Muslim99Muslim99
← Tafsir library

15. Al-Hijr

The Rock · Meccan · 99 ayahs

سُورَةُ الحِجۡرِ

Reading Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication)

Ayahs 71–80 of 99

71

قَالَ هَٰٓؤُلَآءِ بَنَاتِىٓ إِن كُنتُمْ فَٰعِلِينَ

তিনি বললেনঃ যদি তোমরা একান্ত কিছু করতেই চাও, তবে আমার কন্যারা উপস্থিত আছে।

৬৭-৭২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত লূতের (আঃ) বাড়ীতে সুদর্শন তরুণ যুবকগণ অতিথি হিসেবে আগমন করেছেন। এ খবর যখন তাঁর কওমের লোকেরী পেলো তখন তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় তার বাড়ীতে দৌড়িয়ে আসলো। আল্লাহর নবী হযরত লুত (আঃ) তাদেরকে বুঝাতে লাগলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমার অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো।” স্বয়ং হযরত লুত (আঃ) জানতেন না যে, তার অতিথিগণ আল্লাহর ফেরে, যেমন সূরায়ে হুদে রয়েছে। যদিও এরও বর্ণনা এখানে পরে হয়েছে এবং ফেরেশতাদের প্রকাশিত হয়ে পড়ার বর্ণনা পূর্বে হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা ক্রম পর্যায় উদ্দেশ্য নয়। আর (আরবি) অক্ষরটি তারতীব বা ক্রম বিন্যাসের জন্যে আসেও না, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে ওর বিপরীত দলীল বিদ্যমান থাকে। হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ “আমাকে তোমরা অপদস্থ করো না।” তারা উত্তরে বলেঃ “আপনার যখন এটা খেয়াল ছিল তখন আপনি এদেরকে অতিথি হিসেবে আপনার বাড়ীতে স্থান দিয়েছেন কেন? আমরা তো। আপনাকে পূর্বেই নিষেধ করেছিলাম।” তখন তিনি তাদেরকে আরো বুঝিয়ে বললেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ, যারা আমার কন্যাতুল্য, তারাই তোমাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার পাত্র, এরা নয়।”এর পূর্ণ বিবরণ আমরা বিস্তারিতভাবে ইতিপূর্বে দিয়ে এসেছি। সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। যেহেতু ঐ লোকগুলি কাম-বাসনায় উন্নত্ত ছিল এবং আল্লাহর শাস্তির যে ফায়সালা তাদের মস্তকোপরি ঝুলছিল, তা থেকে তারা ছিল সম্পূর্ণরূপে উদাসীন, সেই হেতু আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীর (সঃ) জীবনের শপথ করে তাদের এই অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহর (সঃ) অত্যধিক মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর যতগুলি মাখলুক সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কেউই নেই। মহান আল্লাহ একমাত্র তাঁরই জীবনে শপথ ছাড়া আর কারো জীবনের শপথ করেন নাই। (আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। তাতেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ফিরছে।

72

لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِى سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ

আপনার প্রাণের কসম, তারা আপন নেশায় প্রমত্ত ছিল।

৬৭-৭২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত লূতের (আঃ) বাড়ীতে সুদর্শন তরুণ যুবকগণ অতিথি হিসেবে আগমন করেছেন। এ খবর যখন তাঁর কওমের লোকেরী পেলো তখন তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় তার বাড়ীতে দৌড়িয়ে আসলো। আল্লাহর নবী হযরত লুত (আঃ) তাদেরকে বুঝাতে লাগলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমার অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো।” স্বয়ং হযরত লুত (আঃ) জানতেন না যে, তার অতিথিগণ আল্লাহর ফেরে, যেমন সূরায়ে হুদে রয়েছে। যদিও এরও বর্ণনা এখানে পরে হয়েছে এবং ফেরেশতাদের প্রকাশিত হয়ে পড়ার বর্ণনা পূর্বে হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা ক্রম পর্যায় উদ্দেশ্য নয়। আর (আরবি) অক্ষরটি তারতীব বা ক্রম বিন্যাসের জন্যে আসেও না, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে ওর বিপরীত দলীল বিদ্যমান থাকে। হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ “আমাকে তোমরা অপদস্থ করো না।” তারা উত্তরে বলেঃ “আপনার যখন এটা খেয়াল ছিল তখন আপনি এদেরকে অতিথি হিসেবে আপনার বাড়ীতে স্থান দিয়েছেন কেন? আমরা তো। আপনাকে পূর্বেই নিষেধ করেছিলাম।” তখন তিনি তাদেরকে আরো বুঝিয়ে বললেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ, যারা আমার কন্যাতুল্য, তারাই তোমাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার পাত্র, এরা নয়।”এর পূর্ণ বিবরণ আমরা বিস্তারিতভাবে ইতিপূর্বে দিয়ে এসেছি। সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। যেহেতু ঐ লোকগুলি কাম-বাসনায় উন্নত্ত ছিল এবং আল্লাহর শাস্তির যে ফায়সালা তাদের মস্তকোপরি ঝুলছিল, তা থেকে তারা ছিল সম্পূর্ণরূপে উদাসীন, সেই হেতু আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীর (সঃ) জীবনের শপথ করে তাদের এই অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহর (সঃ) অত্যধিক মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর যতগুলি মাখলুক সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কেউই নেই। মহান আল্লাহ একমাত্র তাঁরই জীবনে শপথ ছাড়া আর কারো জীবনের শপথ করেন নাই। (আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। তাতেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ফিরছে।

