Muslim99Muslim99
← Tafsir library

13. Ar-Ra'd

The Thunder · Medinan · 43 ayahs

سُورَةُ الرَّعۡدِ

Reading Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies

Ayahs 21–30 of 43

21

وَٱلَّذِينَ يَصِلُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوٓءَ ٱلْحِسَابِ

এবং যারা বজায় রাখে ঐ সম্পর্ক, যা বজায় রাখতে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন এবং স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে এবং কঠোর হিসাবের আশঙ্কা রাখে।

২১. তারাই আল্লাহ তা‘আলা যে আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখতে আদেশ করেছেন তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তারাই নিজেদের প্রতিপালককে এমনভাবে ভয় করে যা তাদেরকে তাঁর আদেশ-নিষেধ মানার প্রতি ধাবিত করে। উপরন্তু তারা আল্লাহর নিকট নিজেদের অর্জিত সকল গুনাহর হিসাবের ভয় করে। কারণ, যার হিসাব বিশ্লেষণ করা হবে সে ধ্বংস হবে।

22

وَٱلَّذِينَ صَبَرُوا۟ ٱبْتِغَآءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنفَقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ سِرًّۭا وَعَلَانِيَةًۭ وَيَدْرَءُونَ بِٱلْحَسَنَةِ ٱلسَّيِّئَةَ أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ عُقْبَى ٱلدَّارِ

এবং যারা স্বীয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির জন্যে সবর করে, নামায প্রতিষ্টা করে আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্য ব্যয় করে এবং যারা মন্দের বিপরীতে ভাল করে, তাদের জন্যে রয়েছে পরকালের গৃহ।

২২. তারাই আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর সুখ-দুঃখের ফায়সালার উপর ধৈর্য ধারণ করে ও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে সংযত থাকে। তেমনিভাবে তারাই পরিপূর্ণরূপে সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে বাধ্যতামূলক দান-সাদকা প্রদান করে। অনুরূপভাবে তারা নফল দানগুলো কাউকে দেখানো থেকে দূরে থাকার জন্য গোপনভাবে এবং অন্যদের অনুসরণের আশায় প্রকাশ্যভাবে ব্যয় করে থাকে। উপরন্তু অনাচারীদের অনাচার দয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ করে। এ গুণাবলীর অধিকারীদের জন্য কিয়ামতের দিন প্রশংসনীয় পরিণাম রয়েছে।

23

جَنَّٰتُ عَدْنٍۢ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَآئِهِمْ وَأَزْوَٰجِهِمْ وَذُرِّيَّٰتِهِمْ ۖ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍۢ

তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে।

২৩. এ প্রশংসনীয় পরিণাম হলো জান্নাত। যাতে তারা নিয়ামতপ্রাপ্ত হয়ে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে। তাদের নিয়ামতের পরিপূর্ণতার জন্য তাদের সাথেই সেখানে প্রবেশ করবে সত্যের উপর অটল তাদের বাপ-দাদা, মা-নানী-দাদী, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরা। যেন তাদের সাক্ষাতে ওদের মানসিক প্রশান্তি পরিপূর্ণতা লাভ করে। আর ফিরিশতারা জান্নাতে তাদের ঘরগুলোর সকল দরজা থেকে সম্ভাষণ জানিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে।

24

سَلَٰمٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ ۚ فَنِعْمَ عُقْبَى ٱلدَّارِ

বলবেঃ তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমাদের এ পরিণাম-গৃহ কতই না চমৎকার।

২৪. যখনই ফিরিশতারা তাদের নিকট প্রবেশ করবে তখন তাদেরকে “সালামুন আলাইকুম” বলে সম্ভাষণ জানাবে। মানে, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। কেননা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর তিক্ত ফায়সালার উপর ধৈর্য ধারণ করেছো, তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে দূরে থেকেছো। ফলে সকল বিপদ থেকে তোমরা রক্ষা পেয়েছো। সুতরাং তোমাদের পরিণতি কতোই না সুন্দর। আর তা হলো জান্নাত।

25

وَٱلَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مِيثَٰقِهِۦ وَيَقْطَعُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ ۙ أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوٓءُ ٱلدَّارِ

এবং যারা আল্লাহর অঙ্গীকারকে দৃঢ় ও পাকা-পোক্ত করার পর তা ভঙ্গ করে, আল্লাহ যে, সম্পর্ক বজায় রাখতে আদেশ করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, ওরা ঐ সমস্ত লোক যাদের জন্যে রয়েছে অভিসম্পাত এবং ওদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব।

২৫. যারা আল্লাহর সাথে শক্ত অঙ্গীকারের পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ তা‘আলা যে আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখার আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে তারা হলো দুর্ভাগা; আল্লাহর দয়া থেকে অনেক দূরে। বস্তুতঃ তারা আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট পরিণতি তথা জাহান্নাম।

26

ٱللَّهُ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ ۚ وَفَرِحُوا۟ بِٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا فِى ٱلْءَاخِرَةِ إِلَّا مَتَٰعٌۭ

আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রুযী প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। তারা পার্থিব জীবনের প্রতি মুগ্ধ। পার্থিবজীবন পরকালের সামনে অতি সামান্য সম্পদ বৈ নয়।

২৬. আল্লাহ যাকে চান তার রিযিকে প্রশস্ততা দেন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে চান তার রিযিককে সঙ্কীর্ণ করেন। তবে রিযিকের প্রশস্ততা সৌভাগ্য ও আল্লাহর ভালোবাসার আলামত নয়। না রিযিকের সঙ্কীর্ণতা দুর্ভাগ্যের আলামত। কাফিররা দুনিয়ার জীবনের প্রতি খুশি হয়ে সেদিকে ঝুঁকে পড়েছে ও তাতে তারা প্রশান্তি পায়। অথচ দুনিয়ার জীবন আখিরাতের তুলনায় খুবই সামান্য, অস্থায়ী ভোগ-বিলাস।

27

وَيَقُولُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْلَآ أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَةٌۭ مِّن رَّبِّهِۦ ۗ قُلْ إِنَّ ٱللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِىٓ إِلَيْهِ مَنْ أَنَابَ

কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন অবতীর্ণ হলো না? বলে দিন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যে, মনোনিবেশ করে, তাকে নিজের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।

২৭. যারা আল্লাহ ও তাঁর নিদর্শনাবলীর সাথে কুফরি করেছে তারা বলে: কেন মুহাম্মাদের উপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর সত্যতার প্রমাণ স্বরূপ দৃষ্টিগোচর এমন কোন আলামত নাযিল হয়নি যার উপর আমরা ঈমান আনতাম। হে রাসূল! আপনি এ প্রস্তাবকারীদেরকে বলুন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা যাকে চান তাঁর ইনসাফের ভিত্তিতেই তাকে পথভ্রষ্ট করেন এবং তাওবার মাধ্যমে তাঁর দিকে ফিরে আসা ব্যক্তিকে তিনি নিজ দয়ায় সত্যের পথ দেখান। হিদায়েত তাদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল নয় যে, তারা সেটিকে নিদর্শনসমূহ নাযিলের সাথে সম্পৃক্ত করবে।

28

ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ ٱللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ ٱللَّهِ تَطْمَئِنُّ ٱلْقُلُوبُ

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।

২৮. যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা হিদায়েত দিয়ে থাকেন তারা হলো মু’মিন বান্দা। তাদের অন্তরগুলো আল্লাহর স্মরণে, তাঁর তাসবীহ, প্রশংসা এবং কুর‘আন তিলাওয়াত ও তিলাওয়াত শ্রবণে প্রশান্তি পায়। বস্তুতঃ এক আল্লাহর স্মরণেই তাদের অন্তরগুলো প্রশান্তি পায় এবং সেগুলোর সাথে তা মানানসইও বটে।

29

ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ طُوبَىٰ لَهُمْ وَحُسْنُ مَـَٔابٍۢ

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ এবং মনোরম প্রত্যাবর্তণস্থল।

২৯. এরা যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং তাঁর নৈকট্য দানকারী নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়েছে পরকালের পবিত্র জীবন। উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে সুন্দর পরিণতি তথা জান্নাত।

30

كَذَٰلِكَ أَرْسَلْنَٰكَ فِىٓ أُمَّةٍۢ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهَآ أُمَمٌۭ لِّتَتْلُوَا۟ عَلَيْهِمُ ٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِٱلرَّحْمَٰنِ ۚ قُلْ هُوَ رَبِّى لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ

এমনিভাবে আমি আপনাকে একটি উম্মতের মধ্যে প্রেরণ করেছি। তাদের পূর্বে অনেক উম্মত অতিক্রান্ত হয়েছে। যাতে আপনি তাদেরকে ঐ নির্দেশ শুনিয়ে দেন, যা আমি আপনার কাছে প্রেরণ করেছি। তথাপি তারা দয়াময়কে অস্বীকার করে। বলুনঃ তিনিই আমার পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কারও উপাসনা নাই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমার প্রত্যাবর্তণ।

৩০. হে রাসূল! যেভাবে আমি পূর্ববর্তী রাসূলদেরকে তাঁদের উম্মতগুলোর নিকট পাঠিয়েছি তেমনিভাবে আপনাকেও আপনার উম্মতের নিকট পাঠিয়েছি। যেন আপনি নিজের উপর ওহীকৃত কুর‘আন তাদেরকে পড়ে শুনাতে পারেন। কারণ, সেটি আপনার সত্যতার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। তবে আপনার জাতির অবস্থা হলো তারা এ নিদর্শনকে অস্বীকার করে। কারণ, তারা রহমানের সাথে কুফরি করে তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বলে দিন, যে রহমানের সাথে তোমরা অন্যকে শরীক করছো তিনি হলেন আমার প্রতিপালক। যিনি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই। আমার সকল ব্যাপারে আমি তাঁর উপরই ভরসা করি এবং তাঁর দিকেই আমি ফিরে যাই।

Commentary: Al-Mukhtasar in Interpreting the Noble Qur'an by Tafsir Center for Quranic Studies. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.