Muslim99Muslim99
← Tafsir library

15. Al-Hijr

The Rock · Meccan · 99 ayahs

سُورَةُ الحِجۡرِ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 1–10 of 99

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

1

الٓر ۚ تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ وَقُرْءَانٍۢ مُّبِينٍۢ

আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো পরিপূর্ণ গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত।

আলিফ লা-ম রা। এগুলি আয়াত মহাগ্রন্থের, সুস্পষ্ট কুরআনের। [১]

[১] মহাগ্রন্থ এবং সুস্পষ্ট কুরআন থেকে নবী (সাঃ)-এর উপর নাযিলকৃত কুরআনকেই বুঝানো হয়েছে, যেমন ﴿قَدْ جَاءكُم مِّنَ اللهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ﴾ (১৫) سورة المائدة এ নূর (আলো) এবং কিতাব উভয় থেকে কুরআন কারীমকেই বুঝানো হয়েছে। কুরআনের মর্যাদা বর্ধনের উদ্দেশ্যে কুরআনকে নাকেরা (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) রূপে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই কুরআন সম্পূর্ণ এবং অত্যন্ত মর্যাদা ও মাহাত্ম্যপূর্ণ।

2

رُّبَمَا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْ كَانُوا۟ مُسْلِمِينَ

কোন সময় কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, কি চমৎকার হত, যদি তারা মুসলমান হত।

কোন এক সময় অবিশ্বাসীরা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, তারা যদি মুসলিম হত! [১]

[১] এই আকাঙ্ক্ষা কখন করবে? মৃত্যুর সময় যখন ফিরিশতারা জাহান্নামের আগুন দেখাবেন তখন, নাকি যখন জাহান্নামে চলে যাবে তখন। অথবা যখন গোনাহগার মু'মিনদেরকে কিছুদিন জাহান্নামে শাস্তি স্বরূপ রাখার পর বের করে নেওয়া হবে তখন, নাকি যখন হাশরের মাঠে বিচার চলবে আর কাফেররা দেখবে যে, মু'মিনরা জান্নাতে যাচ্ছে তখন কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে, হায় তারাও যদি মুসলমান হতো। ربما অধিকাংশ 'অধিক' অর্থে ব্যবহার হয়, তবে কখনো কখনো 'অল্প' অর্থেও ব্যবহার হয়ে থাকে। কেউ কেউ বলেন, তারা এই আকাঙ্ক্ষা সর্ব অবস্থায় করবে কিন্তু তাদের এই আকাঙ্ক্ষা কোন কাজে লাগবে না।

3

ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا۟ وَيَتَمَتَّعُوا۟ وَيُلْهِهِمُ ٱلْأَمَلُ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ

আপনি ছেড়ে দিন তাদেরকে, খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক এবং আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্বর তারা জেনে নেবে।

তাদেরকে ছেড়ে দাও তারা খেতে থাকুক, ভোগ করতে থাকুক এবং আশা ওদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখুক, পরিণামে তারা বুঝবে। [১]

[১] এটি তিরঙ্কার ও ধমক, যদি কাফের ও মুশরিকরা কুফরী ও শিরক থেকে ফিরে না আসে, তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দাও। তারা ভোগ বিলাসে ডুবে থাকুক, আশা করতে থাকুক, অচিরেই তারা তাদের কুফরী ও শিরকের পরিণাম বুঝতে পারবে।

4

وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌۭ مَّعْلُومٌۭ

আমি কোন জনপদ ধবংস করিনি; কিন্ত তার নির্দিষ্ট সময় লিখিত ছিল।

আমি কোন জনপদকে তার নির্দিষ্টকাল পূর্ণ না হলে ধ্বংস করিনি।

5

مَّا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَـْٔخِرُونَ

কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট সময়ের অগ্রে যায় না এবং পশ্চাতে থাকে না।

কোন জাতি তার নির্দিষ্ট কালকে তরান্বিত করতে পারে না এবং বিলম্বিতও করতে পারে না।[১]

