Muslim99Muslim99
← Tafsir library

12. Yusuf

Joseph · Meccan · 111 ayahs

سُورَةُ يُوسُفَ

Reading Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication)

Ayahs 1–10 of 111

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

1

الٓر ۚ تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِ

আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত।

এই সূরার ফযীলতের ব্যাপারে হযরত উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা তোমাদের অধীনস্থ লোকদেরকে সূরায়ে ইউসুফ শিক্ষা দাও। কেননা, যে মুসলমান এটাকে পাঠ করবে বা নিজের পরিবারের লোকদেরকে এটা শিখাবে অথবা অধীনস্থ লোকদেরকে শিক্ষা দেবে, আল্লাহ তাআ’লা তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ করবেন; আর তাকে এই শক্তি দান করবেন যে, সে কোন মুসলমানদের প্রতি হিংসা পোষণ করবে না।” কিন্তু এই হাদীসের সনদ খুবই দুর্বল। এর একজন অনুগামী হচ্ছেন ইবনু আসাকির। কিন্তু তারও সমস্ত সনদ অগ্রাহ্য ও পরিত্যাজ্য। ইমাম বায়হাকীর (রঃ) ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ্' নামক গ্রন্থে রয়েছে যে, ইয়াহুদীদের একটি দল যখন রাসূলুল্লাহকে (সঃ) এই সূরাটি পাঠ করতে শুনে তখন তারা মুসলমান হয়ে যায়। কেননা, তাদের কাছে যে ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তাতেও এই ঘটনাটি ঠিক এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। এই রিওয়াইয়াতটি কালবী (রঃ), আবু সা’লিহ (রঃ) হতে এবং তিনি হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ১-৩ নং আয়াতের (আরবি) এর আলোচনা সূরায়ে বাকারায় হয়ে গেছে। এই কিতাব অর্থাৎ কুরআন কারীমের আয়াতগুলি সুস্পষ্ট। এগুলি অস্পষ্ট জিনিষের হাকীকত বা মূল তত্ব খুলে দিয়েছে। এখানে (আরবি) (ওটা) (আরবি) শব্দটি (এটা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু আরবী ভাষা অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক ও পরিপূর্ণ ভাষা, সেইহেতু এই শ্রেষ্ঠ ভাষায় শ্রেষ্ঠতম রাসূলের (সঃ) উপর ফেরেশতাকুল শিরোমণির দৌত্যকার্যের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সর্বোত্তম স্থানে এবং বছরের সর্বোত্তম মাসে অর্থাৎ রমযান মাসে অবতীর্ণ হয়ে সর্বদিক দিয়ে পূর্ণতায় পৌঁছে যায়, যাতে আরববাসী একে ভালভাবে জানতে ও বুঝতে পারে।আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূলকে (সাঃ) বলেনঃ ‘ওয়াহীর মাধ্যমে আমি তোমার কাছে এই কুরআন কারীম প্রেরণ করে উত্তম কাহিনী বর্ণনা করি।’ এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সাহাবীগণ আরয করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যদি আমাদের কাছে কোন ঘটনা বা কাহিনী বর্ণনা করতেন (তবে খুবই ভাল হতো)!” তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (হাদীসটি ইমাম ইমনু জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন) অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, কিছু কাল ধরে কুরআন কারীম অবতীর্ণ হতে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদের সামনে আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। তাঁরা বললেনঃ “যদি আমাদের সামনে কোন ঘটনার বর্ণনা দিতেন!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ (আরবি) এই অংশ অবতীর্ণ করেন। এটা (আরবি) পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁদের সামনে আয়াতসমূহ বরাবর পাঠ করতে থাকেন। কিছুকাল পর তাঁরা আবার আর করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) যদি আপনি আমাদের সামনে কোন ইতিহাস বা কাহিনী বর্ণনা করতেন!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ (আরবি) এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (৩৯: ২৩) বাক্য রীতির একই ঠাট বা আকৃতি দেখে সাহাবীগণ বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! হাদীস বা কথার উপরে এবং কুরআনের নীচের কোন কিছু অর্থাৎ কোন ঘটনা যদি বর্ণনা করা হতো!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ তাআ’লা অবতীর্ণ করেনঃ (আরবি) এই আয়াতগুলি। সুতরাং তাঁরা উত্তম কাহিনীর ইচ্ছা করলে উত্তম কাহিনী এবং উত্তম কথা বা হাদীসের ইচ্ছা করলে উত্তম হাদীস বা কথা অবতীর্ণ হয়। এই জায়গায়, যেখানে কুরআন কারীমের প্রশংসা হচ্ছে এবং এটা বর্ণনা করা হচ্ছে যে, কুরআন অন্য সব ধর্মীয় কিতাব থেকে মানুষকে অমুখাপেক্ষী অর্থাৎ কুরআন কারীম বিদ্যমান থাকতে মুসলমানরা অন্য কোন ধর্মীয় গ্রন্থের মুখাপেক্ষী নয়, তখন নিম্নের হাদীসটিও আমরা বর্ণনা করা সমীচীন মনে করছি। হযরত জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) নবীর (সঃ) নিকট এমন একটি কিতাব নিয়ে আগমন করেন, যা তিনি কোন এক আহলে কিতাবের নিকট থেকে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে তা পাঠ করতে শুরু করেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, এতে তিনি রাগান্বিত হন এবং বলেনঃ “হে খাত্তাবের ছেলে! তুমি …

2

إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ قُرْءَٰنًا عَرَبِيًّۭا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।

