Muslim99Muslim99
← Tafsir library

11. Hud

Hud · Meccan · 123 ayahs

سُورَةُ هُودٍ

Reading Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication)

Ayahs 51–60 of 123

51

يَٰقَوْمِ لَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَى ٱلَّذِى فَطَرَنِىٓ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না?

৫০-৫২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা হযরত হূদকে (আঃ) তাঁর কওমের কাছে রাসূলরূপে প্রেরণ করেন। তিনি তাঁর কওমকে তাওহীদের দাওয়াত দেন এবং আল্লাহু ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতে নিষেধ করেন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ যাদের তোমরা পূজা করছে তাদেরকে তোমরা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছে। এমনকি তাদের নাম ও অস্তিত্ব তোমাদের বাজে কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। তিনি তাদেরকে আরো বলেনঃ আমি যে তোমাদেরকে এই উপদেশ দিচ্ছি, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কিছুই চাচ্ছি না। এর প্রতিদান স্বয়ং আমার প্রতিপালক আমাকে দান করবেন, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি এই সহজ কথাটুকুও বুঝতে পারছ না যে, যিনি তোমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের পথ বাতলিয়ে দিচ্ছেন অথচ এর বিনিময়ে তিনি তোমাদের কাছে কিছুই চাচ্ছেন না? তোমরা তোমাদের অতীতের পাপের জন্যে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকো এবং আগামীতে পাপের কাজ থেকে বিরত থাকো। এ দুটো যার মধ্যে থাকবে তার জীবিকার পথ আল্লাহ সহজ করে দেবেন এবং তার কাজও সহজ হয়ে যাবে। আর সর্বক্ষণ তিনি তার হিফাযত করবেন। জেনে রেখোঁরেখো যে, তোমরা যদি আমার উপদেশ মত কাজ কর তবে মহান আল্লাহ তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, যে বৃষ্টি হবে তোমাদের জন্যে খুবই উপকারী। আর তোমাদের শক্তিকে তিনি বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন। হাদীসে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনাকে নিজের জন্যে অবশ্য কর্তব্য করে নেয়, আল্লাহ তাআ’লা তার সমস্ত কষ্ট ও অসুবিধা দূর করে দেন, সঙ্কীর্ণতা থেকে প্রশস্ততা দান করেন এবং এমন স্থান থেকে তাকে রিয্‌ক দান করেন যা সে কল্পনাও করে না।

52

وَيَٰقَوْمِ ٱسْتَغْفِرُوا۟ رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوٓا۟ إِلَيْهِ يُرْسِلِ ٱلسَّمَآءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًۭا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا۟ مُجْرِمِينَ

আর হে আমার কওম! তোমাদের পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না।

৫০-৫২ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা হযরত হূদকে (আঃ) তাঁর কওমের কাছে রাসূলরূপে প্রেরণ করেন। তিনি তাঁর কওমকে তাওহীদের দাওয়াত দেন এবং আল্লাহু ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতে নিষেধ করেন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ যাদের তোমরা পূজা করছে তাদেরকে তোমরা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছে। এমনকি তাদের নাম ও অস্তিত্ব তোমাদের বাজে কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। তিনি তাদেরকে আরো বলেনঃ আমি যে তোমাদেরকে এই উপদেশ দিচ্ছি, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কিছুই চাচ্ছি না। এর প্রতিদান স্বয়ং আমার প্রতিপালক আমাকে দান করবেন, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি এই সহজ কথাটুকুও বুঝতে পারছ না যে, যিনি তোমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের পথ বাতলিয়ে দিচ্ছেন অথচ এর বিনিময়ে তিনি তোমাদের কাছে কিছুই চাচ্ছেন না? তোমরা তোমাদের অতীতের পাপের জন্যে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকো এবং আগামীতে পাপের কাজ থেকে বিরত থাকো। এ দুটো যার মধ্যে থাকবে তার জীবিকার পথ আল্লাহ সহজ করে দেবেন এবং তার কাজও সহজ হয়ে যাবে। আর সর্বক্ষণ তিনি তার হিফাযত করবেন। জেনে রেখোঁরেখো যে, তোমরা যদি আমার উপদেশ মত কাজ কর তবে মহান আল্লাহ তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, যে বৃষ্টি হবে তোমাদের জন্যে খুবই উপকারী। আর তোমাদের শক্তিকে তিনি বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন। হাদীসে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনাকে নিজের জন্যে অবশ্য কর্তব্য করে নেয়, আল্লাহ তাআ’লা তার সমস্ত কষ্ট ও অসুবিধা দূর করে দেন, সঙ্কীর্ণতা থেকে প্রশস্ততা দান করেন এবং এমন স্থান থেকে তাকে রিয্‌ক দান করেন যা সে কল্পনাও করে না।

