Muslim99Muslim99
← Tafsir library

11. Hud

Hud · Meccan · 123 ayahs

سُورَةُ هُودٍ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 51–60 of 123

51

يَٰقَوْمِ لَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَى ٱلَّذِى فَطَرَنِىٓ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না?

হে আমার সম্প্রদায়! আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না, আমার পারিশ্রমিক শুধু তাঁরই দায়িত্বে রয়েছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন; তবুও কি তোমরা বুঝ না? [১]

[১] এটা কি বুঝ না যে, যে ব্যক্তি (তোমাদের নিকট থেকে) কোন পারিশ্রমিক ও লোভ ছাড়াই তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিচ্ছে, সে আসলে তোমাদের মঙ্গলকামী? আয়াতে 'হে আমার সম্প্রদায়!' শব্দ দ্বারা দাওয়াতের একটি সুন্দর পদ্ধতি বুঝা যাচ্ছে। অর্থাৎ, 'হে কাফেরদল!' বা 'হে মুশরিকদল!' শব্দ ব্যবহার না করে 'হে আমার সম্প্রদায়' বলে স্নেহের সাথে সম্বোধন করা হয়েছে।

52

وَيَٰقَوْمِ ٱسْتَغْفِرُوا۟ رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوٓا۟ إِلَيْهِ يُرْسِلِ ٱلسَّمَآءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًۭا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا۟ مُجْرِمِينَ

আর হে আমার কওম! তোমাদের পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না।

হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা (তোমাদের পাপের জন্য) তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন কর; তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তি আরো বৃদ্ধি করবেন।[১] আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না।’ [২]

[১] হূদ (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে তওবা ও ইস্তিগফার করার নির্দেশ দিলেন এবং সেই সমস্ত কল্যাণের কথাও বললেন, যা তওবা ইস্তিগফারকারী সম্প্রদায় লাভ করে থাকে। যেমন কুরআন কারীমের আরো অনেক স্থানে এ সব কল্যাণের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। (সূরা নূহের ৭১:১০-১২নং আয়াত দ্রষ্টব্য)[২] অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে যে দাওয়াত দিচ্ছি, তা অস্বীকার করো না এবং নিজেদের কুফরীর উপর অটল থেকো না। এরূপ করলে আল্লাহর দরবারে অপরাধী ও পাপী হয়ে উপস্থিত হবে।

53

قَالُوا۟ يَٰهُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍۢ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِىٓ ءَالِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ

তারা বলল-হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব-দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই।

তারা বলল, ‘হে হূদ! তুমি তো আমাদের সামনে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করনি। আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে বর্জন করব না এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।[১]

[১] একজন নবী সর্বপ্রকার দলীল ও প্রমাণ পেশ করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু চামচিকা-চোখোদের তা নজরে আসে না। হূদ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ও ধৃষ্টতা প্রকাশ করে বলেছিল যে, আমরা প্রমাণ ব্যতীত শুধু তোমার কথামত আমাদের উপাস্যদেরকে কিভাবে বর্জন করব?

54

إِن نَّقُولُ إِلَّا ٱعْتَرَىٰكَ بَعْضُ ءَالِهَتِنَا بِسُوٓءٍۢ ۗ قَالَ إِنِّىٓ أُشْهِدُ ٱللَّهَ وَٱشْهَدُوٓا۟ أَنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تُشْرِكُونَ

বরং আমরাও তো বলি যে, আমাদের কোন দেবতা তোমার উপরে শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে। হুদ বললেন-আমি আল্লাহকে সাক্ষী করেছি আর তোমাও সাক্ষী থাক যে, আমার কোন সম্পর্ক নাই তাঁদের সাথে যাদের কে তোমরা শরিক করছ;

