Muslim99Muslim99
← Tafsir library

11. Hud

Hud · Meccan · 123 ayahs

سُورَةُ هُودٍ

Reading Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication)

Ayahs 81–90 of 123

81

قَالُوا۟ يَٰلُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَن يَصِلُوٓا۟ إِلَيْكَ ۖ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍۢ مِّنَ ٱلَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌ إِلَّا ٱمْرَأَتَكَ ۖ إِنَّهُۥ مُصِيبُهَا مَآ أَصَابَهُمْ ۚ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ ٱلصُّبْحُ ۚ أَلَيْسَ ٱلصُّبْحُ بِقَرِيبٍۢ

মেহমান ফেরেশতাগন বলল-হে লূত (আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়?

৮০-৮১ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ হযরত লূত (আঃ) যখন দেখলো যে, তার উপদেশ তার কওমের উপর ক্রীয়াশীল হলো না, তখন তাদেরকে ধমকের সুরে বললো: যদি আমার শক্তি থাকতো বা আমার আত্মীয় স্বজন শক্তিশালী হতো তবে অবশ্যই আমি তোমাদের এই দুষ্কর্যের স্বাদ গ্রহণ করাতাম।হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “লূতের (আঃ) উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, অবশ্যই তিনি কোন দৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। এর দ্বারা তিনি মহা মহিমান্বিত আল্লাহর সত্ত্বাকেই বুঝিয়েছেন। তাঁর পরে যে নবীকেই প্রেরন করা হয়েছে, তিনি তাঁর প্রভাবশালী কওমের মধ্যেই প্রেরিত হয়েছেন।”ফেরেশ্‌তাগণ হযরত লূতের (আঃ) মনমরা অবস্থা লক্ষ্য করে নিজেদের স্বরূপ তার কাছে প্রকাশ করেন। তারা বলেনঃ হে লূত (আঃ)! আমরা আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত হয়েছি। তারা কখনো আপনার নিকট পৌঁছতে পারবে না। (এবং আমাদের নিকটও না)। আপনি অদ্য রাত্রির শেষ ভাগে আপনার পরিবার পরিজনসহ এখান থেকে সরে পড়বেন। আপনি নিজে তাদের পেছনে থাকবেন এবং সরাসরি নিজেদের পথে চলতে থাকবেন। আপনাদের কেউই যেন কওমের হা-হুতাশ, কান্নাকাটি এবং চীৎকার শুনে তাদের দিকে ফিরেও না দেখে। এর থেকে তারা হযরত লূতের (আঃ) স্ত্রীকে পৃথক করে দেন। তারা বলেন যে, তার স্ত্রী তাদের অনুসরণ করতে পারবে না, সে তার কওমের শাস্তির সময় তাদের হা-হুতাশ ও কান্না শুনে তাদের দিকে ফিরে তাকাবে। কেননা, তার কওমের সাথে সেও ধ্বংস হয়ে যাবে, এ ফায়সালা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে হয়েই গেছে। এক কিরাআতে (আরবি) অর্থাৎ (আরবি) শব্দের উপর পেশ দিয়ে রয়েছে। যে সব গুরুজনের নিকট ‘পেশ’ ও ‘যবর’ দুটোই জায়েয তারা বর্ণনা করেন যে, হযরত লূতের (আঃ) স্ত্রী ও তাদের সাথে বের হয়েছিল। কিন্তু শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার সময় কওমের চীৎকার শুনে সে ধৈর্য ধারণ করতে পারে নাই। সে তাদের দিকে ফিরে তাকিয়েছিল এবং ‘হায় আমার কওম!’ একথা মুখ দিয়ে বেরও হয়েছিল। তৎক্ষণাৎ আকাশ থেকে একটা পাথর তার প্রতি নিক্ষিপ্ত হয়। সুতরাং সেও ধ্বংস হতে যায়। হযরত লূতকে (আঃ) আরো সান্ত্বনা দানের জন্যে তাঁর কওমের শাস্তি নিকটবর্তী হয়ে যাওয়ার কথাও তাঁর কাছে বর্ণনা করে দেন যে, সকাল হওয়া মাত্রই তারা ধ্বংস হয়ে যাবে আর সকাল তো খুবই নিকটে।হযরত লূতের (আঃ) কওম তাঁর দরজার উপর দাঁড়িয়েছিল এবং তাঁকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে রেখেছিল। তারা তাঁর দিকে তীর বেগে ধাবিত হচ্ছিল। এমতাবস্থায় হযরত জিবরাঈল (আঃ) ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন এবং নিজের ডানা দ্বারা তাদের মুখের উপর আঘাত করেন। ফলে তাদের চক্ষু অন্ধ হয়ে যায়।হযরত হুযাইফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, স্বয়ং হযরত ইবরাহীমও (আঃ) হযরত লূতের (আঃ) কওমের নিকট আগমন করেন এবং তাদেরকে বুঝিয়ে বলেনঃ “দেখো, তোমরা আল্লাহর শাস্তিকে ক্রয় করে নিয়ো না।” কিন্তু তারা আল্লাহর দোস্তের উপদেশও মান্য করে নাই। অবশেষে শাস্তির নির্ধারিত সময় এসে পড়লো। হযরত লূত (আঃ) তার জমিতে কাজ করছিলেন, এমন সময় ফেরেশতাগণ তার নিকট আগমন করেন। তাঁরা তাঁকে বলেনঃ আজ রাত্রিতে আমরা আপনার বাড়ীতে মেহমান হলাম।” হযরত জিবরাঈলের (আঃ) প্রতি আল্লাহ পাকের এই নির্দেশ ছিল যে, যে পর্যন্ত হযরত লূত (আঃ) তিনবার তাঁর কওমের বদ অভ্যাসের সাক্ষ্য প্রদান না করবেন সেই পর্যন্ত যেন তাদেরকে শাস্তি দেয়া না হয়। হযরত লূত (আঃ) যখন তাদেরকে নিয়ে চললেন তখন পথিমধ্যেই তাদেরকে বললেনঃ “এখানকার লোকেরা বড়ই দুশ্চরিত্র, এই এই দোষ তাদের মধ্যে রয়েছে। কিছু দূর গিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি তাদেরকে বলেনঃ “এই গ্রামের লোকদের দুষ্কার্য কি আপনারা অবগত নন? আমার জানা মতে এদের চেয়ে দুষ্ট লোক-ভূপৃষ্ঠে আর নেই। হায়! আমি আপনাদেরকে কোথায় নিয়ে যাবো! আমার কওম তো সমস্ত মাখলুক হতে বদতর। ঐ সময় হযরত জিবরাঈল (আঃ) তার সঙ্গীয় ফেরেশতাদেরকে বলেনঃ “দেখো, দু’বার তিনি একথা বললেন।” অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে নিয়ে বাড়ীর …

