Muslim99Muslim99
← Tafsir library

11. Hud

Hud · Meccan · 123 ayahs

سُورَةُ هُودٍ

Reading Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication)

Ayahs 31–40 of 123

31

وَلَآ أَقُولُ لَكُمْ عِندِى خَزَآئِنُ ٱللَّهِ وَلَآ أَعْلَمُ ٱلْغَيْبَ وَلَآ أَقُولُ إِنِّى مَلَكٌۭ وَلَآ أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِىٓ أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ ٱللَّهُ خَيْرًا ۖ ٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِىٓ أَنفُسِهِمْ ۖ إِنِّىٓ إِذًۭا لَّمِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ

আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহ তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।

হযরত নূহ (আঃ) তাঁর কওমকে খবর দিচ্ছেনঃ আমি শুধুমাত্র আল্লাহর রাসূল। আমি এক ও অংশীবিহীন আল্লাহর নির্দেশক্রমে তোমাদের সকলকে তাঁর ইবাদত ও তাওহীদের দিকে আহবান করছি। এর দ্বারা তোমাদের নিকট থেকে মাল-ধন লাভ করার আমার উদ্দেশ্য নয়। ছোট-বড় সবারই জন্যে আমার উপদেশ সাধারণ। যে এটা কবুল করবে সে মুক্তি পেয়ে যাবে। আল্লাহর ধন ভান্ডারকে হেরফের করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি অদৃশ্যের খবরও জানি না। তবে আল্লাহ যা জানিয়ে দেন তা জানতে পারি। আমি ফেরেশতা হওয়ারও দাবি করছিনা। বরং আমি একজন মানুষ মাত্র। আমাকে আল্লাহ রাসূল করে তোমাদের নিকট পাঠিয়েছেন এবং আমার রিসালতের পৃষ্ঠপোষকতার জন্যে তিনি আমাকে কতকগুলি মু'জিযাও দিয়েছেন। যাদেরকে তোমরা ইতর ও লাঞ্ছিত বলছে, তাদের ব্যাপারে আমি এ উক্তি করতে পারি না যে, তাদেরকে তাদের সৎ কার্যের বিনিময় প্রদান করা হবে না। তাদের ভিতরের খবরও আমি জানি না। তাদের অন্তরের খবর একমাত্র আল্লাহই জানেন। বাইরের মত ভিতরেও যদি তারা মু'মিন হয়ে থাকে তবে অবশ্যই মহান আল্লাহর কাছে তাদের পুরস্কার রয়েছে। যারা তাদের পরিণাম খারাপ বলবে তারা হবে বড় অত্যাচারী এবং তাদের এই উক্তি হবে অজ্ঞতাপূর্ণ উক্তি।

32

قَالُوا۟ يَٰنُوحُ قَدْ جَٰدَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَٰلَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ

তারা বলল-হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।

৩২-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর হযরত নূহের (আঃ) কওম যে আল্লাহর আযাব, গযব ও ক্রোধ তাদের উপর অতি সত্বর পতিত হোক এটা কামনা করছিল, আল্লাহ তাআ’লা এখানে ওরই বর্ণনা দিচ্ছেন। তারা তাঁকে বললো- “হে নূহ (আঃ)! তুমি আমাদেরকে অনেক কিছু শুনালে এবং খুব তর্ক-বিতর্কও করলে, এখন আমাদের শেষ সিদ্ধান্ত এই যে, আমরা তোমার অনুসরণ করবো না এবং তোমার কথা মানবোও না। সুতরাং যদি তুমি তোমার কথায় সত্যবাদী হও তবে তোমার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করে তার শাস্তি আমাদের উপর আনয়ন কর। তিনি তাদের এ কথার উত্তরে বললেন : ‘এটাও আমার অধিকারে নেই, বরং এটা আল্লাহরই হাতে। তবে জেনে রেখো যে, তোমরা আল্লাহকে অপারগ ও অক্ষম করতে পারবে না। যদি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করা ও ধ্বংস করা স্বয়ং আল্লাহরই ইচ্ছা থাকে তবে সত্যি আমার উপদেশ তোমাদের কোনই কাজে আসবে না। সবারই মালিক একমাত্র আল্লাহ। সমস্ত কাজের পূর্ণতা দানের ক্ষমতা তারই। তিনিই হচ্ছেন সমস্ত কাজের ব্যবস্থাপক। তিনিই হচ্ছেন শাসনকর্তা এবং ন্যায় বিচারক। তিনি অত্যাচার করেন না। তিনিই প্রথমে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু তারই কাছে ফিরে যাবে। দুনিয়া ও আখেরাতের একক মালিক তিনিই। সমস্ত মাখলুক তারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’

33

قَالَ إِنَّمَا يَأْتِيكُم بِهِ ٱللَّهُ إِن شَآءَ وَمَآ أَنتُم بِمُعْجِزِينَ

তিনি বলেন, উহা তোমাদের কাছে আল্লাহই আনবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তখন তোমরা পালিয়ে তাঁকে অপারগ করতে পারবে না।

