Muslim99Muslim99
← Tafsir library

2. Al-Baqara

The Cow · Medinan · 286 ayahs

سُورَةُ البَقَرَةِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 141–150 of 286

141

تِلْكَ أُمَّةٌۭ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْـَٔلُونَ عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন। সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।

১৪১. এরা এমন এক জাতি যারা অন্যান্যদের ন্যায় ইতিপূর্বে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। তারা দুনিয়া থেকে যে আমল অগ্রিম পাঠিয়েছে তারা তাই পাবে। তারা যাই অর্জন করেছে তারা তারই প্রতিদান পাবে। আর তোমরাও নিজেদের অর্জনেরই প্রতিদান পাবে। তোমাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না। না তাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। কাউকে অন্যের পাপের জন্য কখনোই পাকড়াও করা হবে না। না সে অন্যের আমল কর্তৃক লাভবান হবে। বরং প্রত্যেককে তার আমলেরই প্রতিদান দেয়া হবে।

Al-Baqara 2:141Listen in Qur'an →
142

۞ سَيَقُولُ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَ ٱلنَّاسِ مَا وَلَّىٰهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ ٱلَّتِى كَانُوا۟ عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ ٱلْمَشْرِقُ وَٱلْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِى مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ

এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।

১৪২. মূর্খ ও বেকুব ইহুদিরা এবং তাদের ন্যায় মুনাফিকরা অচিরেই বলবে: কী কারণে মুসলমানরা বাইতুল-মাক্বদিসের কিবলা থেকে নিজেরা সরে গেছে যা ইতিপূর্বে তাদেরই কিবলা ছিলো?! হে নবী! আপনি তাদের উত্তরে বলুন: পূর্ব-পশ্চিম তথা সকল দিকের মালিকানা কেবল এক আল্লাহরই। তাই তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চাইবেন তাঁর ইচ্ছা মাফিক সে দিকেই ফিরাতে পারেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চাইবেন তাকেই সঠিক পথ দেখাবেন। যাতে কোন ধরনের বক্রতা ও ভ্রষ্টতা নেই।

Al-Baqara 2:142Listen in Qur'an →
143

وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَٰكُمْ أُمَّةًۭ وَسَطًۭا لِّتَكُونُوا۟ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًۭا ۗ وَمَا جَعَلْنَا ٱلْقِبْلَةَ ٱلَّتِى كُنتَ عَلَيْهَآ إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ ٱلرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى ٱلَّذِينَ هَدَى ٱللَّهُ ۗ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَٰنَكُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ

এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।

১৪৩. আমি যেভাবে তোমাদেরকে আমার মর্জি মাফিক কিবলা দিয়েছি সেভাবেই আমি তোমাদেরকে সকল উম্মতের মাঝে বিশ্বাস, ইবাদাত ও সকল প্রকারের লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি শ্রেষ্ঠ ও ইনসাফপরায়ণ জাতি হিসেবে তৈরি করেছি। যেন তোমরা কিয়ামতের দিবসে আল্লাহর রাসূলদের ব্যাপারে এ মর্মে সাক্ষী হতে পারো যে, তাঁরা সত্যিকারার্থেই তাঁদের উম্মতের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট ব্যাপারগুলো হুবহু পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। আর যেন রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ও তোমাদের ব্যাপারে এ মর্মে সাক্ষী হতে পারেন যে, সত্যিই তিনি যা নিয়ে তাঁকে তোমাদের নিকট পাঠানো হয়েছে তা তোমাদেরকে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। আমি বাইতুল-মাক্বদিস থেকে ক্বিবলা শুধু এজন্যই পরিবর্তন করেছি যে, যেন আমি প্রকাশ্যভাবে জানতে পারি, কে আল্লাহর বিধানের উপর সন্তুষ্ট ও তার প্রতি অনুগত, যার ফলে সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসরণ করছে। আর কে তাঁর ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করছে। উপরন্তু আল্লাহর শরীয়তকে মেনে নেয়নি। বস্তুতঃ প্রথম কিবলার পরিবর্তনের আদেশটি সত্যিই কঠিন ছিলো। তবে ওদের জন্য নয় যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর উপর ঈমান আনার তাওফীক দিয়েছেন এবং তারা এ কথা জানতে পেরেছে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য শরীয়ত হিসেবে যা নির্ধারণ করেন তার পেছনে অবশ্যই তাঁর বিশেষ হিকমত রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা কখনো তাঁর প্রতি ঈমান আনার আমলটিকে বিনষ্ট করবেন না। এমনকি তোমাদের সে নামাযগুলোকেও নয় যা তোমরা ক্বিবলা পরিবর্তনের আগে পড়েছিলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মানুষের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল কৃপাময়। তাই তিনি কারো উপর কঠিনভাবে কোন কিছু চাপিয়ে দিবেন না। না তিনি তাদের আমলগুলোর সাওয়াবটুকু বিনষ্ট করে দিবেন।

