Muslim99Muslim99
← Tafsir library

4. An-Nisaa

The Women · Medinan · 176 ayahs

سُورَةُ النِّسَاءِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 101–110 of 176

101

وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِى ٱلْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا۟ مِنَ ٱلصَّلَوٰةِ إِنْ خِفْتُمْ أَن يَفْتِنَكُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ ۚ إِنَّ ٱلْكَٰفِرِينَ كَانُوا۟ لَكُمْ عَدُوًّۭا مُّبِينًۭا

যখন তোমরা কোন দেশ সফর কর, তখন নামাযে কিছুটা হ্রাস করলে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

১০১. তোমরা জমিনে সফর করলে চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতকে কমিয়ে দু’ রাকাত পড়াতে কোন পাপ নেই। যদি তোমরা কাফিরদের পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কোন কিছু তোমাদের ব্যাপারে ঘটে যাওয়ার ভয় পাও। বস্তুতঃ তোমাদের সাথে কাফিরদের শত্রæতা প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট।

An-Nisaa 4:101Listen in Qur'an →
102

وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَلْتَقُمْ طَآئِفَةٌۭ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوٓا۟ أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا۟ فَلْيَكُونُوا۟ مِن وَرَآئِكُمْ وَلْتَأْتِ طَآئِفَةٌ أُخْرَىٰ لَمْ يُصَلُّوا۟ فَلْيُصَلُّوا۟ مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا۟ حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ۗ وَدَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةًۭ وَٰحِدَةًۭ ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًۭى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَىٰٓ أَن تَضَعُوٓا۟ أَسْلِحَتَكُمْ ۖ وَخُذُوا۟ حِذْرَكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَٰفِرِينَ عَذَابًۭا مُّهِينًۭا

যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন একদল দাঁড়ায় আপনার সাথে এবং তারা যেন স্বীয় অস্ত্র সাথে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করে, তখন আপনার কাছ থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসে, যারা নামায পড়েনি। অতঃপর তারা যেন আপনার সাথে নামায পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সাথে নেয়। কাফেররা চায় যে, তোমরা কোন রূপে অসতর্ক থাক, যাতে তারা একযোগে তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ হও তবে স্বীয় অস্ত্র পরিত্যাগ করায় তোমাদের কোন গোনাহ নেই এবং সাথে নিয়ে নাও তোমাদের আত্নরক্ষার অস্ত্র। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের জন্যে অপমানকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।

১০২. হে রাসূল! আপনি শত্রæর সাথে যুদ্ধের সময় সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে সেনাবাহিনীকে দু’ ভাগে ভাগ করুন। তাদের একদল অস্ত্র নিয়েই আপনার সাথে নামায পড়বে। আর অন্য দলটি আপনাদের পাহারায় থাকবে। এবার প্রথম দলটি ইমামের সাথে এক রাকাত পড়ার পর তারা যেন নিজেরাই নিজেদের সালাতটুকু পুরো করে নেয়। আর তাদের সালাত শেষে তারা যেন আপনাদের পেছনে শত্রæমুখী হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে সালাত আদায় না করা পাহারাদার দলটি যেন ইমামের সাথে এক রাকাত আদায় করে। যখন ইমাম সালাম ফিরাবে তখন তারা নিজেদের বাকি সালাতটুকু পুরো করে নিবে। তারা যেন শত্রæদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং নিজেদের অস্ত্রগুলো ধারণ করে। কারণ, কাফিররা আশা করে, তোমরা সালাতরত অবস্থায় নিজেদের অস্ত্র ও সামান থেকে গাফিল হলে তারা এক যোগে আক্রমণ করে তোমাদেরকে গাফিল অবস্থায় পাকড়াও করবে। বস্তুতঃ বৃষ্টি, কষ্ট অথবা অসুস্থতার কারণে অস্ত্র বহন না করে তা জমিনে রেখে দিলে তোমাদের কোন গুনাহ হবে না। উপরন্তু তোমরা শত্রæর ব্যাপারে সাধ্যমত সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন।

An-Nisaa 4:102Listen in Qur'an →
103

فَإِذَا قَضَيْتُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ قِيَٰمًۭا وَقُعُودًۭا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ ۚ فَإِذَا ٱطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ ۚ إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتْ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ كِتَٰبًۭا مَّوْقُوتًۭا

অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।

১০৩. হে মু’মিনগণ! তোমরা সালাত শেষে দাঁড়ানো, বসা ও কাত হয়ে শোয়া তথা সর্বাবস্থায় তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) ও তাহলীল তথা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করবে। তোমাদের ভয় কেটে গেলে আর তোমরা নিরাপদ হলে তোমরা পুরোপুরিভাবে নির্দেশিত রুকন, ওয়াজিব ও মুস্তাহাবসহ সালাত আদায় করবে। নিশ্চয়ই সালাত মু’মিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরয করা হয়েছে। ওযর ছাড়া সালাতে দেরি করা জায়িয নয়। এটি হলো নিজ এলাকায় থাকাবস্থায়। তবে সফরের সময় দু’টি সালাত একত্রে ও অর্ধেক করে পড়া যাবে।

An-Nisaa 4:103Listen in Qur'an →
104

وَلَا تَهِنُوا۟ فِى ٱبْتِغَآءِ ٱلْقَوْمِ ۖ إِن تَكُونُوا۟ تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ ۖ وَتَرْجُونَ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا يَرْجُونَ ۗ وَكَانَ ٱللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا

তাদের পশ্চাদ্ধাবনে শৈথিল্য করো না। যদি তোমরা আঘাত প্রাপ্ত, তবে তারাও তো তোমাদের মতই হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত এবং তোমরা আল্লাহর কাছে আশা কর, যা তারা আশা করে না। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

