Muslim99Muslim99
← Tafsir library

12. Yusuf

Joseph · Meccan · 111 ayahs

سُورَةُ يُوسُفَ

Reading Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication)

Ayahs 61–70 of 111

61

قَالُوا۟ سَنُرَٰوِدُ عَنْهُ أَبَاهُ وَإِنَّا لَفَٰعِلُونَ

তারা বললঃ আমরা তার সম্পর্কে তার পিতাকে সম্মত করার চেষ্টা করব এবং আমাদেরকে একাজ করতেই হবে।

৫৮-৬২ নং আয়াতের তাফসীর সুদ্দী (রঃ), মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) প্রভৃতি মুফাসসিরগণ হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের মিসরে গমনের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে হযরত ইউসুফ (আঃ) মিসরের উযীর নিযুক্ত হওয়ার পর সাত বছর পর্যন্ত খাদ্য শস্য প্রচুর পরিমাণে জমা করেন। এরপরে যখন সাধারণভাবে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে যায় এবং জনগণ এক একটি দানার জন্যে ব্যাকুল হয়ে ফিরতে থাকে তখন তিনি অভাবীদেরকে দান করতে শুরু করেন। এই দুর্ভিক্ষ মিসরের এলাকায় ছাড়াও কিনআ’ন ইত্যাদি শহরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। হযরত ইউসুফ (আঃ) বিদেশী লোকদেরকে উট বোঝাই করে খাদ্য দান করতেন। স্বয়ং তিনি ও বাদশাহ দিনে শুধুমাত্র একবার দুপুরের সময় দু’ এক গ্রাস খাবার খেতেন এবং মিসরবাসীকে পেট পুরে খাওয়াতেন। সুতরাং ঐ যুগে মিসরবাসীদের উপর এটা একটা আল্লাহর রহমত ছিল। কোন কোন মুফাসসির হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, হযরত ইউসুফ (আঃ) প্রথম বছর মালের বিনিময়ে খাদ্য বিক্রি করেন, দ্বিতীয় বছর বিক্রি করেন আসবাবপত্রের বিমিনমিয়ে। এভাবে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ বছরেও খাদ্য বিক্রি করেন। তারপরে বিক্রি করেন স্বয়ং মানুষের জীবন এবং তাদের সন্তানদের বিনিময়ে। সুতরাং তিনি মানুষের জীবন, তাদের সন্তান এবং তাদের অধিকারভুক্ত সমস্ত ধন মালের মালিক হয়ে যান। কিন্তু এরপর তিনি সকলকেই আযাদ করে দেন এবং তাদের মালধনও তাদেরকে ফিরিয়ে দেন। এটা হচ্ছে বণী ইসরাঈলের রিওয়াইত বা বর্ণনা। সুতরাং এটাকে আমরা সত্য মিথ্যা কিছুই বলতে পারি না।এখানে এই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, মিসরে আগমনকারীদের মধ্যে হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইয়েরাও ছিলেন। তাঁরা তাঁদের পিতার নির্দেশক্রমে মিসরে আগমন করেছিলেন। তাঁদের পিতা অবগত হয়েছিলেন যে, মিসরের আযীয মালের বিনিময়ে খাদ্য প্রদান করে থাকেন। তাই তিনি তাঁর দশজন ছেলেকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন এবং হযরত ইউসুফের (আঃ) সহোদর ভাই বিনইয়ামীনকে নিজের কাছে রেখেছিলেন। যাকে তিনি হযরত ইউসুফের (আঃ) পরে খুবই ভালবাসতেন। যখন এই যাত্রীদল হযরত ইউসুফের (আঃ) নিকট পৌঁছেন তখন তিনি এক নজর দেখেই তাঁদেরকে চিনে নেন। কিন্তু তাঁদের কেউই তাকে চিনতে পারেন নাই। কেননা, বাল্যাবস্থাতেই তিনি তাঁদের থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন। ভ্রাতাগণ তাঁকে সওদাগরদের নিকট বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তারপরে কি হলো তা তারা কি করে জানবেন? এটা তো ছিল কল্পনাতীত কথা যে, যাঁকে তাঁরা গোলাম হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি আজ মিসরের আযীয হয়ে বসেছেন। এদিকে হযরত ইউসুফ (আঃ) এমনভাবে তাদের সাথে কথাবার্তা বলেন যে, তিনিই যে ইউসুফ (আঃ) এ ধারণাও তাঁদের অন্তরে স্থান পায় নাই। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনারা কিভাবে আমাদের দেশে আসলেন?” তাঁরা উত্তরে বললো: “আপনি খাদ্য দান করে থাকেন এ খবর শুনেই আমরা আপনার রাজ্যে এসেছি।” তিনি বলেনঃ “আমার মনে সন্দেহ হচ্ছে যে, আপনারা হয়তো গুপ্তচর।” তাঁরা বলেনঃ “আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমরা গুপ্তচর নই।” তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনাদের বাসস্থান কোথায়?” তারা জবাবে বলেনঃ “আমরা কিনআ’নের অধিবাসী। আমাদের পিতার নাম ইয়াকুব (আঃ), তিনি আল্লাহ তাআ’লার একজন নবী।” তিনি তাঁদেরকে প্রশ্ন করেনঃ “তোমরা ছাড়া তার আর কোন ছেলে আছে কি? তারা জবাবে বলল “হ্যাঁ, আমরা বারো ভাই ছিলাম। আমাদের মধ্যে যে ছিল সবচেয়ে ছোট এবং পিতার চোখের মণি সে তো ধ্বংস হয়ে গেছে। তারই এক সহোদর ভাই আছে। তাকে পিতা আমাদের সাথে পাঠান নাই। তাকে তিনি নিজের কাছেই রেখে দিয়েছেন। তারই মাধ্যমে তিনি কিছুটা সান্ত্বনা লাভ করে থাকেন।” এরপর হযরত ইউসুফ (আঃ) তার ভৃত্যদের নির্দেশ দেন যে, তাদেরকে যেন সরকারী মেহমান মনে করা হয় এবং সম্মানজনক স্থানে তাদেরকে থাকার ব্যবস্থা করা হয় ও উত্তম খাবার খেতে দেয়া হয়। অতঃপর যখন তাঁদেরকে খাদ্য শস্য দেয়া শুরু হলো এবং বস্তা ভর্তি করে দেয়া হলো, আর তাঁদের সাথে যতগুলি বাহন জন্তু ছিল সেগুলি যতগুলি বোঝা বইতে পারে ততগুলিই ওগুলির উপর …

