Muslim99Muslim99
← Tafsir library

10. Yunus

Jonas · Meccan · 109 ayahs

سُورَةُ يُونُسَ

Reading Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation

Ayahs 81–90 of 109

81

فَلَمَّآ أَلْقَوْا۟ قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ ٱلسِّحْرُ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ سَيُبْطِلُهُۥٓ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ ٱلْمُفْسِدِينَ

অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু-এবার আল্লাহ এসব ভন্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না।

অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন মূসা বলল, ‘তোমরা যা এনেছ তাই হল যাদু; নিশ্চয়ই আল্লাহ এখনই এটাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন;[১] (কেননা) আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কাজ সার্থক করেন না।’ [২]

[১] সুতরাং এমনই হল, মিথ্যা কি আর সত্যের মুকাবিলায় জয়ী হতে পারে? যাদুকররা তাদের যাদু-বিদ্যায় যতই দক্ষতা অর্জন করে থাকুক, তারা যা কিছু পেশ করেছিল, তা যাদু ও ইন্দ্রজাল (চোখের ভেলকিই) ছিল। কিন্তু মূসা (আঃ) যখন আল্লাহর আদেশে তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন সে সকল ইন্দ্রজালকে এক পলকে শেষ করে দিল।

[২] আর এই সব যাদুকররাও অশান্তি সৃষ্টিকারী ছিল। তারা শুধু পার্থিব সুখ অর্জনের জন্য যাদু শিক্ষা করেছিল আর যাদুর ভেলকি দেখিয়ে মানুষকে বোকা বানাতো। আল্লাহ তাআলা তাদের এই দুষ্কর্মকে কিভাবে সার্থকতা দান করবেন?

82

وَيُحِقُّ ٱللَّهُ ٱلْحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُجْرِمُونَ

আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় নির্দেশে যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়।

আল্লাহ নিজ বাণী[১] দ্বারা সত্যকে সত্যরূপে প্রতিষ্ঠা করেন; যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে থাকে।

[১] এই 'কালেমা' বা বাণী হল ঐ সকল প্রমাণ ও স্পষ্ট দলীল, যা আল্লাহ তাআলা আপন কিতাবে অবতীর্ণ করে এসেছেন এবং যা তিনি পয়গম্বরগণকে প্রদান করতেন। অথবা ঐ সকল মু'জিযা (অলৌকিক কর্মকান্ড) যা আল্লাহ তাআলার আদেশে পয়গম্বরগণের হাতে প্রকাশ হত, অথবা আল্লাহর সেই আদেশ যা তিনি 'কুন' শব্দ দ্বারা দিয়ে থাকেন।

83

فَمَآ ءَامَنَ لِمُوسَىٰٓ إِلَّا ذُرِّيَّةٌۭ مِّن قَوْمِهِۦ عَلَىٰ خَوْفٍۢ مِّن فِرْعَوْنَ وَمَلَإِي۟هِمْ أَن يَفْتِنَهُمْ ۚ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍۢ فِى ٱلْأَرْضِ وَإِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلْمُسْرِفِينَ

আর কেউ ঈমান আনল না মূসার প্রতি তাঁর কওমের কতিপয় বালক ছাড়া-ফেরাউন ও তার সর্দারদের ভয়ে যে, এরা না আবার কোন বিপদে ফেলে দেয়। ফেরাউন দেশময় কর্তꦣ2499;ত্বের শিখরে আরোহণ করেছিল। আর সে তার হাত ছেড়ে রেখেছিল।

অতঃপর ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গ নির্যাতন করবে, এই আশঙ্কায় মূসার প্রতি তার গোত্রের[১] লোকদের মধ্যে শুধু অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত আর কেউ বিশ্বাস স্থাপন করল না।[২] বাস্তবিকপক্ষে ফিরআউন ছিল সেই দেশে উদ্ধত, আর অবশ্যই সে ছিল সীমালংঘনকারীদের একজন। [৩]