৩২-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর হযরত নূহের (আঃ) কওম যে আল্লাহর আযাব, গযব ও ক্রোধ তাদের উপর অতি সত্বর পতিত হোক এটা কামনা করছিল, আল্লাহ তাআ’লা এখানে ওরই বর্ণনা দিচ্ছেন। তারা তাঁকে বললো- “হে নূহ (আঃ)! তুমি আমাদেরকে অনেক কিছু শুনালে এবং খুব তর্ক-বিতর্কও করলে, এখন আমাদের শেষ সিদ্ধান্ত এই যে, আমরা তোমার অনুসরণ করবো না এবং তোমার কথা মানবোও না। সুতরাং যদি তুমি তোমার কথায় সত্যবাদী হও তবে তোমার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করে তার শাস্তি আমাদের উপর আনয়ন কর। তিনি তাদের এ কথার উত্তরে বললেন : ‘এটাও আমার অধিকারে নেই, বরং এটা আল্লাহরই হাতে। তবে জেনে রেখো যে, তোমরা আল্লাহকে অপারগ ও অক্ষম করতে পারবে না। যদি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করা ও ধ্বংস করা স্বয়ং আল্লাহরই ইচ্ছা থাকে তবে সত্যি আমার উপদেশ তোমাদের কোনই কাজে আসবে না। সবারই মালিক একমাত্র আল্লাহ। সমস্ত কাজের পূর্ণতা দানের ক্ষমতা তারই। তিনিই হচ্ছেন সমস্ত কাজের ব্যবস্থাপক। তিনিই হচ্ছেন শাসনকর্তা এবং ন্যায় বিচারক। তিনি অত্যাচার করেন না। তিনিই প্রথমে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু তারই কাছে ফিরে যাবে। দুনিয়া ও আখেরাতের একক মালিক তিনিই। সমস্ত মাখলুক তারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’

34

وَلَا يَنفَعُكُمْ نُصْحِىٓ إِنْ أَرَدتُّ أَنْ أَنصَحَ لَكُمْ إِن كَانَ ٱللَّهُ يُرِيدُ أَن يُغْوِيَكُمْ ۚ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

আর আমি তোমাদের নসীহত করতে চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান; তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।

৩২-৩৪ নং আয়াতের তাফসীর হযরত নূহের (আঃ) কওম যে আল্লাহর আযাব, গযব ও ক্রোধ তাদের উপর অতি সত্বর পতিত হোক এটা কামনা করছিল, আল্লাহ তাআ’লা এখানে ওরই বর্ণনা দিচ্ছেন। তারা তাঁকে বললো- “হে নূহ (আঃ)! তুমি আমাদেরকে অনেক কিছু শুনালে এবং খুব তর্ক-বিতর্কও করলে, এখন আমাদের শেষ সিদ্ধান্ত এই যে, আমরা তোমার অনুসরণ করবো না এবং তোমার কথা মানবোও না। সুতরাং যদি তুমি তোমার কথায় সত্যবাদী হও তবে তোমার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করে তার শাস্তি আমাদের উপর আনয়ন কর। তিনি তাদের এ কথার উত্তরে বললেন : ‘এটাও আমার অধিকারে নেই, বরং এটা আল্লাহরই হাতে। তবে জেনে রেখো যে, তোমরা আল্লাহকে অপারগ ও অক্ষম করতে পারবে না। যদি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করা ও ধ্বংস করা স্বয়ং আল্লাহরই ইচ্ছা থাকে তবে সত্যি আমার উপদেশ তোমাদের কোনই কাজে আসবে না। সবারই মালিক একমাত্র আল্লাহ। সমস্ত কাজের পূর্ণতা দানের ক্ষমতা তারই। তিনিই হচ্ছেন সমস্ত কাজের ব্যবস্থাপক। তিনিই হচ্ছেন শাসনকর্তা এবং ন্যায় বিচারক। তিনি অত্যাচার করেন না। তিনিই প্রথমে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু তারই কাছে ফিরে যাবে। দুনিয়া ও আখেরাতের একক মালিক তিনিই। সমস্ত মাখলুক তারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’

35

أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰهُ ۖ قُلْ إِنِ ٱفْتَرَيْتُهُۥ فَعَلَىَّ إِجْرَامِى وَأَنَا۠ بَرِىٓءٌۭ مِّمَّا تُجْرِمُونَ

তারা কি বলে? আপনি কোরআন রচনা করে এনেছেন? আপনি বলে দিন আমি যদি রচনা করে এনে থাকি, তবে সে অপরাধ আমার, আর তোমরা যেসব অপরাধ কর তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

এই ঘটনার মধ্যভাগে এই নতুন বাক্যটিকে এই ঘটনারই গুরুত্ব ও দৃঢ়তার উদ্দেশ্যে আনয়ন করা হয়েছে। আল্লাহ তাআ’লা স্বীয় রাসূলকে (সঃ) বলেছেন, হে মুহাম্মদ (সঃ)! এই কাফিররা তোমার উপর এই অপবাদ দিচ্ছে যে, তুমি নিজেই এই কুরআন রচনা করেছো। তুমি তাদেরকে বলে দাও- যদি তোমাদের কথাই সত্য হয় তবে এই অপরাধ আমার উপরই বর্তিবে। আল্লাহ তাআ’লার শাস্তি সম্পর্কে আমার পূর্ণ অবগতি রয়েছে। কাজেই আমি তার উপর মিথ্যা আরোপ করবো এটা কি সম্ভব? হা, তবে তোমরা যে এই অমূলক ও ভিত্তিহীন দাবি করছে, তোমাদের এই অপরাধের যিম্মাদার তোমরা নিজেরাই। আমি তোমাদের এই অপরাধ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত।