62

وَقَالَ لِفِتْيَٰنِهِ ٱجْعَلُوا۟ بِضَٰعَتَهُمْ فِى رِحَالِهِمْ لَعَلَّهُمْ يَعْرِفُونَهَآ إِذَا ٱنقَلَبُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمْ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

এবং সে ভৃত্যদেরকে বললঃ তাদের পণ্যমূল্য তাদের রসদ-পত্রের মধ্যে রেখে দাও-সম্ভবতঃ তারা গৃহে পৌঁছে তা বুঝতে পারবে, সম্ভবতঃ তারা পুনর্বার আসবে।

৫৮-৬২ নং আয়াতের তাফসীর সুদ্দী (রঃ), মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) প্রভৃতি মুফাসসিরগণ হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের মিসরে গমনের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে হযরত ইউসুফ (আঃ) মিসরের উযীর নিযুক্ত হওয়ার পর সাত বছর পর্যন্ত খাদ্য শস্য প্রচুর পরিমাণে জমা করেন। এরপরে যখন সাধারণভাবে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে যায় এবং জনগণ এক একটি দানার জন্যে ব্যাকুল হয়ে ফিরতে থাকে তখন তিনি অভাবীদেরকে দান করতে শুরু করেন। এই দুর্ভিক্ষ মিসরের এলাকায় ছাড়াও কিনআ’ন ইত্যাদি শহরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। হযরত ইউসুফ (আঃ) বিদেশী লোকদেরকে উট বোঝাই করে খাদ্য দান করতেন। স্বয়ং তিনি ও বাদশাহ দিনে শুধুমাত্র একবার দুপুরের সময় দু’ এক গ্রাস খাবার খেতেন এবং মিসরবাসীকে পেট পুরে খাওয়াতেন। সুতরাং ঐ যুগে মিসরবাসীদের উপর এটা একটা আল্লাহর রহমত ছিল। কোন কোন মুফাসসির হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, হযরত ইউসুফ (আঃ) প্রথম বছর মালের বিনিময়ে খাদ্য বিক্রি করেন, দ্বিতীয় বছর বিক্রি করেন আসবাবপত্রের বিমিনমিয়ে। এভাবে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ বছরেও খাদ্য বিক্রি করেন। তারপরে বিক্রি করেন স্বয়ং মানুষের জীবন এবং তাদের সন্তানদের বিনিময়ে। সুতরাং তিনি মানুষের জীবন, তাদের সন্তান এবং তাদের অধিকারভুক্ত সমস্ত ধন মালের মালিক হয়ে যান। কিন্তু এরপর তিনি সকলকেই আযাদ করে দেন এবং তাদের মালধনও তাদেরকে ফিরিয়ে দেন। এটা হচ্ছে বণী ইসরাঈলের রিওয়াইত বা বর্ণনা। সুতরাং এটাকে আমরা সত্য মিথ্যা কিছুই বলতে পারি না।এখানে এই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, মিসরে আগমনকারীদের মধ্যে হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইয়েরাও ছিলেন। তাঁরা তাঁদের পিতার নির্দেশক্রমে মিসরে আগমন করেছিলেন। তাঁদের পিতা অবগত হয়েছিলেন যে, মিসরের আযীয মালের বিনিময়ে খাদ্য প্রদান করে থাকেন। তাই তিনি তাঁর দশজন ছেলেকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন এবং হযরত ইউসুফের (আঃ) সহোদর ভাই বিনইয়ামীনকে নিজের কাছে রেখেছিলেন। যাকে তিনি হযরত ইউসুফের (আঃ) পরে খুবই ভালবাসতেন। যখন এই যাত্রীদল হযরত ইউসুফের (আঃ) নিকট পৌঁছেন তখন তিনি এক নজর দেখেই তাঁদেরকে চিনে নেন। কিন্তু তাঁদের কেউই তাকে চিনতে পারেন নাই। কেননা, বাল্যাবস্থাতেই তিনি তাঁদের থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন। ভ্রাতাগণ তাঁকে সওদাগরদের নিকট বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তারপরে কি হলো তা তারা কি করে জানবেন? এটা তো ছিল কল্পনাতীত কথা যে, যাঁকে তাঁরা গোলাম হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি আজ মিসরের আযীয হয়ে বসেছেন। এদিকে হযরত ইউসুফ (আঃ) এমনভাবে তাদের সাথে কথাবার্তা বলেন যে, তিনিই যে ইউসুফ (আঃ) এ ধারণাও তাঁদের অন্তরে স্থান পায় নাই। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনারা কিভাবে আমাদের দেশে আসলেন?” তাঁরা উত্তরে বললো: “আপনি খাদ্য দান করে থাকেন এ খবর শুনেই আমরা আপনার রাজ্যে এসেছি।” তিনি বলেনঃ “আমার মনে সন্দেহ হচ্ছে যে, আপনারা হয়তো গুপ্তচর।” তাঁরা বলেনঃ “আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমরা গুপ্তচর নই।” তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনাদের বাসস্থান কোথায়?” তারা জবাবে বলেনঃ “আমরা কিনআ’নের অধিবাসী। আমাদের পিতার নাম ইয়াকুব (আঃ), তিনি আল্লাহ তাআ’লার একজন নবী।” তিনি তাঁদেরকে প্রশ্ন করেনঃ “তোমরা ছাড়া তার আর কোন ছেলে আছে কি? তারা জবাবে বলল “হ্যাঁ, আমরা বারো ভাই ছিলাম। আমাদের মধ্যে যে ছিল সবচেয়ে ছোট এবং পিতার চোখের মণি সে তো ধ্বংস হয়ে গেছে। তারই এক সহোদর ভাই আছে। তাকে পিতা আমাদের সাথে পাঠান নাই। তাকে তিনি নিজের কাছেই রেখে দিয়েছেন। তারই মাধ্যমে তিনি কিছুটা সান্ত্বনা লাভ করে থাকেন।” এরপর হযরত ইউসুফ (আঃ) তার ভৃত্যদের নির্দেশ দেন যে, তাদেরকে যেন সরকারী মেহমান মনে করা হয় এবং সম্মানজনক স্থানে তাদেরকে থাকার ব্যবস্থা করা হয় ও উত্তম খাবার খেতে দেয়া হয়। অতঃপর যখন তাঁদেরকে খাদ্য শস্য দেয়া শুরু হলো এবং বস্তা ভর্তি করে দেয়া হলো, আর তাঁদের সাথে যতগুলি বাহন জন্তু ছিল সেগুলি যতগুলি বোঝা বইতে পারে ততগুলিই ওগুলির উপর …

63

فَلَمَّا رَجَعُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَبِيهِمْ قَالُوا۟ يَٰٓأَبَانَا مُنِعَ مِنَّا ٱلْكَيْلُ فَأَرْسِلْ مَعَنَآ أَخَانَا نَكْتَلْ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ

তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে এল তখন বললঃ হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্যে খাদ্য শস্যের বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতএব আপনি আমাদের ভাইকে আমাদের সাথে প্রেরণ করুন; যাতে আমরা খাদ্য শস্যের বরাদ্দ আনতে পারি এবং আমরা অবশ্যই তার পুরোপুরি হেফাযত করব।

৬৩-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের সম্পর্কে বলেন যে, তাঁরা তাঁদের পিতার কাছে ফিরে যাবার পর তাদের পিতাকে বললো: “হে পিতা! এরপরে যদি আপনি আমাদের সাথে আমাদের ভাইকে (বিনইয়ামীনকে) না পাঠান তবে আমাদেরকে আর খাদ্য দ্রব্য দেয়া হবে। যদি তাকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দেন তবে অবশ্যই আমরা রসদ পেয়ে যাবো। আপনি তার সম্পর্কে নিশ্চিন্ত থাকুন। আমরা অবশ্যই তার রক্ষণাবেক্ষণ করবো।” (আরবি) অন্য পঠনে (আরবি) ও রয়েছে। তাঁদের এ কথা শুনে তাঁদের পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ) বললেন : “তোমরা এর সাথে ঐ ব্যবহারই করবে যে ব্যবহার ইতিপূর্বে তাঁর ভাই এর সাথে করেছিলে। তোমরা একে এখান থেকে নিয়ে যাবে এবং ফিরে এসে (তার হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে) বানিয়ে সানিয়ে কথা বলবে।” (আরবি) শব্দটি অন্য কিরআতে (আরবি) ও রয়েছে। এরপর তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তাআ’লাই হচ্ছেন সর্বোত্তম রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং সর্বাপেক্ষা অধিক দয়ালুও বটে। তিনি আমাকে আমার এই বার্ধক্যের অবস্থায় অসহায় করবেন না। বরং তিনি আমার প্রতি দয়া করবেন এবং আমার ছেলে ইউসুফের (আঃ) জন্যে আমি যে অত্যন্ত শোকার্ত রয়েছি তা তিনি অবশ্যই দূর করে দেবেন। তাঁর পবিত্র সত্ত্বার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস রয়েছে যে, তিনি ইউসুফকে (আঃ) আমার নিকট অবশ্যই ফিরিয়ে দেবেন এবং মনের ব্যাকুলতা দূর করবেন।তাঁর কাছে কোন কাজই কঠিন নয় এবং তিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করা হতে বিরত থাকবেন না।”

64

قَالَ هَلْ ءَامَنُكُمْ عَلَيْهِ إِلَّا كَمَآ أَمِنتُكُمْ عَلَىٰٓ أَخِيهِ مِن قَبْلُ ۖ فَٱللَّهُ خَيْرٌ حَٰفِظًۭا ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ

বললেন, আমি তার সম্পর্কে তোমাদেরকে কি সেরূপ বিশ্বাস করব, যেমন ইতিপূর্বে তার ভাই সম্পর্কে বিশ্বাস করেছিলাম? অতএব আল্লাহ উত্তম হেফাযতকারী এবং তিনিই সর্বাধিক দয়ালু।

৬৩-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের সম্পর্কে বলেন যে, তাঁরা তাঁদের পিতার কাছে ফিরে যাবার পর তাদের পিতাকে বললো: “হে পিতা! এরপরে যদি আপনি আমাদের সাথে আমাদের ভাইকে (বিনইয়ামীনকে) না পাঠান তবে আমাদেরকে আর খাদ্য দ্রব্য দেয়া হবে। যদি তাকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দেন তবে অবশ্যই আমরা রসদ পেয়ে যাবো। আপনি তার সম্পর্কে নিশ্চিন্ত থাকুন। আমরা অবশ্যই তার রক্ষণাবেক্ষণ করবো।” (আরবি) অন্য পঠনে (আরবি) ও রয়েছে। তাঁদের এ কথা শুনে তাঁদের পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ) বললেন : “তোমরা এর সাথে ঐ ব্যবহারই করবে যে ব্যবহার ইতিপূর্বে তাঁর ভাই এর সাথে করেছিলে। তোমরা একে এখান থেকে নিয়ে যাবে এবং ফিরে এসে (তার হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে) বানিয়ে সানিয়ে কথা বলবে।” (আরবি) শব্দটি অন্য কিরআতে (আরবি) ও রয়েছে। এরপর তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তাআ’লাই হচ্ছেন সর্বোত্তম রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং সর্বাপেক্ষা অধিক দয়ালুও বটে। তিনি আমাকে আমার এই বার্ধক্যের অবস্থায় অসহায় করবেন না। বরং তিনি আমার প্রতি দয়া করবেন এবং আমার ছেলে ইউসুফের (আঃ) জন্যে আমি যে অত্যন্ত শোকার্ত রয়েছি তা তিনি অবশ্যই দূর করে দেবেন। তাঁর পবিত্র সত্ত্বার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস রয়েছে যে, তিনি ইউসুফকে (আঃ) আমার নিকট অবশ্যই ফিরিয়ে দেবেন এবং মনের ব্যাকুলতা দূর করবেন।তাঁর কাছে কোন কাজই কঠিন নয় এবং তিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করা হতে বিরত থাকবেন না।”