73

فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّيْحَةُ مُشْرِقِينَ

অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তাদেরকে প্রচন্ড একটি শব্দ এসে পাকড়াও করল।

৭৩-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “সূর্যোদয়ের সময় এক ভীষণ শব্দ আসলো এবং সাথে সাথে তাদের বস্তীগুলি উর্ধ্বে উথিত হলো আকাশের নিকটে পৌছে সেখান থেকে ওগুলিকে উলটিয়ে দেয়া হলো, উপরের অংশ নীচে এবং নীচের অংশ উপরে হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিতে শুরু করলো। সূরায়ে হূদে এটা বিস্তারিতরূপে বর্ণিত হয়েছে।যাদের পর্যবেক্ষণ শক্তি ও অন্তদৃষ্টি রয়েছে তাদের জন্যে এই বস্তিগুলির ধ্বংসের মধ্যে বড় বড় নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। এই ধরনের লোকেরাই এ সব বিষয় থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। তারা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এগুলির প্রতি লক্ষ্য করে থাকে এবং চিন্তা গবেষণা করে নিজেদের অবস্থা সুন্দর করে নেয়।হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা মু'মিনের বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার প্রতি লক্ষ্য রেখো, সে আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখে থাকে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) ইমাম ইবনু আবি হাতিম (রঃ) এবং ইমাম ইবনু জারীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) অতপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন। অন্য হাদীসে রয়েছে যে, সে আল্লাহর নূর ও তার তাওফীকের সাহায্যে দেখে থাকে। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহর কতকগুলি বান্দা এমন রয়েছে যারা মানুষকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারে।”মহান আল্লাহ বলেনঃ 'ওটা লোক চলাচলের পথিপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান। অর্থাৎ হযরত লুতের (আঃ) কওমের যে বস্তির উপর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ শাস্তি নেমে এসেছিল এবং ওটাকে উলটিয়ে দেয়া হয়েছিল তা আজও একটা নিদর্শন রূপে বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা রাতদিন সেখান দিয়ে চলাচল করে থাকো। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এখনও তোমরা তার থেকে শিক্ষা গ্রহ করছো না! মোট কথা, প্রকাশ্যভাবে লোক চলাচলের পথে ঐ বস্তির গ্নাবশেষ আজও বিদ্যমান আছে। অর্থ এও হতে পারেঃ “প্রকাশ্য কিতাবে টো বিদ্যমান রয়েছে।” কিন্তু এ অর্থটি এখানে ঠিকভাবে বসছে না। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।আল্লাহ পাক বলেনঃ “অবশ্যই এতে মু'মিনদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।” অর্থাৎ কিভাবে আল্লাহ তাআলা নিজের লোকদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং স্বীয় শত্রুদেরকে ধ্বংস করেন, এটা তার একটা স্পষ্ট নিদর্শন।

74

فَجَعَلْنَا عَٰلِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ حِجَارَةًۭ مِّن سِجِّيلٍ

অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর কঙ্করের প্রস্থর বর্ষণ করলাম।