36

وَأُوحِىَ إِلَىٰ نُوحٍ أَنَّهُۥ لَن يُؤْمِنَ مِن قَوْمِكَ إِلَّا مَن قَدْ ءَامَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا۟ يَفْعَلُونَ

আর নূহ (আঃ) এর প্রতি ওহী প্রেরণ করা হলো যে, যারা ইতিমধ্যেই ঈমান এনেছে তাদের ছাড়া আপনার জাতির অন্য কেউ ঈমান আনবেনা এতএব তাদের কার্যকলাপে বিমর্ষ হবেন না।

৩৬-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা খবর দিচ্ছেন যে, যখন নূহের (আঃ) কওম তাদের উপর আল্লাহর শান্তি আনয়নের জন্যে তাড়াহুড়া শুরু করলো তখন আল্লাহ তাআ’লা তাদের উপর বদ দুআ’ করতে হযরত নূহের (আঃ) কাছে ওয়াহী করলেন। তাই হযরত নূহ (আঃ) বললেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! কাফিরদের মধ্য হতে যমীনের উপর একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না। হে আমার রব! আমি অপারগ হয়ে পড়েছি, সুতরাং আমাকে সাহায্য করুন।” তখন আল্লাহ তাআ’লা হযরত নূহের (আঃ) কাছে ওয়াহী পাঠালেনঃ যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া তোমার কওম হতে আর কেউই ঈমান আনবে না, কাজেই তারা যা করছে তাতে মোটেই দুঃখ করো না। আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার নির্দেশক্রমে নৌকা নির্মাণ কর এবং আমার কাছে এই যালিমদের সম্পর্কে কোন কথা বলো না, তাদের সকলকেই ডুবিয়ে দেয়া হবে। পূর্ববর্তী কোন কোন গুরুজনের মতে হযরত নূহকে (আঃ) নির্দেশ দেয়া হয় যে, তিনি যেন কাঠ কেটে তা শুকিয়ে নেন এবং ফেড়ে তক্তা তৈরি করেন। এতে একশ’ বছর কেটে যায়। তারপর পূর্ণরূপে নৌকাটি নির্মাণে আরো এক শ' বছর অতিবাহিত হয়। একটি উক্তি এ- ও রয়েছে যে, নৌকাটি নির্মাণ করতে চল্লিশ বছর লেগেছিল। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী। ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) তাওরাতের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নৌকাটি সেগুন কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। ওর দৈর্ঘ্য ছিল আশি হাত এবং প্রস্ত ছিল পঞ্চাশ হাত। ভিতর ও বাইরে আলকাতরা মাখানো হয়েছিল। নৌকাটি যাতে পানি ফেড়ে চলতে পারে তাতে সেই ব্যবস্থাও রাখা হেয়ছিল। কাতাদা’’র (রঃ) উক্তি এই যে, নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল তিনশ’ হাত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ওর দৈর্ঘ্য ছিল বারো শ’ হাত এবং প্রস্ত ছিল ছ’শ’ হাত। উক্তি এটাও আছে যে, নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল দু’হাজার হাত এবং প্রস্ত ছিল একশ’ হাত। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআ’লারই রয়েছে। নৌকাটির ভিতরের উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। তাতে তিনটি তলা ছিল। প্রত্যেকটি তলা ছিল দশ হাত করে উঁচু। নীচের তলায় ছিল চতুষ্পদ জন্তু ও বন্য জানোয়ার। মধ্য তলায় মানুষ ছিল। আর উপরের তলায় ছিল পাখী। দরজা ছিল প্রশস্ত এবং উপর থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল।ইমাম আবু জাফর ইবনু জারীর (রঃ) হযরত আবুদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রঃ) হতে একটি ‘গারীব আসার’ (কোন কোন মুহাদ্দিস বলেছেন যে, তাবেয়ীদের হাদীসকে হাদীস না বলে ‘আসার’ বলা হয়। আর যে হাদীসটি কোন এক যুগে বা সর্বযুগে মাত্র একজন লোক বর্ণনা করেছেন ঐ হাদীসকে ‘গারীব’ হাদীস বলা হয়) বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়ারীরা হযরত ঈসার (আঃ) নিকট আবেদন করেঃ “যদি আপনি আল্লাহ তাআ’লার নির্দেশক্রমে এমন একজন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন যে ব্যক্তি হযরত নূহের (আঃ) নৌকাটি দেখেছিল, তবে ঐ নৌকাটি সম্পর্কে আমরা জ্ঞান লাভ করতাম!” তাদের কথামত হযরত ঈসা (আঃ) তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে একটি টিলার উপর পৌঁছলেন এবং সেখানকার এক খণ্ড মাটি উঠালেন। অতঃপর তাদেরকে বললেনঃ “এটা কে তা তোমরা জান কি?” তারা উত্তরে বললঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।” তিনি বললেন: “এটা হযরত নূহের (আঃ) পুত্র হা’মের পায়ের গোছা। তারপর তিনি স্বীয় লাঠি দ্বারা ওর উপর আঘাত করে বললেনঃ “আল্লাহর হুকুমে উঠে দাঁড়াও।” তৎক্ষণাৎ একজন বৃদ্ধলোক মাথা থেকে ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে দাঁড়িয়ে গেলেন। হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন ? “তুমি কি এরূপ বৃদ্ধ অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলে?” লোকটি উত্তরে বললেনঃ “জ্বি, না। আমি যুবক অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমার মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে যে, কিয়ামাত বুঝি সংঘটিত হয়ে গেছে। তাই ভয়ে আমি বুড়ো হয়ে গেছি।” এরপর ঈসা (আঃ) তাঁকে বললেনঃ “আচ্ছা, হযরত নূহের (আঃ) নৌকা সম্পর্কে যা কিছু জান তা আমাদের নিকট বর্ণনা কর।” তিনি বললেনঃ “নৌকাটি ছিল বারোশ’ হাত লম্বা এবং ওর প্রস্থ ছিল ছ'শ’হাত। তাতে তিনটি তলা ছিল। প্রথমটিতে ছিল চতুষ্পদ জন্তু, দ্বিতীয়টিতে ছিল মানুষ এবং …