১০৪. হে মু’মিনগণ! তোমরা নিজেদের শত্রæ কাফিরদের অনুসন্ধানে দুর্বল ও অলস হয়ো না। আহত-নিহত হওয়ার দরুন ব্যথিত হলে তারাও তো তোমাদের মতো ব্যথিত হয়েছে। তাদের ব্যাপারেও তা ঘটেছে যা তোমাদের ব্যাপারে ঘটেছে। তাই তাদের ধৈর্য যেন তোমাদের চেয়ে বেশি না হয়। কারণ, তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সাওয়াব, সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছো তারা তো তা কামনা করে না। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সকল অবস্থাই জানেন। তিনি তাঁর শরীয়ত ও পরিচালনায় প্রজ্ঞাময়।

An-Nisaa 4:104Listen in Qur'an →
105

إِنَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ ٱلنَّاسِ بِمَآ أَرَىٰكَ ٱللَّهُ ۚ وَلَا تَكُن لِّلْخَآئِنِينَ خَصِيمًۭا

নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না।

১০৫. হে রাসূল! আমি আপনার উপর সত্য সহ কুর‘আন নাযিল করেছি। যেন আপনি আল্লাহর দেয়া জ্ঞান ও ইলহাম অনুযায়ী মানুষকে সকল বিষয় বিস্তারিত বুঝিয়ে দিতে পারেন। তবে সেখানে ব্যক্তি ইচ্ছার প্রতিফলন যেন না ঘটে। আর আপনি নিজের ও আমানত খিয়ানতকারীদের পক্ষে তাদের কাছ থেকে অধিকার তলবকারীকে প্রতিহত করবেন না।

An-Nisaa 4:105Listen in Qur'an →
106

وَٱسْتَغْفِرِ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا

এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

১০৬. আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মার্জনা কামনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাওবাকারী বান্দার প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

An-Nisaa 4:106Listen in Qur'an →
107

وَلَا تُجَٰدِلْ عَنِ ٱلَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًۭا

যারা মনে বিশ্বাস ঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক করবেন না। আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাস ঘাতক পাপী হয়।

১০৭. আপনি খিয়ানতকারীর সাথে ঝগড়া করবেন না যে খিয়ানত লুকিয়ে রাখার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা এ জাতীয় মিথ্যুক আত্মসাৎকারীদেরকে ভালোবাসেন না।

An-Nisaa 4:107Listen in Qur'an →
108

يَسْتَخْفُونَ مِنَ ٱلنَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ ٱللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَىٰ مِنَ ٱلْقَوْلِ ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا

তারা মানুষের কাছে লজ্জিত হয় এবং আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয় না। তিনি তাদের সাথে রয়েছেন, যখন তারা রাত্রে এমন বিষয়ে পরামর্শ করে, যাতে আল্লাহ সম্মত নন। তারা যাকিছু করে, সবই আল্লাহর আয়ত্তাধীণ।

১০৮. তারা ভয়ে ও লজ্জায় কোন পাপে লিপ্ত হওয়ার সময় মানুষের দৃষ্টি থেকে লুকিয়ে থাকে। তবে তারা আল্লাহ থেকে কখনোই লুকোতে পারবে না। তিনি তাদের সাথেই রয়েছেন তাদেরকে বেষ্টন করে। তারা যখন আল্লাহর অপছন্দনীয় কথা যেমন: নির্দোষকে দোষীর অপবাদ দিয়ে দোষীর পক্ষপাতিত্ব করার গোপন পরিকল্পনা করে তখন তাদের কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যা কিছু করে তা সবই বেষ্টন করে আছেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়। তাই তিনি অচিরেই তাদেরকে তাদের সকল আমলের প্রতিদান দিবেন।

An-Nisaa 4:108Listen in Qur'an →
109

هَٰٓأَنتُمْ هَٰٓؤُلَآءِ جَٰدَلْتُمْ عَنْهُمْ فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فَمَن يُجَٰدِلُ ٱللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ أَم مَّن يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًۭا

শুনছ? তোমরা তাদের পক্ষ থেকে পার্থিব জীবনে বিবাদ করছ, অতঃপর কেয়ামতের দিনে তাদের পক্ষ হয়ে আল্লাহর সাথে কে বিবাদ করবে অথবা কে তাদের কার্যনির্বাহী হবে।

১০৯. হে অপরাধীদের কর্মকাÐকে গুরুত্বদাতারা! তোমরা তো দুনিয়ার জীবনে তাদের পবিত্রতা প্রমাণ ও তাদের থেকে শাস্তি প্রতিহত করার জন্য তাদের পক্ষ হয়ে ঝগড়া করেছো। তোমাদের কে আছে এমন যে তাদের পক্ষাবলম্বন করে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে ঝগড়া করবে। অথচ সে তাদের মূল অবস্থাটি নিশ্চিতভাবে জানে?! কে সে দিন তাদের দায়িত্বশীল হবে? নিশ্চয়ই কেউ তা পারবে না।

An-Nisaa 4:109Listen in Qur'an →
110

وَمَن يَعْمَلْ سُوٓءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُۥ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ ٱللَّهَ يَجِدِ ٱللَّهَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا

যে গোনাহ, করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।

১১০. কোন পাপী নিজের উপর যুলুম করে অতঃপর পাপ বর্জন করতঃ নিজের দোষ নিজেই স্বীকার করে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে সে সর্বদা আল্লাহকে তার গুনাহের ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসেবেই পাবে।

An-Nisaa 4:110Listen in Qur'an →

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.