Muslim99Muslim99
← Tafsir library

14. Ibrahim

Abraham · Meccan · 52 ayahs

سُورَةُ إِبۡرَاهِيمَ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 31–40 of 52

31

قُل لِّعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يُقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُنفِقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ سِرًّۭا وَعَلَانِيَةًۭ مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌۭ لَّا بَيْعٌۭ فِيهِ وَلَا خِلَٰلٌ

আমার বান্দাদেরকে বলে দিন যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তারা নামায কায়েম রাখুক এবং আমার দেয়া রিযিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করুক ঐদিন আসার আগে, যেদিন কোন বেচা কেনা নেই এবং বন্ধুত্বও নেই।

আমার বান্দাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী তাদেরকে বল, ‘তারা যেন নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা দান করেছি তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; সেদিন আসার পূর্বে যেদিন কোন ক্রয়-বিক্রয় থাকবে না এবং থাকবে না কোন বন্ধুত্ব।’[১]

[১] নামায কায়েম বা প্রতিষ্ঠা করার অর্থ এই যে, তা নবী (সাঃ)-এর তরীকা মোতাবেক যথাসময়ে, মনোযোগ সহকারে এবং বিনয়-নম্রতা বজায় রেখে সম্পন্ন করা। ব্যয় করার অর্থ যাকাত আদায় করা, তার মাধ্যমে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা এবং অন্যান্য অভাবীদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করা। শুধু এই নয় যে, মুসলিম নিজের স্বার্থে ও নিজস্ব প্রয়োজনে অকুণ্ঠভাবে বহু অর্থ ব্যয় করবে; কিন্তু আল্লাহর নির্দেশিত স্থানে ব্যয় করতে কুণ্ঠাবোধ করবে। কিয়ামতের দিন এমন হবে যেখানে না ক্রয়-বিক্রয় সম্ভব হবে, আর না কোন বন্ধুত্ব কারো কাজে আসবে।

32

ٱللَّهُ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءًۭ فَأَخْرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزْقًۭا لَّكُمْ ۖ وَسَخَّرَ لَكُمُ ٱلْفُلْكَ لِتَجْرِىَ فِى ٱلْبَحْرِ بِأَمْرِهِۦ ۖ وَسَخَّرَ لَكُمُ ٱلْأَنْهَٰرَ

তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্যে ফলের রিযিক উৎপন্ন করেছেন এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে সমুদ্রে চলা ফেরা করে এবং নদ-নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন।

আল্লাহ; যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, যিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করে তার দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-মূল উৎপাদন করেছেন, যিনি নৌযানকে তোমাদের অধীন করেছেন; যাতে তাঁর নির্দেশে তা সমুদ্রে বিচরণ করে এবং যিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন নদীসমূহকে।[১]

[১] মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের প্রতি যেসব অনুগ্রহ ও সম্পদ দান করেছেন, সেসবের মধ্যে কিছুর বর্ণনা এখানে করা হচ্ছে। বলেছেন, তিনি আকাশকে ছাদ এবং যমীনকে বিছানা বানিয়েছেন। আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে বিভিন্ন প্রকারের গাছপালা এবং ফসল উৎপন্ন করেছেন; যার মধ্যে রয়েছে স্বাদ উপভোগ ও শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ফলমূল এবং নানা ধরনের শস্য; যার রং ও আকার এক অপর থেকে ভিন্ন এবং স্বাদ, সুগন্ধি ও উপকারিতাও পৃথক পৃথক। নৌকা ও জলজাহাজকে মানুষের খিদমতে লাগিয়ে দিয়েছেন, যা উত্তাল তরঙ্গ ভেদ করে চলে, মানুষকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছে দেয় এবং পণ্যসামগ্রীও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে। ভূপৃষ্ঠ ও পাহাড় থেকে ঝর্ণাধারা ও নদী-নালা প্রবাহিত করেছেন, যাতে করে তোমরা নিজেরাও পানি পান করতে পার এবং বাগান-ক্ষেতও সেচতে সক্ষম হও।

33

وَسَخَّرَ لَكُمُ ٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ دَآئِبَيْنِ ۖ وَسَخَّرَ لَكُمُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ

এবং তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিবাকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন।

তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চন্দ্রকে; যারা অবিরাম একই নিয়মের অনুবর্তী[১] এবং তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত্রি ও দিবসকে। [২]

