Muslim99Muslim99
← Tafsir library

15. Al-Hijr

The Rock · Meccan · 99 ayahs

سُورَةُ الحِجۡرِ

Reading Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication)

Ayahs 61–70 of 99

61

فَلَمَّا جَآءَ ءَالَ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلُونَ

অতঃপর যখন প্রেরিতরা লূতের গৃহে পৌছল।

৬১-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা হযরত লূত (আঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যখন ফেরেশতাগণ তার কাছে তরুণ সুদর্শন যুবকের রূপ ধরে অগিমন করেন তখন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ “আপনারা তো সম্পূর্ণ অপরিচিত লোক।” তখন ফেরেশতাগণ গুপ্ত রহস্য প্রকাশ করে দিয়ে বলেনঃ “যা আপনার কওম অস্বীকার করছিল এবং যার আগমন সম্পর্কে তারা সন্ধিগ্ধ ছিল, আমরা সেই সত্য বিষয় ও অকাট্য হুকুম নিয়ে আগমন করেছি। আর ফেরেশতারা সত্য বিষয় সহই আগমন করে থাকে এবং আমরাও সত্যবাদী। যে খবর আমরা আপনাকে দিচ্ছি তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। আপনি (সপরিবারে) রক্ষা পেয়ে যাবেন, আর আপনার এই কাফির কওম ধ্বংস হয়ে যাবে।”

62

قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌۭ مُّنكَرُونَ

তিনি বললেনঃ তোমরা তো অপরিচিত লোক।

৬১-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা হযরত লূত (আঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যখন ফেরেশতাগণ তার কাছে তরুণ সুদর্শন যুবকের রূপ ধরে অগিমন করেন তখন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ “আপনারা তো সম্পূর্ণ অপরিচিত লোক।” তখন ফেরেশতাগণ গুপ্ত রহস্য প্রকাশ করে দিয়ে বলেনঃ “যা আপনার কওম অস্বীকার করছিল এবং যার আগমন সম্পর্কে তারা সন্ধিগ্ধ ছিল, আমরা সেই সত্য বিষয় ও অকাট্য হুকুম নিয়ে আগমন করেছি। আর ফেরেশতারা সত্য বিষয় সহই আগমন করে থাকে এবং আমরাও সত্যবাদী। যে খবর আমরা আপনাকে দিচ্ছি তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। আপনি (সপরিবারে) রক্ষা পেয়ে যাবেন, আর আপনার এই কাফির কওম ধ্বংস হয়ে যাবে।”

63

قَالُوا۟ بَلْ جِئْنَٰكَ بِمَا كَانُوا۟ فِيهِ يَمْتَرُونَ

তারা বললঃ না বরং আমরা আপনার কাছে ঐ বস্তু নিয়ে এসেছি, যে সম্পর্কে তারা বিবাদ করত।

৬১-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা হযরত লূত (আঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যখন ফেরেশতাগণ তার কাছে তরুণ সুদর্শন যুবকের রূপ ধরে অগিমন করেন তখন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ “আপনারা তো সম্পূর্ণ অপরিচিত লোক।” তখন ফেরেশতাগণ গুপ্ত রহস্য প্রকাশ করে দিয়ে বলেনঃ “যা আপনার কওম অস্বীকার করছিল এবং যার আগমন সম্পর্কে তারা সন্ধিগ্ধ ছিল, আমরা সেই সত্য বিষয় ও অকাট্য হুকুম নিয়ে আগমন করেছি। আর ফেরেশতারা সত্য বিষয় সহই আগমন করে থাকে এবং আমরাও সত্যবাদী। যে খবর আমরা আপনাকে দিচ্ছি তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। আপনি (সপরিবারে) রক্ষা পেয়ে যাবেন, আর আপনার এই কাফির কওম ধ্বংস হয়ে যাবে।”

