Muslim99Muslim99
← Tafsir library

2. Al-Baqara

The Cow · Medinan · 286 ayahs

سُورَةُ البَقَرَةِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 281–286 of 286

281

وَٱتَّقُوا۟ يَوْمًۭا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى ٱللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍۢ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।

২৮১. তোমরা সেদিনের শাস্তির কথা ভয় করো যেদিন তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে আর তোমরা তাঁর সামনে দাঁড়াবে অতঃপর তোমাদের প্রত্যেককে তার অর্জিত ভালো ও খারাপের প্রতিদান দেয়া হবে। সে দিন কারো নেক কাজের সাওয়াব কমিয়ে তার উপর যুলুমও করা হবে না। আবার কারো অপকর্মের শাস্তিও বাড়িয়ে দেয়া হবে না।

Al-Baqara 2:281Listen in Qur'an →
282

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰٓ أَجَلٍۢ مُّسَمًّۭى فَٱكْتُبُوهُ ۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌۢ بِٱلْعَدْلِ ۚ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ ٱللَّهُ ۚ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْـًۭٔا ۚ فَإِن كَانَ ٱلَّذِى عَلَيْهِ ٱلْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُۥ بِٱلْعَدْلِ ۚ وَٱسْتَشْهِدُوا۟ شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ ۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌۭ وَٱمْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ ٱلشُّهَدَآءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَىٰهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَىٰهُمَا ٱلْأُخْرَىٰ ۚ وَلَا يَأْبَ ٱلشُّهَدَآءُ إِذَا مَا دُعُوا۟ ۚ وَلَا تَسْـَٔمُوٓا۟ أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰٓ أَجَلِهِۦ ۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ ٱللَّهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَٰدَةِ وَأَدْنَىٰٓ أَلَّا تَرْتَابُوٓا۟ ۖ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً حَاضِرَةًۭ تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا ۗ وَأَشْهِدُوٓا۟ إِذَا تَبَايَعْتُمْ ۚ وَلَا يُضَآرَّ كَاتِبٌۭ وَلَا شَهِيدٌۭ ۚ وَإِن تَفْعَلُوا۟ فَإِنَّهُۥ فُسُوقٌۢ بِكُمْ ۗ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۖ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱللَّهُ ۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌۭ

হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত। কিন্তু যদি কারবার নগদ হয়, পরস্পর হাতে হাতে আদান-প্রদান কর, তবে তা না লিখলে তোমাদের প্রতি কোন অভিযোগ নেই। তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাক্ষী রাখ। কোন লেখক ও সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করো না। যদি তোমরা এরূপ কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে পাপের বিষয়। আল্লাহকে ভয় কর তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন।

