Muslim99Muslim99
← Tafsir library

12. Yusuf

Joseph · Meccan · 111 ayahs

سُورَةُ يُوسُفَ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 81–90 of 111

81

ٱرْجِعُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَبِيكُمْ فَقُولُوا۟ يَٰٓأَبَانَآ إِنَّ ٱبْنَكَ سَرَقَ وَمَا شَهِدْنَآ إِلَّا بِمَا عَلِمْنَا وَمَا كُنَّا لِلْغَيْبِ حَٰفِظِينَ

তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বলঃ পিতা আপনার ছেলে চুরি করেছে। আমরা তাই বলে দিলাম, যা আমাদের জানা ছিল এবং অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি আমাদের লক্ষ্য ছিল না।

তোমরা তোমাদের পিতার নিকট ফিরে যাও এবং বল, হে আমাদের পিতা! আপনার পুত্র চুরি করেছে এবং আমরা যা জানি, তারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম।[১] আর অদৃশ্যের ব্যাপারে আমরা অবহিত ছিলাম না।[২]

[১] অর্থাৎ, আমরা যে কথা দিয়েছিলাম যে, আমরা বিনয়্যামীনকে সকুশল ফিরিয়ে নিয়ে আসব, তা আমাদের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে দিয়েছিলাম, পরে যে ঘটনা ঘটল এবং যার কারণে বিনয়্যামীনকে রেখে আসতে হল, এটা তো আমাদের ধারণাতীত বিষয়। দ্বিতীয় অর্থ হলো এই যে, আমরা চুরির যে শাস্তির কথা বলেছিলাম যে, চোরকেই চুরির পরিবর্তে রেখে নেওয়া হোক, তা আমরা আমাদের জ্ঞানানুসারে নির্ধারণ করেছিলাম, এতে কোন প্রকার অসদুদ্দেশ্য ছিল না। (যেহেতু আমরা সুনিশ্চিত ছিলাম যে, আমাদের মধ্যে কেউ চুরি করতেই পারে না।) কিন্তু ঘটনাক্রমে যখন সামানের তল্লাশি নেওয়া হলো, তখন চুরিকৃত পানপাত্র বিনয়্যামীনের মালপত্র থেকেই বের হলো।

[২] অর্থাৎ ভবিষ্যতে ঘটিতব্য ঘটনা সম্পর্কে আমরা অনবগত ছিলাম।

82

وَسْـَٔلِ ٱلْقَرْيَةَ ٱلَّتِى كُنَّا فِيهَا وَٱلْعِيرَ ٱلَّتِىٓ أَقْبَلْنَا فِيهَا ۖ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ

জিজ্ঞেস করুন ঐ জনপদের লোকদেরকে যেখানে আমরা ছিলাম এবং ঐ কাফেলাকে, যাদের সাথে আমরা এসেছি। নিশ্চিতই আমরা সত্য বলছি।

যে জনপদে আমরা ছিলাম ওর অধিবাসীদেরকে এবং যে যাত্রীদলের সাথে আমরা এসেছিলাম তাদেরকেও জিজ্ঞাসা করুন; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’ [১]

[১] الْقَرْيَة অর্থাৎ মিসর যেখানে তাঁরা শস্য নেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। এখানে মিসর বলতে মিসরবাসীদেরকে বুঝানো হয়েছে। অনুরূপ الْعِيْر (কাফেলা) বলতে কাফেলার যাত্রীদেরকে বুঝানো হয়েছে। আপনি মিসরে গিয়ে মিসরবাসীদেরকে এবং কাফেলার যাত্রীদেরকে যারা আমাদের সাথে এসেছে জিজ্ঞেস করে নিন যে, আমরা যা বলছি তাই সত্য; এতে মিথ্যার কোন মিশ্রণ (অবকাশ) নেই।

83

قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنفُسُكُمْ أَمْرًۭا ۖ فَصَبْرٌۭ جَمِيلٌ ۖ عَسَى ٱللَّهُ أَن يَأْتِيَنِى بِهِمْ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْعَلِيمُ ٱلْحَكِيمُ

