إِن تَجْتَنِبُوا۟ كَبَآئِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّـَٔاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًۭا كَرِيمًۭا
যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
২৯-৩১ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা তার ঈমানদার বান্দাদেরকে একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করতে নিষেধ করছেন। সে উপার্জনের দ্বারাই হোক যা শরীয়তে হারাম, যেমন-সুদ খাওয়া, জুয়া খেলা বা এরকমই প্রত্যেক প্রকারের কৌশলের দ্বারাই হোক, যদিও এটাকে শরীয়তে বৈধ রাখা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার আল্লাহ তাআলা খুব ভালই জানেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হচ্ছে, একটি লোক কাপড় ক্রয় করছে এবং বলছে, আমার যদি পছন্দ হয় তবে রেখে দেব, নচেৎ কাপড় এবং একটি দিরহাম ফিরিয়ে দেব'। এর হুকুম কি? হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) আয়াতটি পাঠ করেন। অর্থাৎ তাকে অন্যায়ভাবে মাল ভক্ষণকারীর অন্তর্ভুক্ত করেন। হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি ‘মুহাকাম’ অর্থাৎ রহিত নয়। এটা কিয়ামত পর্যন্ত রহিত হতে পারে না। হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেই বর্ণিত আছে যে, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন মুসলমানগণ একে অপরের মাল ভক্ষণ করা পরিত্যাগ করেন। যার ফলে (আরবী) (৪৮:১৭) আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। তিজারাতান শব্দটিকে তিজারাতুনও পড়া হয়েছে। এটি (আরবী) যেমন বলা হচ্ছে-‘অবৈধতাযুক্ত কারণসমূহ দ্বারা মাল জমা করো না। কিন্তু শরীয়তের পন্থায় ব্যবসা দ্বারা লাভ করা বৈধ, যা ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্মতিক্রমে হয়ে থাকে। যেমন অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-‘কোন নিস্পাপ প্রাণকে মেরো না। তবে হকের সঙ্গে হলে জায়েয আছে। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছে-‘তথায় তারা প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে না।হযরত ইমাম শাফিঈ (রঃ) এ আয়াত হতে দলীল গ্রহণ করে বলেন, সম্মতি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হয় না। কেননা, এটাই হচ্ছে সম্মতির পূর্ণ সনদ। শুধুমাত্র আদান-প্রদান কখনও সম্মতির উপর দলীল হতে পারে না।' জমহুর এর বিপরীত মতপোষণ করেন। অন্যান্য তিনজন ইমামের উক্তি এই যে, মৌখিক কথা বার্তা যেমন সম্মতির প্রমাণ, দ্রুপ আদান-প্রদানও সম্মতির দলীল। কোন কোন মনীষী বলেন যে, কম মূল্যবান সাধারণ জিনিসে শুধু লেন-দেনই যথেষ্ট এবং এরকমই ব্যবসার সে নিয়ম থাকে। সহীহ মাযহাবে তো সতর্কতামূলক দৃষ্টিতে কথা বার্তায় স্বীকৃতি থাকা অন্য কথা। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন।হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, ক্রয়-বিক্রয় হোক বা দান হোক, সব কিছুর মধ্যেই এ হুকুম রয়েছে। তাফসীর-ই-ইবনে জারীর (রঃ)-এর একটি মার’ হাদীসে রয়েছেঃ ব্যবসা হচ্ছে সম্মতি এবং ব্যবসার পরেই ইখতিয়ার রয়েছে। কোন মুসলমানের অন্য মুসলমানকে প্রতারিত করা বৈধ নয়।' এ হাদীসটি ‘মুরসাল'। মজলিসের শেষ পর্যন্তও পূর্ণ সম্মতির অধিকার রয়েছে।সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ ‘বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েরই পৃথক না হওয়া পর্যন্ত ইখতিয়ার রয়েছে। এ হাদীস অনুসারেই ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম শাফিঈ (রঃ) এবং তার সহচরদের ফতওয়া রয়েছে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমহুরেরও ফতওয়া এর উপরে ভিত্তি করেই। এ পূর্ণ সম্মতির মধ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের তিন দিন পরে ইখতিয়ার দেয়াও জড়িত রয়েছে যদিও সে ইখতিয়ার পূর্ণ এক বছরের জন্যেও হয়, যেমন গ্রামবাসী প্রভৃতি লোকদের মধ্যে রয়েছে। ইমাম মালিক (রঃ)-এর প্রসিদ্ধ মাযহাব এটাই, যদিও তাঁর মতে শুধুমাত্র আদান-প্রদান দ্বারাই ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হয়ে থাকে। শাফিঈ মাযহাবেরও একটা উক্তি এটাই এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, মানুষ ব্যবসায়ের জন্যে যে অল্প মূল্যের সাধারণ জিনিস রেখে থাকে তাতে শুধুমাত্র আদান-প্রদানই যথেষ্ট হবে। আসহাবের কারও কারও ইখতিয়ার এটাই, যেমন মুত্তাফাকুন আলাইহি।এরপর বলা হচ্ছে-‘আল্লাহ তা'আলার হারাম কাজগুলো করে অবাধ্য হয়ে, আর অন্যায়ভাবে একে অপরের মাল ভক্ষণ করে তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করো না। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর অত্যন্ত দয়ালু। তাঁর প্রত্যেক আদেশ ও নিষেধ দয়ায় পরিপূর্ণ।মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আমর ইবনে আল আস (রাঃ)-কে ‘যাতুস্সালাসিলের’ যুদ্ধের বছরে প্রেরণ করেছিলেন। …