37

وَٱصْنَعِ ٱلْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَٰطِبْنِى فِى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ ۚ إِنَّهُم مُّغْرَقُونَ

আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা তৈরী করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই তারা ডুবে মরবে।

৩৬-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা খবর দিচ্ছেন যে, যখন নূহের (আঃ) কওম তাদের উপর আল্লাহর শান্তি আনয়নের জন্যে তাড়াহুড়া শুরু করলো তখন আল্লাহ তাআ’লা তাদের উপর বদ দুআ’ করতে হযরত নূহের (আঃ) কাছে ওয়াহী করলেন। তাই হযরত নূহ (আঃ) বললেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! কাফিরদের মধ্য হতে যমীনের উপর একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না। হে আমার রব! আমি অপারগ হয়ে পড়েছি, সুতরাং আমাকে সাহায্য করুন।” তখন আল্লাহ তাআ’লা হযরত নূহের (আঃ) কাছে ওয়াহী পাঠালেনঃ যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া তোমার কওম হতে আর কেউই ঈমান আনবে না, কাজেই তারা যা করছে তাতে মোটেই দুঃখ করো না। আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার নির্দেশক্রমে নৌকা নির্মাণ কর এবং আমার কাছে এই যালিমদের সম্পর্কে কোন কথা বলো না, তাদের সকলকেই ডুবিয়ে দেয়া হবে। পূর্ববর্তী কোন কোন গুরুজনের মতে হযরত নূহকে (আঃ) নির্দেশ দেয়া হয় যে, তিনি যেন কাঠ কেটে তা শুকিয়ে নেন এবং ফেড়ে তক্তা তৈরি করেন। এতে একশ’ বছর কেটে যায়। তারপর পূর্ণরূপে নৌকাটি নির্মাণে আরো এক শ' বছর অতিবাহিত হয়। একটি উক্তি এ- ও রয়েছে যে, নৌকাটি নির্মাণ করতে চল্লিশ বছর লেগেছিল। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী। ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) তাওরাতের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নৌকাটি সেগুন কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। ওর দৈর্ঘ্য ছিল আশি হাত এবং প্রস্ত ছিল পঞ্চাশ হাত। ভিতর ও বাইরে আলকাতরা মাখানো হয়েছিল। নৌকাটি যাতে পানি ফেড়ে চলতে পারে তাতে সেই ব্যবস্থাও রাখা হেয়ছিল। কাতাদা’’র (রঃ) উক্তি এই যে, নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল তিনশ’ হাত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ওর দৈর্ঘ্য ছিল বারো শ’ হাত এবং প্রস্ত ছিল ছ’শ’ হাত। উক্তি এটাও আছে যে, নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল দু’হাজার হাত এবং প্রস্ত ছিল একশ’ হাত। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআ’লারই রয়েছে। নৌকাটির ভিতরের উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। তাতে তিনটি তলা ছিল। প্রত্যেকটি তলা ছিল দশ হাত করে উঁচু। নীচের তলায় ছিল চতুষ্পদ জন্তু ও বন্য জানোয়ার। মধ্য তলায় মানুষ ছিল। আর উপরের তলায় ছিল পাখী। দরজা ছিল প্রশস্ত এবং উপর থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল।ইমাম আবু জাফর ইবনু জারীর (রঃ) হযরত আবুদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রঃ) হতে একটি ‘গারীব আসার’ (কোন কোন মুহাদ্দিস বলেছেন যে, তাবেয়ীদের হাদীসকে হাদীস না বলে ‘আসার’ বলা হয়। আর যে হাদীসটি কোন এক যুগে বা সর্বযুগে মাত্র একজন লোক বর্ণনা করেছেন ঐ হাদীসকে ‘গারীব’ হাদীস বলা হয়) বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়ারীরা হযরত ঈসার (আঃ) নিকট আবেদন করেঃ “যদি আপনি আল্লাহ তাআ’লার নির্দেশক্রমে এমন একজন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন যে ব্যক্তি হযরত নূহের (আঃ) নৌকাটি দেখেছিল, তবে ঐ নৌকাটি সম্পর্কে আমরা জ্ঞান লাভ করতাম!” তাদের কথামত হযরত ঈসা (আঃ) তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে একটি টিলার উপর পৌঁছলেন এবং সেখানকার এক খণ্ড মাটি উঠালেন। অতঃপর তাদেরকে বললেনঃ “এটা কে তা তোমরা জান কি?” তারা উত্তরে বললঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।” তিনি বললেন: “এটা হযরত নূহের (আঃ) পুত্র হা’মের পায়ের গোছা। তারপর তিনি স্বীয় লাঠি দ্বারা ওর উপর আঘাত করে বললেনঃ “আল্লাহর হুকুমে উঠে দাঁড়াও।” তৎক্ষণাৎ একজন বৃদ্ধলোক মাথা থেকে ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে দাঁড়িয়ে গেলেন। হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন ? “তুমি কি এরূপ বৃদ্ধ অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলে?” লোকটি উত্তরে বললেনঃ “জ্বি, না। আমি যুবক অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমার মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে যে, কিয়ামাত বুঝি সংঘটিত হয়ে গেছে। তাই ভয়ে আমি বুড়ো হয়ে গেছি।” এরপর ঈসা (আঃ) তাঁকে বললেনঃ “আচ্ছা, হযরত নূহের (আঃ) নৌকা সম্পর্কে যা কিছু জান তা আমাদের নিকট বর্ণনা কর।” তিনি বললেনঃ “নৌকাটি ছিল বারোশ’ হাত লম্বা এবং ওর প্রস্থ ছিল ছ'শ’হাত। তাতে তিনটি তলা ছিল। প্রথমটিতে ছিল চতুষ্পদ জন্তু, দ্বিতীয়টিতে ছিল মানুষ এবং …