[১] অর্থাৎ, অবিরাম চলতে থাকে, কখনও থামে না, না রাতে না দিনে। এ ছাড়া এক অপরের পিছে চলে, কিন্তু কখনো পরস্পর ধাক্কা খায় না।

[২] রাত ও দিন, এদের পরস্পর ব্যবধান অব্যাহত থাকে। কখনো রাত দিনের কিছু অংশ নিয়ে বড় হয়ে যায় এবং কখনো দিন রাতের কিছু অংশ নিয়ে বড় হয়ে যায়। আর এ পরম্পরা সৃষ্টির শুরু থেকেই চলে আসছে, এতে এক চুল পরিমাণও কোন পার্থক্য আসেনি।

34

وَءَاتَىٰكُم مِّن كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوهُ ۚ وَإِن تَعُدُّوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ لَا تُحْصُوهَآ ۗ إِنَّ ٱلْإِنسَٰنَ لَظَلُومٌۭ كَفَّارٌۭ

যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ।

আর তিনি তোমাদেরকে প্রত্যেকটি সেই জিনিস দিয়েছেন যা তোমরা তাঁর নিকট চেয়েছ।[১] তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করলে ওর সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না;[২] মানুষ অবশ্যই অতি মাত্রায় সীমালংঘনকারী অকৃতজ্ঞ। [৩]

[১] অর্থাৎ, তিনি তোমাদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তু যা তোমরা তাঁর কাছে চাও তোমাদের জন্য সরবরাহ করে দিয়েছেন। কতিপয় উলামা বলেন যে, যা তোমরা চাও তাও দেন এবং যা চাও না, অথচ তিনি জানেন যে, তা তোমাদের প্রয়োজন তাও দেন। মোট কথা জীবনযাপন করার সমস্ত সুবিধা তোমাদেরকে যোগান।

[২] অর্থাৎ, আল্লাহর নিয়ামতরাজি অগণন, তা কেউ গুনে শেষ করতে পারে না; উক্ত নিয়ামতসমূহের যথাযথ কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারা তো দূরের কথা। একটি বর্ণনায় আছে যে, একদা দাঊদ (আঃ) বললেন, 'হে রব! আমি তোমার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা কিভাবে প্রকাশ করব? অথচ স্বয়ং কৃতজ্ঞতা প্রকাশই তোমার পক্ষ থেকে আমার প্রতি এক নিয়ামত।' মহান আল্লাহ বললেন, "হে দাঊদ! তুমি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে, যখন তুমি স্বীকার করে বললে যে, 'হে আল্লাহ! আমি তোমার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে অপারক।" (তাফসীর ইবনে কাসীর)

[৩] আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে গাফিলতির কারণে মানুষ সীমালংঘন করে এবং স্বীয় আত্মার প্রতি অত্যাচার করে, বিশেষ করে কাফেররা; যারা পূর্ণরূপে আল্লাহ সম্বন্ধে উদাসীন।

35

وَإِذْ قَالَ إِبْرَٰهِيمُ رَبِّ ٱجْعَلْ هَٰذَا ٱلْبَلَدَ ءَامِنًۭا وَٱجْنُبْنِى وَبَنِىَّ أَن نَّعْبُدَ ٱلْأَصْنَامَ

যখন ইব্রাহীম বললেনঃ হে পালনকর্তা, এ শহরকে শান্তিময় করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তান সন্ততিকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন।

আর (স্মরণ কর,) যখন ইব্রাহীম বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে (মক্কাকে) নিরাপদ কর[১] এবং আমাকে ও আমার পুত্রগণকে প্রতিমা পূজা হতে দূরে রাখ।