আমাদের কথা তো এই যে, আমাদের উপাস্যদের মধ্যে হতে কেউ তোমাকে মন্দ দ্বারা স্পর্শ করেছে।’[১] সে বলল, ‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী করছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাক, তোমরা যে অংশী করছ নিশ্চিতভাবে আমি তা হতে মুক্ত। [২]

[১] অর্থাৎ, তুমি যে আমাদের উপাস্যদের অপমান ও তাদের সাথে বেআদবী করছ এই কথা বলে যে, এরা কোন কিছু করতে সক্ষম নয়, মনে হচ্ছে আমাদের উপাস্যরাই তোমার এই বেআদবীর কারণে তোমার কিছু করে দিয়েছে এবং তাতে তোমার মন-মস্তিষ্ক খারাপ হয়ে গেছে। যেমন বর্তমানে নামধারী কিছু মুসলিমও এরূপ চিন্তা-ভাবনার শিকার হয়ে আছে। যখন তাদের বলা হয় যে, এই সকল মৃতব্যক্তি ও বুযুর্গদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই। তখন তারা বলে যে, এটা তাঁদের শানে বেআদবী এবং বড় আশঙ্কা আছে যে, তাঁরা এরূপ বেআদবদেরকে বিপদগ্রস্ত করবেন! আল্লাহর কাছে এমন গাঁজারে গল্প ও মনগড়া মিথ্যা কথা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।

[২] অর্থাৎ, আমি সেই সমস্ত মূর্তি ও উপাস্য থেকে সম্পর্কহীন। আর তোমাদের যে বিশ্বাস যে, তারা আমার কিছু ক্ষতি করে দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের এ ক্ষমতাই নেই যে, তারা কারোর উপকার করে অথবা অপকার।

55

مِن دُونِهِۦ ۖ فَكِيدُونِى جَمِيعًۭا ثُمَّ لَا تُنظِرُونِ

তাকে ছাড়া, তোমরা সবাই মিলে আমার অনিষ্ট করার প্রয়াস চালাও, অতঃপর আমাকে কোন অবকাশ দিও না।

সুতরাং তাঁকে (আল্লাহকে) ছেড়ে, তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাও। অতঃপর আমাকে সামান্য অবকাশও দিয়ো না। [১]

[১] যদি আমার কথার উপর তোমাদের বিশ্বাস না হয়; বরং তোমরা নিজেদের এই দাবীতে সত্যবাদী হও যে, এই সকল মূর্তি কিছু করার ক্ষমতা রাখে, তাহলে এই নাও! আমি উপস্থিত আছি, তোমরা এবং তোমাদের উপাস্য সহ সকলে মিলে আমার বিরুদ্ধে কিছু করে দেখাও। এ থেকে অনুমান করা যায় যে, নবী সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী হন। যার ফলে তাঁর দৃঢ়বিশ্বাস থাকে যে, নিঃসন্দেহে তিনি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন।

56

إِنِّى تَوَكَّلْتُ عَلَى ٱللَّهِ رَبِّى وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَآبَّةٍ إِلَّا هُوَ ءَاخِذٌۢ بِنَاصِيَتِهَآ ۚ إِنَّ رَبِّى عَلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ

আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই।

নিশ্চয় আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপর ভরসা করেছি। ভূপৃষ্ঠে যত বিচরণকারী জীব রয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই চুলের ঝুঁটি তিনি ধারণ করে আছেন (সবাই তাঁর করায়ত্তে)।[১] নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সরল পথে আছেন। [২]

[১] অর্থাৎ, যে সত্তার হাতে সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ আছে, তিনি সেই সত্তা যিনি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক। আমার সর্বপ্রকার ভরসা তাঁরই উপর রয়েছে। এই বাক্য দ্বারা হূদ (আঃ)-এর উদ্দেশ্য এই ছিল যে, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক করে রেখেছ, তাদের উপরেও একমাত্র আল্লাহরই ক্ষমতা ও কর্তৃতত্ত্ব আছে। আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে যা ইচ্ছা আচরণ করতে পারবেন; তারা কারোর কিছুই করতে পারবে না।