82

فَلَمَّا جَآءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَٰلِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةًۭ مِّن سِجِّيلٍۢ مَّنضُودٍۢ

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।

৮২-৮৩ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “যখন আমার হুকুম (শাস্তি) এসে পৌঁছলো, ওটা ছিল সুর্য উদিত হওয়ার সময়। সুদূম নামক গ্রামকে আল্লাহপাক তল উপর করে দেন। তাদের উপর আকাশ থেকে পাকা মাটির পাথর বর্ষিত হতে লাগলো, যা ছিল খুবই শক্ত, ওজনসইও বড়। ইমাম বুখারী (রঃ) বলেন যে, (আরবি) শব্দের অর্থ হচ্ছে শক্ত, বড়। (আরবি) ও (আরবি) এর (আরবি) ও (আরবি) দু’বোন অর্থাৎ দু’টোর অর্থ একই। তামীম ইবনু মুকবিল তাঁর কবিতার এক জায়গায় বলেছেনঃ (আরবি)এখানেও (আরবি) শব্দটিকে (আরবি) অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। (আরবি) শব্দের অর্থ হচ্ছে একের পর এক বা ক্রমাগত। ঐ পাথর গুলির উপর ঐ লোকগুলির নাম লিখা ছিল। যে পাথরে যে ব্যক্তির নাম লিখা ছিল ঐ পাথর ঐ ব্যক্তির উপরই বর্ষিত হচ্ছিল। কাতাদা’ (রঃ) এবং ইকরামা (রঃ) বলেন যে, (আরবি) এর অর্থ হচ্ছে (আরবি) অর্থাৎ ‘তওক’ বা শৃঙ্খল করা ছিল, যা লাল রঙ্গে ডুবিয়ে নেয়া হয়েছিল। এই পাথরগুলি ঐ শহরবাসীদের উপরও বর্ষিত হয় এবং এখানকার যারা অন্য গ্রামে গিয়েছিল সেখানেও (তাদের উপর) বর্ষিত হয়। তাদের যে যেখানে ছিল সেখানেই পাথর দ্বারা ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ হয়তো কোন জায়গায় কারো সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল সেখানেই আকাশ হতে তার উপর পাথর নিক্ষিপ্ত হয় এবং তাকে ধ্বংস করে দেয়। মোট কথা, তাদের একজনও রক্ষা পায় নাই।হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাদের সকলকে একত্রিত করে তাদের ঘর-বাড়ী ও গবাদি পশুগুলিসহ উপরে উঠিয়ে নেন। এমন কি তাদের শব্দ এবং তাদের কুকুরগুলির ঘেউ ঘেউ শব্দ আকাশের ফেরেশতাগণ শুনতে পান। হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাঁর ডান দিকের ডানার কিনারার উপর তাদের গোটা বস্তিকে উঠিয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি ওটাকে যমীনে উলটিয়ে দেন। ফলে তারা পরস্পর ভীষণভাবে ধাক্কা খায় এবং একই সাথে সবাই ধ্বংস হয়ে যায়। এইভাবে ক্ষণেকের মধ্যে তাদেরকে দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়। বর্ণিত আছে যে, তাদের মোট চারটি গ্রাম ছিল এবং প্রতিটি গ্রামে এক লক্ষ করে লোক বসবাস করতো। অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, তাদের তিনটি গ্রাম। সবচেয়ে বড় গ্রামটির নাম ছিল সুদূম। এখানে মাঝে মাঝে হযরত ইবরাহীম (আঃ) আসতেন এবং তাদেরকে (লূতের আঃ কওমকে) উপদেশ দিতেন। আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ ঐ জনপদগুলি এই অত্যাচারীদের (বাসভূমি) হতে বেশী দূর নয়। সুনানের মধ্যে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে মারফূ’ রূপে হাদীস বর্ণিত আছেঃ “যদি তোমরা কাউকে হযরত লূতের (আঃ) কওমের আমলের মত আমল করতে দেখতে পাও তবে যে এই কাজ করছে এবং যার উপর করছে উভয়কেই হত্যা করে দাও।” এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম শাফিয়ী (রঃ) এবং আলেমদের একটি জামাআত বলেন যে, লাওয়াতকারীকে হত্যা করে দেয়া হবে, সে বিবাহিতই হোক বা অবিবাহিতই হোক। আর ইমাম আবু হানীফা (রঃ) বলেন যে, তাকে উপর থেকে নীচে নিক্ষেপ করতে হবে এবং এক এক করে তার উপর পাথর বষর্ণ করতে হবে, যেমন আল্লাহ তাআ’লা হযরত লূতের (আঃ) কওমের প্রতি করেছিলেন। সঠিক কোনটি তা আল্লাহ পাকই সবচেয়ে ভাল জানেন।