53

قَالُوا۟ يَٰهُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍۢ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِىٓ ءَالِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ

তারা বলল-হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব-দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই।

৫৩-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত হূদের (আঃ) কওম তাঁর উপদেশ শুনে তাঁকে বললো: “হে হূদ (আঃ)! তুমি যেই দিকে আমাদেরকে আহ্‌বান করছে তার তো কোন দলিল প্রমাণ আমাদের সামনে পেশ করছো না। আর আমরা এটা করতে পারি না যে, তোমার কথায় আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা পরিত্যাগ করবো। আমরা এগুলি ছাড়বোও না এবং তোমাকে সত্যবাদী মেনে নিয়ে তোমার উপর ঈমানও আনবো না। বরং আমাদের তো ধারণা এই যে, যেহেতু তুমি আমাদেরকে আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতি দোষারোপ করছে, সেই হেতু তারা তোমার এই জ্বালাতন সহ্য করতে পারে নাই। তাই, তাদের কারো মার তোমার উপর পতিত হয়েছে। ফলে তোমার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। তাদের এই কথা শুনে আল্লাহর নবী হযরত হূদ (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ ‘যদি তাই হয় তবে জেনে রেখোঁরেখো যে, আমি শুধু তোমাদেরকেই নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআ’লাকেও সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ ছাড়া যেসব মা'বুদের ইবাদত করা হচ্ছে আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ ও মুক্ত। এখন শুধু তোমরা নও, বরং তোমাদের এই সব মিথ্যা ও বাজে মাবুদমা’বুদকেও ডেকে নাও এবং তোমরা সবাই মিলে যত পার আমার ক্ষতি সাধন কর। আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিয়ো না এবং আমার প্রতি কোন সমবেদনাও প্রকাশ করো না। আমার ক্ষতি সাধন করার তোমাদের যতদূর ক্ষমতা থাকে তা প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করো না। আমার ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর। যিনি আমার ও তোমাদের সকলেরই মালিক। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আমার ক্ষতি করার কারো সাধ্য নেই। এমন কেউ নেই যে, তাঁর হুকুম অমান্য করে তাঁর রাজ্য ও রাজত্ব হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি ন্যায় বিচারক। তিনি কখনো অত্যাচার করেন না। তিনি সরল ও সঠিক পথে রয়েছেন। বান্দাদের ঝুটি তাঁর হাতের মুঠের মধ্যে রয়েছে। সন্তানের উপর পিতামাতার যে দয়া রয়েছে, মুমিনমু’মিন বান্দার উপর আল্লাহর দয়া এর চেয়ে বহুগুণ বেশি রয়েছে। তিনি পরমদাতা ও দয়ালু। তাঁর দান ও দয়ার কোন শেষ নেই। এ কারণেই কতকগুলি লোক বিভ্রান্ত ও উদাসীন হয়ে পড়ে।'হযরত হূদের (আঃ) এই কথাগুলির প্রতি লক্ষ্য করা যাক। তিনি আদি সম্প্রদায়ের জন্যে তাঁর এই উক্তির মধ্যে আল্লাহর একত্ববাদের বহু দলিল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া কেউ যখন লাভ ও ক্ষতির মালিক নয়, তিনি ছাড়া কারো কোন জিনিসের উপর যখন কোন অধিকার নেই, তখন একমাত্র তিনিই যে উপাসনার যোগ্য এটা প্রমাণিত হয়ে গেল। আর তোমরা তাকে ছাড়া যে সব মা'বুদের ইবাদত করছো সেই সবগুলি বাতিল সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তাআ’লা তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। আধিপত্য, ব্যবস্থাপনা, অধিকার এবং ইখতেয়ার একমাত্র তাঁরই। সবাই তাঁর কর্তৃত্বাধীন। তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।