এই সূরার ফযীলতের ব্যাপারে হযরত উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা তোমাদের অধীনস্থ লোকদেরকে সূরায়ে ইউসুফ শিক্ষা দাও। কেননা, যে মুসলমান এটাকে পাঠ করবে বা নিজের পরিবারের লোকদেরকে এটা শিখাবে অথবা অধীনস্থ লোকদেরকে শিক্ষা দেবে, আল্লাহ তাআ’লা তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ করবেন; আর তাকে এই শক্তি দান করবেন যে, সে কোন মুসলমানদের প্রতি হিংসা পোষণ করবে না।” কিন্তু এই হাদীসের সনদ খুবই দুর্বল। এর একজন অনুগামী হচ্ছেন ইবনু আসাকির। কিন্তু তারও সমস্ত সনদ অগ্রাহ্য ও পরিত্যাজ্য। ইমাম বায়হাকীর (রঃ) ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ্' নামক গ্রন্থে রয়েছে যে, ইয়াহুদীদের একটি দল যখন রাসূলুল্লাহকে (সঃ) এই সূরাটি পাঠ করতে শুনে তখন তারা মুসলমান হয়ে যায়। কেননা, তাদের কাছে যে ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তাতেও এই ঘটনাটি ঠিক এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। এই রিওয়াইয়াতটি কালবী (রঃ), আবু সা’লিহ (রঃ) হতে এবং তিনি হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ১-৩ নং আয়াতের (আরবি) এর আলোচনা সূরায়ে বাকারায় হয়ে গেছে। এই কিতাব অর্থাৎ কুরআন কারীমের আয়াতগুলি সুস্পষ্ট। এগুলি অস্পষ্ট জিনিষের হাকীকত বা মূল তত্ব খুলে দিয়েছে। এখানে (আরবি) (ওটা) (আরবি) শব্দটি (এটা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু আরবী ভাষা অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক ও পরিপূর্ণ ভাষা, সেইহেতু এই শ্রেষ্ঠ ভাষায় শ্রেষ্ঠতম রাসূলের (সঃ) উপর ফেরেশতাকুল শিরোমণির দৌত্যকার্যের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সর্বোত্তম স্থানে এবং বছরের সর্বোত্তম মাসে অর্থাৎ রমযান মাসে অবতীর্ণ হয়ে সর্বদিক দিয়ে পূর্ণতায় পৌঁছে যায়, যাতে আরববাসী একে ভালভাবে জানতে ও বুঝতে পারে।আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূলকে (সাঃ) বলেনঃ ‘ওয়াহীর মাধ্যমে আমি তোমার কাছে এই কুরআন কারীম প্রেরণ করে উত্তম কাহিনী বর্ণনা করি।’ এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সাহাবীগণ আরয করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যদি আমাদের কাছে কোন ঘটনা বা কাহিনী বর্ণনা করতেন (তবে খুবই ভাল হতো)!” তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (হাদীসটি ইমাম ইমনু জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন) অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, কিছু কাল ধরে কুরআন কারীম অবতীর্ণ হতে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদের সামনে আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। তাঁরা বললেনঃ “যদি আমাদের সামনে কোন ঘটনার বর্ণনা দিতেন!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ (আরবি) এই অংশ অবতীর্ণ করেন। এটা (আরবি) পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁদের সামনে আয়াতসমূহ বরাবর পাঠ করতে থাকেন। কিছুকাল পর তাঁরা আবার আর করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) যদি আপনি আমাদের সামনে কোন ইতিহাস বা কাহিনী বর্ণনা করতেন!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ (আরবি) এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (৩৯: ২৩) বাক্য রীতির একই ঠাট বা আকৃতি দেখে সাহাবীগণ বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! হাদীস বা কথার উপরে এবং কুরআনের নীচের কোন কিছু অর্থাৎ কোন ঘটনা যদি বর্ণনা করা হতো!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ তাআ’লা অবতীর্ণ করেনঃ (আরবি) এই আয়াতগুলি। সুতরাং তাঁরা উত্তম কাহিনীর ইচ্ছা করলে উত্তম কাহিনী এবং উত্তম কথা বা হাদীসের ইচ্ছা করলে উত্তম হাদীস বা কথা অবতীর্ণ হয়। এই জায়গায়, যেখানে কুরআন কারীমের প্রশংসা হচ্ছে এবং এটা বর্ণনা করা হচ্ছে যে, কুরআন অন্য সব ধর্মীয় কিতাব থেকে মানুষকে অমুখাপেক্ষী অর্থাৎ কুরআন কারীম বিদ্যমান থাকতে মুসলমানরা অন্য কোন ধর্মীয় গ্রন্থের মুখাপেক্ষী নয়, তখন নিম্নের হাদীসটিও আমরা বর্ণনা করা সমীচীন মনে করছি। হযরত জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) নবীর (সঃ) নিকট এমন একটি কিতাব নিয়ে আগমন করেন, যা তিনি কোন এক আহলে কিতাবের নিকট থেকে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে তা পাঠ করতে শুরু করেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, এতে তিনি রাগান্বিত হন এবং বলেনঃ “হে খাত্তাবের ছেলে! তুমি …

3

نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ ٱلْقَصَصِ بِمَآ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ هَٰذَا ٱلْقُرْءَانَ وَإِن كُنتَ مِن قَبْلِهِۦ لَمِنَ ٱلْغَٰفِلِينَ

আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছি, যেমতে আমি এ কোরআন তোমার নিকট অবতীর্ণ করেছি। তুমি এর আগে অবশ্যই এ ব্যাপারে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত ছিলে।