[১] এই শহর অর্থাৎ মক্কা। 'এই শহরকে নিরাপদ কর' অন্যান্য দু'আর পূর্বে এই দু'আ করলেন এই কারণে যে, নিরাপত্তা ও শান্তি কায়েম থাকলে মানুষ অন্যান্য নিয়ামত থেকেও ঠিকভাবে উপকৃত হতে পারবে, নচেৎ শান্তি-স্বস্তি ব্যতীত সমস্ত সুখ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ভয় ও আতঙ্ক মানুষকে কাতর ও পেরেশান করে রাখে। যেমন বর্তমানে সঊদী আরব ছাড়া অন্যান্য দেশের অবস্থা। সঊদী আরবে আজও সেই দু'আর বর্কতে এবং ইসলামী আইন চালু থাকার কারণে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি বিরাজ করছে। আল্লাহ এ দেশকে যাবতীয় অমঙ্গল ও ফিতনা থেকে রক্ষা করুন। আমীন। এখানে মহান আল্লাহর নানা অনুগ্রহের অন্তর্গত নিরাপত্তার মত একটি বড় অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে ইঙ্গিত করেছেন যে, কুরাইশ যেরূপ আল্লাহর অন্যান্য নিয়ামত থেকে উদাসীন, অনুরূপ এই বিশেষ নিয়ামত থেকেও উদাসীন যে, তিনি তাদেরকে মক্কার মত নিরাপদ ও শান্তিময় শহরের বাসিন্দা বানিয়েছেন।

36

رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًۭا مِّنَ ٱلنَّاسِ ۖ فَمَن تَبِعَنِى فَإِنَّهُۥ مِنِّى ۖ وَمَنْ عَصَانِى فَإِنَّكَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ

হে পালনকর্তা, এরা অনেক মানুষকে বিপথগামী করেছে। অতএব যে আমার অনুসরণ করে, সে আমার এবং কেউ আমার অবাধ্যতা করলে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

হে আমার প্রতিপালক! এসব প্রতিমা বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে;[১] সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে তুমি তো চরম ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

[১] পথভ্রষ্ট করার কাজের সম্পর্ক জোড়া হয়েছে ঐ পাথরের মূর্তিদের সাথে, মুশরিকরা যাদের পূজা-অর্চনা করত, অথচ তারা নির্বোধ, কেননা সেসব মূর্তি মানুষের পথভ্রষ্টের কারণ ছিল।

37

رَّبَّنَآ إِنِّىٓ أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِى بِوَادٍ غَيْرِ ذِى زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ ٱلْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ فَٱجْعَلْ أَفْـِٔدَةًۭ مِّنَ ٱلنَّاسِ تَهْوِىٓ إِلَيْهِمْ وَٱرْزُقْهُم مِّنَ ٱلثَّمَرَٰتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ

হে আমাদের পালনকর্তা, আমি নিজের এক সন্তানকে তোমার পবিত্র গৃহের সন্নিকটে চাষাবাদহীন উপত্যকায় আবাদ করেছি; হে আমাদের পালনকর্তা, যাতে তারা নামায কায়েম রাখে। অতঃপর আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন এবং তাদেরকে ফলাদি দ্বারা রুযী দান করুন, সম্ভবতঃ তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে

হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার কিছু বংশধরকে[১] ফল-ফসলহীন উপত্যকায় তোমার পবিত্র গৃহের নিকট বসবাস করালাম; হে আমাদের প্রতিপালক! যাতে তারা নামায কায়েম করে।[২] সুতরাং তুমি কিছু লোকের[৩] অন্তরকে ওদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং ফলমূল দ্বারা তাদের জীবিকার ব্যবস্থা কর;[৪] যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

[১] مِنْ ذُرِّيَّتِيْ তে مِنْ তাব'ঈযের (অর্থাৎ আংশিক অর্থ প্রকাশের) জন্য ব্যবহূত হয়েছে। অর্থাৎ কিছু বংশধরকে। বলা হয় যে, ইবরাহীম (আঃ)-এর ঔরসজাত ছেলে আটজন, তাদের মধ্যে শুধু ইসমাঈল (আঃ)-কে এখানে বসবাস করিয়েছিলেন। (ফাতহুল কাদীর)

[২] ইবাদতসমূহের মধ্যে শুধু নামাযের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নামাযের গুরুত্ব প্রকাশ পায়।

[৩] এখানেও مِنْ তাব'ঈযের (অর্থাৎ আংশিক অর্থ প্রকাশের) জন্য ব্যবহূত হয়েছে। অর্থাৎ, কিছু লোকের; উদ্দেশ্য মুসলিমগণ। সুতরাং দেখে নিন যে, কিভাবে নিখিল বিশ্বের মুসলিমরা মক্কা মুকার্রামায় একত্রিত হয়ে থাকে এবং হজ্জের মৌসম ছাড়াও সারা বছর এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। যদি ইবরাহীম (আঃ) أفْئِدَةَ النَّاسِ (মানুষের অন্তর) বলতেন, তাহলে খ্রিষ্টান, ইয়াহুদী, অগ্নিপূজক এবং অন্যান্য সমস্ত মানুষ মক্কা পৌঁছত। مِنَ النَّاسِ এর مِنْ শব্দটি এই দু'আকে মুসলমান পর্যন্ত সীমিত করে দিয়েছে। (ইবনে কাসীর)