83

مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ ۖ وَمَا هِىَ مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ بِبَعِيدٍۢ

যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেই পাপিষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়।

৮২-৮৩ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “যখন আমার হুকুম (শাস্তি) এসে পৌঁছলো, ওটা ছিল সুর্য উদিত হওয়ার সময়। সুদূম নামক গ্রামকে আল্লাহপাক তল উপর করে দেন। তাদের উপর আকাশ থেকে পাকা মাটির পাথর বর্ষিত হতে লাগলো, যা ছিল খুবই শক্ত, ওজনসইও বড়। ইমাম বুখারী (রঃ) বলেন যে, (আরবি) শব্দের অর্থ হচ্ছে শক্ত, বড়। (আরবি) ও (আরবি) এর (আরবি) ও (আরবি) দু’বোন অর্থাৎ দু’টোর অর্থ একই। তামীম ইবনু মুকবিল তাঁর কবিতার এক জায়গায় বলেছেনঃ (আরবি)এখানেও (আরবি) শব্দটিকে (আরবি) অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। (আরবি) শব্দের অর্থ হচ্ছে একের পর এক বা ক্রমাগত। ঐ পাথর গুলির উপর ঐ লোকগুলির নাম লিখা ছিল। যে পাথরে যে ব্যক্তির নাম লিখা ছিল ঐ পাথর ঐ ব্যক্তির উপরই বর্ষিত হচ্ছিল। কাতাদা’ (রঃ) এবং ইকরামা (রঃ) বলেন যে, (আরবি) এর অর্থ হচ্ছে (আরবি) অর্থাৎ ‘তওক’ বা শৃঙ্খল করা ছিল, যা লাল রঙ্গে ডুবিয়ে নেয়া হয়েছিল। এই পাথরগুলি ঐ শহরবাসীদের উপরও বর্ষিত হয় এবং এখানকার যারা অন্য গ্রামে গিয়েছিল সেখানেও (তাদের উপর) বর্ষিত হয়। তাদের যে যেখানে ছিল সেখানেই পাথর দ্বারা ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ হয়তো কোন জায়গায় কারো সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল সেখানেই আকাশ হতে তার উপর পাথর নিক্ষিপ্ত হয় এবং তাকে ধ্বংস করে দেয়। মোট কথা, তাদের একজনও রক্ষা পায় নাই।হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাদের সকলকে একত্রিত করে তাদের ঘর-বাড়ী ও গবাদি পশুগুলিসহ উপরে উঠিয়ে নেন। এমন কি তাদের শব্দ এবং তাদের কুকুরগুলির ঘেউ ঘেউ শব্দ আকাশের ফেরেশতাগণ শুনতে পান। হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাঁর ডান দিকের ডানার কিনারার উপর তাদের গোটা বস্তিকে উঠিয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি ওটাকে যমীনে উলটিয়ে দেন। ফলে তারা পরস্পর ভীষণভাবে ধাক্কা খায় এবং একই সাথে সবাই ধ্বংস হয়ে যায়। এইভাবে ক্ষণেকের মধ্যে তাদেরকে দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়। বর্ণিত আছে যে, তাদের মোট চারটি গ্রাম ছিল এবং প্রতিটি গ্রামে এক লক্ষ করে লোক বসবাস করতো। অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, তাদের তিনটি গ্রাম। সবচেয়ে বড় গ্রামটির নাম ছিল সুদূম। এখানে মাঝে মাঝে হযরত ইবরাহীম (আঃ) আসতেন এবং তাদেরকে (লূতের আঃ কওমকে) উপদেশ দিতেন। আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ ঐ জনপদগুলি এই অত্যাচারীদের (বাসভূমি) হতে বেশী দূর নয়। সুনানের মধ্যে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে মারফূ’ রূপে হাদীস বর্ণিত আছেঃ “যদি তোমরা কাউকে হযরত লূতের (আঃ) কওমের আমলের মত আমল করতে দেখতে পাও তবে যে এই কাজ করছে এবং যার উপর করছে উভয়কেই হত্যা করে দাও।” এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইমাম শাফিয়ী (রঃ) এবং আলেমদের একটি জামাআত বলেন যে, লাওয়াতকারীকে হত্যা করে দেয়া হবে, সে বিবাহিতই হোক বা অবিবাহিতই হোক। আর ইমাম আবু হানীফা (রঃ) বলেন যে, তাকে উপর থেকে নীচে নিক্ষেপ করতে হবে এবং এক এক করে তার উপর পাথর বষর্ণ করতে হবে, যেমন আল্লাহ তাআ’লা হযরত লূতের (আঃ) কওমের প্রতি করেছিলেন। সঠিক কোনটি তা আল্লাহ পাকই সবচেয়ে ভাল জানেন।