54

إِن نَّقُولُ إِلَّا ٱعْتَرَىٰكَ بَعْضُ ءَالِهَتِنَا بِسُوٓءٍۢ ۗ قَالَ إِنِّىٓ أُشْهِدُ ٱللَّهَ وَٱشْهَدُوٓا۟ أَنِّى بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تُشْرِكُونَ

বরং আমরাও তো বলি যে, আমাদের কোন দেবতা তোমার উপরে শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে। হুদ বললেন-আমি আল্লাহকে সাক্ষী করেছি আর তোমাও সাক্ষী থাক যে, আমার কোন সম্পর্ক নাই তাঁদের সাথে যাদের কে তোমরা শরিক করছ;

৫৩-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত হূদের (আঃ) কওম তাঁর উপদেশ শুনে তাঁকে বললো: “হে হূদ (আঃ)! তুমি যেই দিকে আমাদেরকে আহ্‌বান করছে তার তো কোন দলিল প্রমাণ আমাদের সামনে পেশ করছো না। আর আমরা এটা করতে পারি না যে, তোমার কথায় আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা পরিত্যাগ করবো। আমরা এগুলি ছাড়বোও না এবং তোমাকে সত্যবাদী মেনে নিয়ে তোমার উপর ঈমানও আনবো না। বরং আমাদের তো ধারণা এই যে, যেহেতু তুমি আমাদেরকে আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতি দোষারোপ করছে, সেই হেতু তারা তোমার এই জ্বালাতন সহ্য করতে পারে নাই। তাই, তাদের কারো মার তোমার উপর পতিত হয়েছে। ফলে তোমার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। তাদের এই কথা শুনে আল্লাহর নবী হযরত হূদ (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ ‘যদি তাই হয় তবে জেনে রেখোঁরেখো যে, আমি শুধু তোমাদেরকেই নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআ’লাকেও সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ ছাড়া যেসব মা'বুদের ইবাদত করা হচ্ছে আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ ও মুক্ত। এখন শুধু তোমরা নও, বরং তোমাদের এই সব মিথ্যা ও বাজে মাবুদমা’বুদকেও ডেকে নাও এবং তোমরা সবাই মিলে যত পার আমার ক্ষতি সাধন কর। আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিয়ো না এবং আমার প্রতি কোন সমবেদনাও প্রকাশ করো না। আমার ক্ষতি সাধন করার তোমাদের যতদূর ক্ষমতা থাকে তা প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করো না। আমার ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর। যিনি আমার ও তোমাদের সকলেরই মালিক। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আমার ক্ষতি করার কারো সাধ্য নেই। এমন কেউ নেই যে, তাঁর হুকুম অমান্য করে তাঁর রাজ্য ও রাজত্ব হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি ন্যায় বিচারক। তিনি কখনো অত্যাচার করেন না। তিনি সরল ও সঠিক পথে রয়েছেন। বান্দাদের ঝুটি তাঁর হাতের মুঠের মধ্যে রয়েছে। সন্তানের উপর পিতামাতার যে দয়া রয়েছে, মুমিনমু’মিন বান্দার উপর আল্লাহর দয়া এর চেয়ে বহুগুণ বেশি রয়েছে। তিনি পরমদাতা ও দয়ালু। তাঁর দান ও দয়ার কোন শেষ নেই। এ কারণেই কতকগুলি লোক বিভ্রান্ত ও উদাসীন হয়ে পড়ে।'হযরত হূদের (আঃ) এই কথাগুলির প্রতি লক্ষ্য করা যাক। তিনি আদি সম্প্রদায়ের জন্যে তাঁর এই উক্তির মধ্যে আল্লাহর একত্ববাদের বহু দলিল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া কেউ যখন লাভ ও ক্ষতির মালিক নয়, তিনি ছাড়া কারো কোন জিনিসের উপর যখন কোন অধিকার নেই, তখন একমাত্র তিনিই যে উপাসনার যোগ্য এটা প্রমাণিত হয়ে গেল। আর তোমরা তাকে ছাড়া যে সব মা'বুদের ইবাদত করছো সেই সবগুলি বাতিল সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তাআ’লা তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। আধিপত্য, ব্যবস্থাপনা, অধিকার এবং ইখতেয়ার একমাত্র তাঁরই। সবাই তাঁর কর্তৃত্বাধীন। তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।