38

وَيَصْنَعُ ٱلْفُلْكَ وَكُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ مَلَأٌۭ مِّن قَوْمِهِۦ سَخِرُوا۟ مِنْهُ ۚ قَالَ إِن تَسْخَرُوا۟ مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنكُمْ كَمَا تَسْخَرُونَ

তিনি নৌকা তৈরী করতে লাগলেন, আর তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন পার্শ্ব দিয়ে যেত, তখন তাঁকে বিদ্রুপ করত। তিনি বললেন, তোমরা যদি আমাদের উপহাস করে থাক, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ আমরাও তদ্রুপ তোমাদের উপহাস করছি।

৩৬-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা খবর দিচ্ছেন যে, যখন নূহের (আঃ) কওম তাদের উপর আল্লাহর শান্তি আনয়নের জন্যে তাড়াহুড়া শুরু করলো তখন আল্লাহ তাআ’লা তাদের উপর বদ দুআ’ করতে হযরত নূহের (আঃ) কাছে ওয়াহী করলেন। তাই হযরত নূহ (আঃ) বললেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! কাফিরদের মধ্য হতে যমীনের উপর একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না। হে আমার রব! আমি অপারগ হয়ে পড়েছি, সুতরাং আমাকে সাহায্য করুন।” তখন আল্লাহ তাআ’লা হযরত নূহের (আঃ) কাছে ওয়াহী পাঠালেনঃ যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া তোমার কওম হতে আর কেউই ঈমান আনবে না, কাজেই তারা যা করছে তাতে মোটেই দুঃখ করো না। আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার নির্দেশক্রমে নৌকা নির্মাণ কর এবং আমার কাছে এই যালিমদের সম্পর্কে কোন কথা বলো না, তাদের সকলকেই ডুবিয়ে দেয়া হবে। পূর্ববর্তী কোন কোন গুরুজনের মতে হযরত নূহকে (আঃ) নির্দেশ দেয়া হয় যে, তিনি যেন কাঠ কেটে তা শুকিয়ে নেন এবং ফেড়ে তক্তা তৈরি করেন। এতে একশ’ বছর কেটে যায়। তারপর পূর্ণরূপে নৌকাটি নির্মাণে আরো এক শ' বছর অতিবাহিত হয়। একটি উক্তি এ- ও রয়েছে যে, নৌকাটি নির্মাণ করতে চল্লিশ বছর লেগেছিল। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী। ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) তাওরাতের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নৌকাটি সেগুন কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। ওর দৈর্ঘ্য ছিল আশি হাত এবং প্রস্ত ছিল পঞ্চাশ হাত। ভিতর ও বাইরে আলকাতরা মাখানো হয়েছিল। নৌকাটি যাতে পানি ফেড়ে চলতে পারে তাতে সেই ব্যবস্থাও রাখা হেয়ছিল। কাতাদা’’র (রঃ) উক্তি এই যে, নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল তিনশ’ হাত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ওর দৈর্ঘ্য ছিল বারো শ’ হাত এবং প্রস্ত ছিল ছ’শ’ হাত। উক্তি এটাও আছে যে, নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল দু’হাজার হাত এবং প্রস্ত ছিল একশ’ হাত। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআ’লারই রয়েছে। নৌকাটির ভিতরের উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। তাতে তিনটি তলা ছিল। প্রত্যেকটি তলা ছিল দশ হাত করে উঁচু। নীচের তলায় ছিল চতুষ্পদ জন্তু ও বন্য জানোয়ার। মধ্য তলায় মানুষ ছিল। আর উপরের তলায় ছিল পাখী। দরজা ছিল প্রশস্ত এবং উপর থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল।ইমাম আবু জাফর ইবনু জারীর (রঃ) হযরত আবুদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রঃ) হতে একটি ‘গারীব আসার’ (কোন কোন মুহাদ্দিস বলেছেন যে, তাবেয়ীদের হাদীসকে হাদীস না বলে ‘আসার’ বলা হয়। আর যে হাদীসটি কোন এক যুগে বা সর্বযুগে মাত্র একজন লোক বর্ণনা করেছেন ঐ হাদীসকে ‘গারীব’ হাদীস বলা হয়) বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়ারীরা হযরত ঈসার (আঃ) নিকট আবেদন করেঃ “যদি আপনি আল্লাহ তাআ’লার নির্দেশক্রমে এমন একজন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন যে ব্যক্তি হযরত নূহের (আঃ) নৌকাটি দেখেছিল, তবে ঐ নৌকাটি সম্পর্কে আমরা জ্ঞান লাভ করতাম!” তাদের কথামত হযরত ঈসা (আঃ) তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে একটি টিলার উপর পৌঁছলেন এবং সেখানকার এক খণ্ড মাটি উঠালেন। অতঃপর তাদেরকে বললেনঃ “এটা কে তা তোমরা জান কি?” তারা উত্তরে বললঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।” তিনি বললেন: “এটা হযরত নূহের (আঃ) পুত্র হা’মের পায়ের গোছা। তারপর তিনি স্বীয় লাঠি দ্বারা ওর উপর আঘাত করে বললেনঃ “আল্লাহর হুকুমে উঠে দাঁড়াও।” তৎক্ষণাৎ একজন বৃদ্ধলোক মাথা থেকে ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে দাঁড়িয়ে গেলেন। হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন ? “তুমি কি এরূপ বৃদ্ধ অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলে?” লোকটি উত্তরে বললেনঃ “জ্বি, না। আমি যুবক অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমার মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে যে, কিয়ামাত বুঝি সংঘটিত হয়ে গেছে। তাই ভয়ে আমি বুড়ো হয়ে গেছি।” এরপর ঈসা (আঃ) তাঁকে বললেনঃ “আচ্ছা, হযরত নূহের (আঃ) নৌকা সম্পর্কে যা কিছু জান তা আমাদের নিকট বর্ণনা কর।” তিনি বললেনঃ “নৌকাটি ছিল বারোশ’ হাত লম্বা এবং ওর প্রস্থ ছিল ছ'শ’হাত। তাতে তিনটি তলা ছিল। প্রথমটিতে ছিল চতুষ্পদ জন্তু, দ্বিতীয়টিতে ছিল মানুষ এবং …

39

فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌۭ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌۭ مُّقِيمٌ

অতঃপর অচিরেই জানতে পারবে-লাঞ্ছনাজনক আযাব কার উপর আসে এবং চিরস্থায়ী আযাব কার উপর অবতরণ করে।