64

وَأَتَيْنَٰكَ بِٱلْحَقِّ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ

এবং আমরা আপনার কাছে সত্য বিষয় নিয়ে এসেছি এবং আমরা সত্যবাদী।

৬১-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা হযরত লূত (আঃ) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যখন ফেরেশতাগণ তার কাছে তরুণ সুদর্শন যুবকের রূপ ধরে অগিমন করেন তখন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ “আপনারা তো সম্পূর্ণ অপরিচিত লোক।” তখন ফেরেশতাগণ গুপ্ত রহস্য প্রকাশ করে দিয়ে বলেনঃ “যা আপনার কওম অস্বীকার করছিল এবং যার আগমন সম্পর্কে তারা সন্ধিগ্ধ ছিল, আমরা সেই সত্য বিষয় ও অকাট্য হুকুম নিয়ে আগমন করেছি। আর ফেরেশতারা সত্য বিষয় সহই আগমন করে থাকে এবং আমরাও সত্যবাদী। যে খবর আমরা আপনাকে দিচ্ছি তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। আপনি (সপরিবারে) রক্ষা পেয়ে যাবেন, আর আপনার এই কাফির কওম ধ্বংস হয়ে যাবে।”

65

فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍۢ مِّنَ ٱلَّيْلِ وَٱتَّبِعْ أَدْبَٰرَهُمْ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌۭ وَٱمْضُوا۟ حَيْثُ تُؤْمَرُونَ

অতএব আপনি শেষরাত্রে পরিবারের সকলকে নিয়ে চলে যান এবং আপনি তাদের পশ্চাদনুসরণ করবেন না এবং আপনাদের মধ্যে কেউ যেন পিছন ফিরে না দেখে। আপনারা যেখানে আদেশ প্রাপ্ত হচ্ছেন সেখানে যান।

৬৫-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করছেন যে, ফেরেস্তাগণ হযরত নূতকে (আঃ) বলেনঃ “রাত্রির কিছু অংশ কেটে গেলেই আপনি আপনার নিজের লোকজনকে নিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে পড়বেন। আপনি স্বয়ং তাদের পিছনে থাকবেন যাতে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ভালভাবে করতে পারেন।” রাসূলুল্লাহর (সঃ) এই নিয়মই ছিল যে, তিনি সেনাবাহিনীর পিছনে পিছনে চলতেন যাতে দুর্বল ও পতিত লোকদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন।এরপর হযরত নূতকে (আঃ) বলা হচ্ছেঃ “যখন তোমার কওমের উপর শাস্তি নেমে আসবে এবং তাদের চীৎকার ধ্বনী শুনা যাবে তখন কখনই তাদের দিকে ফিরে তাকাবে না। তাদেরকে এ শাস্তির অবস্থায় ফেলে দিয়েই তোমাদেরকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা কোন দ্বিধা-সংকোচ না করেই চলে যাবে।” সম্ভবতঃ তাঁদের সাথে কেউ ছিলেন, যিনি তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “নূতকে (আঃ) আমি পূর্বেই বলে দিয়েছিলাম যে, ঐ লোকগুলিকে সকালেই ধ্বংস করে দেয়া হবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তাদের (শাস্তি দানের) প্রতিশ্রুত সময় হচ্ছে সকাল বেলা, সকাল কি নিকটবর্তী নয়?” (১১:৮১)

66

وَقَضَيْنَآ إِلَيْهِ ذَٰلِكَ ٱلْأَمْرَ أَنَّ دَابِرَ هَٰٓؤُلَآءِ مَقْطُوعٌۭ مُّصْبِحِينَ

আমি লূতকে এ বিষয় পরিজ্ঞাত করে দেই যে, সকাল হলেই তাদেরকে সমুলে বিনাশ করে দেয়া হবে।