55

مِن دُونِهِۦ ۖ فَكِيدُونِى جَمِيعًۭا ثُمَّ لَا تُنظِرُونِ

তাকে ছাড়া, তোমরা সবাই মিলে আমার অনিষ্ট করার প্রয়াস চালাও, অতঃপর আমাকে কোন অবকাশ দিও না।

৫৩-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত হূদের (আঃ) কওম তাঁর উপদেশ শুনে তাঁকে বললো: “হে হূদ (আঃ)! তুমি যেই দিকে আমাদেরকে আহ্‌বান করছে তার তো কোন দলিল প্রমাণ আমাদের সামনে পেশ করছো না। আর আমরা এটা করতে পারি না যে, তোমার কথায় আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা পরিত্যাগ করবো। আমরা এগুলি ছাড়বোও না এবং তোমাকে সত্যবাদী মেনে নিয়ে তোমার উপর ঈমানও আনবো না। বরং আমাদের তো ধারণা এই যে, যেহেতু তুমি আমাদেরকে আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতি দোষারোপ করছে, সেই হেতু তারা তোমার এই জ্বালাতন সহ্য করতে পারে নাই। তাই, তাদের কারো মার তোমার উপর পতিত হয়েছে। ফলে তোমার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। তাদের এই কথা শুনে আল্লাহর নবী হযরত হূদ (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ ‘যদি তাই হয় তবে জেনে রেখোঁরেখো যে, আমি শুধু তোমাদেরকেই নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআ’লাকেও সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ ছাড়া যেসব মা'বুদের ইবাদত করা হচ্ছে আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ ও মুক্ত। এখন শুধু তোমরা নও, বরং তোমাদের এই সব মিথ্যা ও বাজে মাবুদমা’বুদকেও ডেকে নাও এবং তোমরা সবাই মিলে যত পার আমার ক্ষতি সাধন কর। আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিয়ো না এবং আমার প্রতি কোন সমবেদনাও প্রকাশ করো না। আমার ক্ষতি সাধন করার তোমাদের যতদূর ক্ষমতা থাকে তা প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করো না। আমার ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর। যিনি আমার ও তোমাদের সকলেরই মালিক। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আমার ক্ষতি করার কারো সাধ্য নেই। এমন কেউ নেই যে, তাঁর হুকুম অমান্য করে তাঁর রাজ্য ও রাজত্ব হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি ন্যায় বিচারক। তিনি কখনো অত্যাচার করেন না। তিনি সরল ও সঠিক পথে রয়েছেন। বান্দাদের ঝুটি তাঁর হাতের মুঠের মধ্যে রয়েছে। সন্তানের উপর পিতামাতার যে দয়া রয়েছে, মুমিনমু’মিন বান্দার উপর আল্লাহর দয়া এর চেয়ে বহুগুণ বেশি রয়েছে। তিনি পরমদাতা ও দয়ালু। তাঁর দান ও দয়ার কোন শেষ নেই। এ কারণেই কতকগুলি লোক বিভ্রান্ত ও উদাসীন হয়ে পড়ে।'হযরত হূদের (আঃ) এই কথাগুলির প্রতি লক্ষ্য করা যাক। তিনি আদি সম্প্রদায়ের জন্যে তাঁর এই উক্তির মধ্যে আল্লাহর একত্ববাদের বহু দলিল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া কেউ যখন লাভ ও ক্ষতির মালিক নয়, তিনি ছাড়া কারো কোন জিনিসের উপর যখন কোন অধিকার নেই, তখন একমাত্র তিনিই যে উপাসনার যোগ্য এটা প্রমাণিত হয়ে গেল। আর তোমরা তাকে ছাড়া যে সব মা'বুদের ইবাদত করছো সেই সবগুলি বাতিল সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তাআ’লা তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। আধিপত্য, ব্যবস্থাপনা, অধিকার এবং ইখতেয়ার একমাত্র তাঁরই। সবাই তাঁর কর্তৃত্বাধীন। তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।