[১] যখন কোন জনপদকে তাদের পাপের জন্য ধ্বংস করি, তখন হঠাৎ করি না; বরং তাদের জন্য একটা সময় নিদিষ্ট করে থাকি, সেই সময় পর্যন্ত তাদের অবকাশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময় এসে গেলেই তাদেরকে ধ্বংস করে দিই। সুতরাং সেই সময়কে তাদের জন্য আগা-পিছা করা হয় না।

6

وَقَالُوا۟ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِى نُزِّلَ عَلَيْهِ ٱلذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌۭ

তারা বললঃ হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি কোরআন নাযিল হয়েছে, আপনি তো একজন উম্মাদ।

তারা বলে, ‘ওহে যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ।

7

لَّوْ مَا تَأْتِينَا بِٱلْمَلَٰٓئِكَةِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ

যদি আপনি সত্যবাদী হন, তবে আমাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে আনেন না কেন?

তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের নিকট ফিরিশতাবর্গ হাযির করছ না কেন?’ [১]

[১] এটি কাফেরদের কুফরী ও বিরূদ্ধাচরণের বর্ণনা। তারা নবী (সাঃ)-কে পাগল বলত। আর বলত যে, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তুমি তোমার আল্লাহকে বল, তিনি কোন ফিরিশতা পাঠান, যিনি তোমার রিসালতের সত্যতা বর্ণনা করবেন অথবা আমাদেরকে ধ্বংস করবেন।

8

مَا نُنَزِّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَمَا كَانُوٓا۟ إِذًۭا مُّنظَرِينَ

আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না।

আমি ফিরিশতাদেরকে যথার্থ কারণ ব্যতীত অবতীর্ণ করি না; আর (ফিরিশতা অবতীর্ণ করলে) তখন তারা অবকাশ পাবে না। [১]

[১] মহান আল্লাহ বলেন, আমি ফিরিশতা যথার্থ কারণে পাঠিয়ে থাকি। অর্থাৎ যখন আমার ইচ্ছা ও হিকমত আযাব পাঠানোর হয়, তখন ফিরিশতা অবতীর্ণ করে থাকি, আর তখন অবকাশ দেওয়া হয় না বরং ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

9

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا ٱلذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।

নিশ্চয় আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই ওর সংরক্ষক।[১]

[১] অর্থাৎ কুরআনে অবৈধ হস্তক্ষেপ, বিকৃতি সাধন ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন হতে রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। অতএব কুরআন সেইভাবেই আজও সুরক্ষিত আছে, যেভাবে তা অবতীর্ণ হয়েছিল। ভ্রষ্ট ফির্কাগুলো নিজ নিজ আকীদার সর্মথনে কুরআনের আয়াতের আর্থিক বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং আজও ঘটাচ্ছে। তবে শাব্দিক বিকৃতি ও পরিবর্তন হতে তা এখনও সুরক্ষিত। এ ছাড়াও সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত একটি দল আর্থিক বিকৃতির পর্দা ছিঁড়ে ফেলার জন্য সর্বকালেই বিদ্যমান, যারা তাদের আকীদার ও তাদের ভুল দলীল-প্রমাণাদির অসারতা প্রমাণ করেছেন এবং আজও তাঁরা সেই কাজে সচেষ্ট। তাছাড়া কুরআনকে এখানে যিকর (উপদেশ) বলে ব্যক্ত করা হয়েছে, যাতে বুঝা যায় যে, নবী (সাঃ)-এর স্বর্ণোজ্জ্বল জীবনাদর্শ ও তাঁর অমিয় বাণীকে সুরক্ষিত করে কুরআন কারীমের বিশ্ববাসীর জন্য উপদেশ হওয়ার দিকটাকে কিয়ামত পর্যন্ত সুরক্ষিত করা হয়েছে। অতএব কুরআন কারীম ও নবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ দ্বারা বিশ্ববাসীকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পথ সর্বকালের জন্য খোলা রয়েছে। উক্ত মর্যাদা ও সুরক্ষার বৈশিষ্ট্য পূর্বের কোন নবী বা কিতাবকে দেওয়া হয়নি।

10

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِى شِيَعِ ٱلْأَوَّلِينَ

আমি আপনার পূর্বে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের মধ্যে রসূল প্রেরণ করেছি।

অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি অনেক সম্প্রদায়ের নিকট রসূল পাঠিয়েছিলাম।

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.