Muslim99Muslim99
← Tafsir library

2. Al-Baqara

The Cow · Medinan · 286 ayahs

سُورَةُ البَقَرَةِ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 91–100 of 286

91

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ ءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُوا۟ نُؤْمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَآءَهُۥ وَهُوَ ٱلْحَقُّ مُصَدِّقًۭا لِّمَا مَعَهُمْ ۗ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنۢبِيَآءَ ٱللَّهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবর্তীণ হয়েছে। সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে। অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তাদের কাছে রয়েছে। বলে দিন, তবে তোমরা ইতিপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে?

যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে বিশ্বাস কর, তারা বলে আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে আমরা তাতে বিশ্বাস করি [১] আর তা ছাড়া সব কিছুই তারা অবিশ্বাস করে; যদিও তা সত্য এবং যা তাদের নিকট আছে তার সমর্থক। বল, যদি তোমরা বিশ্বাসী হতে তবে কেন তোমরা অতীতে নবীগণকে হত্যা করেছিলে? [২]

[১] অর্থাৎ, তাওরাতের উপর আমরা ঈমান রাখি, কাজেই আর কুরআনের উপর ঈমান আনার আমাদের কোনই প্রয়োজন নেই।

[২] অর্থাৎ, তাওরাতের উপর তোমাদের ঈমান রাখার দাবীও সঠিক নয়। যদি তাওরাতের উপর তোমাদের ঈমান থাকত, তাহলে তোমরা আম্বিয়াদেরকে হত্যা করতে না। এ থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এখনো তোমাদের অস্বীকার কেবল হিংসা ও শত্রুতার কারণে।

Al-Baqara 2:91Listen in Qur'an →
92

۞ وَلَقَدْ جَآءَكُم مُّوسَىٰ بِٱلْبَيِّنَٰتِ ثُمَّ ٱتَّخَذْتُمُ ٱلْعِجْلَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَنتُمْ ظَٰلِمُونَ

সুস্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছেন। এরপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ। বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী।

(হে বনী ইস্রাঈলগণ!) নিশ্চয় মূসা তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছিল, (কিন্তু তা সত্ত্বেও তার অনুপস্থিতিতে) তোমরা সীমালংঘনকারী হয়ে গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিলে। [১]

[১] এটা তাদের অস্বীকৃতি ও শত্রুতার আরো একটি দলীল। মূসা (আঃ) সুস্পষ্ট নির্দশনসমূহ এবং অকাট্য প্রমাণাদি কেবল এই কথা সাব্যস্ত করার জন্য এনেছিলেন যে, তিনি আল্লাহর প্রেরিত রসূল এবং উপাস্য একমাত্র মহান আল্লাহ। কিন্তু তা সত্ত্বেও তোমরা মূসা (আঃ)-এর সাথে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করলে এবং এক আল্লাহকে বাদ দিয়ে গোবৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিলে।

Al-Baqara 2:92Listen in Qur'an →
93

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَٰقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُوا۟ مَآ ءَاتَيْنَٰكُم بِقُوَّةٍۢ وَٱسْمَعُوا۟ ۖ قَالُوا۟ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُوا۟ فِى قُلُوبِهِمُ ٱلْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ ۚ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُم بِهِۦٓ إِيمَٰنُكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন। তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি। কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিল। বলে দিন, তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয়।

আরো স্মরণ কর (সেই সময়ের কথা) যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম, এবং ত্বূর (পাহাড়)কে তোমাদের ঊর্ধে স্থাপন করেছিলাম (ও বলেছিলাম,) ‘যা দিলাম তা দৃঢ়রূপে গ্রহণ কর এবং শ্রবণ কর।’ তারা বলেছিল, ‘আমরা শ্রবণ করলাম ও অমান্য করলাম।’[১] তাদের কুফরী (অবিশ্বাস)[২] হেতু তাদের হৃদয়কে (যেন) গো-বৎস-প্রীতি পান করানো হয়েছিল।[৩] বল, ‘যদি তোমরা মুমিন (বিশ্বাসী) হও, তবে তোমাদের ঈমান (বিশ্বাস) যার নির্দেশ দেয় তা কত নিকৃষ্ট!’\r\n

[১] এ হল শেষ পর্যায়ের কুফরী ও অস্বীকার যে, মৌখিকভাবে তো তারা মেনে নিল, 'আমরা শ্রবণ করলাম' অর্থাৎ, আনুগত্য করব, কিন্তু অন্তরে এই নিয়ত লুক্কায়িত যে, আমাদেরকে কোন্ কাজ করতে হবে?