56

إِنِّى تَوَكَّلْتُ عَلَى ٱللَّهِ رَبِّى وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَآبَّةٍ إِلَّا هُوَ ءَاخِذٌۢ بِنَاصِيَتِهَآ ۚ إِنَّ رَبِّى عَلَىٰ صِرَٰطٍۢ مُّسْتَقِيمٍۢ

আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই।

৫৩-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত হূদের (আঃ) কওম তাঁর উপদেশ শুনে তাঁকে বললো: “হে হূদ (আঃ)! তুমি যেই দিকে আমাদেরকে আহ্‌বান করছে তার তো কোন দলিল প্রমাণ আমাদের সামনে পেশ করছো না। আর আমরা এটা করতে পারি না যে, তোমার কথায় আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা পরিত্যাগ করবো। আমরা এগুলি ছাড়বোও না এবং তোমাকে সত্যবাদী মেনে নিয়ে তোমার উপর ঈমানও আনবো না। বরং আমাদের তো ধারণা এই যে, যেহেতু তুমি আমাদেরকে আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতি দোষারোপ করছে, সেই হেতু তারা তোমার এই জ্বালাতন সহ্য করতে পারে নাই। তাই, তাদের কারো মার তোমার উপর পতিত হয়েছে। ফলে তোমার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। তাদের এই কথা শুনে আল্লাহর নবী হযরত হূদ (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ ‘যদি তাই হয় তবে জেনে রেখোঁরেখো যে, আমি শুধু তোমাদেরকেই নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআ’লাকেও সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ ছাড়া যেসব মা'বুদের ইবাদত করা হচ্ছে আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ ও মুক্ত। এখন শুধু তোমরা নও, বরং তোমাদের এই সব মিথ্যা ও বাজে মাবুদমা’বুদকেও ডেকে নাও এবং তোমরা সবাই মিলে যত পার আমার ক্ষতি সাধন কর। আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিয়ো না এবং আমার প্রতি কোন সমবেদনাও প্রকাশ করো না। আমার ক্ষতি সাধন করার তোমাদের যতদূর ক্ষমতা থাকে তা প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করো না। আমার ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর। যিনি আমার ও তোমাদের সকলেরই মালিক। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আমার ক্ষতি করার কারো সাধ্য নেই। এমন কেউ নেই যে, তাঁর হুকুম অমান্য করে তাঁর রাজ্য ও রাজত্ব হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি ন্যায় বিচারক। তিনি কখনো অত্যাচার করেন না। তিনি সরল ও সঠিক পথে রয়েছেন। বান্দাদের ঝুটি তাঁর হাতের মুঠের মধ্যে রয়েছে। সন্তানের উপর পিতামাতার যে দয়া রয়েছে, মুমিনমু’মিন বান্দার উপর আল্লাহর দয়া এর চেয়ে বহুগুণ বেশি রয়েছে। তিনি পরমদাতা ও দয়ালু। তাঁর দান ও দয়ার কোন শেষ নেই। এ কারণেই কতকগুলি লোক বিভ্রান্ত ও উদাসীন হয়ে পড়ে।'হযরত হূদের (আঃ) এই কথাগুলির প্রতি লক্ষ্য করা যাক। তিনি আদি সম্প্রদায়ের জন্যে তাঁর এই উক্তির মধ্যে আল্লাহর একত্ববাদের বহু দলিল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া কেউ যখন লাভ ও ক্ষতির মালিক নয়, তিনি ছাড়া কারো কোন জিনিসের উপর যখন কোন অধিকার নেই, তখন একমাত্র তিনিই যে উপাসনার যোগ্য এটা প্রমাণিত হয়ে গেল। আর তোমরা তাকে ছাড়া যে সব মা'বুদের ইবাদত করছো সেই সবগুলি বাতিল সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তাআ’লা তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। আধিপত্য, ব্যবস্থাপনা, অধিকার এবং ইখতেয়ার একমাত্র তাঁরই। সবাই তাঁর কর্তৃত্বাধীন। তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।