Al-Baqara 2:143Listen in Qur'an →
144

قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِى ٱلسَّمَآءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةًۭ تَرْضَىٰهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُۥ ۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।

১৪৪. হে নবী! আমি আপনাকে ক্বিবলার ব্যাপারে নতুন ওহি তথা আপনার পছন্দসই ক্বিবলার দিকে মুখ ফিরানোর আদেশের অপেক্ষায় আপনার চেহারা ও দৃষ্টিকে বার বার আকাশের দিকে উঠাতে দেখেছি। তাই আমি বলছি, আমি অবশ্যই আপনাকে বাইতুল-মাক্বদিসের পরিবর্তে আপনার পছন্দসই তথা বাইতুল্লাহিল-হারামের দিকে মুখ ফিরানোর আদেশ করবো। সুতরাং আমি আপনাকে আদেশ করছি, আপনি এখন থেকে নিজ চেহারাকে মক্কার বাইতুল্লাহিল-হারামের দিকে ফিরান। হে মু’মিনরা! তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমরা অবশ্যই নামায আদায়ের সময় সেদিকেই মুখ ফিরাবে। কিতাবধারী ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা নিশ্চয়ই জানে যে, ক্বিবলা পরিবর্তনের বিধানটি সত্য একটি বিষয় যা তাদের ¯্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকেই নাযিল করা হয়েছে। যা তাদের কিতাবগুলোতেও বিবৃত হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সত্যবিমুখী লোকদের কর্মকাÐ সম্পর্কে গাফিল নন। বরং আল্লাহ তা‘আলা সবই জানেন এবং তিনি অচিরেই এর প্রতিদান দিবেন।

Al-Baqara 2:144Listen in Qur'an →
145

وَلَئِنْ أَتَيْتَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ بِكُلِّ ءَايَةٍۢ مَّا تَبِعُوا۟ قِبْلَتَكَ ۚ وَمَآ أَنتَ بِتَابِعٍۢ قِبْلَتَهُمْ ۚ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍۢ قِبْلَةَ بَعْضٍۢ ۚ وَلَئِنِ ٱتَّبَعْتَ أَهْوَآءَهُم مِّنۢ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ ۙ إِنَّكَ إِذًۭا لَّمِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ

যদি আপনি আহলে কিতাবদের কাছে সমুদয় নিদর্শন উপস্থাপন করেন, তবুও তারা আপনার কেবলা মেনে নেবে না এবং আপনিও তাদের কেবলা মানেন না। তারাও একে অন্যের কেবলা মানে না। যদি আপনি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, সে জ্ঞানলাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে নিশ্চয় আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

১৪৫. হে নবী! আল্লাহর কসম! আপনি যদি কিতাবধারী ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিকট ক্বিবলা পরিবর্তনের ব্যাপারটি সত্য হওয়ার ব্যাপারে সকল প্রমাণ নিয়ে আসেন তারপরও তারা অহঙ্কার ও হঠকারিতা বশতঃ আপনার ক্বিবলার দিকে মুখ ফিরাবে না। আপনিও নতুন ওহি আসার পর তাদের ক্বিবলার দিকে মুখ ফিরাবেন না। আর এ কথাও নিশ্চিত যে, তাদের কেউই কখনো অন্যের ক্বিবলার দিকে মুখ ফিরাবে না। কারণ, তারা একে অপরকে কাফির মনে করে। তাই আপনি যদি ক্বিবলা ও শরীয়তের অন্যান্য বিধি-বিধানের ব্যাপারে আপনার নিকট নিশ্চিত সত্য জ্ঞান আসার পরও তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেন তাহলে আপনি হিদায়েত প্রত্যাখ্যান ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের দরুন নিশ্চয়ই অনাচারী যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ সম্বোধনটি বস্তুতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ব্যাপারে তাদের অনুসরণের ভয়ানক অপকারিতা বুঝানোর জন্য। নতুবা আল্লাহ তা‘আলা তো তাঁর নবীকে এ সকল অপকর্ম থেকে পবিত্র রেখেছেন। তাহলে এটি মূলতঃ তাঁর পরের উম্মতের জন্য বিশেষ ভীতিপ্রদর্শন।

Al-Baqara 2:145Listen in Qur'an →
146

ٱلَّذِينَ ءَاتَيْنَٰهُمُ ٱلْكِتَٰبَ يَعْرِفُونَهُۥ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَآءَهُمْ ۖ وَإِنَّ فَرِيقًۭا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ ٱلْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে, যেমন করে চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি সম্প্রদায় জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।

১৪৬. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার যে আলিমদেরকে আমি কিতাবী জ্ঞান দিয়েছি তারা এ কথা নিশ্চয়ই জানে যে, ক্বিবলা পরিবর্তনের বিষয়টি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াতের একটি বিশেষ প্রমাণ। যেমনিভাবে তারা চিনে নিজের সন্তানকে এমনকি তাদেরকে অন্যদের থেকে পার্থক্য করতে। এতদসত্তে¡ও তাদের একদল হিংসাবশতঃ সত্যকে লুকিয়ে রেখেছে। অথচ তারা জানে যে, এটি নিশ্চিত সত্য।