৭৩-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “সূর্যোদয়ের সময় এক ভীষণ শব্দ আসলো এবং সাথে সাথে তাদের বস্তীগুলি উর্ধ্বে উথিত হলো আকাশের নিকটে পৌছে সেখান থেকে ওগুলিকে উলটিয়ে দেয়া হলো, উপরের অংশ নীচে এবং নীচের অংশ উপরে হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিতে শুরু করলো। সূরায়ে হূদে এটা বিস্তারিতরূপে বর্ণিত হয়েছে।যাদের পর্যবেক্ষণ শক্তি ও অন্তদৃষ্টি রয়েছে তাদের জন্যে এই বস্তিগুলির ধ্বংসের মধ্যে বড় বড় নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। এই ধরনের লোকেরাই এ সব বিষয় থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। তারা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এগুলির প্রতি লক্ষ্য করে থাকে এবং চিন্তা গবেষণা করে নিজেদের অবস্থা সুন্দর করে নেয়।হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা মু'মিনের বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার প্রতি লক্ষ্য রেখো, সে আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখে থাকে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) ইমাম ইবনু আবি হাতিম (রঃ) এবং ইমাম ইবনু জারীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) অতপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন। অন্য হাদীসে রয়েছে যে, সে আল্লাহর নূর ও তার তাওফীকের সাহায্যে দেখে থাকে। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহর কতকগুলি বান্দা এমন রয়েছে যারা মানুষকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারে।”মহান আল্লাহ বলেনঃ 'ওটা লোক চলাচলের পথিপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান। অর্থাৎ হযরত লুতের (আঃ) কওমের যে বস্তির উপর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ শাস্তি নেমে এসেছিল এবং ওটাকে উলটিয়ে দেয়া হয়েছিল তা আজও একটা নিদর্শন রূপে বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা রাতদিন সেখান দিয়ে চলাচল করে থাকো। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এখনও তোমরা তার থেকে শিক্ষা গ্রহ করছো না! মোট কথা, প্রকাশ্যভাবে লোক চলাচলের পথে ঐ বস্তির গ্নাবশেষ আজও বিদ্যমান আছে। অর্থ এও হতে পারেঃ “প্রকাশ্য কিতাবে টো বিদ্যমান রয়েছে।” কিন্তু এ অর্থটি এখানে ঠিকভাবে বসছে না। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।আল্লাহ পাক বলেনঃ “অবশ্যই এতে মু'মিনদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।” অর্থাৎ কিভাবে আল্লাহ তাআলা নিজের লোকদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং স্বীয় শত্রুদেরকে ধ্বংস করেন, এটা তার একটা স্পষ্ট নিদর্শন।

75

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍۢ لِّلْمُتَوَسِّمِينَ

নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

৭৩-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “সূর্যোদয়ের সময় এক ভীষণ শব্দ আসলো এবং সাথে সাথে তাদের বস্তীগুলি উর্ধ্বে উথিত হলো আকাশের নিকটে পৌছে সেখান থেকে ওগুলিকে উলটিয়ে দেয়া হলো, উপরের অংশ নীচে এবং নীচের অংশ উপরে হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিতে শুরু করলো। সূরায়ে হূদে এটা বিস্তারিতরূপে বর্ণিত হয়েছে।যাদের পর্যবেক্ষণ শক্তি ও অন্তদৃষ্টি রয়েছে তাদের জন্যে এই বস্তিগুলির ধ্বংসের মধ্যে বড় বড় নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। এই ধরনের লোকেরাই এ সব বিষয় থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। তারা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এগুলির প্রতি লক্ষ্য করে থাকে এবং চিন্তা গবেষণা করে নিজেদের অবস্থা সুন্দর করে নেয়।হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা মু'মিনের বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার প্রতি লক্ষ্য রেখো, সে আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখে থাকে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) ইমাম ইবনু আবি হাতিম (রঃ) এবং ইমাম ইবনু জারীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) অতপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন। অন্য হাদীসে রয়েছে যে, সে আল্লাহর নূর ও তার তাওফীকের সাহায্যে দেখে থাকে। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহর কতকগুলি বান্দা এমন রয়েছে যারা মানুষকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারে।”মহান আল্লাহ বলেনঃ 'ওটা লোক চলাচলের পথিপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান। অর্থাৎ হযরত লুতের (আঃ) কওমের যে বস্তির উপর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ শাস্তি নেমে এসেছিল এবং ওটাকে উলটিয়ে দেয়া হয়েছিল তা আজও একটা নিদর্শন রূপে বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা রাতদিন সেখান দিয়ে চলাচল করে থাকো। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এখনও তোমরা তার থেকে শিক্ষা গ্রহ করছো না! মোট কথা, প্রকাশ্যভাবে লোক চলাচলের পথে ঐ বস্তির গ্নাবশেষ আজও বিদ্যমান আছে। অর্থ এও হতে পারেঃ “প্রকাশ্য কিতাবে টো বিদ্যমান রয়েছে।” কিন্তু এ অর্থটি এখানে ঠিকভাবে বসছে না। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।আল্লাহ পাক বলেনঃ “অবশ্যই এতে মু'মিনদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।” অর্থাৎ কিভাবে আল্লাহ তাআলা নিজের লোকদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং স্বীয় শত্রুদেরকে ধ্বংস করেন, এটা তার একটা স্পষ্ট নিদর্শন।