57

فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَقَدْ أَبْلَغْتُكُم مَّآ أُرْسِلْتُ بِهِۦٓ إِلَيْكُمْ ۚ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّى قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُۥ شَيْـًٔا ۚ إِنَّ رَبِّى عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ حَفِيظٌۭ

তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা পৌছিয়েছি যা আমার কাছে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী।

৫৭-৬০ নং আয়াতের তাফসীর হযরত হূদ (আঃ) তাঁর কওমকে বলতে লাগলেনঃ ‘আমার কাজটি আমি পূর্ণ করেছি। আল্লাহর পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। এখন তোমরা যদি তা মান্য না কর তবে এর শাস্তি তোমাদের উপর পতিত হবে, আমার উপর নয়। আল্লাহ তাআ’লার এই ক্ষমতা রয়েছে যে, তোমাদের স্থলে তিনি এমন জাতিকে আনয়ন করবেন যারা তার তাওহীদকে স্বীকার করে নেবে এবং তাঁরই ইবাদত করবে। তিনি তোমাদেরকে মোটেই পরওয়া করেন না। তোমাদের কুফরী তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। বরং এর শাস্তি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে। আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদেরকে দেখতে রয়েছেন। তাদের কথা ও কাজ তাঁর দৃষ্টির সামনেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেই গেল। কল্যাণ ও বরকত হতে শূন্য এবং শাস্তিতে পরিপূর্ণ ঘূর্ণিবাত্যা তাদের উপর দিয়ে বয়ে গেল। ঐ সময় হযরত হূদ (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীয় মু'মিনরা আল্লাহ তাআ’লার দয়া ও অনুগ্রহের বদৌলতে এই শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে গেলেন। কঠিন শাস্তি তাদের উপর থেকে সরিয়ে নেয়া হলো। এরাই ছিল আ’দ সম্প্রদায় যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছিল এবং তার নবীকে মানে নাই। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, একজন নবীকে অমান্যকারী হচ্ছে সমস্ত নবীকেই অমান্যকারী। আ’দ সম্প্রদায় ঐ লোকদেরকেই মেনে চলতো যারা ছিল তাদের মধ্যে একগুঁয়ে ও উদ্ধত। এদের উপর আল্লাহ ও তাঁর মু'মিন বান্দাদের লা'নত বর্ষিত হলো। এই দুনিয়াতেও তাদের আলোচনা হতে থাকলো লা’নতের সাথে এবং কিয়ামতের দিনও হাশরের মাঠে সকলের সামনে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হবে। সেই দিন ঘোষণা করা হবে যে, আ’দ সম্প্রদায় হচ্ছে আল্লাহকে অস্বীকারকারী।হযরত সুদ্দীর (রঃ) উক্তি এই যে, এই আ’দ সম্প্রদায়ের পরে দুনিয়ার বুকে যত নবীর আগমন ঘটে সবাই তাদের উপর লা'নত বর্ষণ করতে থাকেন। তাঁদের ভাষায় আল্লাহ তাআ’লার লা'নতও তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকে।

58

وَلَمَّا جَآءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًۭا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَعَهُۥ بِرَحْمَةٍۢ مِّنَّا وَنَجَّيْنَٰهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍۢ

আর আমার আদেশ যখন উপস্থিত হল, তখন আমি নিজ রহমতে হুদ এবং তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে পরিত্রাণ করি এবং তাদেরকে এক কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করি।