৬৫-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করছেন যে, ফেরেস্তাগণ হযরত নূতকে (আঃ) বলেনঃ “রাত্রির কিছু অংশ কেটে গেলেই আপনি আপনার নিজের লোকজনকে নিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে পড়বেন। আপনি স্বয়ং তাদের পিছনে থাকবেন যাতে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ভালভাবে করতে পারেন।” রাসূলুল্লাহর (সঃ) এই নিয়মই ছিল যে, তিনি সেনাবাহিনীর পিছনে পিছনে চলতেন যাতে দুর্বল ও পতিত লোকদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন।এরপর হযরত নূতকে (আঃ) বলা হচ্ছেঃ “যখন তোমার কওমের উপর শাস্তি নেমে আসবে এবং তাদের চীৎকার ধ্বনী শুনা যাবে তখন কখনই তাদের দিকে ফিরে তাকাবে না। তাদেরকে এ শাস্তির অবস্থায় ফেলে দিয়েই তোমাদেরকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা কোন দ্বিধা-সংকোচ না করেই চলে যাবে।” সম্ভবতঃ তাঁদের সাথে কেউ ছিলেন, যিনি তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “নূতকে (আঃ) আমি পূর্বেই বলে দিয়েছিলাম যে, ঐ লোকগুলিকে সকালেই ধ্বংস করে দেয়া হবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তাদের (শাস্তি দানের) প্রতিশ্রুত সময় হচ্ছে সকাল বেলা, সকাল কি নিকটবর্তী নয়?” (১১:৮১)

67

وَجَآءَ أَهْلُ ٱلْمَدِينَةِ يَسْتَبْشِرُونَ

শহরবাসীরা আনন্দ-উল্লাস করতে করতে পৌছল।

৬৭-৭২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত লূতের (আঃ) বাড়ীতে সুদর্শন তরুণ যুবকগণ অতিথি হিসেবে আগমন করেছেন। এ খবর যখন তাঁর কওমের লোকেরী পেলো তখন তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় তার বাড়ীতে দৌড়িয়ে আসলো। আল্লাহর নবী হযরত লুত (আঃ) তাদেরকে বুঝাতে লাগলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমার অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো।” স্বয়ং হযরত লুত (আঃ) জানতেন না যে, তার অতিথিগণ আল্লাহর ফেরে, যেমন সূরায়ে হুদে রয়েছে। যদিও এরও বর্ণনা এখানে পরে হয়েছে এবং ফেরেশতাদের প্রকাশিত হয়ে পড়ার বর্ণনা পূর্বে হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা ক্রম পর্যায় উদ্দেশ্য নয়। আর (আরবি) অক্ষরটি তারতীব বা ক্রম বিন্যাসের জন্যে আসেও না, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে ওর বিপরীত দলীল বিদ্যমান থাকে। হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ “আমাকে তোমরা অপদস্থ করো না।” তারা উত্তরে বলেঃ “আপনার যখন এটা খেয়াল ছিল তখন আপনি এদেরকে অতিথি হিসেবে আপনার বাড়ীতে স্থান দিয়েছেন কেন? আমরা তো। আপনাকে পূর্বেই নিষেধ করেছিলাম।” তখন তিনি তাদেরকে আরো বুঝিয়ে বললেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ, যারা আমার কন্যাতুল্য, তারাই তোমাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার পাত্র, এরা নয়।”এর পূর্ণ বিবরণ আমরা বিস্তারিতভাবে ইতিপূর্বে দিয়ে এসেছি। সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। যেহেতু ঐ লোকগুলি কাম-বাসনায় উন্নত্ত ছিল এবং আল্লাহর শাস্তির যে ফায়সালা তাদের মস্তকোপরি ঝুলছিল, তা থেকে তারা ছিল সম্পূর্ণরূপে উদাসীন, সেই হেতু আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীর (সঃ) জীবনের শপথ করে তাদের এই অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহর (সঃ) অত্যধিক মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর যতগুলি মাখলুক সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কেউই নেই। মহান আল্লাহ একমাত্র তাঁরই জীবনে শপথ ছাড়া আর কারো জীবনের শপথ করেন নাই। (আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। তাতেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ফিরছে।

68

قَالَ إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ ضَيْفِى فَلَا تَفْضَحُونِ