84

۞ وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًۭا ۚ قَالَ يَٰقَوْمِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُۥ ۖ وَلَا تَنقُصُوا۟ ٱلْمِكْيَالَ وَٱلْمِيزَانَ ۚ إِنِّىٓ أَرَىٰكُم بِخَيْرٍۢ وَإِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍۢ مُّحِيطٍۢ

আর মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েব (আঃ) কে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন-হে আমার কওম! আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া আমাদের কোন মাবুদ নাই। আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না, আজ আমি তোমাদেরকে ভাল অবস্থায়ই দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এমন একদিনের আযাবের আশঙ্কা করছি যেদিনটি পরিবেষ্টনকারী।

আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ আমি মাদইয়ানবাসীর নিকট তাদের ভাই শুআ’ইবকে (আঃ) নবী করে পাঠিয়েছিলাম। তারা হচ্ছে আরবের ঐ গোত্র যারা হিজায্‌ ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী স্থান মাআ’নের নিকটে বাস করতো। তাদের শহরের নাম ছিল মাদইয়ান। তাদের নিকট হযরত শূআ’ইব (আঃ) কে নবী করে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সম্রান্ত বংশীয় লোক। আর তিনি তাদেরই মধ্যকার একজন লোক ছিলেন। তাই, তাকে (আরবি) বা তাদের ভাই বলা হয়েছে। তিনিও নবীদের রীতিনীতি অভ্যাস এবং আল্লাহ তাআ’লার নির্দেশ অনুযায়ী স্বীয় কওমকে এক ও শরীকবিহীন আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দেন। সাথে সাথে তিনি তাদেরকে মাপে ও ওজনে কম করা হতে বিরত থাকতে বলেন। যাতে কারো হক নষ্ঠ করা না হয়। তিনি তাদেরকে আল্লাহর ইহসানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেনঃ আল্লাহ তাআ’লা তোমাদেরকে সুখী সমৃদ্ধ ও স্বচ্ছল রেখেছেন। সুতরাং তোমরা তাঁর এই অনুগ্রহের কথা ভুলে যেয়ো না। তিনি তাদের কাছে নিজের ভয় প্রকাশ করে বললেনঃ যদি তোমরা তোমাদের শির্‌কপূর্ণ রীতিনীতি এবং অত্যাচারমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত না থাকে, তবে তোমাদের এই ভাল ও স্বচ্ছল অবস্থা দূরাবস্থায় পরিবর্তিত হবে।

85

وَيَٰقَوْمِ أَوْفُوا۟ ٱلْمِكْيَالَ وَٱلْمِيزَانَ بِٱلْقِسْطِ ۖ وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ

আর হে আমার জাতি, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন দাও এবং লোকদের জিনিসপত্রে কোনরূপ ক্ষতি করো না, আর পৃথিবীতে ফাসাদ করে বেড়াবে না।