[২] অর্থাৎ, তিনি তওহীদের যে দাওয়াত দিচ্ছেন, নিঃসন্দেহে উক্ত দাওয়াতই হচ্ছে সরল সঠিক পথ। সেই পথ অবলম্বন করে তোমরা পরিত্রাণ ও কল্যাণ লাভ করতে পারবে। পক্ষান্তরে সেই সরল পথ বিচ্যুতি ও বিমুখতা ভ্রষ্টতা ও ধ্বংসের কারণ হবে।

57

فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَقَدْ أَبْلَغْتُكُم مَّآ أُرْسِلْتُ بِهِۦٓ إِلَيْكُمْ ۚ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّى قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُۥ شَيْـًٔا ۚ إِنَّ رَبِّى عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ حَفِيظٌۭ

তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা পৌছিয়েছি যা আমার কাছে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী।

অতঃপর যদি তোমরা বিমুখ হয়ে যাও, তাহলে আমাকে যে পয়গাম দিয়ে তোমাদের প্রতি পাঠানো হয়েছে, আমি তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।[১] আর আমার প্রতিপালক অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না;[২] নিশ্চয় আমার প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন।’ [৩]

[১] অর্থাৎ, এর পরে আমার দায়িত্ব শেষ এবং তোমাদের উপর সমস্ত প্রমাণ পূর্ণ হয়ে গেছে।

[২] অর্থাৎ, তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে তোমাদের জমি-সম্পদের মালিক অন্যদেরকে বানিয়ে দেবেন, তিনি এরূপ করার ক্ষমতা রাখেন এবং মোকাবেলায় তোমরা তাঁর কিছুই করতে পারবে না। বরং তিনি আপন ইচ্ছা ও হিকমত অনুযায়ী এরূপ করে থাকেন।

[৩] অবশ্যই তিনি আমাকে তোমাদের প্রতারণা ও চক্রান্ত থেকে সুরক্ষিত রাখবেন এবং শয়তানী চাতুরী থেকে রক্ষা করবেন। তাছাড়া সকল ভাল ও মন্দ ব্যক্তিদেরকে তাদের ভাল ও মন্দ আমল অনুযায়ী প্রতিদান ও প্রতিফল দান করবেন।

58

وَلَمَّا جَآءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًۭا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ بِرَحْمَةٍۢ مِّنَّا وَنَجَّيْنَٰهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍۢ

আর আমার আদেশ যখন উপস্থিত হল, তখন আমি নিজ রহমতে হুদ এবং তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে পরিত্রাণ করি এবং তাদেরকে এক কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করি।

আর যখন আমার (শাস্তির) হুকুম এসে পৌঁছল, তখন আমি হূদকে এবং যারা তার সাথে বিশ্বাসী ছিল তাদেরকে স্বীয় করুণায় রক্ষা করলাম। আর তাদেরকে বাঁচিয়ে নিলাম অতি কঠিন শাস্তি হতে। [১]

[১] অতি কঠিন শাস্তি থেকে উদ্দেশ্য সেই 'কল্যাণশূন্য বায়ু' যার দ্বারা হূদ (আঃ)-এর সম্প্রদায় আ'দকে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং যা থেকে হূদ (আঃ) ও তাঁর প্রতি ঈমান আনায়নকারীদের বাঁচিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

59

وَتِلْكَ عَادٌۭ ۖ جَحَدُوا۟ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا۟ رُسُلَهُۥ وَٱتَّبَعُوٓا۟ أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍۢ

এ ছিল আদ জাতি, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতকে অমান্য করেছে, আর তদীয় রসূলগণের অবাধ্যতা করেছে এবং প্রত্যেক উদ্ধত বিরোধীদের আদেশ পালন করেছে।