এই সূরার ফযীলতের ব্যাপারে হযরত উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা তোমাদের অধীনস্থ লোকদেরকে সূরায়ে ইউসুফ শিক্ষা দাও। কেননা, যে মুসলমান এটাকে পাঠ করবে বা নিজের পরিবারের লোকদেরকে এটা শিখাবে অথবা অধীনস্থ লোকদেরকে শিক্ষা দেবে, আল্লাহ তাআ’লা তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ করবেন; আর তাকে এই শক্তি দান করবেন যে, সে কোন মুসলমানদের প্রতি হিংসা পোষণ করবে না।” কিন্তু এই হাদীসের সনদ খুবই দুর্বল। এর একজন অনুগামী হচ্ছেন ইবনু আসাকির। কিন্তু তারও সমস্ত সনদ অগ্রাহ্য ও পরিত্যাজ্য। ইমাম বায়হাকীর (রঃ) ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ্' নামক গ্রন্থে রয়েছে যে, ইয়াহুদীদের একটি দল যখন রাসূলুল্লাহকে (সঃ) এই সূরাটি পাঠ করতে শুনে তখন তারা মুসলমান হয়ে যায়। কেননা, তাদের কাছে যে ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তাতেও এই ঘটনাটি ঠিক এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। এই রিওয়াইয়াতটি কালবী (রঃ), আবু সা’লিহ (রঃ) হতে এবং তিনি হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ১-৩ নং আয়াতের (আরবি) এর আলোচনা সূরায়ে বাকারায় হয়ে গেছে। এই কিতাব অর্থাৎ কুরআন কারীমের আয়াতগুলি সুস্পষ্ট। এগুলি অস্পষ্ট জিনিষের হাকীকত বা মূল তত্ব খুলে দিয়েছে। এখানে (আরবি) (ওটা) (আরবি) শব্দটি (এটা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু আরবী ভাষা অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক ও পরিপূর্ণ ভাষা, সেইহেতু এই শ্রেষ্ঠ ভাষায় শ্রেষ্ঠতম রাসূলের (সঃ) উপর ফেরেশতাকুল শিরোমণির দৌত্যকার্যের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সর্বোত্তম স্থানে এবং বছরের সর্বোত্তম মাসে অর্থাৎ রমযান মাসে অবতীর্ণ হয়ে সর্বদিক দিয়ে পূর্ণতায় পৌঁছে যায়, যাতে আরববাসী একে ভালভাবে জানতে ও বুঝতে পারে।আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূলকে (সাঃ) বলেনঃ ‘ওয়াহীর মাধ্যমে আমি তোমার কাছে এই কুরআন কারীম প্রেরণ করে উত্তম কাহিনী বর্ণনা করি।’ এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সাহাবীগণ আরয করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যদি আমাদের কাছে কোন ঘটনা বা কাহিনী বর্ণনা করতেন (তবে খুবই ভাল হতো)!” তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (হাদীসটি ইমাম ইমনু জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন) অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, কিছু কাল ধরে কুরআন কারীম অবতীর্ণ হতে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীদের সামনে আয়াতসমূহ পাঠ করতেন। তাঁরা বললেনঃ “যদি আমাদের সামনে কোন ঘটনার বর্ণনা দিতেন!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ (আরবি) এই অংশ অবতীর্ণ করেন। এটা (আরবি) পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁদের সামনে আয়াতসমূহ বরাবর পাঠ করতে থাকেন। কিছুকাল পর তাঁরা আবার আর করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) যদি আপনি আমাদের সামনে কোন ইতিহাস বা কাহিনী বর্ণনা করতেন!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ (আরবি) এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (৩৯: ২৩) বাক্য রীতির একই ঠাট বা আকৃতি দেখে সাহাবীগণ বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! হাদীস বা কথার উপরে এবং কুরআনের নীচের কোন কিছু অর্থাৎ কোন ঘটনা যদি বর্ণনা করা হতো!” তখন মহা মহিমান্বিত আল্লাহ তাআ’লা অবতীর্ণ করেনঃ (আরবি) এই আয়াতগুলি। সুতরাং তাঁরা উত্তম কাহিনীর ইচ্ছা করলে উত্তম কাহিনী এবং উত্তম কথা বা হাদীসের ইচ্ছা করলে উত্তম হাদীস বা কথা অবতীর্ণ হয়। এই জায়গায়, যেখানে কুরআন কারীমের প্রশংসা হচ্ছে এবং এটা বর্ণনা করা হচ্ছে যে, কুরআন অন্য সব ধর্মীয় কিতাব থেকে মানুষকে অমুখাপেক্ষী অর্থাৎ কুরআন কারীম বিদ্যমান থাকতে মুসলমানরা অন্য কোন ধর্মীয় গ্রন্থের মুখাপেক্ষী নয়, তখন নিম্নের হাদীসটিও আমরা বর্ণনা করা সমীচীন মনে করছি। হযরত জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) নবীর (সঃ) নিকট এমন একটি কিতাব নিয়ে আগমন করেন, যা তিনি কোন এক আহলে কিতাবের নিকট থেকে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে তা পাঠ করতে শুরু করেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, এতে তিনি রাগান্বিত হন এবং বলেনঃ “হে খাত্তাবের ছেলে! তুমি …

4

إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَٰٓأَبَتِ إِنِّى رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًۭا وَٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِى سَٰجِدِينَ

যখন ইউসুফ পিতাকে বললঃ পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সুর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি।

আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ ‘হে মুহাম্মদ (সঃ)! তোমার কওমের কাছে ইউসুফের (আঃ) কাহিনীটি বর্ণনা কর।' হযরত ইউসুফের (আঃ) পিতা হচ্ছেন ইয়াকুব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ)। যেমন মুসনাদে আহমদে ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কারীম ইবনু কারীম ইবনু কারীম ইবনু কারীম ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ)।”হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহকে (সঃ) জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “লোকদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত কে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “তাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যার অন্তরে আল্লাহর ভয় সবচেয়ে বেশি আছে।” সাহাবীগণ বললেনঃ “আমরা আপনাকে এটা জিজ্ঞেস করছি না।” তিনি বললেনঃ “তাহলে মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যক্তি হচ্ছেন আল্লাহর নবী হযরত ইউসুফ (আঃ) যিনি নিজেও ছিলেন নবী, পিতাও ছিলেন নবী, পিতামহও ছিলেন নবী এবং প্রপিতামহও ছিলেন আল্লাহর নবী ও তাঁর খলীল বা দোস্ত।” তাঁরা এবারও বললেনঃ “আমরা এটাও জিজ্ঞেস করি নাই।” তিনি তখন তাদেরকে প্রশ্ন করলেনঃ “তা হলে কি তোমরা আমাকে আরবের গোত্রগুলি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছো?” তারা জবাবে বললেনঃ “জ্বি, হ্যাঁ।' তিনি বললেনঃ “তা হলে জেনে রেখোঁরেখো যে, তোমাদের মধ্যে অজ্ঞতার যুগে যারা ভাল ও ভদ্র ছিল, ইসলাম গ্রহণের পরেও তারা ভাল ও সম্ভান্তই থাকবে যদি তারা বোধশক্তি লাভ করে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) স্বীয় 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবীদের স্বপ্ন আল্লাহ তাআ’লার ওয়াহী হয়ে থাকে। তাফসীরকারকগণ বলেছেন যে, এখানে এগারোটি নক্ষত্র দ্বারা হযরত ইউসুফের (আঃ) এগারোটি ভাইকে বুঝানো হয়েছে। আর সুর্য ও চন্দ্র দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁর পিতা ও মাতা। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা স্বপ্ন দেখার চল্লিশ বছর পর প্রকাশ পায়। আবার কেউ কেউ বলেন যে, ব্যাখ্যা প্রকাশ পায় আশি বছর পর, যখন তিনি তাঁর পিতা মাতাকে রাজ-সিংহাসনে বসান এবং তাঁর এগারোটি ভাই তার সামনে সিজদাবনত হয়। ঐ সময় তিনি বলেনঃ “হে পিতঃ! এটাই আমার পূর্বেকার স্বপ্নের ব্যাখ্যা, আমার প্রতিপালক ওটা সত্যে পরিণত করেছেন।”হযরত জা’বির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহুদীদের মধ্যে বুসতানা’ নামক একজন বিখ্যাত আলেম ছিলেন। তিনি নবীর (সঃ) নিকট এসে বলেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! যে এগারটি নক্ষত্র হযরত ইউসুফকে (আঃ) সিজদা করেছিল ওগুলির নাম আমাকে বলে দিন।” বর্ণনাকারী বলেন যে, তাঁর একথা শুনে নবী (সঃ) কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। তখন হযরত জিবরাঈল (আঃ) আকাশ হতে অবতরণ করে তাঁকে তারকা গুলির নাম বলে দেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন ঐ লোকটিকে ডেকে বলেনঃ “তারকাগুলির নাম তোমাকে বলে দিলে তুমি ঈমান আনবে তো?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “হ্যাঁ, নিশ্চয়।” নবী (সঃ) বললেনঃ “ওগুলির নাম হচ্ছেঃ (১) জিরইয়ান, (২) তা’রিক, (৩) দিয়াল, (৪) যুল কানফাত, (৫) কা’বিস, (৬) অসাব, (৭) আমূদান, (৮) ফালীক, (৯) মিসবাহ, (১০) যরূহ এবং (১১) ফারাগ।” তখন ইয়াহূদী আ’লেমটি বলে উঠলেনঃ “আল্লাহর শপথ! ঐ নক্ষত্রগুলির এই নামই বটে। (এ হাদীসটি ইমাম আবু জাফর ইবনু জারীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। এই রিওয়াইয়াতটি দালায়েলে বায়হাকী, মুসনাদে আবি ইয়ালা, মুসনাদে বাযযার এবং তাফসীরে আবি হা’তিমেও রয়েছে)আর একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন তাঁর স্বপ্নের কথা তাঁর পিতার নিকট বর্ণনা করেন তখন তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁকে বলেনঃ এটা সত্য স্বপ্ন। পরবর্তীকালে আল্লাহ এটা পূর্ণ করে দেখাবেন। তিনি বলেন যে, সুর্য দ্বারা তাঁর পিতা এবং চন্দ্র দ্বারা তাঁর মাতাকে বুঝানো হয়েছে। (এ রিওয়াইয়াতটি মুসনাদে আবি ইয়ালায় রয়েছে। কিন্তু এই রিওয়াইতের সনদে হাকীম ইবনু যাহীর ফাযারী একাকী রয়েছেন, যাকে কতিপয় ইমাম দুর্বল বলেছেন। আর অধিকাংশই তাকে পরিত্যাগ করেছেন। হুসনে ইউসুফের বর্ণনাকারী ইনিই। চারজন শায়েখই তাকে দুর্বল বলেছেন)

5

قَالَ يَٰبُنَىَّ لَا تَقْصُصْ رُءْيَاكَ عَلَىٰٓ إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا۟ لَكَ كَيْدًا ۖ إِنَّ ٱلشَّيْطَٰنَ لِلْإِنسَٰنِ عَدُوٌّۭ مُّبِينٌۭ

তিনি বললেনঃ বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য।

হযরত ইয়াকুব (আঃ) স্বীয় পুত্র হযরত ইউসুফের (আঃ) স্বপ্নের বৃত্তান্ত শুনে তাঁকে যে কথা বলেছিলেন আল্লাহ তাআ’লা এখানে ঐ খবরই দিচ্ছেন। তিনি এই স্বপ্নের ব্যাখ্যাকে সামনে রেখে পুত্র ইউসুফকে (আঃ) সতর্ক করতে গিয়ে বলেনঃ “হে আমার প্রিয় পুত্র! তোমার এই স্বপ্নের কথা তুমি তোমার ভাইদের সামনে বর্ণনা করো না। কেননা এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা এই যে, তোমার ভ্রাতাগণ তোমার সামনে খাটো হয়ে যাবে। এমনকি তারা তোমার সম্মানার্থে তোমার সামনে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে মাথা নত করবে। সুতরাং খুব সম্ভব যে, তোমার এই স্বপ্নের বৃত্তান্ত শুনে এর ব্যাখ্যাকে সামনে রেখে তারা শয়তানের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যাবে এবং এখন থেকেই তোমার সাথে শত্রুতা শুরু করে দেবে। আর হিংসার বশবর্তী হয়ে ছলনা ও কৌশল করে তোমাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করবে। রাসূলুল্লাহর (সঃ) শিক্ষাও এটাই তিনি বলেছেনঃ “ তোমাদের কেউ যদি ভাল স্বপ্ন দেখে তবে সে যেন তা বর্ণনা করে। আর কেউ যদি কোন খারাপ স্বপ্ন দেখে তবে সে যেন (শয়ন অবস্থায়) পার্শ্ব পরিবর্তন করে এবং বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে; আর এর অনিষ্টকারীতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং কারো কাছে যেন তা বর্ণনা না করে, তাহলে ঐ স্বপ্ন তার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না।”মুআ’বিয়া ইবনু হায়দাহ্ আল-কুশায়বী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যে পর্যন্ত স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা না হয় সেই পর্যন্ত তা পাখীর পায়ের উপর থাকে (অর্থাৎ উড়ন্ত অবস্থায় থাকে), আর যখন ওর ব্যাখ্যা বর্ণিত হয় তখন তা সংঘটিত হয়ে যায়। (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) এবং কোন কোন আহলে সুনান বর্ণনা করেছেন)একারণেই এ হুকুমও নেয়া যেতে পারে যে, নিয়ামতকে গোপন রাখা উচিত, যে পর্যন্ত না ওটা উত্তমরূপে লাভ করা যায় এবং প্রকাশিত হয়ে পড়ে। যেমন হাদীসে এসেছেঃ “প্রয়োজনসমূহ পুরো করার ব্যাপারে ওগুলি গোপন করার মাধ্যমে সাহায্য নাও, কেননা যে ব্যক্তি কোন নিয়ামত লাভ করে তার প্রতি হিংসা করা হয়ে থাকে।”