৫৭-৬০ নং আয়াতের তাফসীর হযরত হূদ (আঃ) তাঁর কওমকে বলতে লাগলেনঃ ‘আমার কাজটি আমি পূর্ণ করেছি। আল্লাহর পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। এখন তোমরা যদি তা মান্য না কর তবে এর শাস্তি তোমাদের উপর পতিত হবে, আমার উপর নয়। আল্লাহ তাআ’লার এই ক্ষমতা রয়েছে যে, তোমাদের স্থলে তিনি এমন জাতিকে আনয়ন করবেন যারা তার তাওহীদকে স্বীকার করে নেবে এবং তাঁরই ইবাদত করবে। তিনি তোমাদেরকে মোটেই পরওয়া করেন না। তোমাদের কুফরী তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। বরং এর শাস্তি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে। আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদেরকে দেখতে রয়েছেন। তাদের কথা ও কাজ তাঁর দৃষ্টির সামনেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেই গেল। কল্যাণ ও বরকত হতে শূন্য এবং শাস্তিতে পরিপূর্ণ ঘূর্ণিবাত্যা তাদের উপর দিয়ে বয়ে গেল। ঐ সময় হযরত হূদ (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীয় মু'মিনরা আল্লাহ তাআ’লার দয়া ও অনুগ্রহের বদৌলতে এই শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে গেলেন। কঠিন শাস্তি তাদের উপর থেকে সরিয়ে নেয়া হলো। এরাই ছিল আ’দ সম্প্রদায় যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছিল এবং তার নবীকে মানে নাই। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, একজন নবীকে অমান্যকারী হচ্ছে সমস্ত নবীকেই অমান্যকারী। আ’দ সম্প্রদায় ঐ লোকদেরকেই মেনে চলতো যারা ছিল তাদের মধ্যে একগুঁয়ে ও উদ্ধত। এদের উপর আল্লাহ ও তাঁর মু'মিন বান্দাদের লা'নত বর্ষিত হলো। এই দুনিয়াতেও তাদের আলোচনা হতে থাকলো লা’নতের সাথে এবং কিয়ামতের দিনও হাশরের মাঠে সকলের সামনে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হবে। সেই দিন ঘোষণা করা হবে যে, আ’দ সম্প্রদায় হচ্ছে আল্লাহকে অস্বীকারকারী।হযরত সুদ্দীর (রঃ) উক্তি এই যে, এই আ’দ সম্প্রদায়ের পরে দুনিয়ার বুকে যত নবীর আগমন ঘটে সবাই তাদের উপর লা'নত বর্ষণ করতে থাকেন। তাঁদের ভাষায় আল্লাহ তাআ’লার লা'নতও তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকে।

59

وَتِلْكَ عَادٌۭ ۖ جَحَدُوا۟ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا۟ رُسُلَهُۥ وَٱتَّبَعُوٓا۟ أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍۢ

এ ছিল আদ জাতি, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতকে অমান্য করেছে, আর তদীয় রসূলগণের অবাধ্যতা করেছে এবং প্রত্যেক উদ্ধত বিরোধীদের আদেশ পালন করেছে।

৫৭-৬০ নং আয়াতের তাফসীর হযরত হূদ (আঃ) তাঁর কওমকে বলতে লাগলেনঃ ‘আমার কাজটি আমি পূর্ণ করেছি। আল্লাহর পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। এখন তোমরা যদি তা মান্য না কর তবে এর শাস্তি তোমাদের উপর পতিত হবে, আমার উপর নয়। আল্লাহ তাআ’লার এই ক্ষমতা রয়েছে যে, তোমাদের স্থলে তিনি এমন জাতিকে আনয়ন করবেন যারা তার তাওহীদকে স্বীকার করে নেবে এবং তাঁরই ইবাদত করবে। তিনি তোমাদেরকে মোটেই পরওয়া করেন না। তোমাদের কুফরী তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। বরং এর শাস্তি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে। আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদেরকে দেখতে রয়েছেন। তাদের কথা ও কাজ তাঁর দৃষ্টির সামনেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেই গেল। কল্যাণ ও বরকত হতে শূন্য এবং শাস্তিতে পরিপূর্ণ ঘূর্ণিবাত্যা তাদের উপর দিয়ে বয়ে গেল। ঐ সময় হযরত হূদ (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীয় মু'মিনরা আল্লাহ তাআ’লার দয়া ও অনুগ্রহের বদৌলতে এই শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে গেলেন। কঠিন শাস্তি তাদের উপর থেকে সরিয়ে নেয়া হলো। এরাই ছিল আ’দ সম্প্রদায় যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছিল এবং তার নবীকে মানে নাই। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, একজন নবীকে অমান্যকারী হচ্ছে সমস্ত নবীকেই অমান্যকারী। আ’দ সম্প্রদায় ঐ লোকদেরকেই মেনে চলতো যারা ছিল তাদের মধ্যে একগুঁয়ে ও উদ্ধত। এদের উপর আল্লাহ ও তাঁর মু'মিন বান্দাদের লা'নত বর্ষিত হলো। এই দুনিয়াতেও তাদের আলোচনা হতে থাকলো লা’নতের সাথে এবং কিয়ামতের দিনও হাশরের মাঠে সকলের সামনে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হবে। সেই দিন ঘোষণা করা হবে যে, আ’দ সম্প্রদায় হচ্ছে আল্লাহকে অস্বীকারকারী।হযরত সুদ্দীর (রঃ) উক্তি এই যে, এই আ’দ সম্প্রদায়ের পরে দুনিয়ার বুকে যত নবীর আগমন ঘটে সবাই তাদের উপর লা'নত বর্ষণ করতে থাকেন। তাঁদের ভাষায় আল্লাহ তাআ’লার লা'নতও তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকে।