আর এই আ’দ সম্প্রদায় নিজেদের প্রতিপালকের নিদর্শনগুলিকে অস্বীকার করল এবং তাঁর রসূলদেরকে অমান্য করল,[১] পক্ষান্তরে তারা প্রত্যেক প্রবল প্রতাপশালী হঠকারীর নির্দেশ অনুসরণ করল।[২]

[১] আ'দ সম্প্রদায়ের নিকট একজনই নবী হূদ (আঃ)-কে প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তারা তাঁর রসূলদেরকে অমান্য করল। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় এই কথা প্রকাশ যে, একজন রসূলকে অমান্য ও অস্বীকার করার মানে, যেন সকল রসূলকে অমান্য ও অস্বীকার করা। কারণ সমস্ত রসূলদের প্রতি ঈমান রাখা অপরিহার্য। অথবা উদ্দেশ্য এই যে, এ সম্প্রদায় তাদের কুফরী ও অস্বীকার করাতে এমন অতিরঞ্জন করে ফেলেছিল যে, হূদ (আঃ)-এর পরেও যদি আমি তাদের মাঝে কয়েকজন রসূল প্রেরণ করতাম, তাহলে তারা সেই সকল রসূলদেরকেও অস্বীকার ও মিথ্যাজ্ঞান করত এবং তাদের নিকটে কোন মতেই এই আশা ছিল না যে, তারা কোন একজন রসূলের প্রতি ঈমান আনত। অথবা এও হতে পারে যে, তাদের নিকট আরো রসূল প্রেরণ করা হয়েছিল; কিন্তু তারা সকলকে মিথ্যাজ্ঞান করেছিল।

[২] অর্থাৎ, তারা আল্লাহর পয়গম্বরদেরকে তো মিথ্যাজ্ঞান করেছিল, কিন্তু যারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করত ও অবাধ্য ছিল, সেই সম্প্রদায় তাদেরই আনুগত্য করল।

60

وَأُتْبِعُوا۟ فِى هَٰذِهِ ٱلدُّنْيَا لَعْنَةًۭ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۗ أَلَآ إِنَّ عَادًۭا كَفَرُوا۟ رَبَّهُمْ ۗ أَلَا بُعْدًۭا لِّعَادٍۢ قَوْمِ هُودٍۢ

এ দুনিয়ায় তাদের পিছনে পিছনে লা’নত রয়েছে এবং কেয়ামতের দিনেও; জেনে রাখ, আদ জাতি তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে, হুদের জ্ঞাতি আদ জাতির প্রতি অভিসম্পাত রয়েছে জেনে রাখ।

আর এই দুনিয়াতে অভিসম্পাত তাদের সঙ্গে সঙ্গে রইল এবং কিয়ামতের দিনও।[১] জেনে রেখো! আ’দ (সম্প্রদায়) নিজ প্রতিপালককে অমান্য করল। আরো জেনে রেখো, দূর হয়ে গেল আ’দ (আল্লাহর করুণা হতে); যারা হূদের সম্প্রদায় ছিল। [২]

[১] لعنة (লানত, অভিসম্পাত) শব্দটির অর্থ হল আল্লাহর রহমত থেকে দূর হওয়া, মঙ্গলময় বস্তু থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং লোকের অসন্তুষ্টি ও নিন্দার শিকার হওয়া। দুনিয়াতে এই অভিসম্পাত এইভাবে হবে যে, মু'মিনদের মাঝে সর্বদা তাদের আলোচনা নিন্দা ও অসন্তুষ্টির সাথে হবে। আর কিয়ামতের দিন এইভাবে হবে যে, তারা সকলের সামনে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে এবং আল্লাহর শাস্তিতে গ্রেফতার হবে।

[২] بُعْدٌ শব্দটিও রহমত থেকে দূর এবং অভিসম্পাত ও ধ্বংসের অর্থে ব্যবহার হয়, এর পূর্বেও তা বর্ণনা করা হয়েছে।

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.