[২] অর্থাৎ, অবাধ্যতা এবং বাছুরের ভালবাসা ও পূজার কারণে তা কুফরী ছিল, যা তাদের হৃদয়ে স্থান লাভ করে নিয়েছিল।

[৩] একে তো প্রীতি-ভক্তি এমন এক জিনিস, যা মানুষকে অন্ধ ও বধির বানিয়ে দেয়। তাতে আবার সে প্রীতি (রস) তাদের হৃদয়কে {أُشْرِبُوْا} 'পান করানো হয়েছিল' বলে অভিব্যক্ত করা হয়েছে। কেননা, পানি মানুষের শিরা-উপশিরায় যেভাবে দ্রুত চলাচল করে আহারাদি সেভাবে করে না। (ফাতহুল ক্বাদীর) (এ থেকে তাদের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়।)

Al-Baqara 2:93Listen in Qur'an →
94

قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ ٱلدَّارُ ٱلْءَاخِرَةُ عِندَ ٱللَّهِ خَالِصَةًۭ مِّن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُا۟ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে-অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক।

বল, ‘যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্য লোক ব্যতীত বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যই হয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর; যদি (দাবীতে) সত্যবাদী হও।’

Al-Baqara 2:94Listen in Qur'an →
95

وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًۢا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ

কস্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।

কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য কখনো তা (মৃত্যু) কামনা করবে না। [১] আর আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের সম্বন্ধে অবহিত।

[১] ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর তফসীর করেছেনঃ 'মুবাহালা'র প্রতি আহবান। অর্থাৎ, ইয়াহুদীদেরকে বলা হল, যদি তোমরা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবুঅতের অস্বীকৃতিতে এবং আল্লাহর সাথে ভালবাসার দাবীতে সত্যবাদী হও, তাহলে 'মুবাহালা' কর। অর্থাৎ, মুসলিম ও ইয়াহুদী উভয়ে মিলে আল্লাহর সমীপে এই দরখাস্ত পেশ কর যে, হে আল্লাহ! উভয়ের মধ্যে যে মিথ্যুক, তাকে মৃত্যু দান কর। সূরা জুমুআহ ৬২:৭ নং আয়াতেও এই আহবান তাদেরকে করা হয়েছে। নাজরানের খ্রিষ্টানদেরকেও 'মুবাহালা'র দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। যেমন, সূরা আলে-ইমরানে তা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু খ্রিষ্টানদের মত ইয়াহুদীরাও যেহেতু তাদের দাবীতে মিথ্যাবাদী ছিল, সেহেতু খ্রিষ্টানদের মতই ইয়াহুদীদের ব্যাপারেও মহান আল্লাহ বললেন, 'এরা কখনো মৃত্যু কামনা (মুবাহালা) করবে না।' হাফেয ইবনে কাসীর এই ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। (তাফসীর ইবনে কাসীর)

Al-Baqara 2:95Listen in Qur'an →
96

وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ ٱلنَّاسِ عَلَىٰ حَيَوٰةٍۢ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوا۟ ۚ يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍۢ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِۦ مِنَ ٱلْعَذَابِ أَن يُعَمَّرَ ۗ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِمَا يَعْمَلُونَ

আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে।

তুমি নিশ্চয় তাদেরকে জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষ এমন কি অংশীবাদী অপেক্ষা অধিকতর লোভী দেখতে পাবে। [১] তাদের প্রত্যেকে কামনা করে যে, সে যেন হাজার বছর আয়ু প্রাপ্ত হয়; কিন্তু দীর্ঘায়ু তাকে শাস্তি হতে দূরে রাখতে পারবে না। আর তারা যা করে, আল্লাহ তার সম্যক পরিদর্শক।

[১] মৃত্যু কামনা তো দূরের কথা; পার্থিব জীবনের প্রতি এদের লোভ ও আকর্ষণ তো সকল মানুষ এমনকি মুশরিকদের চেয়েও বেশী। কিন্তু সুদীর্ঘ জীবন তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচাতে পারবে না। এই আয়াতগুলো থেকে জানা গেল যে, ইয়াহুদীরা তাদের এই দাবীতে মিথ্যাবাদী ছিল যে, তারাই আল্লাহর প্রিয়, জান্নাতের অধিকারী কেবল তারাই, অন্যরা হবে জাহান্নামী। কারণ, প্রকৃতপক্ষে যদি তাই হত অথবা কমসে কম তাদের দাবীর সত্যতার উপর তারা যদি পূর্ণ আস্থাবান হত, তাহলে তারা অবশ্যই 'মুবাহালা' করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেত। যাতে তাদের সত্যবাদিতা এবং মুসলিমদের মিথ্যাবাদিতা প্রকাশ পেয়ে যেত। 'মুবাহালা'র পূর্বে ইয়াহুদীদের অমান্য করা ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করে যে, তারা মৌখিকভাবে নিজেদের সম্পর্কে আনন্দদায়ক কথা বলে নিলেও তাদের অন্তর প্রকৃতত্বের ব্যাপারে অবহিত ছিল। তারা জানত যে, আল্লাহর নিকটে যাওয়ার পর তাদের পরিণাম তা-ই হবে, যা আল্লাহ অবাধ্যজনদের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন।

Al-Baqara 2:96Listen in Qur'an →
97

قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّۭا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ مُصَدِّقًۭا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًۭى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ

আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয়-যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।