[৪] এ দু'আরও প্রভাব লক্ষণীয় যে, মক্কার মত বৃক্ষ-পানিহীন অনাবাদ জায়গাতে যেখানে কোন ফলদার বৃক্ষ ছিল না, আজ সেখানে বিভিন্ন প্রকারের ফলমূল পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। হজ্জের মৌসুমেও ফল-ফ্রুটের কোন প্রকার ঘাটতি হয় না, অথচ লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়। এটা মহান আল্লাহর খলীল ইবরাহীম (আঃ)-এর দু'আর বদৌলতে তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ থেকে দয়া, কৃপা, অনুগ্রহ, অনুকম্পা ও বরকত। বলা হয় যে, তিনি উক্ত দু'আ কা'বাঘর নির্মাণ করার পর করেছিলেন। পক্ষান্তরে প্রথম দু'আটি (নিরাপদ কর) সেই সময় করেছিলেন, যখন স্বীয় স্ত্রী ও নবজাত শিশু ইসমাঈলকে আল্লাহর নির্দেশে সেখানে রেখে চলে গিয়েছিলেন। (ইবনে কাসীর)

38

رَبَّنَآ إِنَّكَ تَعْلَمُ مَا نُخْفِى وَمَا نُعْلِنُ ۗ وَمَا يَخْفَىٰ عَلَى ٱللَّهِ مِن شَىْءٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِى ٱلسَّمَآءِ

হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি তো জানেন আমরা যা কিছু গোপনে করি এবং যা কিছু প্রকাশ্য করি। আল্লাহর কাছে পৃথিবীতে ও আকাশে কোন কিছুই গোপন নয়।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যা গোপন করি এবং যা প্রকাশ করি তা নিশ্চয় তুমি জানো। আর পৃথিবী ও আকাশের কোন কিছুই আল্লাহর নিকট গোপন থাকে না। [১]

[১] অর্থাৎ আমার দু'আর উদ্দেশ্য তুমি তো ভালভাবে জান। এই শহরবাসীর জন্য দু'আর মূল উদ্দেশ্য তোমার সন্তুষ্টি। তুমি তো প্রত্যেক জিনিসের বাস্তবতা সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত, আকাশ ও পৃথিবীর কোন কিছু তোমার কাছে গোপন নেই।

39

ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى وَهَبَ لِى عَلَى ٱلْكِبَرِ إِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ ۚ إِنَّ رَبِّى لَسَمِيعُ ٱلدُّعَآءِ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমাকে এই বার্ধক্যে ইসমাঈল ও ইসহাক দান করেছেন নিশ্চয় আমার পালনকর্তা দোয়া শ্রবণ করেন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য যিনি আমাকে (আমার) বার্ধক্য সত্ত্বেও ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। আমার প্রতিপালক অবশ্যই দুআ শ্রবণকারী।

40

رَبِّ ٱجْعَلْنِى مُقِيمَ ٱلصَّلَوٰةِ وَمِن ذُرِّيَّتِى ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَآءِ

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দোয়া।

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নামায প্রতিষ্ঠাকারী বানাও এবং আমার বংশধরদের মধ্য হতেও।[১] হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দুআ কবুল কর।

[১] নিজের সাথে স্বীয় সন্তানদের জন্যও দু'আ করলেন। ইতিপূর্বেও নিজের সাথে স্বীয় সন্তানদের জন্য দু'আ করলেন যে, তাদেরকে পাথরের মূর্তিপূজা থেকে বাঁচিয়ে রাখো। এ থেকে জানা গেল যে, দ্বীনের আহবায়কদেরকে স্বীয় পরিবারের হিদায়াত এবং তাদের দ্বীনী শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারে উদাসীন থাকা উচিত নয়। বরং দাওয়াত ও তবলীগে তাদেরকে প্রাথমিক পর্যায়ে রাখা উচিত। যেমন মহান আল্লাহ স্বীয় শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-কেও নির্দেশ দিয়েছেন: ﴿وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ﴾ অর্থাৎ, স্বীয় নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক কর। (সূরা শু'আরা ২৬:২১৪)

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.