তিনি বললেনঃ কিছুই না, তোমরা মনগড়া একটি কথা নিয়েই এসেছ। এখন ধৈর্য্যধারণই উত্তম। সম্ভবতঃ আল্লাহ তাদের সবাইকে একসঙ্গে আমার কাছে নিয়ে আসবেন তিনি সুবিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

ইয়াকূব বলল, ‘বরং তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজিয়ে নিয়েছে;[১] সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়; হয়তো আল্লাহ ওদের সকলকেই আমার কাছে এনে দেবেন।[২] নিশ্চয় তিনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’

[১] ইয়াকূব (আঃ) যেহেতু বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং মহান আল্লাহ তাঁকে অহীর মাধ্যমে বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে অবগতও করেননি, সেহেতু তিনি এটাই বুঝেছিলেন যে, আমার এই ছেলেরা যেমন এর পূর্বে ইউসুফ সম্পর্কে মনগড়া কথা বলেছিল, অনুরূপ এর সম্পর্কেও মনগড়া কথা বলছে। এরা বিনয়্যামীনের সাথে কি আচরণ করেছে? এর নিশ্চিত জ্ঞান ইয়াকূব (আঃ)-এর নিকট ছিল না বটে, কিন্তু ইউসুফ (আঃ)-এর ঘটনার উপর অনুমান করে তাঁদের সম্পর্কে তাঁর মনে সন্দেহের উদ্রেক হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল।

[২] এমতাবস্থায় ধৈর্য ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। তবুও ধৈর্যের সাথে আশার বাসা ভেঙ্গে দেননি। جَمِيْعًا (সকলকেই) অর্থাৎ ইউসুফ (আঃ), বিনয়্যামীন এবং তাঁদের বড় ভাই, যিনি লজ্জার বশবর্তী হয়ে মিসরেই থেকে গিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, আব্বাজান হয় আমাকে এ অবস্থায় আসার অনুমতি দিন, আর না হয় আমি যে কোন প্রকারে বিনয়্যামীনকে সাথে নিয়ে ফিরব।

84

وَتَوَلَّىٰ عَنْهُمْ وَقَالَ يَٰٓأَسَفَىٰ عَلَىٰ يُوسُفَ وَٱبْيَضَّتْ عَيْنَاهُ مِنَ ٱلْحُزْنِ فَهُوَ كَظِيمٌۭ

এবং তাদের দিক থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ হায় আফসোস ইউসুফের জন্যে। এবং দুঃখে তাঁর চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেল। এবং অসহনীয় মনস্তাপে তিনি ছিলেন ক্লিষ্ট।

সে ওদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘আফসোস ইউসুফের জন্য!’[১] আর শোকে তার চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গিয়েছিল[২] এবং সে ছিল অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট ।

[১] অর্থাৎ, এই টাটকা ঘা ইউসুফ হারানোর পুরাতন ঘাকেও তাজা করে তুলল।

[২] অর্থাৎ চোখের কালো তারা ভীষণ শোক ও দুঃখের কারণে সাদা হয়ে গিয়েছিল।

85

قَالُوا۟ تَٱللَّهِ تَفْتَؤُا۟ تَذْكُرُ يُوسُفَ حَتَّىٰ تَكُونَ حَرَضًا أَوْ تَكُونَ مِنَ ٱلْهَٰلِكِينَ

তারা বলতে লাগলঃ আল্লাহর কসম আপনি তো ইউসুফের স্মরণ থেকে নিবৃত হবেন না, যে পর্যন্ত মরণপন্ন না হয়ে যান কিংবা মৃতবরণ না করেন

তারা বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আপনি তো ইউসুফের কথা স্মরণ করতেই থাকবেন, যতক্ষণ না আপনি মুমূর্ষু হবেন অথবা মৃত্যুবরণ করবেন।’ [১]

[১] حَرَضٌ ঐ শারীরিক বিকার অথবা বিবেকের দুর্বলতাকে বলা হয় যা বার্ধক্য, প্রেম-ভালবাসা অথবা নিরন্তর দুশ্চিন্তার কারণে মানুষের মাঝে দেখা দেয়। পিতার মুখে ইউসুফের কথা উল্লেখের কারণে তাঁর ভাইদের হিংসা-অগ্নি আবার উত্তেজিত হয়ে উঠল, ফলে স্বীয় পিতাকে তাঁরা এমনটি বললেন।