65

وَلَمَّا فَتَحُوا۟ مَتَٰعَهُمْ وَجَدُوا۟ بِضَٰعَتَهُمْ رُدَّتْ إِلَيْهِمْ ۖ قَالُوا۟ يَٰٓأَبَانَا مَا نَبْغِى ۖ هَٰذِهِۦ بِضَٰعَتُنَا رُدَّتْ إِلَيْنَا ۖ وَنَمِيرُ أَهْلَنَا وَنَحْفَظُ أَخَانَا وَنَزْدَادُ كَيْلَ بَعِيرٍۢ ۖ ذَٰلِكَ كَيْلٌۭ يَسِيرٌۭ

এবং যখন তারা আসবাবপত্র খুলল, তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের পন্যমুল্য ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা বললঃ হে আমাদের পিতা, আমরা আর কি চাইতে পারি। এই আমাদের প্রদত্ত পন্যমূল্য, আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন আমরা আবার আমাদের পরিবারবর্গের জন্যে রসদ আনব এবং আমাদের ভাইয়ের দেখাশোনা করব এবং এক এক উটের বরাদ্দ খাদ্যশস্য আমরা অতিরিক্ত আনব। ঐ বরাদ্দ সহজ।

৬৫-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলছেন যে, ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ যখন তাদের মালপত্র খুললো তখন দেখলো যে, তাদের পণ্যমূল্য তাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে ঐগুলি হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁর ভাইদের বিদায়ের সময় তাদের বস্তার মধ্যে গোপনীয়ভাবে ভরে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাড়ি গিয়ে যখন তাঁরা বস্তা খুলল তখন তাদের প্রদত্ত পণ্য মূল্য গুলি বস্তার মধ্যে দেখতে পেল। তা দেখে তাদের পিতাকে তারা বললোঃ “আব্বা! আর কি চান? দেখুন! মিসরের আযীয তো আমাদেরকে আমাদের পণ্য মূল্য পর্যন্ত ফিরিয়ে দিয়েছেন অথচ খাদ্য শস্য পুরোপুরি প্রদান করেছেন। আপনি এখন আমাদের ভাই বিনইয়ামীনকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিন। আমরা আমাদের পরিবারের জন্যে রসদও আনবো এবং ভাই এর কারণে আরো এক উট বোঝাই খাদ্য পেয়ে যাবো। কেননা মিসরের আযীয প্রত্যেককে এক উট বোঝাই খাদ্যই দিয়ে থাকেন। আর আপনি আমাদের ভাই বিনইয়ামীনকে আমাদের সাথে পাঠানোর ব্যাপার চিন্তা করছেন কেন? আমরা পূর্ণভাবে তার রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এটা খুবই সহজ মাপ।" এই ছিল পিতার সাথে তাদের আলাপ আলোচনা হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁদের এসব কথার জবাবে বললেনঃ “যে পর্যন্ত তোমরা শপথ করে না বলবে যে, তোমরা তোমাদের এই ভাইকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে সেই পর্যন্ত আমি তাকে তোমাদের সাথে পাঠাতে পারি না। হ্যাঁ, তবে যদি আল্লাহ না করুন তোমরা সবাই শত্রু কর্তৃক পরিবেষ্টিত হয়ে যাও তাহলে সেটা অন্য কথা।” এরপর হযরত ইয়াকুব (আঃ) বললেনঃ “আমরা যা কিছু বলছি, আল্লাহ তার বিধায়ক।” এ কথা বলে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র বিনইয়ামীনকে তাঁদের সাথে পাঠিয়ে দেন। কেননা, ওটা ছিল দুর্ভিক্ষের সময়। কাজেই প্রয়োজনের তাগিদে তাকে তাঁদের সাথে পাঠানো ছাড়া কোন উপায় ছিল না।