২৮২. হে আল্লাহতে বিশ্বাসী ও তাঁর রাসূলের অনুসারী মু’মিনগণ! যখন তোমরা ঋণের লেনদেন করবে তথা একজন অন্যজনকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ দিবে তখন সে ঋণের চুক্তিটি লিখে রাখো। তোমাদের মধ্যকার লেখক ব্যক্তি যেন শরীয়তসম্মতভাবে সত্য ও ইনসাফের কথাই লেখে। কোন লেখক যেন আল্লাহর শেখানো নিয়মে ইনসাফ ভিত্তিক ঋণের ব্যাপারটি লিখতে অস্বীকার না করে। সে যেন ঋণগ্রহীতা বা ঋণের বোঝা যার উপর অর্পিত হতে যাচ্ছে তার বক্তব্য মোতাবিক লেখে। যা মূলতঃ তার পক্ষ থেকে স্বীকারোক্তি স্বরূপ। উপরন্তু লেখক যেন নিজ প্রভু আল্লাহকে ভয় করে এবং ঋণের পরিমাণ, ধরন ও আদায়ের পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কোন প্রকারের ঘাটতি না করে। তবে ঋণগ্রহীতা যদি আর্থিক লেনদেন ভালোভাবে না জানে অথবা ছোট কিংবা পাগল হওয়ার দরুন তার মাঝে কোন ধরনের দুর্বলতা থাকে অথবা বোবা হওয়ার দরুন লিখাতে না পারে তাহলে তার অভিভাবক সত্য ও ইনসাফের ভিত্তিতে তার পক্ষ থেকে লেখানোর দায়িত্ব গ্রহণ করবে। আর তোমরা লেখার সময় ন্যায়পরায়ণ দু’ জন জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করবে। যদি দু’ জন পুরুষ না পাওয়া যায় তাহলে যাদের ধার্মিকতা ও আমানতদারিতার উপর তোমরা সন্তুষ্ট এমন একজন পুরুষ ও দু’ জন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ করবে। যাতে দু’ জন মহিলার কোন একজন যদি সাক্ষ্যের বিষয়টি অথবা তার কিয়দংশ ভুলে যায় তাহলে তার সহযোগী দ্বিতীয়জন তাকে সে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। সাক্ষীরা যেন তাদের কাছ থেকে ঋণের ব্যাপারে সাক্ষ্য চাওয়া হলে তা দিতে অস্বীকার না করে। বরং তাদেরকে সে জন্য ডাকা হলে তা দেয়া তাদের উপর বাধ্যতামূলক। এদিকে নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণ কম হোক বা বেশি হোক তা লিখে নিতে যেন তোমাদের অলসতা না লাগে। কারণ, ঋণের ব্যাপারটি লিখে রাখা আল্লাহর শরীয়তে একটি বড় ন্যায়নীতির কাজ। তেমনিভাবে তা সাক্ষ্য দেয়া ও তা প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারেও অতি সহায়ক। এমনকি তা ঋণের ধরন, পরিমাণ ও সময়ের ব্যাপারে নিঃসন্দেহ থাকার মাধ্যম। তবে তোমাদের মধ্যকার কোন চুক্তি যদি নগদ মূল্য ও উপস্থিত পণ্যের ব্যবসার ব্যাপারে হয়ে থাকে তাহলে তা না লিখলেও কোন অসুবিধে নেই। যেহেতু এখানে তার তেমন কোন প্রয়োজন নেই। তবে দ্ব›দ্ব থেকে দূরে থাকার জন্য সে ব্যাপারেও সাক্ষী বানিয়ে রাখা যুক্তিযুক্ত। কখনো সাক্ষী ও লেখকদেরকে কষ্ট দেয়া জায়িয হবে না। তেমনিভাবে তাদের জন্যও জায়িয হবে না ওদেরকে কষ্ট দেয়া যারা তাদেরকে দিয়ে লিখাতে চায় এবং তাদের সাক্ষ্য কামনা করে। তারপরও যদি তোমরা কারো ক্ষতি করো তাহলে তা হবে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বের হয়ে তাঁর অবাধ্যতার দিকে চলে যাওয়া। হে মু’মিনরা! তোমরা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানার মাধ্যমে তাঁকে ভয় করো। ফলে তিনি তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাত ঠিক থাকে এমন সব কিছু তোমাদেরকে শিক্ষা দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নয়।

Al-Baqara 2:282Listen in Qur'an →
283

۞ وَإِن كُنتُمْ عَلَىٰ سَفَرٍۢ وَلَمْ تَجِدُوا۟ كَاتِبًۭا فَرِهَٰنٌۭ مَّقْبُوضَةٌۭ ۖ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًۭا فَلْيُؤَدِّ ٱلَّذِى ٱؤْتُمِنَ أَمَٰنَتَهُۥ وَلْيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ ۗ وَلَا تَكْتُمُوا۟ ٱلشَّهَٰدَةَ ۚ وَمَن يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُۥٓ ءَاثِمٌۭ قَلْبُهُۥ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌۭ

আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর! তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।

২৮৩. তোমরা যদি মুসাফির হও আর সেখানে তোমাদের ঋণ সংক্রান্ত চুক্তি লেখার জন্য কাউকে না পাও তাহলে ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করা পর্যন্ত পাওনাদারের নিকট কোন কিছু জামানত স্বরূপ বন্ধক রাখলেই চলবে। আর যদি একে অপরের উপর বিশ্বস্ত থাকে তাহলে সেখানে কোন কিছুরই দরকার নেই। না লেখার, না সাক্ষীর, না বন্ধকের। তখন শুধু ঋণটুকু ঋণগ্রহীতার জিম্মায় আমানত স্বরূপই থাকবে। যা তাকে অবশ্যই ঋণদাতার নিকট পৌঁছিয়ে দিতে হবে। উপরন্তু সে যেন এ আমানতের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তা থেকে কোন কিছু অস্বীকার না করে। আর যদি সে কোন কিছু অস্বীকার করে বসে তাহলে যে ব্যক্তি উক্ত লেনদেনের সময় উপস্থিত ছিলো তাকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতে হবে। সে যেন কখনো এ ব্যাপারে সাক্ষ্য গোপন না করে। তবে যে ব্যক্তি তা গোপন রাখবে তার অন্তর নিশ্চয়ই পাপীর অন্তর। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাÐ সবই জানেন। তাঁর নিকট কোন কিছু গোপন নয়। তাই তিনি অচিরেই তোমাদের কর্মকাÐের প্রতিদান দিবেন।