৩৬-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআ’লা খবর দিচ্ছেন যে, যখন নূহের (আঃ) কওম তাদের উপর আল্লাহর শান্তি আনয়নের জন্যে তাড়াহুড়া শুরু করলো তখন আল্লাহ তাআ’লা তাদের উপর বদ দুআ’ করতে হযরত নূহের (আঃ) কাছে ওয়াহী করলেন। তাই হযরত নূহ (আঃ) বললেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! কাফিরদের মধ্য হতে যমীনের উপর একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না। হে আমার রব! আমি অপারগ হয়ে পড়েছি, সুতরাং আমাকে সাহায্য করুন।” তখন আল্লাহ তাআ’লা হযরত নূহের (আঃ) কাছে ওয়াহী পাঠালেনঃ যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া তোমার কওম হতে আর কেউই ঈমান আনবে না, কাজেই তারা যা করছে তাতে মোটেই দুঃখ করো না। আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার নির্দেশক্রমে নৌকা নির্মাণ কর এবং আমার কাছে এই যালিমদের সম্পর্কে কোন কথা বলো না, তাদের সকলকেই ডুবিয়ে দেয়া হবে। পূর্ববর্তী কোন কোন গুরুজনের মতে হযরত নূহকে (আঃ) নির্দেশ দেয়া হয় যে, তিনি যেন কাঠ কেটে তা শুকিয়ে নেন এবং ফেড়ে তক্তা তৈরি করেন। এতে একশ’ বছর কেটে যায়। তারপর পূর্ণরূপে নৌকাটি নির্মাণে আরো এক শ' বছর অতিবাহিত হয়। একটি উক্তি এ- ও রয়েছে যে, নৌকাটি নির্মাণ করতে চল্লিশ বছর লেগেছিল। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী। ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) তাওরাতের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নৌকাটি সেগুন কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। ওর দৈর্ঘ্য ছিল আশি হাত এবং প্রস্ত ছিল পঞ্চাশ হাত। ভিতর ও বাইরে আলকাতরা মাখানো হয়েছিল। নৌকাটি যাতে পানি ফেড়ে চলতে পারে তাতে সেই ব্যবস্থাও রাখা হেয়ছিল। কাতাদা’’র (রঃ) উক্তি এই যে, নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল তিনশ’ হাত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ওর দৈর্ঘ্য ছিল বারো শ’ হাত এবং প্রস্ত ছিল ছ’শ’ হাত। উক্তি এটাও আছে যে, নৌকাটির দৈর্ঘ্য ছিল দু’হাজার হাত এবং প্রস্ত ছিল একশ’ হাত। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআ’লারই রয়েছে। নৌকাটির ভিতরের উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত। তাতে তিনটি তলা ছিল। প্রত্যেকটি তলা ছিল দশ হাত করে উঁচু। নীচের তলায় ছিল চতুষ্পদ জন্তু ও বন্য জানোয়ার। মধ্য তলায় মানুষ ছিল। আর উপরের তলায় ছিল পাখী। দরজা ছিল প্রশস্ত এবং উপর থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল।ইমাম আবু জাফর ইবনু জারীর (রঃ) হযরত আবুদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রঃ) হতে একটি ‘গারীব আসার’ (কোন কোন মুহাদ্দিস বলেছেন যে, তাবেয়ীদের হাদীসকে হাদীস না বলে ‘আসার’ বলা হয়। আর যে হাদীসটি কোন এক যুগে বা সর্বযুগে মাত্র একজন লোক বর্ণনা করেছেন ঐ হাদীসকে ‘গারীব’ হাদীস বলা হয়) বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়ারীরা হযরত ঈসার (আঃ) নিকট আবেদন করেঃ “যদি আপনি আল্লাহ তাআ’লার নির্দেশক্রমে এমন একজন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন যে ব্যক্তি হযরত নূহের (আঃ) নৌকাটি দেখেছিল, তবে ঐ নৌকাটি সম্পর্কে আমরা জ্ঞান লাভ করতাম!” তাদের কথামত হযরত ঈসা (আঃ) তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে একটি টিলার উপর পৌঁছলেন এবং সেখানকার এক খণ্ড মাটি উঠালেন। অতঃপর তাদেরকে বললেনঃ “এটা কে তা তোমরা জান কি?” তারা উত্তরে বললঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।” তিনি বললেন: “এটা হযরত নূহের (আঃ) পুত্র হা’মের পায়ের গোছা। তারপর তিনি স্বীয় লাঠি দ্বারা ওর উপর আঘাত করে বললেনঃ “আল্লাহর হুকুমে উঠে দাঁড়াও।” তৎক্ষণাৎ একজন বৃদ্ধলোক মাথা থেকে ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে দাঁড়িয়ে গেলেন। হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন ? “তুমি কি এরূপ বৃদ্ধ অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলে?” লোকটি উত্তরে বললেনঃ “জ্বি, না। আমি যুবক অবস্থাতেই মারা গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমার মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে যে, কিয়ামাত বুঝি সংঘটিত হয়ে গেছে। তাই ভয়ে আমি বুড়ো হয়ে গেছি।” এরপর ঈসা (আঃ) তাঁকে বললেনঃ “আচ্ছা, হযরত নূহের (আঃ) নৌকা সম্পর্কে যা কিছু জান তা আমাদের নিকট বর্ণনা কর।” তিনি বললেনঃ “নৌকাটি ছিল বারোশ’ হাত লম্বা এবং ওর প্রস্থ ছিল ছ'শ’হাত। তাতে তিনটি তলা ছিল। প্রথমটিতে ছিল চতুষ্পদ জন্তু, দ্বিতীয়টিতে ছিল মানুষ এবং …

40

حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَ أَمْرُنَا وَفَارَ ٱلتَّنُّورُ قُلْنَا ٱحْمِلْ فِيهَا مِن كُلٍّۢ زَوْجَيْنِ ٱثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَن سَبَقَ عَلَيْهِ ٱلْقَوْلُ وَمَنْ ءَامَنَ ۚ وَمَآ ءَامَنَ مَعَهُۥٓ إِلَّا قَلِيلٌۭ

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বহেߦ#2439; হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।