76

وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٍۢ مُّقِيمٍ

জনপদটি সোজা পথে অবস্থিত রয়েছে।

৭৩-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “সূর্যোদয়ের সময় এক ভীষণ শব্দ আসলো এবং সাথে সাথে তাদের বস্তীগুলি উর্ধ্বে উথিত হলো আকাশের নিকটে পৌছে সেখান থেকে ওগুলিকে উলটিয়ে দেয়া হলো, উপরের অংশ নীচে এবং নীচের অংশ উপরে হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিতে শুরু করলো। সূরায়ে হূদে এটা বিস্তারিতরূপে বর্ণিত হয়েছে।যাদের পর্যবেক্ষণ শক্তি ও অন্তদৃষ্টি রয়েছে তাদের জন্যে এই বস্তিগুলির ধ্বংসের মধ্যে বড় বড় নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। এই ধরনের লোকেরাই এ সব বিষয় থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। তারা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এগুলির প্রতি লক্ষ্য করে থাকে এবং চিন্তা গবেষণা করে নিজেদের অবস্থা সুন্দর করে নেয়।হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা মু'মিনের বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার প্রতি লক্ষ্য রেখো, সে আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখে থাকে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) ইমাম ইবনু আবি হাতিম (রঃ) এবং ইমাম ইবনু জারীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) অতপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন। অন্য হাদীসে রয়েছে যে, সে আল্লাহর নূর ও তার তাওফীকের সাহায্যে দেখে থাকে। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহর কতকগুলি বান্দা এমন রয়েছে যারা মানুষকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারে।”মহান আল্লাহ বলেনঃ 'ওটা লোক চলাচলের পথিপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান। অর্থাৎ হযরত লুতের (আঃ) কওমের যে বস্তির উপর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ শাস্তি নেমে এসেছিল এবং ওটাকে উলটিয়ে দেয়া হয়েছিল তা আজও একটা নিদর্শন রূপে বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা রাতদিন সেখান দিয়ে চলাচল করে থাকো। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এখনও তোমরা তার থেকে শিক্ষা গ্রহ করছো না! মোট কথা, প্রকাশ্যভাবে লোক চলাচলের পথে ঐ বস্তির গ্নাবশেষ আজও বিদ্যমান আছে। অর্থ এও হতে পারেঃ “প্রকাশ্য কিতাবে টো বিদ্যমান রয়েছে।” কিন্তু এ অর্থটি এখানে ঠিকভাবে বসছে না। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।আল্লাহ পাক বলেনঃ “অবশ্যই এতে মু'মিনদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।” অর্থাৎ কিভাবে আল্লাহ তাআলা নিজের লোকদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং স্বীয় শত্রুদেরকে ধ্বংস করেন, এটা তার একটা স্পষ্ট নিদর্শন।