৮৫-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর হযরত শুআ’ইব (আঃ) প্রথমে তাঁর কওমকে মাপে ও ওজনে কম করতে নিষেধ করেন। এরপর পরস্পর লেনদেনের সময় ন্যায় পরায়ণতার সাথে পুরোপুরিভাবে মাপ ও ওজন করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং ভূ-পৃষ্ঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ধ্বংসাত্মক কাজ করতে নিষেধ করছেন। তাঁর কওমের মধ্যে ছিনতাই, ডাকাতি, লুটতরাজ প্রভৃতি বদ অভ্যাস অনুপ্রবেশ করেছিল। তিনি বলেন যে, মানুষের হক নষ্ট করে লাভবান হওয়ার চাইতে আল্লাহ প্রদত্ত লাভ বহুগুণে শ্রেয়। তিনি তাদেরকে বলেনঃ “আল্লাহর এই অসিয়ত তোমাদের জন্যে খুবই কল্যাণকর বটে। শাস্তি দ্বারা মানুষের যেমন ধ্বংস হয়,অনুরূপভাবে রহমতের দ্বারা মানুষের সব কিছু স্থায়ী হয় ও অবশিষ্ট থাকে। ঠিকভাবে ওজন করে এবং পুরোপুরিভাবে মাপ করে হালাল উপায়ে যে লাভ হয় তাতেই বরকত হয়ে থাকে। অশ্লীলতা ও পবিত্রতার মধ্যে সমতা কোথায়? দেখো, আমি সব সময় তোমাদের দেখা শোনা করতে পারি না। আমাকে তোমাদের পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়নি। সুতরাং তোমাদের উচিত, আল্লাহরই ওয়াস্তে ভাল কাজ করা এবং মন্দ কার্য পরিত্যাগ করা। মানুষকে দেখাবার জন্য নয়।

86

بَقِيَّتُ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ۚ وَمَآ أَنَا۠ عَلَيْكُم بِحَفِيظٍۢ

আল্লাহ প্রদত্ত উদ্ধৃত্ত তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা ঈমানদার হও, আর আমি তো তোমাদের উপর সদা পর্যবেক্ষণকারী নই।

৮৫-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর হযরত শুআ’ইব (আঃ) প্রথমে তাঁর কওমকে মাপে ও ওজনে কম করতে নিষেধ করেন। এরপর পরস্পর লেনদেনের সময় ন্যায় পরায়ণতার সাথে পুরোপুরিভাবে মাপ ও ওজন করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং ভূ-পৃষ্ঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ধ্বংসাত্মক কাজ করতে নিষেধ করছেন। তাঁর কওমের মধ্যে ছিনতাই, ডাকাতি, লুটতরাজ প্রভৃতি বদ অভ্যাস অনুপ্রবেশ করেছিল। তিনি বলেন যে, মানুষের হক নষ্ট করে লাভবান হওয়ার চাইতে আল্লাহ প্রদত্ত লাভ বহুগুণে শ্রেয়। তিনি তাদেরকে বলেনঃ “আল্লাহর এই অসিয়ত তোমাদের জন্যে খুবই কল্যাণকর বটে। শাস্তি দ্বারা মানুষের যেমন ধ্বংস হয়,অনুরূপভাবে রহমতের দ্বারা মানুষের সব কিছু স্থায়ী হয় ও অবশিষ্ট থাকে। ঠিকভাবে ওজন করে এবং পুরোপুরিভাবে মাপ করে হালাল উপায়ে যে লাভ হয় তাতেই বরকত হয়ে থাকে। অশ্লীলতা ও পবিত্রতার মধ্যে সমতা কোথায়? দেখো, আমি সব সময় তোমাদের দেখা শোনা করতে পারি না। আমাকে তোমাদের পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়নি। সুতরাং তোমাদের উচিত, আল্লাহরই ওয়াস্তে ভাল কাজ করা এবং মন্দ কার্য পরিত্যাগ করা। মানুষকে দেখাবার জন্য নয়।

87

قَالُوا۟ يَٰشُعَيْبُ أَصَلَوٰتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّتْرُكَ مَا يَعْبُدُ ءَابَآؤُنَآ أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِىٓ أَمْوَٰلِنَا مَا نَشَٰٓؤُا۟ ۖ إِنَّكَ لَأَنتَ ٱلْحَلِيمُ ٱلرَّشِيدُ

তারা বলল-হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার নামায কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ-দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন-সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক।