আল্লাহ তাআ’লা হযরত নূহের (রাঃ) সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন সেই ওয়াদা অনুযায়ী আকাশ থেকে অনবরত মুষলধারে বৃষ্টি হতে শুরু করে এবং যমীনের মধ্য থেকেও পানি উথলিয়ে উঠে। যেমন মহান আল্লাহ এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “অতঃপর আমি অধিক বর্ষণশীল পানি দ্বারা আকাশের দ্বারসমূহ খুলে দিলাম। আর যমীন হতে ফোয়ারাসমূহ জারী করে দিলাম, অতঃপর (উভয়) পানি অবধারিত কাজের জন্যে সম্মিলিত হলো আর আমি তাকে (নূহ আঃ কে) তক্তা ও পেরেকযুক্ত নৌকাতে আরোহণ করালাম। যা আমার তত্ত্বাবধানে চলছিল, এ সব কিছু তার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যে করেছিলাম; যার অমর্যাদা করা হয়েছিল।” (৫৪: ১১-১৪) যমীন হতে পানি উথলিয়ে উঠা সম্পর্কে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে যমীন হতে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনকি চুল্লী হতেও পানি উথলিয়ে উঠে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমহূরেরও উক্তি এটাই। হযরত আলী ইবনু আবি তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (আরবি) এর অর্থ হচ্ছে সকাল হওয়া ও ফজরের আলোকিত হওয়া অর্থাৎ সকালের আলো এবং ফজরের ঔজ্জ্বল্য। কিন্তু স্পষ্টতর উক্তি প্রথমটিই।মুজাহিদ (রঃ) ও শা’বী (রঃ) বলেন যে, এই চুল্লীটি কুফায় ছিল। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এটা ভারতে অবস্থিত একটি ঝরণা বা প্রস্রবণ। কাতাদা’ (রঃ) বলেন যে, এটা জাযীরায় অবস্থিত একটি নদী যাকে ‘আইনুল অরদাহ’ বলা হয়। কিন্তু এসব উক্তি গারীব বা দুর্বল। মোট কথা, এ সব নিদর্শন প্রকাশিত হওয়া মাত্রই হযরত নূহকে আল্লাহ তাআ’লা নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন তাঁর সাথে নৌকায় প্রত্যেক প্রকারের এক জোড়া করে প্রাণী উঠিয়ে নেন। একটি করে নর এবং একটি করে মাদী। বলা হয়েছে যে, প্রাণহীন মাখলুকের জন্যেও এই নির্দেশ ছিল। যেমন গাছপালা ও লতাপাতা। কথিত আছে যে, হযরত নূহ (আঃ) সর্বপ্রথম যে পাখিটিকে নৌকায় উঠান তা ছিল ‘দাররা’ নামক পাখি। আর জন্তুগুলির মধ্যে সর্বশেষে যে জন্তুটিকে উঠান তা ছিল গাধা। শয়তান গাধাটির লেজ ধরে লটকে যায়। সে নৌকায় উঠার ইচ্ছা করে, কিন্তু শয়তান ওর লেজ ধরেছিল বলে তার কাছে খুবই ভারী বোধহয় এবং উঠতে সক্ষম হয় না। হযরত নূহ (আঃ) তাকে বলেনঃ “তুমি উঠে যাও যদিও শয়তান তোমার সাথে রয়েছে।” সুতরাং তারা উভয়েই নৌকায় আরোহণ করে।কোন কোন গুরুজন বলেন যে, হযরত নূহ (আঃ) এবং তাঁর সঙ্গীয় মু'মিনরা সিংহকে তাঁদের সাথে নৌকায় উঠিয়ে নিয়ে যেতে অক্ষম হচ্ছিলেন। অবশেষে তার জ্বর হয়ে যায়। তখন তাঁরা তাকে নৌকায় উঠিয়ে নেন।হযরত যায়েদ ইবনু আসলাম (রঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “নূহ (আঃ) যখন সমস্ত জন্তু এক জোড়া করে নৌকায় উঠিয়ে নেন তখন তাঁর সঙ্গীগণ তাঁকে বলেনঃ “পশুগুলি কিরূপে নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ থাকতে পারে, অথচ তাদের সাথে সিংহ রয়েছে?” তখন আল্লাহ তাআ’লা সিংহের উপর জ্বর চাপিয়ে দেন। যমীনে অবতারিত প্রথম জ্বর ছিল এটাই। অতঃপর জনগণ ইঁদুরের অভিযোগ আনয়ন করে বলেনঃ “এই দুষ্ট প্রাণী আমাদের খাদ্য ও অন্যান্য জিনিষ নষ্ট করে দিচ্ছে!” তখন আল্লাহ তাআ’লার নির্দেশক্রমে সিংহ হাঁচি ফেললো এবং সেই হাঁচির সাথে বিড়াল বেরিয়ে আসলো। ফলে ইদুর এক প্রান্তে লুকিয়ে গেল।” (এ হাদীসটি ইবনু আবি হা’তিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আল্লাহ পাকের উক্তিঃ (আরবি) অর্থাৎ হে নূহ (আঃ)! তুমি নৌকায় তোমার পরিবারবর্গকে উঠিয়ে নাও। তারা হচ্ছে তাঁর পরিবারের লোক ও তাঁর আত্মীয় স্বজন। কিন্তু তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে নাই তাদেরকে নৌকায় উঠানো চলবে না। ইয়াম নামক তাঁর এক পুত্রও ঐ কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুতরাং সেও পৃথক হয়ে যায়। তাঁর স্ত্রীও ছিল তাদের অন্তর্ভুক্ত। সেও আল্লাহর রাসূলকে (অর্থাৎ তার স্বামী নূহকে আঃ) অস্বীকার করেছিল।(আরবি) অর্থাৎ হে নূহ (আঃ)! তোমার কওমের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকেও তোমার সাথে নৌকায় উঠিয়ে নাও। কিন্তু এই মু'মিনদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। সাড়ে নয় শ’ বছর অবস্থানের সুদীর্ঘ সময়ের …

Commentary: Tafsir Ibn Kathir by Hafiz Ibn Kathir (Tawheed Publication). Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.