Muslim99Muslim99
← Tafsir library

15. Al-Hijr

The Rock · Meccan · 99 ayahs

سُورَةُ الحِجۡرِ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 81–90 of 99

81

وَءَاتَيْنَٰهُمْ ءَايَٰتِنَا فَكَانُوا۟ عَنْهَا مُعْرِضِينَ

আমি তাদেরকে নিজের নিদর্শনাবলী দিয়েছি। অতঃপর তারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করেছিল। [১]

[১] তাদের নির্দশনের মধ্যে ছিল সেই উটনী, যা তাদের দাবী অনুসারে এক পাথর হতে মু'জিযা স্বরূপ বের করা হয়েছিল। কিন্তু যালিমরা সেটিকেও হত্যা করে ফেলে।

82

وَكَانُوا۟ يَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًا ءَامِنِينَ

তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে ঘর খোদাই করত।

তারা নিশ্চিন্তে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করত। [১]

[১] অর্থাৎ, বিনা প্রয়োজনে ও নির্ভয়ে তারা পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করত। নবম হিজরীতে তাবুক যাওয়ার পথে যখন নবী (সাঃ) তাদের সেই জনপদের উপর দিয়ে পার হলেন, তখন তিনি মাথায় কাপড় জড়িয়ে নিলেন, নিজের সওয়ারীর গতি বাড়িয়ে দিলেন এবং সাহাবাগণকে বললেন, তোমরা কান্নারত অবস্থায় ও আল্লাহর আযাবকে স্মরণ করে এই এলাকা অতিক্রম কর।

(ইবনে কাসীর, বুখারী ৪৩৩, মুসলিম ২২৮৫নং)

83

فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّيْحَةُ مُصْبِحِينَ

অতঃপর এক প্রত্যুষে তাদের উপর একটা শব্দ এসে আঘাত করল।

অতঃপর প্রভাতকালে বিকট আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও করল। [১]

[১] সালেহ (আঃ) বললেন যে, তোমাদের উপর তিনদিন পর আল্লাহর আযাব আসবে। সুতরাং চতুর্থ দিনে তাদের উপর এই আযাব এসে পড়ল।

84

فَمَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ

তখন কোন উপকারে আসল না যা তারা উপার্জন করেছিল।

সুতরাং তারা যা অর্জন করত তা তাদের কোন কাজে আসেনি।

85

وَمَا خَلَقْنَا ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَآ إِلَّا بِٱلْحَقِّ ۗ وَإِنَّ ٱلسَّاعَةَ لَءَاتِيَةٌۭ ۖ فَٱصْفَحِ ٱلصَّفْحَ ٱلْجَمِيلَ

আমি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা আছে তা তাৎপর্যহীন সৃষ্টি করিনি। কেয়ামত অবশ্যই আসবে। অতএব পরম ঔদাসীন্যের সাথে ওদের ক্রিয়াকর্ম উপক্ষো করুন।

আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এই দুয়ের অন্তর্বর্তী কোন কিছুই আমি অযথা সৃষ্টি করিনি।[১] আর কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী; সুতরাং তুমি পরম সৌজন্যের সাথে তাদেরকে ক্ষমা কর।

[১] এখানে হক (অযথা নয়) বলতে উপকার ও কল্যাণ, যার উদ্দেশে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি। অথবা হক বলতে সৎকর্মশীলদের সৎকর্মের প্রতিদান ও অসৎকর্মশীলদের পাপের বদলা দেওয়া। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে, "আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই। যাতে তিনি যারা মন্দ কর্ম করে তাদেরকে দেন মন্দ ফল এবং যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার।" (সূরা নাজম ৫৩:৩১)

86

إِنَّ رَبَّكَ هُوَ ٱلْخَلَّٰقُ ٱلْعَلِيمُ

নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।

নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকই মহাস্রষ্টা, মহাজ্ঞানী।

87

وَلَقَدْ ءَاتَيْنَٰكَ سَبْعًۭا مِّنَ ٱلْمَثَانِى وَٱلْقُرْءَانَ ٱلْعَظِيمَ

আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন দিয়েছি।

অবশ্যই আমি তোমাকে দিয়েছি পুনঃ পুনঃ পঠিতব্য সাতটি আয়াত[১] এবং মহা কুরআন।

[১] سبع مثاني (পুনঃপুনঃ পঠিতব্য সাতটি আয়াত) থেকে উদ্দেশ্য কি? এ সর্ম্পকে মুফাসসিরীনদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এর উদ্দেশ্য সূরা ফাতেহা এটাই সঠিক। যেহেতু এটি সাত আয়াতবিশিষ্ট এবং তা প্রত্যেক নামাযে বার বার পাঠ করা হয়। (মাসানীর অর্থ একাধিকবার পড়া।) হাদীসেও এর সমর্থন পাওয়া যায়। সুতরাং একটি হাদীসে নবী (সাঃ) বলেন, "আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ-লামীন। এটি সাবএ মাসানী ও কুরআন আযীম, যা আমাকে দেওয়া হয়েছে।" (বুখারীঃ তাফসীর সূরা হিজ্র) অন্য এক হাদীসে নবী (সাঃ) বলেছেন, "উম্মুল কুরআনই হল সাবএ মাসানী ও কুরআনে আযীম।" (ঐ) সূরা ফাতেহা কুরআনের একটি অংশ, সেই জন্য সাথে সাথে কুরআন আযীমের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