6

وَكَذَٰلِكَ يَجْتَبِيكَ رَبُّكَ وَيُعَلِّمُكَ مِن تَأْوِيلِ ٱلْأَحَادِيثِ وَيُتِمُّ نِعْمَتَهُۥ عَلَيْكَ وَعَلَىٰٓ ءَالِ يَعْقُوبَ كَمَآ أَتَمَّهَا عَلَىٰٓ أَبَوَيْكَ مِن قَبْلُ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْحَٰقَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ عَلِيمٌ حَكِيمٌۭ

এমনিভাবে তোমার পালনকর্তা তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে বাণীসমূহের নিগুঢ় তত্ত্ব শিক্ষা দেবেন এবং পূর্ণ করবেন স্বীয় অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব পরিবার-পরিজনের প্রতি; যেমন ইতিপূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছেন। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা অত্যন্ত জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

আল্লাহ তাআ’লা হযরত ইয়াকুবের (আঃ) উক্তির সংবাদ দিচ্ছেন, যে উক্তি তিনি তাঁর পূত্র হযরত ইউসুফের (আঃ) ব্যাপারে করেছিলেন। তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেনঃ বৎস! যেমনভাবে আল্লাহ তাআ’লা তোমাকে মনোনীত করেছেন যে, স্বপ্নে তোমাকে এই তারকাগুলি, সূর্য এবং চন্দ্রকে তোমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায় দেখিয়েছেন, তেমনিভাবে তিনি তোমাকে নুবওয়াতের উচ্চ মর্যাদাও দান করবেন এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন। আর তিনি তোমার প্রতি তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করবেন অর্থাৎ তোমাকে রাসূলরূপে প্রেরণ করবেন এবং তোমার প্রতি ওয়াহী পাঠাবেন। যেমন তিনি ইতিপূর্বে তাঁর খলীল বা দোস্ত ইবরাহীমের (আঃ) প্রতি ও ইসহাকের (আঃ) প্রতি ওয়াহী পাঠিয়েছিলেন ও নুবওয়াত দান করেছিলেন, যাঁরা ছিলেন তোমার পিতামহ ও প্রপিতামহ। নুবওয়াতের যোগ্য কে বা কারা তা আল্লাহ তাআ’লা ভালরূপেই অবগত রয়েছেন।

7

۞ لَّقَدْ كَانَ فِى يُوسُفَ وَإِخْوَتِهِۦٓ ءَايَٰتٌۭ لِّلسَّآئِلِينَ

অবশ্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

৭-১০ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেন যে, ইউসুফ (আঃ) ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় জ্ঞান পিপাসুদের জন্যে বহু শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। হযরত ইউসুফের (আঃ) একটি মাত্র সহোদর ভাই ছিলেন, যার নাম ছিল বিনইয়ামীন। অন্যান্য ভাইগুলি ছিলেন তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইগুলি পরস্পর বলাবলি করেনঃ “আমাদের পিতা এ দু'ভাইকে আমাদের অপেক্ষা বেশি ভালবাসেন। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা একটা দল রয়েছি, অথচ তিনি আমাদের উপর তাদের দুজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন! নিঃসন্দেহে এটা তাঁর স্পষ্ট ভুলই বটে।” এটা উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের নুবওয়াতের উপর প্রকৃতপক্ষে কোন দলীল প্রমাণ নেই। আর এই আয়াতের বর্ণনা ধারা তো এর বিপরীত। কোন কোন লোক বলেছেন যে, এই ঘটনার পর তাঁরা সবাই নুবওয়াত লাভ করেছিলেন। কিন্তু এটাও প্রমাণের মুখাপেক্ষী। তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে শুধু নিম্নের আয়াতটি পেশ করেছেনঃ (আরবি)তাঁরা বলতে চান যে, এই আয়াতে বলা হয়েছেঃ ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর (আরবি) বা সন্তানদের প্রতি ওয়াহী নাযিল করা হয়েছিল। এটা কিন্তু সম্ভাবনা ছাড়া আর বেশী কিছুর ক্ষমতা রাখে না। কেননা, বণী ইসরাঈলের বংশ পরস্পরকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। যেমন আরবকে (আরবি) এবং আজমকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। সুতরাং এই আয়াতে শুধু এটুকুই রয়েছে যে, বণী ইসরাঈলের (আরবি) এর উপর ওয়াহী নাযিল হয়েছিল। তাঁদেরকে এরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বলার কারণ এই যে, তাঁরা অনেক ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক (আরবি) হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের মধ্যকার একজনের নসল বা বংশ ছিলেন। অতএব, এর কোন প্রমাণ নেই যে, আল্লাহ তাআ’লা বিশেষভাবে ঐ ভাইদেরকে নুবওয়াত দান করেছিলেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা একে অপরকে বলেনঃ ‘এক কাজ করা যাক! তা হলো এই যে, ইউসুফের (আঃ) সাথে পিতার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। সে-ই হচ্ছে আমাদের পথের কাঁটা। সে যদি না থাকে তবে পিতার মুহাব্বত শুধু আমাদের উপরই থাকবে। এখন তাকে পিতার নিকট হতে সরাবার দু'টি পন্থা আছে। হয় তাকে মেরেই ফেলতে হবে, না হয় কোন দূর দূরান্তে তাকে ফেলে আসতে হবে। এরূপ করলেই আমরা পিতার প্রিয় ভাজন হতে পারবো। এরপর আমরা তাওবা’ করবো, আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ পাকের উক্তি: (আরবি) (তাদের একজন বললো) কাতাদা’ (রঃ) এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, তাঁর নাম ছিল রাওভীল। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তাঁর নাম ছিল ইয়াহুযা। আর মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন শামউনুস সাফা। তিনি বললেনঃ “তোমরা ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করো না। এটা অন্যায় হবে। শুধু শত্রুতার বশবর্তী হয়ে একজন নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা উচিত হবে না।” এর মধ্যেও মহান আল্লাহর নিপুণতা নিহিত ছিল। তাঁর এটার ইচ্ছাই ছিল না। তাঁদের মধ্যে হযরত ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করার ক্ষমতাই ছিল না। আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছা তো এটাই ছিল যে, তিনি তাকে নবী করবেন এবং তাঁর ভাইদেরকে তার সামনে বিনীত অবস্থায় দাঁড় করাবেন। সুতরাং রাওভীলের পরামর্শে তাঁদের মন নরম হয়ে গেল এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, ইউসুফকে (আঃ) কোন অব্যবহৃত কূপে নিক্ষেপ করতে হবে।কাতাদা’ (রঃ) বলেন যে, ওটা বায়তুল মুকাদ্দাসের কূপ ছিল। তাঁদের এ ধারণা হলো যে, সম্ভবতঃ কোন মুসাফির সেখান দিয়ে গমনের সময় তাঁকে কূপ থেকে উঠিয়ে নেবে এবং নিজের কাফেলার কাছে নিয়ে যাবে। তখন কোথায় তিনি এবং কোথায় তারা। সুতরাং তাকে হত্যা না করেই যদি কাজ সফল হয়ে যায় তবে হত্যা করার কি প্রয়োজন? মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইয়াসার (রঃ) বলেন যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ বড় অপরাধমূলক কাজে একমত হয়েছিলেন। তা হচ্ছেঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করা, ছোট ভাই এর প্রতি অত্যাচার করা, নিরপরাধ ও নিস্পাপ বালকের ক্ষতি সাধন করা, অচল বৃদ্ধকে কষ্ট দেয়া, হকদারের হক নষ্ঠ করা, হুরমত ও ফযীলতের …