হযরত আ’মাশ (রঃ) বলেন যে, এখানে (আরবি) দ্বারা (আরবি) উদ্দেশ্য। হযরত শুআ’ইবের (আঃ) কওম তাঁকে ঠাট্টা করে বললো: “ওহে, তুমি খুব ভাল কথাই বলছো! তোমার পঠন তোমাকে এটাই হুকুম করছে যে, আমরা আমাদের পুর্ব পুরুষদের রীতিনীতি পরিত্যাগ করতঃ আমাদের পুরাতন উপাস্যদের উপাসনা ছেড়ে দেই! আর এটাও খুব মজার কথা যে, আমরা আমাদের নিজেদের মালেরও মালিক থাকবো না, সুতরাং এ ব্যাপারে যা ইচ্ছা তাই করতেও পারবো না। কাউকে মাপে ও ওজনে কমও দিতে পারবো না।” হযরত হাসান (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম! হযরত শুআ’ইবের (আঃ) নামাযের হুকুম এটাই ছিল যে, তিনি তাদেরকে গায়রুল্লাহর ইবাদত ও মাখলুকের হক বিনষ্ট করা হতে বিরত রাখবেন। সাওরী (রঃ) বলেনঃ “আমরা নিজেদের মালে নিজেদের ইচ্ছানুসারে ব্যবস্থা অবলম্বন করি’ তাদের এই উক্তি দ্বারা তারা বুঝাতে চেয়েছেঃ ‘আমরা যাকাত কেন দেবো?' তারা শুধু বিদ্রুপ করেই হযরত শুআ’ইবকে (আঃ) জ্ঞানবান ও ধর্মপরায়ণ বলেছিল।

88

قَالَ يَٰقَوْمِ أَرَءَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍۢ مِّن رَّبِّى وَرَزَقَنِى مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًۭا ۚ وَمَآ أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَىٰ مَآ أَنْهَىٰكُمْ عَنْهُ ۚ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا ٱلْإِصْلَٰحَ مَا ٱسْتَطَعْتُ ۚ وَمَا تَوْفِيقِىٓ إِلَّا بِٱللَّهِ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ

শোয়ায়েব (আঃ) বললেন-হে দেশবাসী, তোমরা কি মনে কর! আমি যদি আমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট দলীলের উপর কায়েম থাকি আর তিনি যদি নিজের তরফ হতে আমাকে উত্তম রিযিক দান করে থাকেন, (তবে কি আমি তাঁর হুকুম অমান্য করতে পারি?) আর আমি চাই না যে তোমাদেরকে যা ছাড়াতে চাই পরে নিজেই সে কাজে লিপ্ত হব, আমি তো যথাসাধ্য শোধরাতে চাই। আল্লাহর মদদ দ্বারাই কিন্তু কাজ হয়ে থাকে, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তাঁরই প্রতি ফিরে যাই।