Al-Baqara 2:146Listen in Qur'an →
147

ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُمْتَرِينَ

বাস্তব সত্য সেটাই যা তোমার পালনকর্তা বলেন। কাজেই তুমি সন্দিহান হয়ো না।

১৪৭. হে রাসূল! এটি হলো আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি অকাট্য সত্য। অতএব, এটির সত্যতার ব্যাপারে আপনি এতটুকুও সন্দেহ করবেন না।

Al-Baqara 2:147Listen in Qur'an →
148

وَلِكُلٍّۢ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا ۖ فَٱسْتَبِقُوا۟ ٱلْخَيْرَٰتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا۟ يَأْتِ بِكُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍۢ قَدِيرٌۭ

আর সবার জন্যই রয়েছে কেবলা একেক দিকে, যে দিকে সে মুখ করে (এবাদত করবে)। কাজেই সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকবে, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদেরকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।

১৪৮. প্রত্যেক উম্মতেরই একটি দিক রয়েছে যেদিকে তারা ফিরে। চাই সেটি প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। এ জন্যই তারা ক্বিবলা ও আল্লাহর শরীয়ত নিয়ে মতপার্থক্য করে। তবে এটি কোন দোষের নয়, যদি এটি আল্লাহর আদেশ ও তাঁর শরীয়তের অধীন হয়। হে মু’মিনগণ! তাহলে তোমরা কল্যাণকর কাজের দিকে ধাবিত হও যার আদেশ তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। অচিরেই আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে যে কোন জায়গা থেকে একত্রিত করবেন। অতঃপর তিনি তোমাদের আমলের প্রতিদান দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাশীল। তাই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে একত্রিত করা ও আমলের প্রতিদান দেয়া তাঁর জন্য কোন ব্যাপারই নয়।

Al-Baqara 2:148Listen in Qur'an →
149

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۖ وَإِنَّهُۥ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও-নিঃসন্দেহে এটাই হলো তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাস্তব সত্য। বস্তুতঃ তোমার পালনকর্তা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন।

১৪৯. হে নবী! আপনি ও আপনার অনুসারীরা যেখান থেকেই বের হোন না কেন কিংবা যেখানেই থাকুন না কেন যখনই নামায আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করবেন তখনই মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ ফিরাবেন। কারণ, সেটিই সত্য যা আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার নিকট ওহি করা হয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাÐ সম্পর্কে গাফিল নন। বরং তিনি তা সবই দেখছেন এবং অচিরেই তার প্রতিদান দিবেন।

Al-Baqara 2:149Listen in Qur'an →
150

وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا۟ وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُۥ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَٱخْشَوْنِى وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِى عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ

আর তোমরা যেখান থেকেই বেরিয়ে আস এবং যেখানেই অবস্থান কর, সেদিকেই মুখ ফেরাও, যাতে করে মানুষের জন্য তোমাদের সাথে ঝগড়া করার অবকাশ না থাকে। অবশ্য যারা অবিবেচক, তাদের কথা আলাদা। কাজেই তাদের আপত্তিতে ভীত হয়ো না। আমাকেই ভয় কর। যাতে আমি তোমাদের জন্যে আমার অনুগ্রহ সমূহ পূর্ণ করে দেই এবং তাতে যেন তোমরা সরলপথ প্রাপ্ত হও।

১৫০. হে নবী! আপনি যেখান থেকেই বের হোন না কেন। যখনই আপনি নামায পড়ার ইচ্ছা করবেন তখনই আপনি মসজিদুল-হারামমুখী হন। আর হে মু’মিনরা! তোমরা যেখানেই থাকো না কেন যখন তোমরা নামায পড়ার ইচ্ছা করবে তখনই মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ ফিরাবে। যেন লোকেরা তোমাদের বিপক্ষে কোন দলীল সাব্যস্ত করতে না পারে। তবে যারা যালিম তারা তো সর্বদা হঠকারিতা দেখাতেই থাকবে। তারা যে কোন দুর্বল দলীলের মাধ্যমে তোমাদেরকে চ্যালেঞ্জ করবে। তাই তোমরা তাদেরকে ভয় পেয়ো না। বরং তোমরা একমাত্র তোমাদের প্রতিপালককেই ভয় করো। তাঁর আদেশ মান্য করো এবং তাঁর নিষেধকৃত বস্তু থেকে দূরে থাকো। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা কা’বার দিকে ফিরার বিধান এ জন্যই করেছেন যেন তিনি তোমাদের উপর তাঁর নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দেন। যেন তোমরা বিশেষ ও সম্মানজনক ক্বিবলা পেতে পারো।

Al-Baqara 2:150Listen in Qur'an →

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.