60

وَأُتْبِعُوا۟ فِى هَٰذِهِ ٱلدُّنْيَا لَعْنَةًۭ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ۗ أَلَآ إِنَّ عَادًۭا كَفَرُوا۟ رَبَّهُمْ ۗ أَلَا بُعْدًۭا لِّعَادٍۢ قَوْمِ هُودٍۢ

এ দুনিয়ায় তাদের পিছনে পিছনে লা’নত রয়েছে এবং কেয়ামতের দিনেও; জেনে রাখ, আদ জাতি তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে, হুদের জ্ঞাতি আদ জাতির প্রতি অভিসম্পাত রয়েছে জেনে রাখ।

৫৭-৬০ নং আয়াতের তাফসীর হযরত হূদ (আঃ) তাঁর কওমকে বলতে লাগলেনঃ ‘আমার কাজটি আমি পূর্ণ করেছি। আল্লাহর পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি। এখন তোমরা যদি তা মান্য না কর তবে এর শাস্তি তোমাদের উপর পতিত হবে, আমার উপর নয়। আল্লাহ তাআ’লার এই ক্ষমতা রয়েছে যে, তোমাদের স্থলে তিনি এমন জাতিকে আনয়ন করবেন যারা তার তাওহীদকে স্বীকার করে নেবে এবং তাঁরই ইবাদত করবে। তিনি তোমাদেরকে মোটেই পরওয়া করেন না। তোমাদের কুফরী তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। বরং এর শাস্তি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে। আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদেরকে দেখতে রয়েছেন। তাদের কথা ও কাজ তাঁর দৃষ্টির সামনেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেই গেল। কল্যাণ ও বরকত হতে শূন্য এবং শাস্তিতে পরিপূর্ণ ঘূর্ণিবাত্যা তাদের উপর দিয়ে বয়ে গেল। ঐ সময় হযরত হূদ (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীয় মু'মিনরা আল্লাহ তাআ’লার দয়া ও অনুগ্রহের বদৌলতে এই শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে গেলেন। কঠিন শাস্তি তাদের উপর থেকে সরিয়ে নেয়া হলো। এরাই ছিল আ’দ সম্প্রদায় যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছিল এবং তার নবীকে মানে নাই। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, একজন নবীকে অমান্যকারী হচ্ছে সমস্ত নবীকেই অমান্যকারী। আ’দ সম্প্রদায় ঐ লোকদেরকেই মেনে চলতো যারা ছিল তাদের মধ্যে একগুঁয়ে ও উদ্ধত। এদের উপর আল্লাহ ও তাঁর মু'মিন বান্দাদের লা'নত বর্ষিত হলো। এই দুনিয়াতেও তাদের আলোচনা হতে থাকলো লা’নতের সাথে এবং কিয়ামতের দিনও হাশরের মাঠে সকলের সামনে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হবে। সেই দিন ঘোষণা করা হবে যে, আ’দ সম্প্রদায় হচ্ছে আল্লাহকে অস্বীকারকারী।হযরত সুদ্দীর (রঃ) উক্তি এই যে, এই আ’দ সম্প্রদায়ের পরে দুনিয়ার বুকে যত নবীর আগমন ঘটে সবাই তাদের উপর লা'নত বর্ষণ করতে থাকেন। তাঁদের ভাষায় আল্লাহ তাআ’লার লা'নতও তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকে।

Commentary: Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication). Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.