হযরত শুআ’ইব (আঃ) স্বীয় কওমকে বলতে লাগলেনঃ “দেখো, আমি আমার প্রতিপালকের তরফ হতে দলীল প্রমাণের উপর প্রতিষ্টিত রয়েছি। এবং সেই দিকেই তোমাদেরকে আহবান করছি। আমার প্রতিপালক আমাকে অনুগ্রহ পূর্বক উত্তম রিযক দান করেছেন।” কেউ কেউ বলেছেন যে, এখানে উত্তম রিয্‌ক দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে নুবওয়াত। আবার কেউ কেউ হালাল জীবিকা অর্থ নিয়েছেন। দু’টোই হতে পারে। তিনি বলেনঃ হে আমার কওম! তোমরা আমার নীতি এরূপ পাবে না যে, আমি তোমাদেরকে ভাল কাজের হুকুম করব এবং নিজে গোপনে এর বিপরীত কাজ করবো। আমার তো একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আমার সাধ্য অনুযায়ী সংশোধন করা। হা, তবে আমার উদ্দেশ্যের সফলতা আল্লাহ তাআ’লার হাতেই রয়েছে। তারই উপর আমি ভরসা রাখি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি ও ঝুঁকে পড়ি।হাকীম ইবনু মুআ’বিয়া তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর (মুআ’বিয়ার) ভাই মালিক তাঁকে বলেনঃ “হে মুআ’বিয়া! রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার প্রতিবেশীদেরকে বন্দী করে রেখেছেন। তুমি তাঁর নিকট গমন কর। তাঁর সাথে তোমার আলাপ আলোচনা হয়ে থাকে এবং তিনি তোমাকে চিনেন।” (মুআ’বিয়া বলেনঃ) আমি তখন তার সাথে গমন করলাম। সে (মালিক) বললো: “আমার প্রতিবেশীদেরকে ছেড়ে দিন। তারা মুসলমান হয়েছিল। তার এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুখ ফিরিয়ে নেন। সে তখন রাগান্বিত হয়ে উঠে দাঁড়ায় এবং বলেঃ “আল্লাহর কসম! যদি আপনি এটা করেন তবে লোকেরা বলাবলি করবেঃ আপনি আমাদেরকে কোন কাজের আদেশ করেন, অথচ নিজে ওর বিপরীত কাজ করে থাকেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “তুমি কি বলছো?” সে উত্তরে বললো: আল্লাহর কসম! যদি আপনি এটা করেন তবে অবশ্যই লোকেরা ধারণা করবে যে, আপনি কোন কাজের আদেশ করেন, আর নিজেই ওটার বিপরীত কাজ করে থাকেন।” বর্ণনাকারী বলেন যে, তার একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “লোকেরা কি এ কথা সত্যিই বলেছে? অবশ্যই যদি আমি এরূপ করি তবে নিশ্চয় এর শাস্তি আমাকেই ভোগ করতে হবে, তাদেরকে নয়। তোমরা তার প্রতিবেশীদেরকে ছেড়ে দাও। (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)বাহায ইবনু হাকীম হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি (তাঁর দাদা) বলেনঃ “আমার কওমের কতকগুলি লোককে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সন্দেহ বশতঃ পাকড়াও করে বন্দী করেন। তখন আমার কওমের একজন লোক আল্লাহর রাসূলের (সঃ) নিকট আগমন করে। ঐ সময় তিনি খুৎবা দিচ্ছিলেন। লোকটি ঐ অবস্থাতেই তাঁকে বললো: “হে মুহাম্মদ (সঃ)! আমার প্রতিবেশীদেরকে আপনি কি কারণে বন্দী করেছেন?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) নীরব থাকেন। তখন সে বলে, নিশ্চয় লোকেরা বলাবলি করছে, আপনি কোন কিছু থেকে নিষেধ করছেন, অথচ নিজেই তা করছেন। তার এ কথা শুনে নবী (সঃ) বলেনঃ “তুমি কি বলছো?” বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি মাঝখানে বলতে শুরু করলামঃ এ কথা শুনার আপনার কোনই প্রয়োজন নেই, আমি এই ভয়েই একথা বললাম যে, যদি তিনি এটা শুনতে পান, অতঃপর আমার কওমের উপর বদ দুআ’ করেন তবে এর পরে কখনো তারা মুক্তি পাবে না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সঃ) বরাবর এর পিছনে লেগেই থাকলেন এবং শেষে তার কথা বুঝেই ফেললেন।অতঃপর তিনি বললেনঃ “তাদের কেউ এ কথা মুখ দিয়ে বের করেছে? আল্লাহর শপথ! আমি যদি এরূপ করি তবে এর পাপের বোঝা আমাকেই বহন করতে হবে, তাদেরকে নয়। তার প্রতিবেশীদেরকে ছেড়ে দাও। (এ হাদীসটিও ইমাম আহমদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এই প্রসঙ্গেই আবু হুমায়েদ (রাঃ) ও আবু উসায়েদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা আমার পক্ষ থেকে এমন কোন হাদীস শুনবে যা তোমাদের অন্তর অস্বীকার করে এবং তোমাদের দেহ ও চুল তার থেকে পৃথক থাকে এবং তোমরা পার যে, তোমরা ওর থেকে দূরে রয়েছে, তখন জানবে যে, তোমাদের চেয়ে এটা হতে আমি আরো বহু দূরে রয়েছি।” (ইমাম আহমদই (রঃ) এ হাদীসটিকেও স্বীয় হাদীস গ্রন্থ ‘মুসনাদ’ এ বর্ণনা করেছেন। এর সনদ বিশুদ্ধ)ইমাম মুসলিম (রঃ) এই সনদে নিম্নের হাদীসটি তাখরীজ করেছেনঃ “যখন তোমাদের …

89

وَيَٰقَوْمِ لَا يَجْرِمَنَّكُمْ شِقَاقِىٓ أَن يُصِيبَكُم مِّثْلُ مَآ أَصَابَ قَوْمَ نُوحٍ أَوْ قَوْمَ هُودٍ أَوْ قَوْمَ صَٰلِحٍۢ ۚ وَمَا قَوْمُ لُوطٍۢ مِّنكُم بِبَعِيدٍۢ

আর হে আমার জাতি! আমার সাথে জিদ করে তোমরা নূহ বা হুদ অথবা সালেহ (আঃ) এর কওমের মত নিজেদের উপর আযাব ডেকে আনবে না। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে খুব দূরে নয়।