88

لَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَىٰ مَا مَتَّعْنَا بِهِۦٓ أَزْوَٰجًۭا مِّنْهُمْ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ

আপনি চক্ষু তুলে ঐ বস্তুর প্রতি দেখবেন না, যা আমি তাদের মধ্যে কয়েক প্রকার লোককে ভোগ করার জন্যে দিয়েছি, তাদের জন্যে চিন্তিত হবেন না আর ঈমানদারদের জন্যে স্বীয় বাহু নত করুন।

আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে ভোগ বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি তার প্রতি তুমি কখনো তোমার চক্ষুদ্বয় প্রসারিত করো না এবং তাদের জন্য তুমি ক্ষোভ করো না। আর বিশ্বাসীদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।[১]

[১] অর্থাৎ, আমি তোমাকে মহা কুরআন সূরা ফাতিহার মত নিয়ামত দান করেছি, সেই কারণে পৃথিবী ও তার ভোগ-বিলাসের শোভা-সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন শ্রেণীর দুনিয়াদারদের প্রতি তুমি দৃকপাত করবে না, আমি তাদেরকে যা কিছু দিয়েছি তা শুধুমাত্র ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের বিলাস-উপকরণ। আর যারা তোমাকে মিথ্যা ভাবছে তাদের ব্যাপারে দুঃখ করো না। মু'মিনদের জন্য তোমার বাহুকে অবনমিত রাখো। অর্থাৎ তাদের জন্য নমনীয়তা ও ভালবাসা প্রকাশ করো। (বাহু অবনমিত রাখা) এই পরিভাষার মূল হল, পাখি যখন তার বাচ্চাদেরকে স্নেহ-ছায়ায় স্থান দিতে চায়, তখন সে তাদেরকে ডানা দিয়ে ঢেকে নেয়। সেই জন্য এই পরিভাষা স্নেহ-ভালবাসা ও মায়া-মমতা প্রকাশের অর্থে প্রয়োগ হয়ে থাকে।

89

وَقُلْ إِنِّىٓ أَنَا ٱلنَّذِيرُ ٱلْمُبِينُ

আর বলুনঃ আমি প্রকাশ্য ভয় প্রদর্শক।

আর তুমি বল, ‘আমি তো প্রকাশ্য সতর্ককারী।’

90

كَمَآ أَنزَلْنَا عَلَى ٱلْمُقْتَسِمِينَ

যেমন আমি নাযিল করেছি যারা বিভিন্ন মতে বিভক্ত তাদের উপর।

যেভাবে আমি অবতীর্ণ করেছি বিভক্তকারীদের উপর। [১]

[১] কিছু ব্যখ্যাকারীদের নিকট أنزلنا ক্রিয়ার কর্মকারক العذابَ ঊহ্য আছে। যার অর্থ হল, আমি তোমাদেরকে সেইরূপ আযাব হতে প্রকাশ্য সতর্ককারী; যেরূপ আযাব মহান আল্লাহ বিভক্তকারীদের উপর অবতীর্ণ করেছিলেন। এই বিভক্তকারী কারা? যারা কুরআনকে বিভক্ত করে নিয়েছিল। কেউ কেউ বলেন, তারা কুরায়েশ, যারা আল্লাহর কিতাবকে বিভক্ত করেছিল। তার কিছু অংশকে বলত যাদু, কিছু অংশকে বলত গণকের কথা, আবার কিছু অংশকে বলত উপকথা। পক্ষান্তরে কিছু মুফাসসিরীন বলেন, বিভক্তকারী বলতে আহলে কিতাব এবং কুরআন বলতে তাওরাত ও ইঞ্জীলকে বুঝানো হয়েছে। তারা ঐ সকল কিতাবকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে রেখেছিল। আবার কেউ বলেন, এর অর্থ আপোসে শপথ বা প্রতিজ্ঞা গ্রহণকারী; এখানে সালেহ (আঃ)-এর জাতিকে বুঝানো হয়েছে, যারা আপোসে শপথ করেছিল যে, সালেহ ও তার পরিবারের সকলকে রাত্রির অন্ধকারে হত্যা করে ফেলবে। {قَالُوا تَقَاسَمُوا بِاللهِ لَنُبَيِّتَنَّهُ وَأَهْلَهُ} আর তারা আসমানী কিতাবকে টুকরো টুকরোও করেছিল। (সূরা নামল ২৭:৪৯) عضين এর একটি অর্থ কিছু গ্রহণ করা ও কিছু বর্জন করা। কিতাবের কিছু অংশকে বিশক্ষাস ও কিছুকে অস্বীকার করা।

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.