8

إِذْ قَالُوا۟ لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَىٰٓ أَبِينَا مِنَّا وَنَحْنُ عُصْبَةٌ إِنَّ أَبَانَا لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍ

যখন তারা বললঃ অবশ্যই ইউসুফ ও তাঁর ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চাইতে অধিক প্রিয় অথচ আমরা একটা সংহত শক্তি বিশেষ। নিশ্চয় আমাদের পিতা স্পষ্ট ভ্রান্তিতে রয়েছেন।

৭-১০ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেন যে, ইউসুফ (আঃ) ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় জ্ঞান পিপাসুদের জন্যে বহু শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। হযরত ইউসুফের (আঃ) একটি মাত্র সহোদর ভাই ছিলেন, যার নাম ছিল বিনইয়ামীন। অন্যান্য ভাইগুলি ছিলেন তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইগুলি পরস্পর বলাবলি করেনঃ “আমাদের পিতা এ দু'ভাইকে আমাদের অপেক্ষা বেশি ভালবাসেন। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা একটা দল রয়েছি, অথচ তিনি আমাদের উপর তাদের দুজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন! নিঃসন্দেহে এটা তাঁর স্পষ্ট ভুলই বটে।” এটা উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের নুবওয়াতের উপর প্রকৃতপক্ষে কোন দলীল প্রমাণ নেই। আর এই আয়াতের বর্ণনা ধারা তো এর বিপরীত। কোন কোন লোক বলেছেন যে, এই ঘটনার পর তাঁরা সবাই নুবওয়াত লাভ করেছিলেন। কিন্তু এটাও প্রমাণের মুখাপেক্ষী। তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে শুধু নিম্নের আয়াতটি পেশ করেছেনঃ (আরবি)তাঁরা বলতে চান যে, এই আয়াতে বলা হয়েছেঃ ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর (আরবি) বা সন্তানদের প্রতি ওয়াহী নাযিল করা হয়েছিল। এটা কিন্তু সম্ভাবনা ছাড়া আর বেশী কিছুর ক্ষমতা রাখে না। কেননা, বণী ইসরাঈলের বংশ পরস্পরকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। যেমন আরবকে (আরবি) এবং আজমকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। সুতরাং এই আয়াতে শুধু এটুকুই রয়েছে যে, বণী ইসরাঈলের (আরবি) এর উপর ওয়াহী নাযিল হয়েছিল। তাঁদেরকে এরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বলার কারণ এই যে, তাঁরা অনেক ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক (আরবি) হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের মধ্যকার একজনের নসল বা বংশ ছিলেন। অতএব, এর কোন প্রমাণ নেই যে, আল্লাহ তাআ’লা বিশেষভাবে ঐ ভাইদেরকে নুবওয়াত দান করেছিলেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা একে অপরকে বলেনঃ ‘এক কাজ করা যাক! তা হলো এই যে, ইউসুফের (আঃ) সাথে পিতার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। সে-ই হচ্ছে আমাদের পথের কাঁটা। সে যদি না থাকে তবে পিতার মুহাব্বত শুধু আমাদের উপরই থাকবে। এখন তাকে পিতার নিকট হতে সরাবার দু'টি পন্থা আছে। হয় তাকে মেরেই ফেলতে হবে, না হয় কোন দূর দূরান্তে তাকে ফেলে আসতে হবে। এরূপ করলেই আমরা পিতার প্রিয় ভাজন হতে পারবো। এরপর আমরা তাওবা’ করবো, আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ পাকের উক্তি: (আরবি) (তাদের একজন বললো) কাতাদা’ (রঃ) এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, তাঁর নাম ছিল রাওভীল। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তাঁর নাম ছিল ইয়াহুযা। আর মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন শামউনুস সাফা। তিনি বললেনঃ “তোমরা ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করো না। এটা অন্যায় হবে। শুধু শত্রুতার বশবর্তী হয়ে একজন নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা উচিত হবে না।” এর মধ্যেও মহান আল্লাহর নিপুণতা নিহিত ছিল। তাঁর এটার ইচ্ছাই ছিল না। তাঁদের মধ্যে হযরত ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করার ক্ষমতাই ছিল না। আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছা তো এটাই ছিল যে, তিনি তাকে নবী করবেন এবং তাঁর ভাইদেরকে তার সামনে বিনীত অবস্থায় দাঁড় করাবেন। সুতরাং রাওভীলের পরামর্শে তাঁদের মন নরম হয়ে গেল এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, ইউসুফকে (আঃ) কোন অব্যবহৃত কূপে নিক্ষেপ করতে হবে।কাতাদা’ (রঃ) বলেন যে, ওটা বায়তুল মুকাদ্দাসের কূপ ছিল। তাঁদের এ ধারণা হলো যে, সম্ভবতঃ কোন মুসাফির সেখান দিয়ে গমনের সময় তাঁকে কূপ থেকে উঠিয়ে নেবে এবং নিজের কাফেলার কাছে নিয়ে যাবে। তখন কোথায় তিনি এবং কোথায় তারা। সুতরাং তাকে হত্যা না করেই যদি কাজ সফল হয়ে যায় তবে হত্যা করার কি প্রয়োজন? মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইয়াসার (রঃ) বলেন যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ বড় অপরাধমূলক কাজে একমত হয়েছিলেন। তা হচ্ছেঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করা, ছোট ভাই এর প্রতি অত্যাচার করা, নিরপরাধ ও নিস্পাপ বালকের ক্ষতি সাধন করা, অচল বৃদ্ধকে কষ্ট দেয়া, হকদারের হক নষ্ঠ করা, হুরমত ও ফযীলতের …

