন্দর ও চমৎকার।

60

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ ءَامَنُوا۟ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوٓا۟ إِلَى ٱلطَّٰغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوٓا۟ أَن يَكْفُرُوا۟ بِهِۦ وَيُرِيدُ ٱلشَّيْطَٰنُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَٰلًۢا بَعِيدًۭا

আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।

৬০. হে রাসূল! আপনি কি ইহুদিদের মধ্যকার মুনাফিকদের বৈপরীত্য দেখতে পাননি যারা মিথ্যাভাবে দাবি করে যে, তারা আপনার উপর নাযিলকৃত এবং আপনার পূর্বের রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছে। তারা নিজেদের দ্ব›দ্বপূর্ণ বিষয়াদিতে আল্লাহর শরীয়ত বাদ দিয়ে মানব রচিত বিধানের ফায়সালা নিতে চায়। অথচ তাদেরকে আদেশ করা হয়েছে তা অস্বীকার করতে। বস্তুতঃ শয়তান চায় সত্য থেকে অনেক অনেক দূরে সরিয়ে দিতে। যাতে তারা হিদায়েত না পায়।

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.