[১] قَوْمِهِ -এর 'ه' (তার) সর্বনাম দ্বারা কাকে বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে উলামাগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ 'তার' বলতে মূসা (আঃ)-কে ধরেছেন। কারণ উক্ত আয়াতে সর্বনামের পূর্বে তাঁরই নাম উল্লেখ হয়েছে। অর্থাৎ, মূসা (আঃ)-এর গোত্র থেকে কিছু মানুষ ঈমান এনেছিল। কিন্তু ইমাম ইবনে কাসীর ও অন্যান্যরা 'তার' বলতে ফিরআউনকে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ ফিরআউনের সম্প্রদায় থেকে কিছু মানুষ ঈমান এনেছিল। এর প্রমাণ হল, বনী ইস্রাঈলরা তো একজন রসূল ও পরিত্রাতার অপেক্ষায় ছিল এবং মূসা (আঃ) রূপে তারা তা পেয়ে গিয়েছিল। আর সেই হিসেবে (কারূন) ছাড়া সকল বনী ইস্রাঈল তাঁর প্রতি ঈমান রাখত। ফলে এটাই সঠিক যে ذُرِّيَّةٌ مِنْ قَوْمِهِ (তার গোত্রের কিছু লোক) থেকে উদ্দেশ্য হল ফিরআউনী সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ, যারা মূসা (আঃ)-এর প্রতি ঈমান এনেছিল; তার মধ্যে তার স্ত্রী আসিয়াও ছিলেন।

[২] কুরআন কারীমের এই পরিষ্কার বর্ণনা থেকে এই কথাও বুঝা যাচ্ছে যে, এই অল্প সংখ্যক লোক যারা ঈমান এনেছিল, তারা ফিরআউনী সম্প্রদায়ের লোক ছিল। কারণ ফিরআউন, তার দরবারী ও শাসকবর্গের তরফ থেকে শাস্তির ভয় তাদেরই ছিল। যদিও বনী ইস্রাঈলরা ফিরআউনের দাসতত্ত্ব ও অধীনত্বের লাঞ্ছনা বেশ কিছু দিন থেকে সহ্য করে আসছিল। কিন্তু মূসা (আঃ)-এর প্রতি ঈমান আনার সাথে না তার কোন সম্পর্ক ছিল, আর না এই কারণে অতিরিক্ত শাস্তির সম্ভাবনা ছিল।

[৩] আর মু'মিনগণ তার সীমালংঘনকারী ও অত্যাচারী স্বভাব থেকে ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন।

84

وَقَالَ مُوسَىٰ يَٰقَوْمِ إِن كُنتُمْ ءَامَنتُم بِٱللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوٓا۟ إِن كُنتُم مُّسْلِمِينَ

আর মূসা বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যদি আল্লাহর উপর ঈমান এনে থাক, তবে তারই উপর ভরসা কর যদি তোমরা ফরমাবরদার হয়ে থাক।

মূসা বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখ, তাহলে তাঁরই উপর ভরসা কর; যদি তোমরা মুসলিম হও।’[১]

[১] বনী ইস্রাঈলগণ ফিরআউনের পক্ষ থেকে যে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার ছিল, মূসা (আঃ) আসার পরেও তা কম হয়নি, ফলে তিনি বড় চিন্তান্বিত ছিলেন। বরং মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় তাঁকে এমন কথাও বলে ফেলেছিল যে, হে মূসা! যেমন আমরা আপনার আগমনের পূর্বে ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের নিপীড়নে নিপীড়িত ছিলাম, অনুরূপ আপনার আগমনের পরেও আমাদের একই অবস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মূসা (আঃ) তাদেরকে বলেছিলেন, আশা করি যে আমার প্রভু অবিলম্বে তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করে দেবেন। তবে এর জন্য জরুরী যে, তোমরা একমাত্র এক আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর এবং অধৈর্য হয়ো না। (সূরা আ'রাফের ৭:১২৮-১২৯ নং আয়াত দ্রষ্টব্য) এখানেও মূসা (আঃ) তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যদি তোমরা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর আনুগত্যশীল হও, তাহলে একমাত্র তাঁরই উপর ভরসা কর।

85

فَقَالُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةًۭ لِّلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ

তখন তারা বলল, আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করেছি। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের উপর এ জালেম কওমের শক্তি পরীক্ষা করিও না।

তারা বলল, ‘আমরা আল্লাহরই উপর ভরসা করলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে যালেম সম্প্রদায়ের উৎপীড়নের পাত্র করো না।

86

وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

আর আমাদেরকে অনুগ্রহ করে ছাড়িয়ে দাও এই কাফেরদের কবল থেকে।

আর তুমি তোমার নিজ করুণায় অবিশ্বাসী সম্প্রদায় হতে আমাদেরকে রক্ষা কর।’ [১]

[১] তারা আল্লাহর উপর ভরসা করার সাথে সাথে আল্লাহর দরবারে দু'আও করেছিল। দু'আ অবশ্যই মু'মিনদের জন্য একটি বড় হাতিয়ার এবং বড় সহায়-সম্বল।