9

ٱقْتُلُوا۟ يُوسُفَ أَوِ ٱطْرَحُوهُ أَرْضًۭا يَخْلُ لَكُمْ وَجْهُ أَبِيكُمْ وَتَكُونُوا۟ مِنۢ بَعْدِهِۦ قَوْمًۭا صَٰلِحِينَ

হত্যা কর ইউসুফকে কিংবা ফেলে আস তাকে অন্য কোন স্থানে। এতে শুধু তোমাদের প্রতিই তোমাদের পিতার মনোযোগ নিবিষ্ট হবে এবং এরপর তোমরা যোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকবে।

৭-১০ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেন যে, ইউসুফ (আঃ) ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় জ্ঞান পিপাসুদের জন্যে বহু শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। হযরত ইউসুফের (আঃ) একটি মাত্র সহোদর ভাই ছিলেন, যার নাম ছিল বিনইয়ামীন। অন্যান্য ভাইগুলি ছিলেন তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইগুলি পরস্পর বলাবলি করেনঃ “আমাদের পিতা এ দু'ভাইকে আমাদের অপেক্ষা বেশি ভালবাসেন। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা একটা দল রয়েছি, অথচ তিনি আমাদের উপর তাদের দুজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন! নিঃসন্দেহে এটা তাঁর স্পষ্ট ভুলই বটে।” এটা উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের নুবওয়াতের উপর প্রকৃতপক্ষে কোন দলীল প্রমাণ নেই। আর এই আয়াতের বর্ণনা ধারা তো এর বিপরীত। কোন কোন লোক বলেছেন যে, এই ঘটনার পর তাঁরা সবাই নুবওয়াত লাভ করেছিলেন। কিন্তু এটাও প্রমাণের মুখাপেক্ষী। তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে শুধু নিম্নের আয়াতটি পেশ করেছেনঃ (আরবি)তাঁরা বলতে চান যে, এই আয়াতে বলা হয়েছেঃ ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর (আরবি) বা সন্তানদের প্রতি ওয়াহী নাযিল করা হয়েছিল। এটা কিন্তু সম্ভাবনা ছাড়া আর বেশী কিছুর ক্ষমতা রাখে না। কেননা, বণী ইসরাঈলের বংশ পরস্পরকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। যেমন আরবকে (আরবি) এবং আজমকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। সুতরাং এই আয়াতে শুধু এটুকুই রয়েছে যে, বণী ইসরাঈলের (আরবি) এর উপর ওয়াহী নাযিল হয়েছিল। তাঁদেরকে এরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বলার কারণ এই যে, তাঁরা অনেক ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক (আরবি) হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের মধ্যকার একজনের নসল বা বংশ ছিলেন। অতএব, এর কোন প্রমাণ নেই যে, আল্লাহ তাআ’লা বিশেষভাবে ঐ ভাইদেরকে নুবওয়াত দান করেছিলেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা একে অপরকে বলেনঃ ‘এক কাজ করা যাক! তা হলো এই যে, ইউসুফের (আঃ) সাথে পিতার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। সে-ই হচ্ছে আমাদের পথের কাঁটা। সে যদি না থাকে তবে পিতার মুহাব্বত শুধু আমাদের উপরই থাকবে। এখন তাকে পিতার নিকট হতে সরাবার দু'টি পন্থা আছে। হয় তাকে মেরেই ফেলতে হবে, না হয় কোন দূর দূরান্তে তাকে ফেলে আসতে হবে। এরূপ করলেই আমরা পিতার প্রিয় ভাজন হতে পারবো। এরপর আমরা তাওবা’ করবো, আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ পাকের উক্তি: (আরবি) (তাদের একজন বললো) কাতাদা’ (রঃ) এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, তাঁর নাম ছিল রাওভীল। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তাঁর নাম ছিল ইয়াহুযা। আর মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন শামউনুস সাফা। তিনি বললেনঃ “তোমরা ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করো না। এটা অন্যায় হবে। শুধু শত্রুতার বশবর্তী হয়ে একজন নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা উচিত হবে না।” এর মধ্যেও মহান আল্লাহর নিপুণতা নিহিত ছিল। তাঁর এটার ইচ্ছাই ছিল না। তাঁদের মধ্যে হযরত ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করার ক্ষমতাই ছিল না। আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছা তো এটাই ছিল যে, তিনি তাকে নবী করবেন এবং তাঁর ভাইদেরকে তার সামনে বিনীত অবস্থায় দাঁড় করাবেন। সুতরাং রাওভীলের পরামর্শে তাঁদের মন নরম হয়ে গেল এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, ইউসুফকে (আঃ) কোন অব্যবহৃত কূপে নিক্ষেপ করতে হবে।কাতাদা’ (রঃ) বলেন যে, ওটা বায়তুল মুকাদ্দাসের কূপ ছিল। তাঁদের এ ধারণা হলো যে, সম্ভবতঃ কোন মুসাফির সেখান দিয়ে গমনের সময় তাঁকে কূপ থেকে উঠিয়ে নেবে এবং নিজের কাফেলার কাছে নিয়ে যাবে। তখন কোথায় তিনি এবং কোথায় তারা। সুতরাং তাকে হত্যা না করেই যদি কাজ সফল হয়ে যায় তবে হত্যা করার কি প্রয়োজন? মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইয়াসার (রঃ) বলেন যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ বড় অপরাধমূলক কাজে একমত হয়েছিলেন। তা হচ্ছেঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করা, ছোট ভাই এর প্রতি অত্যাচার করা, নিরপরাধ ও নিস্পাপ বালকের ক্ষতি সাধন করা, অচল বৃদ্ধকে কষ্ট দেয়া, হকদারের হক নষ্ঠ করা, হুরমত ও ফযীলতের …