77

إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَةًۭ لِّلْمُؤْمِنِينَ

নিশ্চয় এতে ঈমানদারদের জন্যে নিদর্শণ আছে।

৭৩-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “সূর্যোদয়ের সময় এক ভীষণ শব্দ আসলো এবং সাথে সাথে তাদের বস্তীগুলি উর্ধ্বে উথিত হলো আকাশের নিকটে পৌছে সেখান থেকে ওগুলিকে উলটিয়ে দেয়া হলো, উপরের অংশ নীচে এবং নীচের অংশ উপরে হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিতে শুরু করলো। সূরায়ে হূদে এটা বিস্তারিতরূপে বর্ণিত হয়েছে।যাদের পর্যবেক্ষণ শক্তি ও অন্তদৃষ্টি রয়েছে তাদের জন্যে এই বস্তিগুলির ধ্বংসের মধ্যে বড় বড় নিদর্শন বিদ্যমান রয়েছে। এই ধরনের লোকেরাই এ সব বিষয় থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। তারা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এগুলির প্রতি লক্ষ্য করে থাকে এবং চিন্তা গবেষণা করে নিজেদের অবস্থা সুন্দর করে নেয়।হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা মু'মিনের বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার প্রতি লক্ষ্য রেখো, সে আল্লাহর নূরের সাহায্যে দেখে থাকে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) ইমাম ইবনু আবি হাতিম (রঃ) এবং ইমাম ইবনু জারীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) অতপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন। অন্য হাদীসে রয়েছে যে, সে আল্লাহর নূর ও তার তাওফীকের সাহায্যে দেখে থাকে। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহর কতকগুলি বান্দা এমন রয়েছে যারা মানুষকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারে।”মহান আল্লাহ বলেনঃ 'ওটা লোক চলাচলের পথিপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান। অর্থাৎ হযরত লুতের (আঃ) কওমের যে বস্তির উপর বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ শাস্তি নেমে এসেছিল এবং ওটাকে উলটিয়ে দেয়া হয়েছিল তা আজও একটা নিদর্শন রূপে বিদ্যমান রয়েছে। তোমরা রাতদিন সেখান দিয়ে চলাচল করে থাকো। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এখনও তোমরা তার থেকে শিক্ষা গ্রহ করছো না! মোট কথা, প্রকাশ্যভাবে লোক চলাচলের পথে ঐ বস্তির গ্নাবশেষ আজও বিদ্যমান আছে। অর্থ এও হতে পারেঃ “প্রকাশ্য কিতাবে টো বিদ্যমান রয়েছে।” কিন্তু এ অর্থটি এখানে ঠিকভাবে বসছে না। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।আল্লাহ পাক বলেনঃ “অবশ্যই এতে মু'মিনদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।” অর্থাৎ কিভাবে আল্লাহ তাআলা নিজের লোকদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং স্বীয় শত্রুদেরকে ধ্বংস করেন, এটা তার একটা স্পষ্ট নিদর্শন।

78

وَإِن كَانَ أَصْحَٰبُ ٱلْأَيْكَةِ لَظَٰلِمِينَ

নিশ্চয় গহীন বনের অধিবাসীরা পাপী ছিল।

৭৮-৭৯ নং আয়াতের তাফসীর “আসহাবে আয়কা’ দ্বারা হযরত শু’আইবের (আঃ) কওমকে বুঝানো হয়েছে। “আয়কা' বলা হয় গাছের ঝাড়কে। শিরক, ও কুফরী ছাড়াও তাদের অত্যাচারমূলক কাজ ছিল এই যে, তারা লুণ্ঠন করতো এবং মাপে ও ওজনে কম করতো। তাদের বস্তিটি হযরত লুতের (আঃ) কওমের বস্তির নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। তাদের যুগটিও ছিল নূতীয়দের যুগের নিকটতম যুগ। তাঁদের দুষ্কর্ম এবং অবাধ্যতার কারণে তাদের উপরও আল্লাহর শাস্তি নেমে এসেছিল। এই উভয় বস্তিই লোক চলাচলের পথে অবস্থিত ছিল। হযরত শুআইব (আঃ) স্বীয় কওমকে ভয় প্রদর্শন করতে গিয়ে বলেছিলেনঃ “তের (আঃ) কওমের যুগ তো তোমাদের যুগ হতে বেশী দূরের যুগ নয়।”

79

فَٱنتَقَمْنَا مِنْهُمْ وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍۢ مُّبِينٍۢ

অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় বস্তি প্রকাশ্য রাস্তার উপর অবস্থিত।