66

قَالَ لَنْ أُرْسِلَهُۥ مَعَكُمْ حَتَّىٰ تُؤْتُونِ مَوْثِقًۭا مِّنَ ٱللَّهِ لَتَأْتُنَّنِى بِهِۦٓ إِلَّآ أَن يُحَاطَ بِكُمْ ۖ فَلَمَّآ ءَاتَوْهُ مَوْثِقَهُمْ قَالَ ٱللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٌۭ

বললেন, তাকে ততক্ষণ তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার না দাও যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে পৌঁছে দেবে; কিন্তু যদি তোমরা সবাই একান্তই অসহায় না হয়ে যাও। অতঃপর যখন সবাই তাঁকে অঙ্গীকার দিল, তখন তিনি বললেনঃ আমাদের মধ্যে যা কথাবার্তা হলো সে ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।

৬৫-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলছেন যে, ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ যখন তাদের মালপত্র খুললো তখন দেখলো যে, তাদের পণ্যমূল্য তাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে ঐগুলি হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁর ভাইদের বিদায়ের সময় তাদের বস্তার মধ্যে গোপনীয়ভাবে ভরে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাড়ি গিয়ে যখন তাঁরা বস্তা খুলল তখন তাদের প্রদত্ত পণ্য মূল্য গুলি বস্তার মধ্যে দেখতে পেল। তা দেখে তাদের পিতাকে তারা বললোঃ “আব্বা! আর কি চান? দেখুন! মিসরের আযীয তো আমাদেরকে আমাদের পণ্য মূল্য পর্যন্ত ফিরিয়ে দিয়েছেন অথচ খাদ্য শস্য পুরোপুরি প্রদান করেছেন। আপনি এখন আমাদের ভাই বিনইয়ামীনকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিন। আমরা আমাদের পরিবারের জন্যে রসদও আনবো এবং ভাই এর কারণে আরো এক উট বোঝাই খাদ্য পেয়ে যাবো। কেননা মিসরের আযীয প্রত্যেককে এক উট বোঝাই খাদ্যই দিয়ে থাকেন। আর আপনি আমাদের ভাই বিনইয়ামীনকে আমাদের সাথে পাঠানোর ব্যাপার চিন্তা করছেন কেন? আমরা পূর্ণভাবে তার রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এটা খুবই সহজ মাপ।" এই ছিল পিতার সাথে তাদের আলাপ আলোচনা হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁদের এসব কথার জবাবে বললেনঃ “যে পর্যন্ত তোমরা শপথ করে না বলবে যে, তোমরা তোমাদের এই ভাইকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে সেই পর্যন্ত আমি তাকে তোমাদের সাথে পাঠাতে পারি না। হ্যাঁ, তবে যদি আল্লাহ না করুন তোমরা সবাই শত্রু কর্তৃক পরিবেষ্টিত হয়ে যাও তাহলে সেটা অন্য কথা।” এরপর হযরত ইয়াকুব (আঃ) বললেনঃ “আমরা যা কিছু বলছি, আল্লাহ তার বিধায়ক।” এ কথা বলে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র বিনইয়ামীনকে তাঁদের সাথে পাঠিয়ে দেন। কেননা, ওটা ছিল দুর্ভিক্ষের সময়। কাজেই প্রয়োজনের তাগিদে তাকে তাঁদের সাথে পাঠানো ছাড়া কোন উপায় ছিল না।

67

وَقَالَ يَٰبَنِىَّ لَا تَدْخُلُوا۟ مِنۢ بَابٍۢ وَٰحِدٍۢ وَٱدْخُلُوا۟ مِنْ أَبْوَٰبٍۢ مُّتَفَرِّقَةٍۢ ۖ وَمَآ أُغْنِى عَنكُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن شَىْءٍ ۖ إِنِ ٱلْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُتَوَكِّلُونَ

ইয়াকুব বললেনঃ হে আমার বৎসগণ! সবাই একই প্রবেশদ্বার দিয়ে যেয়ো না, বরং পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর কোন বিধান থেকে আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি না। নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের।