৮৯-৯০ নং আয়াতের তাফসীর হযরত শুআ’ইব (আঃ) তাঁর কওমকে বলেনঃ “হে আমার কওম! তোমরা আমার প্রতি শত্রুতা ও হিংসায় পড়ে কুফরী ও পাপ কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়ো না; নচেৎ তোমাদের উপর ঐ শাস্তিই এসে পড়বে যা তোমাদের পূর্বে তোমাদের ন্যায় আমলকারীদের উপর এসেছিল। বিশেষ করে হযরত লূতের (আঃ) কওম তো তোমাদের অদূর যুগেই ছিল। তাদের যুগ তোমাদের থেকে বেশী দূরে নয় এবং তাদের বাসস্থানও তোমাদের বাসভূমির অতি নিকটবর্তী। তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী পাপরাশির জন্যে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। আমার প্রতিপালক এইরূপ লোকদের উপর অত্যন্ত দয়ালু হয়ে যান এবং তাদেরকে নিজের প্রিয় বান্দা বানিয়ে নেন যারা এইভাবে নিজেদের পাপের জন্যে তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাঁরই দিকে ফিরে যায়। ইবনু আবি লায়লা আল-কিনদী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ “আমি আমার মনিবের জন্তুটি ধরে দাঁড়িয়েছিলাম। জনগণ হযরত উসমানের (রাঃ) বাড়ী অবরোধ করেছিল। তিনি বাড়ীর ভিতর হতে মাথা উঁচু করে আমাদেরকে উপরোক্ত আয়াতটি পাঠ করে শুনিয়ে দেন। অতঃপর তিনি বলেন, “হে আমার কওম! তোমরা আমাকে হত্যা করো না। তোমরা তো এইরূপ ছিলে।” এ কথা বলার সময় তিনি স্বীয় অঙ্গুলীর মধ্যে অঙ্গুলী প্রবেশ করিয়ে দেন অর্থাৎ এক হাতের অঙ্গুলীর মধ্যে আর এক হাতের অঙ্গুলী প্রবেশ করান।” (এটা ইবনু আবি হা’তিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। হযরত উসমানের (রাঃ) অঙ্গুলীর মধ্যে অঙ্গুলী প্রবেশ করিয়ে দেখানোর তাৎপর্য এই যে, সাহাবীগণ তো একে অপরের ভাইরুপে কালাতিপাত করতেন। কিন্তু হযরত উসমানের (রাঃ) যুগে ভুল বুঝাবুঝির কারণে তাঁরা তাঁর শক্ত হয়ে যান। তাই, তিনি তাদেরকে পূর্বাবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেন)

90

وَٱسْتَغْفِرُوا۟ رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوٓا۟ إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّى رَحِيمٌۭ وَدُودٌۭ

আর তোমাদের পালনকর্তার কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে ফিরে এসো নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান অতিস্নেহময়।

৮৯-৯০ নং আয়াতের তাফসীর হযরত শুআ’ইব (আঃ) তাঁর কওমকে বলেনঃ “হে আমার কওম! তোমরা আমার প্রতি শত্রুতা ও হিংসায় পড়ে কুফরী ও পাপ কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়ো না; নচেৎ তোমাদের উপর ঐ শাস্তিই এসে পড়বে যা তোমাদের পূর্বে তোমাদের ন্যায় আমলকারীদের উপর এসেছিল। বিশেষ করে হযরত লূতের (আঃ) কওম তো তোমাদের অদূর যুগেই ছিল। তাদের যুগ তোমাদের থেকে বেশী দূরে নয় এবং তাদের বাসস্থানও তোমাদের বাসভূমির অতি নিকটবর্তী। তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী পাপরাশির জন্যে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। আমার প্রতিপালক এইরূপ লোকদের উপর অত্যন্ত দয়ালু হয়ে যান এবং তাদেরকে নিজের প্রিয় বান্দা বানিয়ে নেন যারা এইভাবে নিজেদের পাপের জন্যে তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাঁরই দিকে ফিরে যায়। ইবনু আবি লায়লা আল-কিনদী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ “আমি আমার মনিবের জন্তুটি ধরে দাঁড়িয়েছিলাম। জনগণ হযরত উসমানের (রাঃ) বাড়ী অবরোধ করেছিল। তিনি বাড়ীর ভিতর হতে মাথা উঁচু করে আমাদেরকে উপরোক্ত আয়াতটি পাঠ করে শুনিয়ে দেন। অতঃপর তিনি বলেন, “হে আমার কওম! তোমরা আমাকে হত্যা করো না। তোমরা তো এইরূপ ছিলে।” এ কথা বলার সময় তিনি স্বীয় অঙ্গুলীর মধ্যে অঙ্গুলী প্রবেশ করিয়ে দেন অর্থাৎ এক হাতের অঙ্গুলীর মধ্যে আর এক হাতের অঙ্গুলী প্রবেশ করান।” (এটা ইবনু আবি হা’তিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। হযরত উসমানের (রাঃ) অঙ্গুলীর মধ্যে অঙ্গুলী প্রবেশ করিয়ে দেখানোর তাৎপর্য এই যে, সাহাবীগণ তো একে অপরের ভাইরুপে কালাতিপাত করতেন। কিন্তু হযরত উসমানের (রাঃ) যুগে ভুল বুঝাবুঝির কারণে তাঁরা তাঁর শক্ত হয়ে যান। তাই, তিনি তাদেরকে পূর্বাবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেন)

Commentary: Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication). Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.