86

قَالَ إِنَّمَآ أَشْكُوا۟ بَثِّى وَحُزْنِىٓ إِلَى ٱللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

তিনি বললেনঃ আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তা তোমরা জান না।

সে বলল, ‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও দুঃখ শুধু আল্লাহরই নিকট নিবেদন করছি এবং আমি আল্লাহর নিকট হতে তা জানি, যা তোমরা জান না। [১]

[১] এর উদ্দেশ্য, হয় সেই ইউসুফের দেখা স্বপ্ন যার সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস ছিল যে, এর ব্যাখ্যা (বাস্তবতা) অবশ্যই সামনে আসবে এবং তিনি ইউসুফকে সিজদা করবেন। অথবা তাঁর বিশ্বাস ছিল যে, ইউসুফ জীবিত আছে, জীবনে অবশ্যই তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে।

87

يَٰبَنِىَّ ٱذْهَبُوا۟ فَتَحَسَّسُوا۟ مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَا۟يْـَٔسُوا۟ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ ۖ إِنَّهُۥ لَا يَا۟يْـَٔسُ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْقَوْمُ ٱلْكَٰفِرُونَ

বৎসগণ! যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে তালাশ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।

হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তাঁর সহোদরের অনুসন্ধান কর[১] এবং আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না, কারণ অবিশ্বাসী সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয় না।’[২]

[১] অতএব তিনি উক্ত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই স্বীয় পুত্রদেরকে এই আদেশ করলেন।[২] যেমন মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন: ﴿وَمَن يَقْنَطُ مِن رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلاَّ الضَّآلُّونَ﴾ "কেবল ভ্রষ্ট লোকরাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে থাকে।" (সূরা হিজর ১৫:৫৬) এর অর্থ এই যে, মুমিনদেরকে চরম কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্যহারা ও সংযমহীন হতে নেই এবং আল্লাহর অসীম কৃপার আশা ছাড়তে নেই।

88

فَلَمَّا دَخَلُوا۟ عَلَيْهِ قَالُوا۟ يَٰٓأَيُّهَا ٱلْعَزِيزُ مَسَّنَا وَأَهْلَنَا ٱلضُّرُّ وَجِئْنَا بِبِضَٰعَةٍۢ مُّزْجَىٰةٍۢ فَأَوْفِ لَنَا ٱلْكَيْلَ وَتَصَدَّقْ عَلَيْنَآ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ يَجْزِى ٱلْمُتَصَدِّقِينَ

অতঃপর যখন তারা ইউসুফের কাছে পৌঁছল তখন বললঃ হে আযীয, আমরা ও আমাদের পরিবারবর্গ কষ্টের সম্মুখীন হয়ে পড়েছি এবং আমরা অপর্যাপ্ত পুঁজি নিয়ে এসেছি। অতএব আপনি আমাদের পুরোপুরি বরাদ্দ দিন এবং আমাদের কে দান করুন। আল্লাহ দাতাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন।

যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হল[১] তখন বলল, ‘হে আযীয! আমরা ও আমাদের পরিবার-পরিজন বিপন্ন হয়ে পড়েছি[২] এবং আমরা তুচ্ছ পণ্য নিয়ে এসেছি; আপনি আমাদের রসদ পূর্ণ মাত্রায় দিন[৩] এবং আমাদেরকে দান করুন; [৪] নিশ্চয় আল্লাহ দানীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন।’

[১] তাঁদের মিসর আগমনের এটা তৃতীয় দফা ছিল।

[২] অর্থাৎ শস্য নেবার জন্য আমরা যে পরিমাণ পণ্যমূল্য (পুঁজি) নিয়ে এসেছি, তা অতি অল্প ও নগণ্য।

[৩] অর্থাৎ আমাদের অল্প পুঁজির দিকে লক্ষ্য না করে আমাদেরকে এর পরিবর্তে পূর্ণ মাপ দিন।

[৪] অর্থাৎ আমাদের এই অল্প পুঁজি গ্রহণ করে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ ও খয়রাত করুন। কোন কোন ব্যাখ্যাকারী এর অর্থ করেছেন যে, আমাদের ভাই বিনয়্যামীনকে ছেড়ে দিয়ে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন।

89

قَالَ هَلْ عَلِمْتُم مَّا فَعَلْتُم بِيُوسُفَ وَأَخِيهِ إِذْ أَنتُمْ جَٰهِلُونَ

ইউসুফ বললেনঃ তোমাদের জানা আছে কি, যা তোমরা ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সাথে করেছ, যখন তোমরা অপরিণামদর্শী ছিলে?