(হে নবী!) বল, যে জিবরীলের শত্রু হবে সে জেনে রাখুক, সে (জিবরীল) তো আল্লাহর নির্দেশক্রমে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌঁছে দেয়, যা তার পূর্ববর্তী কিতাব (ধর্মগ্রন্থ)সমূহের সমর্থক এবং বিশ্বাসীদের জন্য যা পথ প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।[১]

[১] হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, কিছু ইয়াহুদী আলেম নবী করীম (সাঃ)-এর নিকটে এসে বলল, 'আপনি যদি আমাদের (প্রশ্নের) সঠিক উত্তর দেন, তাহলে আমরা ঈমান আনব। কারণ, নবী ছাড়া তার উত্তর কেউ দিতে পারবে না।' তিনি যখন তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে দিলেন, তখন তারা বলল, 'আপনার নিকট অহী কে আনে?' তিনি বললেন, 'জিবরাীল।' শুনে তারা বলল, 'জিবরাীল তো আমাদের শত্রু। সে-ই তো যুদ্ধ, হত্যা এবং আযাব নিয়ে অবতরণ করে।' আর এই বাহানায় তারা রসূল (সাঃ)-এর নবুঅতকে মেনে নিতে অস্বীকার করে বসল। (ফাতহুল ক্বাদীর)

Al-Baqara 2:97Listen in Qur'an →
98

مَن كَانَ عَدُوًّۭا لِّلَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَىٰلَ فَإِنَّ ٱللَّهَ عَدُوٌّۭ لِّلْكَٰفِرِينَ

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু।

যে আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতা (দূত)গণের, রসূল (প্রেরিত পুরুষ)গণের, জিবরাীল ও মীকাঈলের শত্রু হবে, সে জেনে রাখুক যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের শত্রু।[১]

[১] ইয়াহুদীরা বলত যে, মীকাঈল আমাদের বন্ধু। মহান আল্লাহ বললেন, এরা সবাই আমার অতীব প্রিয় বান্দা। যে এদের সাথে বা এদের কোন একজনের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে, সে হবে আল্লাহর শত্রু। হাদীসে বর্ণিত যে, (مَنْ عَادَ لِيْ وَلِيًّا فَقَدْ بَارَزَنِيْ بِالْحَرْبِ) "যে আমার কোন বন্ধুর সাথে শত্রুতা পোষণ করল, সে আসলে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল।" (সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ আররিক্বাক, পরিচ্ছেদঃ আত্তাওয়াযু') অর্থাৎ, আল্লাহর কোন একজন অলীর সাথে দুশমনী রাখলে, তাঁর সকল অলীদের সাথে দুশমনী রাখা হবে; এমনকি তাঁর (আল্লাহর) সাথেও দুশমনী বিবেচিত হবে। এ থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আল্লাহর অলীদের সাথে ভালবাসা পোষণ করা ও তাঁদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা রাখা এত জরুরী এবং তাঁদের সাথে শক্রতা পোষণ করা এত বড় অন্যায় যে, মহান আল্লাহ তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আল্লাহর ওলী কে? এর জন্য দ্রষ্টব্য সূরা ইউনুসের ১০:৬২-৬৩ নং আয়াত। তবে ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করার অর্থ এটা কখনও নয় যে, মৃত্যুর পর তাঁদের কবরে গম্বুজ নির্মাণ করা হবে, বাৎসরিক উরসের নামে তাঁদের কবরে মেলার আয়োজন করা হবে, তাঁদের নামে নযর-মানত করা হবে, তাঁদের কবরকে গোসল দেওয়া হবে, তাঁদের কবরের উপর চাদর চড়ানো হবে, তাঁদেরকে প্রয়োজন পূরণকারী, বিপত্তারণ, ইষ্টানিষ্টের মালিক মনে করা হবে এবং তাঁদের কবরের সামনে হাত বেঁধে দাঁড়ানো ও চৌকাঠে সিজদা করা হবে ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যবশতঃ আল্লাহর অলীদের ভালবাসার নামে লাত ও মানাত পূজার এই কার্যকলাপ বড়ই জাঁকজমকের সাথে চলছে। অথচ এটা ভালবাসা নয়, বরং এটা তাঁদের ইবাদত; যা শিরক ও বড় যুলুম। আল্লাহ তাআলা কবর-পূজার ফিতনা থেকে আমাদেরকে হেফাযত করুন! আমীন।

Al-Baqara 2:98Listen in Qur'an →
99

وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍۢ ۖ وَمَا يَكْفُرُ بِهَآ إِلَّا ٱلْفَٰسِقُونَ

আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না।

আমরা তোমার প্রতি সুস্পষ্ট নিদর্শন অবতীর্ণ করেছি, বস্তুতঃ সত্যত্যাগিগণ ব্যতীত আর কেউই এগুলি অমান্য করে না।

Al-Baqara 2:99Listen in Qur'an →
100

أَوَكُلَّمَا عَٰهَدُوا۟ عَهْدًۭا نَّبَذَهُۥ فَرِيقٌۭ مِّنْهُم ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ

কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে, বরং অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।

তবে কি যখনই তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে, তখনই তাদের কোন একদল সে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে? বরং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।

Al-Baqara 2:100Listen in Qur'an →

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.