লূত বললেনঃ তারা আমার মেহমান। অতএব আমাকে লাঞ্ছিত করো না।

৬৭-৭২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত লূতের (আঃ) বাড়ীতে সুদর্শন তরুণ যুবকগণ অতিথি হিসেবে আগমন করেছেন। এ খবর যখন তাঁর কওমের লোকেরী পেলো তখন তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় তার বাড়ীতে দৌড়িয়ে আসলো। আল্লাহর নবী হযরত লুত (আঃ) তাদেরকে বুঝাতে লাগলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমার অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো।” স্বয়ং হযরত লুত (আঃ) জানতেন না যে, তার অতিথিগণ আল্লাহর ফেরে, যেমন সূরায়ে হুদে রয়েছে। যদিও এরও বর্ণনা এখানে পরে হয়েছে এবং ফেরেশতাদের প্রকাশিত হয়ে পড়ার বর্ণনা পূর্বে হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা ক্রম পর্যায় উদ্দেশ্য নয়। আর (আরবি) অক্ষরটি তারতীব বা ক্রম বিন্যাসের জন্যে আসেও না, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে ওর বিপরীত দলীল বিদ্যমান থাকে। হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ “আমাকে তোমরা অপদস্থ করো না।” তারা উত্তরে বলেঃ “আপনার যখন এটা খেয়াল ছিল তখন আপনি এদেরকে অতিথি হিসেবে আপনার বাড়ীতে স্থান দিয়েছেন কেন? আমরা তো। আপনাকে পূর্বেই নিষেধ করেছিলাম।” তখন তিনি তাদেরকে আরো বুঝিয়ে বললেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ, যারা আমার কন্যাতুল্য, তারাই তোমাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার পাত্র, এরা নয়।”এর পূর্ণ বিবরণ আমরা বিস্তারিতভাবে ইতিপূর্বে দিয়ে এসেছি। সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। যেহেতু ঐ লোকগুলি কাম-বাসনায় উন্নত্ত ছিল এবং আল্লাহর শাস্তির যে ফায়সালা তাদের মস্তকোপরি ঝুলছিল, তা থেকে তারা ছিল সম্পূর্ণরূপে উদাসীন, সেই হেতু আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীর (সঃ) জীবনের শপথ করে তাদের এই অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহর (সঃ) অত্যধিক মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর যতগুলি মাখলুক সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কেউই নেই। মহান আল্লাহ একমাত্র তাঁরই জীবনে শপথ ছাড়া আর কারো জীবনের শপথ করেন নাই। (আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। তাতেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ফিরছে।

69

وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ

তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার ইযযত নষ্ট করো না।

৬৭-৭২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত লূতের (আঃ) বাড়ীতে সুদর্শন তরুণ যুবকগণ অতিথি হিসেবে আগমন করেছেন। এ খবর যখন তাঁর কওমের লোকেরী পেলো তখন তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় তার বাড়ীতে দৌড়িয়ে আসলো। আল্লাহর নবী হযরত লুত (আঃ) তাদেরকে বুঝাতে লাগলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমার অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো।” স্বয়ং হযরত লুত (আঃ) জানতেন না যে, তার অতিথিগণ আল্লাহর ফেরে, যেমন সূরায়ে হুদে রয়েছে। যদিও এরও বর্ণনা এখানে পরে হয়েছে এবং ফেরেশতাদের প্রকাশিত হয়ে পড়ার বর্ণনা পূর্বে হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা ক্রম পর্যায় উদ্দেশ্য নয়। আর (আরবি) অক্ষরটি তারতীব বা ক্রম বিন্যাসের জন্যে আসেও না, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে ওর বিপরীত দলীল বিদ্যমান থাকে। হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ “আমাকে তোমরা অপদস্থ করো না।” তারা উত্তরে বলেঃ “আপনার যখন এটা খেয়াল ছিল তখন আপনি এদেরকে অতিথি হিসেবে আপনার বাড়ীতে স্থান দিয়েছেন কেন? আমরা তো। আপনাকে পূর্বেই নিষেধ করেছিলাম।” তখন তিনি তাদেরকে আরো বুঝিয়ে বললেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ, যারা আমার কন্যাতুল্য, তারাই তোমাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার পাত্র, এরা নয়।”এর পূর্ণ বিবরণ আমরা বিস্তারিতভাবে ইতিপূর্বে দিয়ে এসেছি। সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। যেহেতু ঐ লোকগুলি কাম-বাসনায় উন্নত্ত ছিল এবং আল্লাহর শাস্তির যে ফায়সালা তাদের মস্তকোপরি ঝুলছিল, তা থেকে তারা ছিল সম্পূর্ণরূপে উদাসীন, সেই হেতু আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীর (সঃ) জীবনের শপথ করে তাদের এই অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহর (সঃ) অত্যধিক মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর যতগুলি মাখলুক সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কেউই নেই। মহান আল্লাহ একমাত্র তাঁরই জীবনে শপথ ছাড়া আর কারো জীবনের শপথ করেন নাই। (আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। তাতেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ফিরছে।