সে বলল, ‘তোমরা কি জান, তোমরা ইউসুফ ও তার সহোদরের প্রতি কিরূপ আচরণ করেছিলে, যখন তোমরা ছিলে (পরিণাম সম্বন্ধে) অজ্ঞ?’ [১]

[১] যখন তাঁরা অতি নম্রতার সাথে দান-খয়রাত করার অথবা ভাইকে মুক্ত করার জন্য আপীল করলেন এবং সাথে সাথে পিতার বার্ধক্য, দুর্বলতা ও পুত্র-বিচ্ছেদের আঘাতের কথাও উল্লেখ করলেন, তখন ইউসুফ (আঃ)-এর হৃদয় আকুল হয়ে পড়ল, চক্ষুদ্বয় অশ্রুসজল হয়ে গেল এবং বাস্তব ঘটনা ব্যক্ত করতে বাধ্য হলেন। কিন্তু তিনি ভাইদের শত্রুতার কথা উল্লেখ করার সাথে সাথে উদার চরিত্রের বিকাশ ঘটাতে ভুলে যাননি। সুতরাং তিনি বললেন, এ কাজ তোমরা তখন করেছিলে, যখন তোমরা মূর্খ ও অজ্ঞ ছিলে।

90

قَالُوٓا۟ أَءِنَّكَ لَأَنتَ يُوسُفُ ۖ قَالَ أَنَا۠ يُوسُفُ وَهَٰذَآ أَخِى ۖ قَدْ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَيْنَآ ۖ إِنَّهُۥ مَن يَتَّقِ وَيَصْبِرْ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ ٱلْمُحْسِنِينَ

তারা বলল, তবে কি তুমিই ইউসুফ! বললেনঃ আমিই ইউসুফ এবং এ হল আমার সহোদর ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয় যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে, আল্লাহ এহেন সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।

তারা বলল, ‘তবে কি তুমিই ইউসুফ?’[১] সে বলল, ‘আমিই ইউসুফ এবং এই আমার সহোদর; আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন; যে ব্যক্তি সংযম ও ধৈর্য অবলম্বন করে, আল্লাহ সেইরূপ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।’ [২]

[১] ভায়েরা যখন মিসর-অধিপতির মুখ থেকে সেই ইউসুফের কথা শুনলেন, যাকে বাল্যকালে তাঁরা কানআনের এক অন্ধকার কূপে নিক্ষেপ করে দিয়েছিলেন, তখন তাঁরা অবাক হলেন এবং তাঁর দিকে মনোযোগ সহকারে তাকিয়ে ভাবলেন, ব্যাপার এমন তো নয় যে, যিনি আমাদের সাথে আলাপ করছেন, তিনিই ইউসুফ? তা নাহলে ইউসুফের ঘটনা তিনি কিভাবে জানতে পারলেন? সুতরাং তাঁরা প্রশ্ন করলেন যে, তুমিই ইউসুফ তো নও?

[২] প্রশ্নের জবাবে স্বীকারোক্তির সাথে সাথে আল্লাহর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ এবং ধৈর্য ও সংযমের শুভ পরিণামের কথা বর্ণনা করে বললেন যে, তোমরা আমাকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্রে কোন প্রকার ত্রুটি করনি, কিন্তু এটা আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানী যে, তিনি না শুধু আমাকে কুয়া থেকে পরিত্রাণ দিলেন; বরং মিসরের রাজত্বও দান করলেন। আর এটা হলো সেই ধৈর্য ও সংযমের সুফল, যার তওফীক আল্লাহ আমাকে দান করেছিলেন।

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.