৭৮-৭৯ নং আয়াতের তাফসীর “আসহাবে আয়কা’ দ্বারা হযরত শু’আইবের (আঃ) কওমকে বুঝানো হয়েছে। “আয়কা' বলা হয় গাছের ঝাড়কে। শিরক, ও কুফরী ছাড়াও তাদের অত্যাচারমূলক কাজ ছিল এই যে, তারা লুণ্ঠন করতো এবং মাপে ও ওজনে কম করতো। তাদের বস্তিটি হযরত লুতের (আঃ) কওমের বস্তির নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। তাদের যুগটিও ছিল নূতীয়দের যুগের নিকটতম যুগ। তাঁদের দুষ্কর্ম এবং অবাধ্যতার কারণে তাদের উপরও আল্লাহর শাস্তি নেমে এসেছিল। এই উভয় বস্তিই লোক চলাচলের পথে অবস্থিত ছিল। হযরত শুআইব (আঃ) স্বীয় কওমকে ভয় প্রদর্শন করতে গিয়ে বলেছিলেনঃ “তের (আঃ) কওমের যুগ তো তোমাদের যুগ হতে বেশী দূরের যুগ নয়।”

80

وَلَقَدْ كَذَّبَ أَصْحَٰبُ ٱلْحِجْرِ ٱلْمُرْسَلِينَ

নিশ্চয় হিজরের বাসিন্দারা পয়গম্বরগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে।

৮০-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর “আসহাবুল হি’ দ্বারা সামূদ সম্প্রদায়কে বুঝানো হয়েছে। যারা তাদের নবী হযরত সালেহকে (আঃ) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। এটা স্পষ্ট কথা যে, একজন নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীরা যেন সমস্ত নবীকেই মিথ্যা প্রতিপন্নকারী। এ জন্যেই বলা হয়েছে, তারা রাসূলদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল। তাদের কাছে এমন মু'জিযা' এসে পড়ে যার দ্বারা হযরত সা'লেহের (আঃ) সত্যবাদিতা তাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। যেমন একটি কঠিন পাথরের পাহাড়ের মধ্য থেকে একটি উষ্ট্ৰী বের হওয়া, যা তাদের শহরে বিচরণ করতো। একদিন ওটা পানি পান করতো, আর পরের দিন ঐ শহরবাসীদের জন্তুগুলি পানি পান করতো। তথাপি ঐ লোকগুলি বাঁকা পথেই চলতে থাকে, এমনকি তারা ঐ উষ্ট্ৰীটিকে হত্যা করে ফেলে। ঐ সময় হযরত সালেহ (আঃ) তাদেরকে বলেনঃ “জেনে রেখো যে, তিন দিনের মধ্যেই তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি নেমে আসবে। এটা সম্পূর্ণরূপে সত্য ও সঠিক। ওয়াদা।”ঐ লোকগুলি তখনও আল্লাহর প্রদর্শিত পথের উপর নিজেদের অন্ধত্বকেই প্রাধান্য দেয়। তারা শুধু মাত্র নিজেদের শক্তি ও বাহাদুরী প্রদর্শন এবং গর্ব ও অহংকারের বশবর্তী হয়েই পাহাড় কেটে কেটে তাদের গৃহ নির্মাণ। করেছিল, প্রয়োজনের তাগিদে নয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাবুকে যাওয়ার পথে। যখন ঐ লোকদের বাসভূমি অতিক্রম করেন তখন তিনি মাথায় কাপড় বেঁধে নেন এবং স্বীয় সওয়ারীকে দ্রুত বেগে চালিত করেন। আর স্বীয় সহচরদেরকে বলেনঃ “যাদের উপর আল্লাহর শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছিল তাদের বস্তিগুলি ক্রন্দনরত অবস্থায় অতিক্রম করো। কান্না না আসলেও কান্নার ভান করো। না জানি হয়তো তোমরাও ঐ শাস্তির শিকারে পরিণত হয়ে যাও না কি।” যা হোক, শেষ পর্যন্ত ঠিক চতুর্থ দিনের সকালে আল্লাহর শাস্তি ভীষণ শব্দের রূপ নিয়ে তাদের উপর এসে পড়লো। ঐ সময় তাদের উপার্জিত। ধন-সম্পদ তাদের কোনই কাজে আসে নাই। যে সব শস্যক্ষেত্র ও ফলমূলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে এবং ওগুলিকে বৃদ্ধিকরণের উদ্দেশ্যে ঐ উষ্ট্ৰীটির পানি পান অপছন্দ করতঃ ওকে তারা হত্যা করে ফেলে ছিল তা সেই দিন নিষ্ফল প্রমাণিত হয়ে যায় এবং মহামহিমান্বিত আল্লাহর নির্দেশ কার্যকরী হয়েই পড়ে।

Commentary: Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication). Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.