৬৭-৬৮ নং আয়াতের তাফসীর হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ যে সময় তাঁদের ভাই বিনইয়ামীনসহ মিসরের পথে যাত্রা শুরু করেন আল্লাহ তাআ’লা তারই খবর দিচ্ছেন। হযরত ইয়াকুবের (আঃ) মনে এই আশঙ্কা ছিল যে, তাঁর ছেলেদের উপর মানুষের কুদৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হতে পারে। কেননা, তারা সবাই ছিলেন সুশ্রী ও সুঠাম দেহের অধিকারী। এই কারণেই তাদের মিসরের পথে রওয়ানা হবার সময় তাদেরকে উপদেশ দেনঃ “হে আমার প্রিয় বৎসগণ! তোমরা সবাই একই দরজা দিয়ে শহরে প্রবেশ করবে না। বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। কেননা মানুষের কুদৃষ্টি লেগে যাওয়া সত্য। এটা ঘোড় সওয়ারকে ঘোড়র উপর থেকে ফেলে দেয়।” এর সাথে সাথেই তিনি বলেনঃ “আমি জানি এবং আমার এ বিশ্বাস আছে যে, আমার এই তদবীর তকদীরের কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। আল্লাহ তাআ’লার ফায়সালাকে কোন লোকই কোন তদবীর দ্বারা বদলাতে পারে না। তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ হয়েই থাকে। একমাত্র তাঁরই হুকুম কার্যকরী হয়। কে এমন আছে যে তার ইচ্ছাকে তিল পরিমাণ বদলাতে পারে? কে আছে যে তার ফরমানকে মুলতবী রাখতে পারে? তার ফায়সালাকে ফেরাতে পারে এমন কে আছে? তাঁরই উপর আমার ভরসা। শুধু আমার উপরই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রত্যেকেরই তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত।”সুতরাং হযরত ইয়াকুবের (আঃ) পুত্রগণ তাঁদের পিতার উপদেশ মান্য করল এবং বিভিন্ন দরজা দিয়ে শহরে প্রবেশ করল। এভাবে আল্লাহ তাআ’লার ফায়সালাকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। হ্যাঁ, তবে হযরত ইয়াকুব (আঃ) একটি প্রকাশ্য তদবীর পূর্ণ করলেন, যেন তাঁর সন্তানরা কু-নযর থেকে বাঁচতে পারেন। তিনি জ্ঞানী ছিলেন। তাঁর আল্লাহ প্রদত্ত বিদ্যা ছিল কিন্তু অধিকাংশ লোকই এটা অবগত নয়।

68

وَلَمَّا دَخَلُوا۟ مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مَّا كَانَ يُغْنِى عَنْهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِن شَىْءٍ إِلَّا حَاجَةًۭ فِى نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَىٰهَا ۚ وَإِنَّهُۥ لَذُو عِلْمٍۢ لِّمَا عَلَّمْنَٰهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ

তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তাঁর মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন। এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়।

৬৭-৬৮ নং আয়াতের তাফসীর হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ যে সময় তাঁদের ভাই বিনইয়ামীনসহ মিসরের পথে যাত্রা শুরু করেন আল্লাহ তাআ’লা তারই খবর দিচ্ছেন। হযরত ইয়াকুবের (আঃ) মনে এই আশঙ্কা ছিল যে, তাঁর ছেলেদের উপর মানুষের কুদৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হতে পারে। কেননা, তারা সবাই ছিলেন সুশ্রী ও সুঠাম দেহের অধিকারী। এই কারণেই তাদের মিসরের পথে রওয়ানা হবার সময় তাদেরকে উপদেশ দেনঃ “হে আমার প্রিয় বৎসগণ! তোমরা সবাই একই দরজা দিয়ে শহরে প্রবেশ করবে না। বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। কেননা মানুষের কুদৃষ্টি লেগে যাওয়া সত্য। এটা ঘোড় সওয়ারকে ঘোড়র উপর থেকে ফেলে দেয়।” এর সাথে সাথেই তিনি বলেনঃ “আমি জানি এবং আমার এ বিশ্বাস আছে যে, আমার এই তদবীর তকদীরের কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। আল্লাহ তাআ’লার ফায়সালাকে কোন লোকই কোন তদবীর দ্বারা বদলাতে পারে না। তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ হয়েই থাকে। একমাত্র তাঁরই হুকুম কার্যকরী হয়। কে এমন আছে যে তার ইচ্ছাকে তিল পরিমাণ বদলাতে পারে? কে আছে যে তার ফরমানকে মুলতবী রাখতে পারে? তার ফায়সালাকে ফেরাতে পারে এমন কে আছে? তাঁরই উপর আমার ভরসা। শুধু আমার উপরই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রত্যেকেরই তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত।”সুতরাং হযরত ইয়াকুবের (আঃ) পুত্রগণ তাঁদের পিতার উপদেশ মান্য করল এবং বিভিন্ন দরজা দিয়ে শহরে প্রবেশ করল। এভাবে আল্লাহ তাআ’লার ফায়সালাকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। হ্যাঁ, তবে হযরত ইয়াকুব (আঃ) একটি প্রকাশ্য তদবীর পূর্ণ করলেন, যেন তাঁর সন্তানরা কু-নযর থেকে বাঁচতে পারেন। তিনি জ্ঞানী ছিলেন। তাঁর আল্লাহ প্রদত্ত বিদ্যা ছিল কিন্তু অধিকাংশ লোকই এটা অবগত নয়।