87

وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰ وَأَخِيهِ أَن تَبَوَّءَا لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًۭا وَٱجْعَلُوا۟ بُيُوتَكُمْ قِبْلَةًۭ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ ۗ وَبَشِّرِ ٱلْمُؤْمِنِينَ

আর আমি নির্দেশ পাঠালাম মূসা এবং তার ভাইয়ের প্রতি যে, তোমরা তোমাদের জাতির জন্য মিসরের মাটিতে বাস স্থান নির্ধারণ কর। আর তোমাদের ঘরগুলো বানাবে কেবলামুখী করে এবং নামায কায়েম কর আর যারা ঈমানদার তাদেরকে সুসংবাদ দান কর।

আমি মূসা ও তার ভায়ের প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) করলাম, ‘তোমরা উভয়ে তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য মিসরে গৃহ নির্মাণ কর। আর তোমরা নিজেদের সেই গৃহগুলোকে নামায পড়ার স্থানরূপে গণ্য কর[১] এবং নামায প্রতিষ্ঠা কর। আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দাও।’

[১] এর অর্থ এই যে, নিজ নিজ বাসস্থানকে মসজিদ বানিয়ে নাও এবং কিবলার (বাইতুল মাকদিসের) দিকে তার মুখ করে নাও। যাতে ইবাদত করার জন্য তোমাদেরকে বাইরে গির্জা ইত্যাদিতে যাওয়ার প্রয়োজন না হয়, যেখানে ফিরআউন ও তার দল-বলের অত্যাচারের ভয় থাকে।

88

وَقَالَ مُوسَىٰ رَبَّنَآ إِنَّكَ ءَاتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُۥ زِينَةًۭ وَأَمْوَٰلًۭا فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا۟ عَن سَبِيلِكَ ۖ رَبَّنَا ٱطْمِسْ عَلَىٰٓ أَمْوَٰلِهِمْ وَٱشْدُدْ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا۟ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ

মূসা বলল, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি ফেরাউনকে এবং তার সর্দারদেরকে পার্থব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ, এবং সম্পদ দান করেছ-হে আমার পরওয়ারদেগার, এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করব! হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দাও যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়।

আর মূসা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গকে পার্থিব জীবনের শোভা ও সম্পদ দান করেছ। হে আমাদের প্রতিপালক! যার কারণে তারা তোমার পথ হতে (মানুষকে) বিভ্রান্ত করে। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের ধন-সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দাও এবং তাদের অন্তরকে কঠিন করে দাও,[১] যাতে তারা যন্ত্রণাময় শাস্তি না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস স্থাপন না করতে পারে।’ [২]

[১] যখন মূসা (আঃ) দেখলেন যে, ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের উপর আমার ওয়াজ-নসীহতের কোন প্রভাব পড়ছে না এবং এরূপ মু'জিযা দেখেও তার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না, তখন তার জন্য বদ্দুআ করলেন। এখানে আল্লাহ তাআলা সেই বদ্দুআর কথা বর্ণনা করেছেন।

[২] অর্থাৎ সে যদিও ঈমান আনে, তবে শাস্তি দেখার পর যেন আনে, যে ঈমান তার জন্য কোন লাভদায়ক হবে না। এখানে কারো মনে এই প্রশ্নের উদ্রেক হওয়া উচিত নয় যে, পয়গম্বরগণ শুধু হিদায়াতের দু'আ করেন, ধ্বংসের জন্য বদ্দুআ করেন না। কারণ দাওয়াত-তবলীগ এবং সর্বতোভাবে পরিপূর্ণ দলীল পেশ করার পর যখন এ কথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আর ঈমান আনার কোন আশা নেই, তখন শেষ উপায় এটাই থাকে যে, সেই জাতির ব্যাপার আল্লাহর দায়িত্বে ছেড়ে দেওয়া। এটা ঠিক যেন আল্লাহর ইচ্ছায় হয়ে থাকে, যা কোন ইচ্ছা ছাড়াই পয়গম্বরদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। যেমন নূহ (আঃ) সাড়ে নয়শ বছর তবলীগ করার পর শেষে নিজ সম্প্রদায়ের উপর বদ্দুআ করে বলেছিলেন, (رَبِّ لا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارا) "হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে কাফেরদের মধ্য হতে কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিও না।" (সূরা নূহ ৭১:২৬ আয়াত)

89

قَالَ قَدْ أُجِيبَت دَّعْوَتُكُمَا فَٱسْتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَآنِّ سَبِيلَ ٱلَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ

বললেন, তোমাদের দোয়া মঞ্জুর হয়েছে। অতএব তোমরা দুজন অটল থাকো এবং তাদের পথে চলো না যারা অজ্ঞ।

তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘তোমাদের উভয়ের দুআ কবুল করা হল। অতএব তোমরা অবিচল থাক[১] এবং অবশ্যই তাদের পথ অনুসরণ করো না যাদের জ্ঞান নেই।’ [২]

[১] এর একটি অর্থ এই যে, তোমরা নিজ বদ্দুআর উপর অবিচল থাকো; যদিও তার বাস্তব রূপ প্রকাশ পেতে দেরী হয়। কারণ তোমাদের দু'আ অবশ্যই কবুল করা হয়েছে। কিন্তু তা কখন বাস্তবায়ন করব, তা একমাত্র আমার ইচ্ছা ও হিকমতের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং কোন কোন তফসীরবিদ বর্ণনা করেছেন যে, সেই বদ্দুআর চল্লিশ বছর পর ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হয়েছে। সেই বদ্দুআ অনুযায়ী ফিরআউন যখন পানিতে ডুবতে আরম্ভ করল, তখন সে বলল, 'আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনছি।' কিন্তু এই ঈমানে তার কোন লাভ হয়নি। এর দ্বিতীয় অর্থ এই যে, তুমি আপন দাওয়াত-তবলীগ, বনী ইস্রাঈলদেরকে পথ প্রদর্শন এবং তাদেরকে ফিরআউনের দাসত্ব থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য চেষ্টা-চরিত্র অব্যাহত রাখ।

[২] অর্থাৎ যারা আল্লাহর নিয়ম-নীতি, তাঁর আইন-কানুন এবং তাঁর কর্মগত কৌশল ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না, অবশ্যই তোমরা তাদের মত হয়ে যেয়ো না; বরং এখন অপেক্ষা ও ধৈর্য ধারণ কর, আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজ হিকমত ও কৌশল অনুযায়ী অবিলম্বে অথবা বিলম্বে তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ করবেন। কারণ তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না ।

90

۞ وَجَٰوَزْنَا بِبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ ٱلْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُودُهُۥ بَغْيًۭا وَعَدْوًا ۖ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَدْرَكَهُ ٱلْغَرَقُ قَالَ ءَامَنتُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱلَّذِىٓ ءَامَنَتْ بِهِۦ بَنُوٓا۟ إِسْرَٰٓءِيلَ وَأَنَا۠ مِنَ ٱلْمُسْلِمِينَ

আর বনী-ইসরাঈলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্দেশে। এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করল, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনী-ইসরাঈলরা। বস্তুতঃ আমিও তাঁরই অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।

আর আমি বানী ইস্রাঈলকে সমুদ্র পার করে দিলাম,[১] অতঃপর ফিরআউন তার সৈন্যদলসহ অন্যায় ও বিদ্বেষবশতঃ তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।[২] পরিশেষে যখন সে ডুবতে লাগল, তখন বলতে লাগল, ‘যে কথায় বানী ইস্রাঈল বিশ্বাস করেছে, আমিও তাতে বিশ্বাস করলাম যে, তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’

[১] অর্থাৎ, সমুদ্র চিরে, তাতে শুষ্ক পথ তৈরী করে দিলাম (যেমন সূরা বাক্বারার ২:৫০ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে এবং আরো বিস্তারিত আলোচনা সূরা শুআ'রা ২৬:৬৩-৬৫ আয়াতে আসবে) এবং তোমাদেরকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিলাম।[২] অর্থাৎ, আল্লাহর আদেশে অলৌকিকভাবে তৈরী শুষ্ক পথে, যে পথ দিয়ে মূসা (আঃ) ও তাঁর সম্প্রদায় সমুদ্র পার হয়েছিলেন, ফিরআউন ও তার সৈন্য-সামন্তও সমুদ্র পার হওয়ার ইচ্ছায় ঐ পথে চলতে আরম্ভ করে। উদ্দেশ্য ছিল যে, মূসা বনী ইস্রাঈলদেরকে আমার দাসত্ব থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য রাতারাতি তাদেরকে নিয়ে পালিয়েছে, পুনরায় তাদেরকে দাসত্বেরবেড়ীতে আবদ্ধ করতে হবে। যখন ফিরআউন ও তার সৈন্য-সামন্ত সেই সামুদ্রিক পথে প্রবেশ করে গেল, তখন আল্লাহ তাআলা সাগরকে পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী চলাচলের আদেশ দিলেন। ফলে ফিরআউন সহ তার সৈন্যদল সকলে সাগরে ডুবে মরল।

Commentary: Tafsir Ahsanul Bayaan by Bayaan Foundation. Qur'an text and translation via AlQuran Cloud.