Al-Baqara 2:283Listen in Qur'an →
284

لِّلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ ۗ وَإِن تُبْدُوا۟ مَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ ٱللَّهُ ۖ فَيَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌ

যা কিছু আকাশসমূহে রয়েছে এবং যা কিছু যমীনে আছে, সব আল্লাহরই। যদি তোমরা মনের কথা প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে তার হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

২৮৪. আকাশ ও জমিনের সবকিছুর মালিকই একমাত্র আল্লাহ। তিনি তা সৃষ্টি করেছেন। তার মালিকও তিনি। পরিচালকও তিনি। তোমরা নিজেদের অন্তরে যা কিছু লুকিয়ে রাখো অথবা প্রকাশ করো তা সবই আল্লাহ জানেন। তাই অচিরেই তিনি তোমাদের কাছ থেকে এর হিসাব নিবেন। অতঃপর তিনি দয়া ও অনুগ্রহ করে যাকে চান তাকে ক্ষমা করবেন। আর যাকে চান তাকে ইনসাফ ও হিকমতের ভিত্তিতে শাস্তি দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাবান।

Al-Baqara 2:284Listen in Qur'an →
285

ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍۢ مِّن رُّسُلِهِۦ ۚ وَقَالُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ ٱلْمَصِيرُ

রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

২৮৫. রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর যা নাযিল করা হয়েছে তিনি নিজেও তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মু’মিনরাও ঈমান এনেছেন। আসলে তারা সবাই আল্লাহ, তাঁর সকল ফিরিশতা, নবীদের উপর নাযিলকৃত সকল কিতাব ও তাঁর প্রেরিত সকল রাসূলের উপর ঈমান এনেছে। তারা রাসূলদের সকলের উপর ঈমান এনেছে এই বলে যে, আমরা আল্লাহর প্রেরিত রাসূলদের মাঝে কোন পার্থক্য সৃষ্টি করবো না। তারা আরো বলে: আমরা আপনার আদেশ-নিষেধ শুনেছি এবং আপনার সকল আদেশ-নিষেধ কর্মে বাস্তবায়ন করে আপনার আনুগত্য করেছি। হে আমাদের প্রভু! আমরা আপনার ক্ষমা কামনা করছি। আমাদেরকে সকল বিষয়ে কেবলমাত্র আপনার দিকেই ফিরে যেতে হবে।

Al-Baqara 2:285Listen in Qur'an →
286

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًۭا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَآ ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।

২৮৬. আল্লাহ তা‘আলা কখনো কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজ চাপিয়ে দেন না। কারণ, আল্লাহর দ্বীন সহজ ও সরলতার উপর প্রতিষ্ঠিত। তাতে কোন কষ্ট ও কঠোরতা নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন কল্যাণের কাজ করবে তাকে তার কর্মের সাওয়াব দেয়া হবে। তাতে কোন ধরনের কমতি করা হবে না। আর যে কোন অকল্যাণকর কাজ করবে তাকে তার অর্জিত পাপের কুফল অবশ্যই ভোগ করতে হবে। কেউ তার পক্ষ থেকে কখনো তা বহন করবে না। হে ঈমানদারগণ! তোমরা এই বলে দু‘আ করো: হে আমাদের প্রভু! যদি আমরা অনিচ্ছাকৃত কোন কথা ও কাজে ভুল করে ফেলি তাহলে আপনি আমাদেরকে শাস্তি দিবেন না। হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদেরকে এমন কোন কিছু করতে বাধ্য করবেন না যা করতে আমরা অক্ষম ও আমাদের জন্য তা করা খুবই কষ্টকর। যেমন আপনি বাধ্য করেছেন আমাদের পূর্ববর্তী ইহুদিদেরকে। যা ছিলো মূলতঃ তাদের যুলুমের শাস্তি। আর আপনি আমাদের উপর এমন কোন আদেশ ও নিষেধ চাপিয়ে দিবেন না যা পালন করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর অথবা আমরা তা করতে পারবো না। আর আপনি আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন এবং নিজ অনুগ্রহে আপনি আমাদেরকে দয়া করুন। আপনিই তো আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। তাই আপনি আমাদেরকে কাফির সম্প্রদায়ের উপর বিজয়ী করুন।

Al-Baqara 2:286Listen in Qur'an →

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.