69

وَلَمَّا دَخَلُوا۟ عَلَىٰ يُوسُفَ ءَاوَىٰٓ إِلَيْهِ أَخَاهُ ۖ قَالَ إِنِّىٓ أَنَا۠ أَخُوكَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

যখন তারা ইউসুফের কাছে উপস্থিত হল, তখন সে আপন ভ্রাতাকে নিজের কাছে রাখল। বললঃ নিশ্চই আমি তোমার সহোদর। অতএব তাদের কৃতকর্মের জন্যে দুঃখ করো না।

আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ যখন তাঁর সহোদর ভাই বিনইয়ামীন সহ তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন তখন তাঁদেরকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে সরকারী মেহমানখানায় স্থান দেয়া হলো। হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁর সহোদর ভাই বিনইয়ামীনকে নিজের কাছে নির্জনে ডেকে নিয়ে বললেনঃ “আমি তোমার ভাই ইউসুফ (আঃ)। আল্লাহ তাআ’লা আমাকে এই মর্যাদা দান করেছেন। আমাদের (বৈমাত্রেয়) ভ্রাতারা আমার প্রতি যে অন্যায় ব্যবহার করেছে সে জন্যে তুমি দুঃখ করো না। এই প্রকৃত তথ্য তুমি ভাইদের কাছে প্রকাশও করো না। আমি যে কোন প্রকারেই হোক তোমাকে আমার কাছে রাখার চেষ্টা করছি।”

70

فَلَمَّا جَهَّزَهُم بِجَهَازِهِمْ جَعَلَ ٱلسِّقَايَةَ فِى رَحْلِ أَخِيهِ ثُمَّ أَذَّنَ مُؤَذِّنٌ أَيَّتُهَا ٱلْعِيرُ إِنَّكُمْ لَسَٰرِقُونَ

অতঃপর যখন ইউসুফ তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন পানপাত্র আপন ভাইয়ের রসদের মধ্যে রেখে দিল। অতঃপর একজন ঘোষক ডেকে বললঃ হে কাফেলার লোকজন, তোমরা অবশ্যই চোর।

৭০-৭২ নং আয়াতের তাফসীর হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন অভ্যাস মত তাঁর ভাইদেরকে এক একটি উট বোঝাই মাল দিতে লাগলেন এবং তাদের মালপত্র বোঝাই হতে লাগলো তখন তিনি তাঁর চতুর ভৃত্যদেরকে গোপনে নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন রৌপ্য নির্মিত শাহী পানপাত্রটি তাঁর সহোদর ভাই বিনইয়ামীনের বস্তার মধ্যে গোপনে রেখে দেয়। কারো কারো মতে পানপাত্রটি ছিল স্বর্ণ নির্মিত। ওতে পানি পান করা হতো এবং ওর দ্বারাই খাদ্যদ্রব্য মেপে দেয়া হতো। ঐরূপই পেয়ালা হযরত ইবনু আব্বাসের (রাঃ) কাছেও ছিল। হযরত ইউসুফের (আঃ) নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর বুদ্ধিমান ভৃত্যেরা ঐ পেয়ালাটি তাঁর ভাই বিনইয়ামীনের বস্তায় রেখে দিলো। তাঁর ভাইয়েরা চলতে শুরু করলে তারা শুনতে পেলেন যে, একজন আহ্‌বানকারী আহবান করতে করতে আসছে। সে বলছেঃ “হে যাত্রীদল! তোমরা চোর!” একথা শুনে তো তাঁদের আক্কেল গুড়ুম। তাঁরা তার দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ “আপনাদের কি জিনিষ হারিয়েছে?” সে উত্তরে বললো: “আমাদের শাহী পানপাত্র হারিয়ে গিয়েছে যার দ্বারা খাদ্য মাপা হতো। বাদশাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, যে ওটা খুঁজে বের করে আনবে তাকে এক উট বোঝাই খাদ্য প্রদান করা হবে। আমিই এর যামিন।”

Commentary: Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication). Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.