10

قَالَ قَآئِلٌۭ مِّنْهُمْ لَا تَقْتُلُوا۟ يُوسُفَ وَأَلْقُوهُ فِى غَيَٰبَتِ ٱلْجُبِّ يَلْتَقِطْهُ بَعْضُ ٱلسَّيَّارَةِ إِن كُنتُمْ فَٰعِلِينَ

তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, তোমরা ইউসুফ কে হত্যা করো না, বরং ফেলে দাও তাকে অন্ধকূপে যাতে কোন পথিক তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, যদি তোমাদের কিছু করতেই হয়।

৭-১০ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেন যে, ইউসুফ (আঃ) ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় জ্ঞান পিপাসুদের জন্যে বহু শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। হযরত ইউসুফের (আঃ) একটি মাত্র সহোদর ভাই ছিলেন, যার নাম ছিল বিনইয়ামীন। অন্যান্য ভাইগুলি ছিলেন তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইগুলি পরস্পর বলাবলি করেনঃ “আমাদের পিতা এ দু'ভাইকে আমাদের অপেক্ষা বেশি ভালবাসেন। বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, আমরা একটা দল রয়েছি, অথচ তিনি আমাদের উপর তাদের দুজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন! নিঃসন্দেহে এটা তাঁর স্পষ্ট ভুলই বটে।” এটা উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের নুবওয়াতের উপর প্রকৃতপক্ষে কোন দলীল প্রমাণ নেই। আর এই আয়াতের বর্ণনা ধারা তো এর বিপরীত। কোন কোন লোক বলেছেন যে, এই ঘটনার পর তাঁরা সবাই নুবওয়াত লাভ করেছিলেন। কিন্তু এটাও প্রমাণের মুখাপেক্ষী। তাঁরা এর প্রমাণ হিসেবে শুধু নিম্নের আয়াতটি পেশ করেছেনঃ (আরবি)তাঁরা বলতে চান যে, এই আয়াতে বলা হয়েছেঃ ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর (আরবি) বা সন্তানদের প্রতি ওয়াহী নাযিল করা হয়েছিল। এটা কিন্তু সম্ভাবনা ছাড়া আর বেশী কিছুর ক্ষমতা রাখে না। কেননা, বণী ইসরাঈলের বংশ পরস্পরকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। যেমন আরবকে (আরবি) এবং আজমকে (আরবি) বলা হয়ে থাকে। সুতরাং এই আয়াতে শুধু এটুকুই রয়েছে যে, বণী ইসরাঈলের (আরবি) এর উপর ওয়াহী নাযিল হয়েছিল। তাঁদেরকে এরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বলার কারণ এই যে, তাঁরা অনেক ছিলেন কিন্তু প্রত্যেক (আরবি) হযরত ইউসুফের (আঃ) ভাইদের মধ্যকার একজনের নসল বা বংশ ছিলেন। অতএব, এর কোন প্রমাণ নেই যে, আল্লাহ তাআ’লা বিশেষভাবে ঐ ভাইদেরকে নুবওয়াত দান করেছিলেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা একে অপরকে বলেনঃ ‘এক কাজ করা যাক! তা হলো এই যে, ইউসুফের (আঃ) সাথে পিতার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। সে-ই হচ্ছে আমাদের পথের কাঁটা। সে যদি না থাকে তবে পিতার মুহাব্বত শুধু আমাদের উপরই থাকবে। এখন তাকে পিতার নিকট হতে সরাবার দু'টি পন্থা আছে। হয় তাকে মেরেই ফেলতে হবে, না হয় কোন দূর দূরান্তে তাকে ফেলে আসতে হবে। এরূপ করলেই আমরা পিতার প্রিয় ভাজন হতে পারবো। এরপর আমরা তাওবা’ করবো, আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ পাকের উক্তি: (আরবি) (তাদের একজন বললো) কাতাদা’ (রঃ) এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, তাঁর নাম ছিল রাওভীল। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, তাঁর নাম ছিল ইয়াহুযা। আর মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন শামউনুস সাফা। তিনি বললেনঃ “তোমরা ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করো না। এটা অন্যায় হবে। শুধু শত্রুতার বশবর্তী হয়ে একজন নিরপরাধ ছেলেকে হত্যা করা উচিত হবে না।” এর মধ্যেও মহান আল্লাহর নিপুণতা নিহিত ছিল। তাঁর এটার ইচ্ছাই ছিল না। তাঁদের মধ্যে হযরত ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করার ক্ষমতাই ছিল না। আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছা তো এটাই ছিল যে, তিনি তাকে নবী করবেন এবং তাঁর ভাইদেরকে তার সামনে বিনীত অবস্থায় দাঁড় করাবেন। সুতরাং রাওভীলের পরামর্শে তাঁদের মন নরম হয়ে গেল এবং সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, ইউসুফকে (আঃ) কোন অব্যবহৃত কূপে নিক্ষেপ করতে হবে।কাতাদা’ (রঃ) বলেন যে, ওটা বায়তুল মুকাদ্দাসের কূপ ছিল। তাঁদের এ ধারণা হলো যে, সম্ভবতঃ কোন মুসাফির সেখান দিয়ে গমনের সময় তাঁকে কূপ থেকে উঠিয়ে নেবে এবং নিজের কাফেলার কাছে নিয়ে যাবে। তখন কোথায় তিনি এবং কোথায় তারা। সুতরাং তাকে হত্যা না করেই যদি কাজ সফল হয়ে যায় তবে হত্যা করার কি প্রয়োজন? মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইয়াসার (রঃ) বলেন যে, হযরত ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ বড় অপরাধমূলক কাজে একমত হয়েছিলেন। তা হচ্ছেঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পিতার সাথে অবাধ্যাচরণ করা, ছোট ভাই এর প্রতি অত্যাচার করা, নিরপরাধ ও নিস্পাপ বালকের ক্ষতি সাধন করা, অচল বৃদ্ধকে কষ্ট দেয়া, হকদারের হক নষ্ঠ করা, হুরমত ও ফযীলতের …

Commentary: Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication). Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.