70

قَالُوٓا۟ أَوَلَمْ نَنْهَكَ عَنِ ٱلْعَٰلَمِينَ

তার বললঃ আমরা কি আপনাকে জগৎদ্বাসীর সমর্থন করতে নিষেধ করিনি।

৬৭-৭২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত লূতের (আঃ) বাড়ীতে সুদর্শন তরুণ যুবকগণ অতিথি হিসেবে আগমন করেছেন। এ খবর যখন তাঁর কওমের লোকেরী পেলো তখন তারা তাদের খারাপ উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে অত্যন্ত আনন্দিত অবস্থায় তার বাড়ীতে দৌড়িয়ে আসলো। আল্লাহর নবী হযরত লুত (আঃ) তাদেরকে বুঝাতে লাগলেন। তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আমার অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো।” স্বয়ং হযরত লুত (আঃ) জানতেন না যে, তার অতিথিগণ আল্লাহর ফেরে, যেমন সূরায়ে হুদে রয়েছে। যদিও এরও বর্ণনা এখানে পরে হয়েছে এবং ফেরেশতাদের প্রকাশিত হয়ে পড়ার বর্ণনা পূর্বে হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা ক্রম পর্যায় উদ্দেশ্য নয়। আর (আরবি) অক্ষরটি তারতীব বা ক্রম বিন্যাসের জন্যে আসেও না, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে যেখানে ওর বিপরীত দলীল বিদ্যমান থাকে। হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ “আমাকে তোমরা অপদস্থ করো না।” তারা উত্তরে বলেঃ “আপনার যখন এটা খেয়াল ছিল তখন আপনি এদেরকে অতিথি হিসেবে আপনার বাড়ীতে স্থান দিয়েছেন কেন? আমরা তো। আপনাকে পূর্বেই নিষেধ করেছিলাম।” তখন তিনি তাদেরকে আরো বুঝিয়ে বললেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ, যারা আমার কন্যাতুল্য, তারাই তোমাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার পাত্র, এরা নয়।”এর পূর্ণ বিবরণ আমরা বিস্তারিতভাবে ইতিপূর্বে দিয়ে এসেছি। সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। যেহেতু ঐ লোকগুলি কাম-বাসনায় উন্নত্ত ছিল এবং আল্লাহর শাস্তির যে ফায়সালা তাদের মস্তকোপরি ঝুলছিল, তা থেকে তারা ছিল সম্পূর্ণরূপে উদাসীন, সেই হেতু আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীর (সঃ) জীবনের শপথ করে তাদের এই অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহর (সঃ) অত্যধিক মর্যাদা প্রকাশিত হয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর যতগুলি মাখলুক সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান আর কেউই নেই। মহান আল্লাহ একমাত্র তাঁরই জীবনে শপথ ছাড়া আর কারো জীবনের শপথ করেন নাই। (আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। তাতেই তারা উদভ্রান্ত হয়ে ফিরছে।

Commentary: Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication). Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.